আত্মকথন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আত্মকথন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০১৫

+8801731216486

+8801731216486 (+৮৮০১৭৩১২১৬৪৮৬) -- জ্বী ভাই, এটা আমার ফোন নাম্বার যা ২০০৭ সাল থেকে ব্যবহার করছি। কিন্তু, একজন মানসিক বিকারগ্রস্থ ছাত্র আমার এই নম্বরটা বিভিন্ন অশালীন ছবি/ভিডিও'র সাথে একাধিক মেয়ের নামের সাথে ভূয়া একাউন্ট থেকে পোস্ট করেছে (ঐ একাউন্টটাও একটা মেয়ের নামে)। আমি সেই ছাত্রকে চিনি, আর নিশ্চিত ভাবে জানি সে-ই দায়ী, কারণ এর আগে তাকে একজন ছাত্রীকে হ্যারাস করার জন্য শো-কজ করা হয়েছিল + আমার নাম্বারের সাথে ঐ ডিপার্টমেন্টের আরেকজন সহকারী প্রক্টরের নাম্বারেও সেইম ঘটনা ঘটেছে। ইতিপূর্বে এই দুজনের নাম্বার দিয়েই বিভিন্ন বিক্রয়ের সাইটে অদ্ভুদ বাইসাইকেল, ট্যাব ইত্যাদি বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন গিয়েছিলো (এরকম সাইটের সিকিউরিটির জন্য এইটা বিরাট আজিব ব্যাপার) - যা হোক সেসব সাইটের কমপ্লেন করে সেগুলো বন্ধ করা গেছে। কিন্তু ইউটিউবে কমপ্লেন করলে তারা বলেছে কমিউনিটি গাইডলাইন ভঙ্গ হয় নাই!

এটার ইফেক্টে এখন প্রতিদিন ও রাতে গড়ে শ-খানেক ফোন আসে -- তার অনেকগুলো আবার অদ্ভুদ নাম্বার থেকে (১১১, ১২৩৪৫ ইচ্ছামত নম্বর বসানো) অর্থাৎ সফটওয়্যার দিয়ে করে। আর কিছু আসে সরাসরি কান্ট্রি কোড সহ -- যার ম্যাক্সিমাম মিডলইস্ট থেকে আসে -- যারা আমার কন্ঠস্বর শুনে আর কথা বলে না।

তাই, আমার ফোন মোটামুটি সবসময়ের জন্যই সাইলেন্স মোডে রেখেছি। মাঝে মাঝে মিসড্ কল লিস্ট দেখে পরিচিত নম্বরের কল মিস হলে কল ব্যাক করছি। যদি আপনার কল না ধরি, প্লিজ কল ধরতে না পারার অভব্যতাকে ক্ষমা করবেন। আর যদি সন্দেহ হয়, যে আপনার নাম্বার আমার ফোনবুকে নাই, তবে প্লিজ একটা SMS দিবেন -- আমি আপনাকে কলব্যাক করবো, ফোনবুকেও টুকে রাখবো।

শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১২

উবুন্টু ১২.১০ রিলিজ পার্টি যাত্রার হররভিজ্ঞতা

১।
উবুন্টুর নতুন ভার্সন রিলিজ উপলক্ষে রিলিজ পার্টি হবে - কখন হবে, কোথায় হবে, কিভাবে হবে এগুলো নিয়ে যথেষ্ট মেইলে ইনবক্স সবসময়ই সরগরম। আশিকুর নূর নামে একজন ছোট পাগল (মানুষের উপকার করে বেড়ানোর পাগলামী) এটা আয়োজন করার জন্য সমস্ত ছোটাছুটি করছে, আর তাকে গাইড করছে বড় পাগল রিং। কিন্তু নিজে অন্যরকম দৌড়ানির উপরে থাকার কারণে এমনকি মেইলগুলোও নিয়মিত পড়া হয়ে উঠছিলো না। দেখা গেল যখন মেইল পড়ছি তখন অনেকগুলো কাজ ইতিমধ্যেই করা হয়ে গেছে, যার জন্য আমাকে জিজ্ঞেসও করা হয়েছিলো। মেইলে আমার এরকম পশ্চাৎপদতা দেখে নিয়মিত শরম পাচ্ছি। তবে, ১৯ তারিখ শুক্রবার ডেফোডিল ইউনিভার্সিটিতে ৪-৭টা প্রোগ্রাম - সেটা ভুলিনি। এই প্রোগ্রাম আয়োজন নিয়ে যতটা চড়াই-উৎড়াই পেরোতে হয়েছে -- তার কিছু অংশ মেইল থ্রেডটাতে এসেছিলো - ওটা নিয়েই একটা বড় প্রবন্ধ রচনা করা যায়।

১৯ তারিখ দুপুর ২টা থেকে মানসিক প্রস্তুতি চলছে, এখন রেডি হতে হবে। এর মধ্যে মেয়ে এসে আমাকে সাথে নিয়ে টিভিতে কার্টুন দেখতে বসলো - উঠতে দেয় না। ৩টা সময় মনে হল, নাহ্ - এভাবে চলতে পারে না, রেডি হই।  ল্যাপটপটা গুটিয়ে ব্যাগে ঢুকালাম - অনুষ্ঠানে দরকার হতে পারে। কিন্তু রেডি হওয়ার সবচেয়ে জরুরী অংশ হল ঠিকানা নিশ্চিত হয়ে রওনা দেয়া যেন স্পটে গিয়ে হয়রানী না হতে হয়। নুর বা মেহেদী ভাইকে ফোন করলেই সহজে ল্যাটা চুকে যায়, কিন্তু অভ্যাসবশত ডেস্কটপ খুলে গুগল ম্যাপ দেখতে চাইলাম। ইদানিং কিউবির জঘন্য নেটস্পিডের (বাইরের কোনো কারণে সমস্যা হতে পারে এমন হলে এরা মেসেজ দিয়ে সমস্যা জানায় - এইটার ব্যাপারে সেরকম কিছু জানায়নি) কারণে ৫ মিনিটেও ম্যাপের কিচ্ছু লোড হয় না, তাই ডেফোডিল ইউনিভার্সিটি সার্চ দিয়ে সেটার লিংক পেলাম। লিংকে গিয়ে অনেকগুলো ঠিকানা থেকে দুইটা ক্যাম্পাসের ঠিকানা ১০২ শুক্রাবাদ দেখে মনে হল এটাই ঠিকানা - শুক্রাবাদ গেলেই খুঁজে নেয়া যাবে। স্বাভাবিক অবস্থায় ১ মিনিটের কাজ করতে ২০ মিনিট খরচ করেও লাভ হল না -- শালার ইন্টারনেট সার্ভিস! ফোন দিয়ে ঠিকানা জানলেই মনে হয় এ্যাত সময় নষ্ট করতে হত না। যাক এবার বের হই ... ...

