শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩

সুইজারল্যান্ডের ফটো - স্মৃতির জাবর কাটা

 ২০০১ সালে একবার সুইজারল্যান্ডের য্যুরিখে গিয়েছিলাম একটা একাডেমিক প্রোগামে। এটার যাত্রার বর্ণনা একবার লিখলেও ছবিগুলো দেয়া হয়ে ওঠেনি। আরেকজনের ডিজিটাল ক্যামেরা আর আমার অ্যানালগ ক্যামেরা মিলিয়ে ছবিগুলো দিলাম এখানে:

from balcony of my room at Hotel Alpenblick, Braunwald,Switzerland

 

by Zürich lake

by Zürich lake with Prof. David Waite (of UNSW, Australia)

Zürich lake

Ball fountain by Zürich lake


ferry ride at Zürich lake

Old town at Zürich

at Zürich

water bus at Zürich

Old town at Zürich

Dr. Stephan J. Hug (EAWAG) and Dr. David Waite (UNSW, Australia)


Eating with Dr. Hug (picture contains wife of Dr. Stephan Hug)

সুইজারল্যান্ডে যাত্রাটা ছিল আমার প্রথম বিমান যাত্রা (অবশ্য কোলের বাচ্চা থাকার সময়ে এক-দুইবার বিমানে উঠেছিলাম কিন্তু ওগুলো মনেও নাই)। এই যাত্রার প্রস্তুতি, ভূমিকা ইত্যাদি নিয়ে লিখেছিলাম এখানে:

সুইজারল্যান্ডের এক কোনা ভ্রমণের বিশাল অভিজ্ঞতা: পর্ব-১ (পূর্ব কথা)

 সুইজারল্যান্ডের এক কোনা ভ্রমণের বিশাল অভিজ্ঞতা: পর্ব-২ (প্রস্তুতি)

সুইজারল্যান্ডের এক কোনা ভ্রমণের বিশাল অভিজ্ঞতা: পর্ব-৩ (যাত্রা হল শুরু)

বৃহস্পতিবার, ১১ মে, ২০২৩

মালদ্বীপ ভ্রমণ ২০২৩: ভিডিও সমূহ

মালদ্বীপে ৫দিন (৪ রাত) ঘোরাঘুরির সময়ে কোনোরকম পরিকল্পনা ছাড়াই ইতিউতি কিছু ভিডিও করা হয়েছিল। সেগুলো জুড়ে জুড়ে কয়েকটা ভিডিও বানিয়ে রাখলাম - এতে ভবিষ্যতে স্মৃতির পাতায় ডুব দিতে সুবিধা হবে। এখানে সবগুলো ভিডিও একত্রে রাখা হল। এছাড়া ছবিগুলো দেয়া হয়েছে এই সিরিজের অন্য লেখাগুলোতে  
(ফটোব্লগ তালিকা)

(ভিডিওব্লগ / Vlog তালিকা)
১। হুলহুমালেতে আশেপাশে হাঁটাহাটি (১ম ও ২য় দিন)

২। ২য় দিনের সাবমেরিন রাইড

৩। ঘুরাঘুরি শেষে ফেরার পথে স্ট্রীট ভিউ

৪। সকালে সূর্যোদয় দেখার চেষ্টা (৩য় দিন)

৫। প্রাইভেট আইল্যান্ডে যাত্রা এবং সেখানকার রুম ট্যূর (৩য় দিন)

৬। প্রাইভেট আইল্যান্ডে সকালে ঘুরাঘুরি, হাঙ্গরের বাচ্চা দেখা (৪র্থ দিন)

৫ম দিন সকালে রিসর্টে নাস্তা করে চেক-আউট। ওরাই আমাদেরকে আবার এয়ারপোর্টে দিয়ে আসে।


শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩

মালদ্বীপ ভ্রমণ ২০২৩ (পর্ব-০৪)

 সূচীপত্র:

 ২৪-এপ্রিল-২০২৩ সোমবার

গতদিনে প্রাইভেট আইল্যান্ডে এসে দুই বেলা buffet খেয়ে পানিতে নেমে বেশ ভাল কেটেছে সময়। এই দিন দ্বীপটা আরেকটু ভাল করে ঘুরে দেখবো বলে ঠিক করলাম। যথারীতি পরিবারের লোকজন ঘুম থেকে উঠে নাস্তা খেতে যাওয়ার আগেই আমি একটু একা একা ঘুরে দেখতে বের হলাম।