কিসের কী - মেয়ের দাবী দাওয়া শেষ হয় নাই। এর আগে বের হতে পারলে তো! মেয়ে বলছে মাথা চুলকাচ্ছে - এ্যাত যত্নের পরও মাথা চুলকায় কেন -- সুক্ষ্ণ চিরুনী অভিযান চালিয়ে মাথা থেকে অনেকগুলো বদমাশকে বের করে পটাপট মারা হল। এমতাবস্থায় ওর মাকে সমস্ত দায়িত্ব হস্তান্তর করে রওনা দিলাম। ততক্ষণে ৪টা পার হয়ে গিয়েছে ... ...

২।
বাসার বাইরে বের হয়েই খালি রিকশা দেখে বললাম - শুক্রাবাদ চলো। আমার বাসা গ্রীনরোডে বসুন্ধরা সিটির পেছনের এলাকায় - তাই রিকশা দিয়ে যাওয়া যায়। রাজাবাজারের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় দেখি শুক্রাবাদের কাছে রাস্তার (গলির) মাঝে কেটে সম্ভবত সুয়ারেজ লাইন বসিয়েছে - এর জন্য উঁচু উঁচু ম্যানহোলের মাথা রাস্তা থেকে ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি বের হয়ে আছে, তার উপর পাইপ বসানোর জন্য কাটা জায়গায় শুধুমাত্র খোয়া ফেলা হয়েছে - রিক্সা চলতে খুবই অসুবিধা! সম্ভবত ২০ মিনিটে অক্ষত অবস্থায় শুক্রাবাদ পৌঁছালাম। ঠিকানাতো জানিনা -- এদিক ওদিক তাকিয়ে ভাবলাম ফোন করেই ফেলি! এমন সময় পাশেই হোটেল নিদমহলের ভবনে দেখি ডেফোডিল ইউনিভার্সিটি -- আহ্ পাইছি।

ধুর! এটা তো দেখি তালাবদ্ধ, রাস্তা থেকেই দেখা যাচ্ছে। ফোনটা তাহলে করতেই হয়। ফোনে মেহেদী ভাইকে পেলাম -- প্রথমেই গতকাল উনার মিসড কলে রিং ব্যাক না করার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলাম; উনি অনুষ্ঠানস্থলেই আছেন। এটা প্রিন্স প্লাজায়, আন্ডারগ্রাউন্ডে ... ... । আচ্ছা --- --- --- এই সময়ে পাশ দিয়ে যাওয়া পথচারী আমার ফোনালাপের অংশবিশেষ শুনে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই বলে বসলো -- প্রিন্স প্লাজা ঐদিকে। অর্থাৎ সরকারী কলোনী, ডেন্টালের ছাত্রাবাস ও সোবহানবাগের মেইন রাস্তার উপর অসভ্যভাবে বের হয়ে থাকা মসজিদটা পার হয়ে, পেট্রলপাম্পের পর। আমি ধন্যবাদ, থ্যাঙ্কইউ বললাম। একবারে দুইজনকেই - উপকারী পথচারী এবং ফোনের লাইনে থাকা মেহেদী ভাই দুজনকেই। ফোন কেটে হাটা দিলাম। ল্যাপটপের ওজন কম না -- এর আগে এটা নিয়ে হাঁটাহাটি করার সময় একদিন সুন্দর ভদ্রলোকের মত ঘাড় থেকে ব্যাগের বেল্ট ছিড়ে মাটিতে ডাইভ দিয়েছিলো, তাই এখন কাঁধে ঝুলানোর কোনো অপশন নাই। ব্রিফকেসের মত হাতে নিয়ে ঘুরতে হয়।

প্রিন্স প্লাজায় আন্ডারগ্রাউন্ডে --- এই রকম কী জানি বলেছিলো। উপরের দিকে তাকিয়ে দেখি ডেফোডিল আছে। নিচে মার্কেট। আন্ডারগ্রাউন্ড পার্কিং থেকে ড়্যাম্প দিয়ে গাড়ি বের হয়ে আসছে। ওহ্ ... ... এই ড়্যাম্প দিয়ে নিচে গিয়ে লিফট ধরতে হবে। ব্যাপারটা অপরিচিত না, কারণ ধানমন্ডির ১৫র আনাম ড়্যাংগস প্লাজার বুমারসে যাওয়ার সময়ও এই তরিকা; সিলেটে আলহামরাতে মেট্রোপলিটন ইউনিতে যাওয়ারও একই তরিকা। তা এই পাথরের মত ভারী ল্যাপটপ হাতে (কাঁধে না) এতদুর হেঁটে এসে ড়্যাম্প দিয়ে নিচে নামতে ইচ্ছা করছে না। পাশেই চকচকে মার্কেটের প্রবেশপথ দেখে ওটা দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম -- নিশ্চয়ই এখান থেকেও সিড়ি বা লিফট পাওয়া যাবে ... ...

৩।
খুব স্মার্ট ভঙ্গিতে শপিং সেন্টারে ঢুকেই ডানে বামে তাকিয়ে কোনো সিড়ি বা লিফট দেখলাম না। আচ্ছা ..... ... তাহলে একটু ভেতরের দিকে যাই, ওদিকে নিশ্চয়ই আছে, যা দিয়ে অন্তত বেসমেন্টে নামা যাবে। নাহ এদিকেও দেখা যাচ্ছে না। ধ্যাত ড়্যাম্প দিয়েই গরম বেসমেন্টে নামতে হবে নাকি!! এই ভেবে বের হওয়ার সময় হঠাৎ দেখি প্রবেশদ্বারের ঠিক পাশেই লিফট। ঢোকার সময় সেটা ডানদিকে ৯০ ডিগ্রীর বেশি কোনে পেছনের দিকে পড়েছিলো তাই দেখিনি। ইউরেকা ... ... লিফটটা B বা বেসমেন্টে আছে। কল দিতেই G বা গ্রাউন্ড ফ্লোরে মানে আমি যেখানে - সেখানে চলে আসলো।

প্রথমেই যেই ধাক্কাটা খেলাম সেটা হল লিফট খালি। লোকজন থাকলে ড্যাফোডিল কোন ফ্লোরে জিজ্ঞেস করে নেমে যাওয়া যেত। তো-ও-ও, শপিং সেন্টারতো মনে হয় ৪ তলা, ৭ এ চাপ দেই, যদি ঐ ফ্লোরে না হয়, তাহলে নেমে আসবো। ওরে বাবা এটাতো ক্যাপসুল লিফট দেখি। উপরে উঠলে বাইরের দিকে তাকিয়ে একটু কেমন যেন লাগে। ৭ এ পৌঁছে লিফট খুলেই দেখি এ-মা লিফটের ঠিক বাইরে একটা শাটার দরজা সেটা বন্ধ। লিফট থেকে বের হওয়ারই জায়গা নাই - দেখেই কেমন দমবন্ধ একটা অনুভুতি হয়। ওকে ... মিস কল হয়ে গেছে, এটা মনে হয় কোনো অফিস তাই শুক্রবার বন্ধ। ঠিক আছে ৫ এ যাই।

ওরে আব্বা রে! এটাও তো একই স্টাইলে বন্ধ। এবার গন্তব্য ৪। এটাও বন্ধ। ধ্যাত্তরি, দেখি ৮ এ গিয়ে - যদিও অত উঁচুতে বাইরের দিকে তাকাতে একটু অস্বস্তি হচ্ছে। মোবাইলের মেসেজে মেহেদী ভাইকে লিখলাম 'which floor?' ৮ এ গিয়ে দেখি সেটা একটা রেস্টুরেন্ট .... .... ওরে ...  এ দেখি মিস না একেবারে রং কল। তাড়াতাড়ি বাকী থাকা ৬ এ চাপ দিলাম। এখানেও শাটার বন্ধ। মনে হচ্ছে একটা হরর মুভির ভেতরে ঢুকে পড়েছি (ইনসেপশন?)।

নাহ্ এ চলতে পারে না।  angry অসহ্য ... ... ... এবার গ্রাউন্ড ফ্লোরে যাই - ঐটা দিয়ে লিফটে চড়েছিলাম তাই ওটা খোলা আছে এটা তো নিশ্চিত। নিশ্চয়ই আমি ভুল লিফটে চড়েছি, ড্যাফোডিলে যাওয়ার অন্য কোন ডেডিকেটেড লিফট আছে মনে হয়।

৪।
এইবার সুবোধ বালকের মত ড়্যাম্প দিয়ে নেমে বেসমেন্টে গেলাম। ভবনের বেসমেন্টের কার পার্কং এর পেছনের দিকে ড্যাফোডিল লেখা একটা কাঁচঘেরা ঘর -- ভেতরে লাইট জ্বলছে কিন্তু কেউ আছে বলে মনে হচ্ছে না। এর আশে পাশেও কোন লিফট নাই। আরে! - বেসমেন্টের অন্যপাশে দেখি আরেকটা ড়্যাম্প। আরে আরে .... ....  ওর পাশে আরেকটা লিফট দেখা যাচ্ছে, যার দরজায় ড্যাফোডিল লেখা। সামনে গার্ড বসে আছে, এছাড়া লিফটে ওঠার জন্য ছাত্রদের মত বয়সি কয়েকজন পোলাপানও দাঁড়িয়ে আছে দেখলাম। আহ্ আমি ইহাকে পাইলাম ... ... হরর মুভি শেষ হল মনে হয় ... ...

লাইনে দাঁড়ানোর পর গার্ড জিজ্ঞেস করে ইউনিভার্সিটি যাবেন। আমি বলি হ্যাঁ -- এতে উনিও হ্যাঁ সূচক ভঙ্গি করলেন। হয় আমার ইতিউতি ঘোরাঘুরি কিংবা বেকুব চেহারা দেখে সন্দেহ হয়েছিলো। লিফট নামতেই ওখান থেকে এক দঙ্গল ছাত্র বের হয়ে আসলো আর আরেক দঙ্গলের সাথি হয়ে আমি উঠে পড়লাম। এবার নিশ্চিন্তে নামা যাবে। কিন্তু কেউ ৪ এ আর কেউ ৬ এ যেতে চায় -- মানে ২-৩ ফ্লোরের থেকে খুঁজে নিতে হবে! মাথা ঠিকমত কাজ করছে না, তাই ৬ এ নামলাম। নেমে পরিচিত ভঙ্গিতে মিস্টার বিনের মত এদিক যাই, সেদিক যাই সবদিকেই ক্লাসরুম, কোন পরিচিত মানুষ নাই। মনে হল এই ফ্লোরে না। লিফটের দরজার বাইরে কাগজে লেখা আছে ৪র্থ ফ্লোরে মসজিদ কিন্তু অডিটোরিয়াম কোথায় লেখা নাই। একদিকে দেখি সিড়ি দেখা যাচ্ছে, পাশে আরেকটা লিফটও আছে। এবার সিড়ি দিয়ে নিচে নামবো ভেবে এগিয়ে গেলাম। এক ফ্লাইট নেমে ৫ম ফ্লোরে দেখি সব তালাবদ্ধ, তবে সিড়ি দিয়ে আরও নামা যাবে। যাব কি যাবোনা ভাবছি। উপর থেকে কেউ একজন কি সন্দেহ দৃষ্টিতে তাকালো? thinking

মেহেদী ভাই মেসেজের উত্তর দেয়নি। ওনাকে ফোনে কল দিতে দিতে ভাবলাম ৪র্থ ফ্লোরে দেখি। কিন্তু উনি কল ধরছেন না। নামতে নামতেই মেহেদী ভাই কল ব্যাক করলেন। বললেন ৪-এ; এর মধ্যে আমিও ঐ ফ্লোরে পৌঁছে গেলাম, একটু এগিয়ে দেখি মেহেদী ভাই অডিটোরিয়ামের বাইরে এসে আমাকে রিং দিচ্ছিলেন। ওনাকে দেখে কিযে শান্তি লাগলো -- অবশেষে হরর যাত্রা পর্ব শেষ করতে পেরেছি। ভেতরে বেশ জমজমাট অনুষ্ঠান চলছে বলে মনে হল বাইরে থেকেই। তখনও জানতাম না যে ভেতরে আরো চমক অপেক্ষা করছে ... ...