আমাদের ভবনটাও বাইরে থেকে এমন দেখায়।

রুম থেকে বের হলে কেমন দেখায় সেটা এই 270 ডিগ্রী প্যানারমায় ধরে রাখলাম।  ছবিটা ক্লিক করলে আশা করি ঠিকভাবে দেখার অপশন দিবে।

ডানদিকেরটা আমাদের ভবন। আর এর পাশ দিয়ে ওপারের দ্বীপে যাওয়ার ব্রীজটায় + আমাদের নিজস্ব বীচে যাওয়ার পথ।

সকাল বেলা ভাটায় কম পানিতে ছোট ছোট হাঙর দেখলাম। এখানেই গতকাল আমরা পানিতে নেমেছিলাম।

আমাদের ভবনগুলোর পেছনদিকেই বীচ। আমাদের রুমটা ছিল দোতলায়। এখন ভাটার সময়।

এই ভাটাতে যেখানে পানি শেষে বালু শুরু, গতকাল বিকালের ভরা জোয়ারে সেখানেই গলা পর্যন্ত গভীর পানি ছিল।

এই রিসর্টে সাদা চামড়ার মানুষ বেশি। আর আমার মুরব্বীরা এদের সুইমিং কস্টিউমে বিব্রত হয়ে বীচেই আসে নাই ...

অগভীর পানিতে নিচের সাদা বালু আর কোরাল সরাসরি দেখা যাচ্ছে। দুরে গাঢ় নীল পানি হল গভীর জায়গা

ঐ যে দুরে বড় বড় ভবন দেখা যাচ্ছে সেগুলোই হুলহুমালের ২৫ তলা ভবন

আমাদের এই দ্বীপ থেকে পাশের দ্বীপে যাওয়ার ব্রীজ। ছবিতে ক্লিক করলে প্যানারমা দেখা যাবে।

সাত সকালে নিজের সেলফি

স্বচ্ছ টলটলে পানি। আর পাশের পাথরে কাঁকড়ার দল আছে সবসময়েই ...

বিভিন্ন রকম ইলেক্ট্রিক কার্টে করে মানুষ টানে, মাল টানে, লাগেজ টানে ...
 
ভীষন রোদে কার্টের জন্য অপেক্ষা না করে হন্টন। এতে বাসায় দেয়া ছাতার উপযুক্ত ব্যবহার হচ্ছে। এই ছাতা দ্বীপের সবখানেই কমন সম্পত্তি হিসেবে থাকে। যার যখন খুশি নিয়ে যাচ্ছে। একবার তো ছাতা রেখে খাওয়া শেষে buffet এর জায়গা থেকে বের হয়ে দেখি সেখানের স্ট্যান্ডে আর কোনো ছাতা নাই। সবাই নিজের মনে করে নিয়ে গেছে।

buffet এ খাওয়া দাওয়ার দুয়েকটা ছবি না দিলে কি চলে ..


নাস্তার পর খাওয়ার জায়গার পাশেই নিজেদের ফটোসেশন


কন্যার নানা নানীও বেশ উপভোগ করছেন বোঝা গেল ...

ইয়ে, আমি না থাকলেই মনে হয় ছবিটা সুন্দর দেখাতো .... তবে আমিও যে সেখানে ছিলাম এটার সাক্ষী হিসেবে তোলা হয়েছে

ভিলাগুলোর সামনের নিজস্ব বীচ। অবশ্য পুরা দ্বীপটার চারপাশেই এমন। সাদাটে পানি অগভীর, আর গভীর পানি গাঢ় নীল

আমিও ফটোসেশন করি। পানিতে নামবো এখনি

এই টিউবটা মোস্তফা মার্ট থেকে কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম। ওখানে বলতেই ফুলিয়ে দিয়েছে।

ঘন্টাখানেক জলকেলীর পর, রিসিপশনের পাশের বারে সবই ফ্রী, তাই পপকর্ণ খাওয়া। পেছনে বিভিন্ন ওয়াটার একটিভিটি চলছে ...