(শেষ)
পূর্বপ্রকাশ: প্রজন্ম ফোরাম

সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২

ভিডিও পোস্ট: নীলিয়া - এই হাসি এই কান্না


এর আগে কখনো ভিডিও এডিট করিনি। হঠাৎ করে কেন জানি ভিডিও এডিট করার শখ জাগলো। এই শখ পূরণের ব্যাপারটা বেশ রোমাঞ্চকর।

ফ্রীতে ভাল এবং পেশাদার ভিডিও এডিটর নাই শুনেছিলাম। কিন্তু কাজ চালানোর মত ওপেন সোর্স এবং ফ্রী এডিটর আছে কয়েকটা -- এগুলো দিয়ে ভালমানের কাজও করা সম্ভব বলে কেউ কেউ অভিমত দিয়েছে। যা হোক, একটু গুতাগুতি করে LIVES দিয়ে প্রথমবার এডিট করে রেন্ডার করলাম। ওপেন ফরমেটে সেভ করার পর ঠিকঠাক দেখালেও winff দিয়ে flvতে পরিবর্তনের পর সাউন্ড আর ছবি কেন জানি আগুপিছু হয়ে গেল। এরপর নামালাম Pitivi ... এটা আসলেই খুব সোজা। স্যাম্পল হিসেবে ২৩ সেকেন্ডের একটা ভিডিও নিলাম, যেটার আকার ছিল প্রায় ২৮ মেবা। যা হোক, এডিট সহ ছোট আকারে flvতে রেন্ডার করার পর আকার হল ২.২ মেবা।

ভিডিওটির শুরু আর শেষে দুটো স্লাইড যোগ করা হয়েছে। সেই স্লাইডগুলো Inkscape দিয়ে বানিয়ে নিয়েছিলাম। আর সরাসরিই পিটিভি থেকে flvতে রেন্ডার করা হয়েছে।

রবিবার, ২ মে, ২০১০

একটা অভিনব প্রতারণার ব্যর্থ প্রয়াস - সতর্ক থাকুন

(সর্বপ্রথম সচলায়তনে প্রকাশিত)
অনেকগুলো লেখা মাথায় ঘুরছে। লেখার জন্য ফাইল খুলে সেভ করে রেখেছি কিন্তু নানা ব্যস্ততায় লেখা হয় না। কিন্তু এই ঘটনাটা চেপে রেখে দেরি করা ঠিক হবে না মনে হলো।

গতপরশু (৩০শে এপ্রিল ২০১০, শুক্রবার) দুপুরে আমার শাশুড়ির মোবাইল ফোনে (গ্রামীন) অপরিচিত নম্বর (01749 872178) থেকে একটা কল আসে। ফোনকারী বলেন যে আপনি খুব লাকি, গ্রামীন ফোন একটা প্রমোশনের জন্য তাঁদের সমস্ত সাবস্ক্রাইবারদের মধ্য থেকে লটারি করেছে, এতে আপনি ৩য় হয়েছেন। আপনি পুরস্কার হিসেবে ১৬৯০০ টাকার টকটাইম পাচ্ছেন। আপনার মোবাইল থেকে ব্যালেন্স চেক করে দেখুন যে টাকাটি পেয়েছেন কি না। পেয়ে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব আমাদেরকে জানান। যদি ১ম ২য় যারা হয়েছেন তাঁদের আগে আপনার কাছে থেকে কল পাই, তবে আরও পুরস্কার আছে।

শাশুড়ি *৫৬৬# চেপে ব্যালেন্স চেক করে দেখেন যে আসলেই ব্যালেন্সে ১৬৯০০ টাকা যুক্ত হয়েছে। ফোন করে জানালেন। তখন ওপাশ থেকে বলে আপনি আসলেই খুব লাকি কারণ আপনি সবার আগে এটা জানিয়েছেন, এতে পুরস্কার হিসেবে একটা মোটরসাইকেল পেয়েছেন। শাশুড়ি জিজ্ঞেস করলেন এই ১৬৯০০ টাকা কি ক্যাশ করা যাবে ... উত্তরে জানালো - না করা যাবে না, তবে দুই বছর পর্যন্ত এই ব্যালেন্স ব্যবহার করা যাবে। এরপর বললেন যে বুঝতেই পারছেন যে আমি একজন বয়স্ক মহিলা ... আমি মোটরসাইকেল দিয়ে কী করবো? উত্তরে জানালেন যে আপনি এর বদলে ২ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ক্যাশও নিতে পারেন। তবে এর আগে একটা কাজ করতে হবে।

শাশুড়ি আম্মার মনে একটু সন্দেহ দোলা দিচ্ছিলো, কিন্তু ব্যালেন্স চেক করাতে গ্রামীন ফোনেরই অফিসিয়াল কিছু বলে হালকা বিশ্বাস করা শুরু করেছিলেন। কিন্তু যেই আরেকটা কাজ করতে হবে শুনলেন তখনই আবার সন্দেহটা গাঢ় হলো যে: নাহ্ এটা ফ্রড কেস মনে হচ্ছে। বিস্তারিত জানতে চাইলে বললো যে আপনাকে ৯ হাজার টাকা জমা দিতে হবে এখুনি। শাশুড়ি আম্মা জিজ্ঞেস করলেন যে, টাকা কেন? ....
গ্রা.ফো.: ... আরে বুঝলেন না, এসব কাজে সরকারি ভ্যাট আছে না। ওসব খরচ তো আপনাকেই দিতে হবে।

শা.আ.: আমি আগে হাতে টাকা পাই, তারপর না ভ্যাট দিবো। হাতে টাকা না আসলে ভ্যাট কোত্থেকে দিবো?
গ্রা.ফো.: ... এইতো বেশি বুঝতে শুরু করেছেন। টাকাটা যতদ্রুত সম্ভব জমা দিতে হবে।

শা.আ.: আমি এখন টাকা দিবো কোত্থেকে। আজ শুক্রবার, আগামীকাল ১লা মে বাদ দিয়ে আগামী রবিবারে ব্যাংক খুললে পরে টাকা তোলা যাবো, তার আগে টাকা দেয়া অসম্ভব।
গ্রা.ফো.: বাসায় টাকা আছে কত?

শা.আ.: এই ধরেন হাজার দেড়েক আছে বাজার খরচের জন্য।
গ্রা.ফো.: ঐটাই জমা দেন। এখুনি ফ্লেক্সি করে পাঠিয়ে দেন ... আমরা যেন প্রসেসিং শুরু করতে পারি।

শা.আ.: কিন্তু ... .
গ্রা.ফো.: এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে ১২১এ ফোন করেন। ওখানেই বিস্তারিত ভাবে মেসেজ শুনতে পারবেন।

তখন কল দিলেন ঐ নম্বরে। যথারীতি একটা অটোমেটেড কন্ঠ বিভিন্ন অপশন দেয়া শুরু করলো ... অমুক জানতে চাইলে ১ চাপুন; মটরসাইকেল সম্পর্কে জানতে চাইলে ... ...
বিরক্ত হয়ে ফোন কেটে দিলেন। সাথে সাথে ওপাশ থেকে ফোন করে ঝাড়ি

: ফোন কেটে দিলেন ক্যান? এজন্য মানুষের উপকার করতে হয় না।
শা.আ.: আচ্ছা কিভাবে কী করতে হবে এটা আমার হাজবেন্ডকে বলেন।

এরপর ওরা আমার শ্বশুর সাহেবকে অনেককিছু বুঝালেন। শ্বশুর সাহেবও ফ্লেক্সি করতে বেরিয়েছেন এমন ভাব নিয়ে রাস্তায় গেলেন যেন ঐপাশের লোক রাস্তার গাড়ির শব্দ শুনতে পায়। ফোনে বললেন, ফ্লেক্সি করার লোক ভেতরে গেছে কী একটা আনতে, আপনি বরং কোন নাম্বারে পাঠাতে হবে সেটা বলেন।
অপর দিক থেকে নম্বর দিল (01928 908707)। শ্বশুর সাহেব ফোন কেটে দিলেন।

কিছুক্ষণ পর ঐদিক থেকে আবার ফোন করে শাশুড়িআম্মাকে ঝাড়ি ... ... আপনার হাজবেন্ড একটা ফাউল লোক ... (গালিগালাজ)। ফোন কেটে দেয়া হলো।

অবাক ব্যাপার হলো, কিছুক্ষণ পর একাউন্ট চেক করে দেখা গেল সেই ১৬৯০০ টাকা নাই। শুধু শুধু এই ফোন টোন বাবদ ৩০ টাকার টকটাইম গচ্চা।

ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। কিন্তু শুধু শুধু বানিয়ে মিথ্যা বলার এবং হোক্স ছড়ানোরও কোনো প্রয়োজন নাই। যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিলো আর যেখানে ফ্লেক্সি পাঠাতে বলা হয়েছিলো, সেই নাম্বারগুলো লেখা আছে শ্বশুর আব্বার কাছে। রাতে উনি (এবং আমি) বাসায় ফিরলে সেগুলো এই পোস্টে যুক্ত করে দেবো।

আমার কাছে অবাক লাগলো যে এটা কীভাবে সম্ভব! গ্রামীন ফোনের কিছু কি হ্যাক করে এমন ফ্রড করা সম্ভব ... নাকি ... কর্তৃপক্ষের অগোচরে ভেতরের কিছু লোক এমন কারবারের সাথে জড়িত?

==
ব্যাপারটায় সচেতন থাকা দরকার। আর এইরকম ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। আমার আগের মাঝরাতে ব্যাপক বিনোদন নামক পোস্টেও মুঠোফোন দিয়ে একই রকম সমস্যার কথা জানিয়েছিলাম। টেকনিক্যাল কারণে (ব্যালেন্স পরিবর্তন, কল সেন্টার) এই ঘটনাটা আগের ঘটনাগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।

==
এর আগে (বছরখানেক হতে পারে) এক চ্যাংড়া মিস কল দিয়ে দিয়ে শাশুড়ি আম্মাকে জ্বালাতো। একবার কল ব্যাক করে ঝাড়িও দিয়েছেন। বাসায় এসে আমাকে বললো দেখতো বাবা ... এটার একটা বিহিত করা যায় কি না। আমি তখন দেখি যে ওটা মধ্যপ্রাচ্যের একটা নাম্বার। আম্মাতো নাম্বার খেয়াল না করেই কলব্যাক করেছেন! ..... .... শুনে আম্মার রিয়্যাকশন: তাইতো বলি আমার ২০০ টাকা এ্যাত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল কীভাবে!

==
আরেকবার (কয়েক বছর আগে) শ্বশুরের বাসার ল্যান্ডফোনে এরকম মিষ্টি কণ্ঠের নীহারিকা নামক মেয়ে ফোন করে পুরস্কার জেতার কথা জানিয়েছিলো (আমিই সেই ফোন রিসিভ করেছিলাম!)। পরদিন যাওয়ার জন্য একটা ঠিকানাও দিয়েছিলো। কিন্তু কে আর সেধে সেধে অপহৃত (মুক্তিপণ দাবির শিকার) হতে যায়!

==
২০০৩ সালে আমার তৎকালীন অফিসে (গণপূর্ত) ফোন করে এক সন্ত্রাসীর (কালা জাহাঙ্গীর) নামে চাঁদা চেয়েছিলো। অনুনয়ের সুর শুনে আমি ঠিক সন্দেহ করেছিলাম। আমি উল্টা ওনার কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলাম। এর সপ্তাহখানেক পরেই পেপারে এরকম দুই ফ্রড গ্রেফতারের ঘটনাও বের হয়েছিলো।

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০০৯

অসহায় বাচ্চা, ভয়ংকর ডাক্তার

(বাঁচতে হলে জানতে হবে টাইপ কথাবার্তা আছে ... খোকা খুকিদের না পড়াই ভাল)

আমার ছোটভাই শাহেদের বাচ্চার বয়স প্রায় ৬ মাস। হাসিখুশি আমার এই ভাস্তিটার জন্মের সময়টার কথা মনে পড়লে এখনও ঐ ডাক্তারের উপর রাগে মাথায় রক্ত চড়ে যায়। শাহেদের বউ আমাদের কাজিন ছিল (আছে)। গর্ভের কয়েক মাসের সময় বাইরে বেশি ঘুরাঘুরি করার জন্য সম্ভবত হঠাৎ একদিন অসুস্থ হয়ে পড়লো। ডাক্তার পরামর্শ দিল বেড-রেস্টে থাকার জন্য। এই সময়টাতে গর্ভবতী মেয়েরা সাধারণত তাঁদের মায়ের কাছে চলে যায় --- এই রেওয়াজ জাপানেও দেখে এসেছি। সুতরাং ও সাভারে ওদের বাসায় চলে গেল।

সাভারেই একটা ক্লিনিকের ডাক্তারকে দেখানোর ব্যবস্থা করা হল। ঐ লেডি-ডাক্তারের দেশের বাইরের বড় ডিগ্রী আছে, উপরন্তু শাহেদের সম্বন্ধীর (আমাদের ..তুতো ভাই) খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মা উনি। ক্লিনিকটা ঢাকা থেকে গেলে সাভার বাজার পার হয়ে কিছুদুর পরে প্রধান রাস্তার বামপাশে অবস্থিত (ভেলরি টেইলরের সি.আর.পি. ওটার উল্টা দিকে কিছুটা ভেতরে)। ডাক্তার সাহেবের আলিশান বাড়িটাও ক্লিনিকের সাথেই লাগোয়া। কাজেই বেশ নির্ভরতার সাথেই ওনার পরামর্শ মেনে চলতে থাকলো ওরা। বাইরের দেশগুলোতে গর্ভবতী মায়েদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ... সিজারিয়ান অপারেশন ছাড়াই স্বাভাবিক প্রসবের জন্য তাঁদের নিয়মিত বিভিন্ন ব্যায়াম করানো হয়। জাপানে থাকার সময় এই ব্যাপারটা দেখেছি .... কেউ আর্নল্ড শোয়ার্জনেগারের জুনিয়র সিনেমাটা দেখে থাকলেও এই ধরনের সিন দেখে থাকবেন। অথচ, আমাদের ডাক্তার এ ধরণের কোন পরামর্শই দিয়েছে বলে কখনো শুনিনি। বরং সবসময়ই এমন কথা বলেন যে সব ঠিক আছে ইত্যাদি।