এগুলো ওয়াটার ভিলা। রুম থেকে সরাসরি অগভীর পানিতে নামা যায়।


এবার লাঞ্চে যাই

চারিদিকের সুন্দর দৃশ্য ক্যামেরায় ধরে রাখার চেষ্টা


ভেতরের পথ এমন, হেঁটে কিংবা গলফ কার্টে করে যাওয়া আসা করা যায়


সন্ধ্যায় ব্রীজের দুপাশে এমন নীল বাতি জ্বালিয়ে দেয়

ব্রীজের আরেক মাথায় পৌঁছে একটা ছবি। ডানেরটা জিমনেসিয়াম, আর ওপাশেরটা পানির তলের রেস্টুরেন্ট

পানির তলের রেস্টুরেন্ট আমাদের প্যাকেজে ছিলনা। ৪ রকম সেট মেনু আছে, জনপ্রতি সম্ভবত ১২৫ ডলার। মূল খাওয়ার রুমটা পানির নিচে। সরাসরি সমূদ্রের কোরাল, মাছ ইত্যাদি দেখা যায়।

রাতের মনোহর দৃশ্য

২৫-এপ্রিল-২০২৩ মঙ্গলবার - বিদায় মালদ্বীপ

গতরাতেই অনলাইনে ঢুকে মোবাইল ফোন দিয়েই এমিগ্রেশনের IMUGA ফর্ম পূরণ করে রেখেছি। আমাদের বিমান দুপুর দেড়টায়। তাই ৯টায় চেক আউট করিয়ে ১০:৩০ এ এয়ারপোর্টে রেখে আসবে বলেছে। সকালে তাই কয়েকটা ছবি তুলে রাখলাম। গত সন্ধ্যায় বেশ ভাল বজ্র-বৃষ্টি হয়েছে।

এটার রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে জীবনের প্রথম একটা ৩৬০ ডিগ্রী তোলার চেষ্টা করলাম। ছবিতে ক্লিক করলে দেখা যাব আশা করছি।


সকালে বের হয়ে দেখি কন্যার নানা-নানী ইতিমধ্যেই নাস্তার জন্য বের হচ্ছেন। ডেকে নিয়ে কয়েকটা স্মৃতি ধরে রাখলাম

কার্টে করে নাস্তা করতে যাচ্ছেন

আমরা আবার কার্টের জন্য অপেক্ষা করতে রাজি না ... সুতরাং হন্টন


চেকআউট শেষে স্পীডবোটে ওঠার আগের ফটোসেশন

চেকআউট শেষে স্পীডবোটে ওঠার আগের ফটোসেশন

চেকআউটের পরেও তো পানি খেতে ইচ্ছা করে। তাই দৌড়ে সুইমিং পুলের পাশে Barএ চলে গেল ...

স্পীডবোট এয়ারপোর্টে পৌঁছে আমাদের লাগেজ নামিয়ে দিচ্ছে।

অবশেষে বিদায় মালদ্বীপ। ইউ-এস বাংলার ফ্লাইটে।

প্লেনের খাবারও ভাল। তবে প্রাইভেট আইল্যান্ড থেকে আসার পরে কোন কিছুই আর তেমন ভাল মনে হয় না ;)

প্রাইভেট আইল্যান্ডের খরচ প্রচুর (গুগলে দেখুন - যা দেখায় তা সত্য), কিন্তু আমাদের মনে  হয়েছে এখানকার সার্ভিস এবং সবকিছু মিলে সেই পয়সা উসুল। ওখানে শুধু সুভ্যেনির কিনতে একবার ডলার খরচ করতে হয়েছে। আর কোনো খরচ নাই। খাওয়া দাওয়া ছাড়াও রুমে লাইফ জ্যাকেট, সুইমিং পুলের বা বীচের এক্টিভিটির যন্ত্রপাতি সবই প্যাকেজের মধ্যে - আলাদা কোনো বিল নাই।

বাই দা ওয়ে, এয়ারপোর্টের ভেতরে রুফিয়া পরিবর্তন করে ডলার নেয়ার কোনো অপশন নাই। তবে সুভ্যেনির চকলেট ইত্যাদির দাম এখানে সবচেয়ে সস্তা। এয়ারপোর্টের দোকানে ডলারে দাম লেখা থাকলেও রুফিয়াতে পেমেন্ট করা যায়। তবে প্রাইভেট আইল্যান্ডে রুফিয়া নেয় না, কিছু সুভ্যেনির কিনলে ডলারে দাম দিতে হয়।

 (সমাপ্ত)