ফলে শুয়ে থাকতে থাকতে গর্ভবতীর ওজন বেড়ে গেল অস্বাভাবিক। ডেলিভারির সময়ে ঐ ক্লিনিকে ভর্তি করানো হল এবং বাচ্চার পজিশন ঠিক নাই এমন আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট দেখিয়ে সিজার করা হল। আমার ছোটচাচা হোমিওপ্যাথির ডাক্তার, থাকেন সেই কুড়িগ্রামে। উনি পরে বলেছিলেন যে, আসলে বাচ্চার পজিশনের যেই ব্যাপার দেখিয়ে সিজারিয়ান করানো হয় তার বেশিরভাগই ঠিক না। বাচ্চা শুরুতে উল্টা পজিশনেই থাকে। তারপর যতই প্রসবের দিন ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই বাচ্চা ঘুরে পজিশনে আসতে থাকে; বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্লিনিকওয়ালাগণ সিজারিয়ান অপারেশন করে টাকা কামানোর জন্য এই পজিশনে আসার আগেই আল্ট্রাসনোগ্রাম করে উল্টা পজিশনের ছবি নেয়। পাশাপাশি ডেট পার হয়ে যাচ্ছে, ঠিক সময়ে প্রসব না হলে বাচ্চার ক্ষতি হবে -- এসব কানপড়া দিতে থাকে। পানি ভেঙ্গে গেলে বাচ্চার ক্ষতি হওয়ার কথাটা পুরাপুরি সত্য, কিন্তু সময় পার হয়ে যাচ্ছে ... এই কথাটা আতঙ্কিত করানোর জন্য বলা হয়; কারণ তা না হলে কয়েকদিন পরে স্বাভাবিক ভাবেই প্রসব হবে ... ওদের সিজারিয়ানের দাও মারা হবে না। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভাল - আমার ছোটচাচীর ৫জন সন্তান (+১ জন জন্মের পর মারা গিয়েছিল) সকলেই স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে।

যেদিন সন্ধ্যায় বাচ্চা হল, তার পরদিন দেখতে গেলাম। বাচ্চা কোলে নিয়েই মনে হল ওর গায়ে জ্বর। আঙ্গুল দিয়ে বাচ্চার ভ্রুর উপরে এবং কপালে একটু ঘষে ম্যাসেজ করে দিলে বাচ্চা আরামে চোখ বন্ধ করে ফেলে। বাচ্চার মা-বাবা, খালারা সকলের কাছেও তাই মনে হল। তখন বাচ্চার মা বলছিল যে গতরাত্রে যখন সিজারিয়ান করতে নিয়ে যাওয়া হল তখন ঐ কক্ষের তাপমাত্রা এত কমানো ছিল যে ও ঠান্ডায় কাঁপছিলো। এই ঠান্ডার মধ্যে বাচ্চা বের করে ওরা বলাবলি করছিলো যে দূর্বল বাচ্চা ... অবস্থা সুবিধার দেখছি না। তারপর ওর রূমে আসার পর জোর করে বাচ্চাকে একটা ইঞ্জেকশন দিয়েছে।

কাহিনী এখানে শেষ হলেও খুশি হতাম। কিন্তু তারপর আমি চলে আসার পর বাচ্চার নানী যখন বাচ্চার কাপড় পাল্টাতে গেল তখন ভক করে নাকে দূর্গন্ধ এসে লাগলো। বাচ্চা ভুমিষ্ট হওয়ার পর ওকে গরম পানি দিয়ে গোসল দেয়ানোর কথা ... কিন্তু এখানে তা-ও করা হয়নি। একেই তো এয়ার কন্ডিশনারের ঠান্ডায় বাচ্চা কুঁকড়ে ছিলো তার উপর গোসল না দিয়ে কোনো রকমে তুলা দিয়ে মুছিয়ে তোয়ালে জড়িয়ে দিয়েছে। স্তম্ভিত নানী তারপর তাড়াতাড়ি করে গরম পানিতে বাচ্চাকে ধুইয়েছে। শুরুতেই বাচ্চাকে এরকম অসুস্থ করানোর জন্য ক্লিনিকওয়ালারা চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেনি বলে মনে হল (প্রসুতিকে ঠিকভাবে গাইড করেনি, স্বাভাবিকের বদলে সিজারিয়ান, কনকনে ঠান্ডা রূমে প্রসব করিয়ে বাচ্চাকে ঠান্ডা লাগানো, গোসল না দিয়ে জীবানুদের সুযোগ করে দেয়া, ইঞ্জেকশন?)। ফলে বাচ্চা এর পর বেশ কিছুদিন জ্বর, নাড়ি কাঁচা থাকা এবং জন্ডিসে ভুগেছে।

যা হোক অপারেশনের ক্ষত শুকানো মাত্র ঐ ক্লিনিক থেকে ওদেরকে রিলিজ করিয়ে আনা হয়েছে। ঐ কসাইখানা থেকে জীবিত বাচ্চা এবং মা-কে নিয়ে বের হয়ে আসতে পেরে আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। নানীবাড়ি থেকে ঢাকায় আনার পর ঐ কয়েকদিনের বাচ্চাকে নিয়ে ঢাকায় রক্ত পরীক্ষা করানো হল ... বাচ্চা আমার কোলে, শাহেদ ক্লিনিকের কাউন্টারে কথা বলছে। যখন রক্ত নিল তখন বাচ্চা আমার কোলে --- সুঁইয়ের সাইজ ওর পায়ের পাতার চেয়ে বড়। পায়ের পাতা থেকে রক্ত নিল। রক্ত/সুঁই এই জিনিষগুলো আমি খুব ভয় পাই - দেখতে পারি না (যদিও নিজে আবার এদিক দিয়ে বেশ ভাল ছিলাম ... মাথা কামাইলে এখনও শুধু ঐটুকুতেই দুই ডজন দাগ দেখা যাবে, বাকী দেহের কথা না হয় বাদই দিলাম)। রক্ত নেয়ার সময় আমি বাচ্চাকে ধরে রেখেছিলাম .. .. যে লোক রক্ত নিল সে, শাহেদ সবাই আমাকে অভয় দিচ্ছে ... দৃশ্যটা বেশ মজার এবং করুণ। জন্মের সময় থেকেই বেচারীকে ভীষন প্রতিকূলতার বিরূদ্ধে যুদ্ধ করতে হয়েছে - দূঃখ লাগে এজন্য যে সেই প্রতিকূলতাগুলো কৃত্রিমভাবে কিছু মানুষই(?!) সৃষ্টি করেছিলো।

মাঝে মাঝে ভাবি, বিদেশে যেখানে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য এ্যাত চেষ্টা করা হয় সেখানে আমাদের কিছু ডাক্তার/ক্লিনিকগুলো এ্যাত কসাইগিরি করতে চায় কেন? টাকা কি মানুষকে এ্যাতই খারাপ বানিয়ে দেয়? যাদের উপর জীবনের জন্য নির্ভর করে মানুষ, তারাই কিনা এটা নিয়ে ছিনিমিনি খেলে! .... .... আরেকটু চিন্তা করলে বুঝি যে এটা আমাদের সিস্টেমের জন্যই হয়েছে। এদেশের বাস্তবতায়, এই সিস্টেম ভুল না শুদ্ধ সেই তর্ক তোলা থাক আপাতত। অন্য দেশের ডাক্তারগণের স্বাভাবিক প্রসবপ্রীতির পেছনেও টাকার ক্ষুধা কাজ করে - সেটা কেন তা ব্যাখ্যা করি একটু। জাপান বা অন্য উন্নত দেশে সকলের রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বীমা থাকে। চিকিৎসা খরচ দেয় সরকার, কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে খরচের সামান্য অংশ বহন করতে হয়। অন্য দেশের কথা জানিনা, জাপানে প্রতি সন্তান প্রসবের জন্য ঐ ক্লিনিক/হাসপাতাল/ডাক্তার বেশ ভাল একটা টাকা পায় সরকার থেকে। এই টাকার পরিমান নির্দিষ্ট। কাজেই স্বাভাবিক প্রসবের বদলে যদি সিজারিয়ান করানো লাগে তাহলে ঐ ডাক্তার/ক্লিনিকের খরচ বেড়ে যাবে - ভাগের টাকা কম পড়ে যাবে। তাই ওরা প্রানান্ত চেষ্টা করে যে স্বাভাবিক ডেলিভারি হউক। অনেকক্ষেত্রেই সিজারিয়ান দরকার এমন রোগীকেও স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা থাকে। যেটা আমাদের দেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য ভ্যাসেকটমি করানোর সেই প্রজেক্টের কথা মনে করিয়ে দেয়।

অসুখ বিসুখ হলে তাই পারতপক্ষে ডাক্তারের কাছে যাই না। ওমুখো না হওয়ার জন্য নিয়ম কানুন মেনে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দাবার খাওয়ার চেষ্টা করি। আর, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা নেয়াটা হল আমার সর্বশেষ অপশন। দরকার হলে হোমিও ঔষধ খাই। অপেক্ষাকৃত কম প্রচারওয়ালা এই চিকিৎসা পদ্ধতিটা সম্পর্কে আজেবাজে কথা প্রচলিত থাকলেও জার্মানিতে আবিষ্কৃত এবং জার্মানি /আমেরিকা /পাকিস্থান /ভারত /বাংলাদেশে তৈরী ঔষধওয়ালা এপদ্ধতিতেই বেশি আস্থা রাখি (এক্ষেত্রে চিকিৎসা খরচ এবং সুঁই-এর অনুপস্থিতি আমার জন্য একটা বিরাট ইস্যূ)।

দেশে ভাল অনেক ডাক্তার আছেন ... যাঁরা সত্যিকারের চিকিৎসার উদ্দেশ্য নিয়েই চিকিৎসা করেন (এই মুহুর্তে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাগ্রহণরত স্ত্রীর পাশে বসে লিখছি)। তাঁদের অসম্মান করা এই পোস্টের উদ্দেশ্য নয়। নীতিগত ভাবে আমি হোমিও চিকিৎসা নেয়ার পক্ষপাতি হলেও বেশ কিছু ডাক্তার (এলোপ্যাথি) চিরজীবনই আমার কৃতজ্ঞতা পাবেন। আমার খারাপ অভিজ্ঞতাগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা; এতে, ডাক্তার বা চিকিৎসাপদ্ধতি খারাপ - এমন কোনো জেনেরালাইজেশনে না যাওয়াই ভাল।

(৭-মার্চ-২০০৯, বিকাল ৩:৩০)

সচলায়তনে প্রকাশিত

শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০০৯

বাচ্চা ভয়ংকর ডাক্তার ভয়ংকর!

(বাঁচতে হলে জানতে হবে টাইপ কথাবার্তা আছে ভেতরে ... বেশি ছোটরা না পড়াই ভাল)

আমার বিবাহিত জীবন প্রায় ছয় বছর ছুঁই ছুঁই করছে। বাচ্চা কাচ্চা নেয়ার কোন রকম অবকাশ পাই নাই এর মধ্যে। যখন বিয়ে করি তখন বউয়ের বুয়েট লাইফের ৩য় বর্ষ ... ২১তম বিসিএস-এর কল্যানে আমি কেবল গণপূর্ততে যোগদান করেছি আর ওদিকে পি.এইচ.ডি করার জন্য জাপান সরকারের বৃত্তি হবে হবে করছে। মাত্র চার মাস চাকুরী করেই একা জাপান চলে গেলাম। জাপান থাকাকালীন সময়েও গবেষণার নমুনা সংগ্রহের জন্য গড়ে প্রতি ৩ মাসে একবার করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে আমার প্রফেসর .... কাজেই দৌড়ের উপরেই ছিলাম। বাংলাদেশে ঘন ঘন আসার ফলে হোম সিকনেস কেটে যেত - এই সুবিধা থাকলেও ঘন ঘন আসার ফলে জাপানে জীবন ধারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জটিলতা দেখা দিত -- একবার তো লম্বা ভ্রমনের কারণে ঠিক সময়মত স্বাক্ষর করতে পারিনি বলে এক মাসের বৃত্তিই পাইনি।

যা হোক, জাপানে আমার বয়স দেড় বছরের মাথায় আমার স্ত্রী তাঁর বুয়েটের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েই চলে এল ... এর আগেও দুই সেমিস্টারের মাঝের বন্ধগুলোতে ৪৫ দিন করে দুইবার বেড়িয়ে গিয়েছিলো। বাকী আড়াই বছরেও বাচ্চা কাচ্চা নেয়ার চিন্তা করি নাই, কারণ আমার পি.এইচ.ডি.'র ঐ ক্রিটিকাল সময়ে এ সংক্রান্ত বিষয়ে সাপোর্ট দিতে তো পারতামই না বরং আমারই অতিরিক্ত সাপোর্ট দরকার ছিল।

দেশে ফেরার পর স্ত্রী আড়াই বছর পড়ালেখাবিহীন কাটানোর পর এখানে বুয়েটেই মাস্টার্স করতে ভর্তি হল। সমস্ত থিওরী কোর্স শেষ .... থিসিসও শেষ হওয়ার পথে। জন্ম নিয়ন্ত্রন বড়ি খেলে বা অন্য কোন ব্যবস্থা নিলে সেটার রাসায়নিক প্রভাব স্ত্রীর দেহে পড়ে তাই, উভয়ের সম্মতিতেই আমার বউ কোনরকম জন্ম নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি নেয়নি .... ইন্টারনেটের কল্যানে স্বাভাবিক নিয়ম আর আমার দিক থেকে প্রোটেকশন নেয়া হয়েছে। এদিকে পরিচিত আত্মীয় স্বজন সবাই কথা বার্তায় ডাক্তার দেখানো, বিভিন্ন জটিলতার কথা বলা শুরু করে দিয়েছে। আড়ালে হয়তো, আমাদের দুইজনের মধ্যে কে সন্তান নিতে অক্ষম সেই বিষয়েও ফিসফাস আলোচনা চলে!

বউয়ের মাস্টার্স শেষের পথে, চাকুরী করে না .... তাই অনেকটা সামাজিক চাপে বাধ্য হয়েই বাচ্চা নেব বলে ঠিক করলাম কিছুদিন আগে। পরের মাসেই বউএর স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হল। স্টিক টেস্টে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পরপরই বমি ইত্যাদি হয়ে একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়লো। কাজেই নিজের বাসা ছেড়ে মাসাধিককাল যাবৎ শ্বশুর মহাশয়ের অন্ন ধ্বংস করে চলেছি চোখ টিপি । অবস্থা এ্যাত বেশি খারাপ হল যে, পানি খেলেও এক মিনিটের মধ্যে বমি হয়ে বেরিয়ে আসছিলো। শরীরে পানির অভাবে প্রশ্রাব লালচে হয়ে গেল। ডাক্তার দেখাতে নিয়ে গেলাম। এদিকে নিজ বাসার বাইরে থাকার কারণে আমার ঘুম এবং টয়লেট ব্যহত হচ্ছে .... অনুভুতিটা সুখকর নয় .... কিন্তু বাচ্চার জন্য তো সারা জীবনেই কত কিছু ত্যাগ করতে হবে - এই চিন্তায় ওসব পাত্তা দেই না, শ্বশুর বাড়িতে আছি - এই আনন্দে মনটাকে ভরানোর চেষ্টা করি।

সারারাত আর দিন আমি বউয়ের দেখাশোনা করি, সন্ধ্যায় অফিসে যাই (বিকাল ৬টা থেকে ১০টা আমার ক্লাস নিতে হয়) ... ঐ সময় শুধু শাশুড়ি দেখাশোনা করেন। চোখের সামনে বউয়ের অমানুষিক কষ্ট দেখতেও খারাপ লাগে।

খালা শাশুড়ি ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তার, নিজের ক্লিনিকও আছে .... উনি পরামর্শ দিলেন যে গ্রীনরোডের সেন্ট্রাল হাসপাতালে প্রফেসর (ঢাকা মেডিকেল কলেজ) ফারহানা দেওয়ানকে দেখাতে। দেখালাম ... রক্ত পরীক্ষা এবং আলট্রাসনোগ্রাম করালেন। তারপর অতিরিক্ত বমির জন্য একটা ট্যাবলেট আর স্বাভাবিক ফলিক এসিডের জন্য আরেকটা ট্যাবলেটের ব্যবস্থাপত্র দিলেন। ১৪ মি.মি. বাচ্চার ছবি দেখে আমরা খুশি হই ... রিপোর্ট বলে ৬-৮ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা, বাচ্চার হার্টবিট নাই; আমাদের হিসেবে যখন টেস্ট করা হয়েছে তখন বাচ্চার ভ্রুণের বয়স সর্বোচ্চ ৪ সপ্তাহ (স্বাভাবিক জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলাম বলে ফার্টাইল পিরিওড সম্পর্কে ঠিক ঠাকভাবেই জানি)। ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী সব করলেও অবস্থা একটু ভাল হয়ে আবার খারাপ হতে থাকলো। বউ বারবার বলছে যে তাঁরটা স্পেশাল কেস যেখানে অবস্থা বেশি খারাপ থাকে এবং স্যালাইন নিতে হয়। আমরা (আমি, শাশুড়ি, শ্বশুর ইত্যাদি) এসবে পাত্তা দেই না ... কারণ এ্যাত বড় একজন প্রফেসরকে দেখিয়ে এনেছি ... পরবর্তীতে আরো দুইবার রিপোর্ট করেছি -- এরপরে কথা থাকা উচিত না ... যে ভোগে সে তো সহানুভুতি পাওয়ার জন্য অনেক কথাই বলে।

একমাসে অবস্থা আরো খারাপ হল ... প্রফেসর বললেন যে আরেকবার আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে, বাচ্চার হার্টবিট এসেছে কি না সেটা নিশ্চিত হতে হবে -- এটাই বড় চিন্তার বিষয়। ওর খালা মেডিসিন থেকে পাশ করলেও স্পেশালাইজেশন হল মানসিক/মাদকাসক্ত চিকিৎসায় -- তাই নিজে আগ বাড়িয়ে মন্তব্য করেন না; কিন্তু ভাগ্নির অবস্থা এবং রিপোর্ট দেখে একটু ভ্রু কুঞ্চিত করলেন। তারপর বললেন যে তুমি একটু গ্লুকোজ খাও ... আর তোমাকে আমার ক্লিনিকের পাশেই আরেকটা ক্লিনিকে গাইনোকোলজিস্ট আছেন তাঁর সাথে পরামর্শ করি, তোমাকে একটু সেখানেও দেখাই। ইস্কাটনের সেই ক্লিনিকে দেখাতে নিয়ে গেল আমার শ্বশুর-শাশুড়ি এবং খালা শাশুড়ি .... উনি (ডাক্তার) দেখেই হলি ফ্যামিলিতে ভর্তি করাতে বললেন। কারণ উনি মূলত হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ/হাসপাতালের ডাক্তার এবং ঐ ক্লিনিকটা রাস্তার উপরে হওয়াতে শব্দ বেশি।

ক্লাস নেয়া শেষ করে আমি সোজা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে এসে দেখি হাতে স্যালাইন লাগিয়ে ওকে শুইয়ে রেখেছে, কয়েকটা ইঞ্জেকশনও দিয়েছে স্যালাইনের ঐ পথে (ক্যানোলা)। অবাক হয়ে দেখলাম, ওর সেই অস্বস্তিগুলো নেই। গত কয়েকদিনে রক্ত, প্রস্রাব ইত্যাদি পরীক্ষা নিরীক্ষায় জানা গেল যে, ওর শরীরে গ্লুকোজ, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি মারাত্নক রকম কমে গেছে। বাচ্চা ঠিক আছে ... সাইজে আরেকটু বড় হয়েছে (১৭ মি.মি.) আর হার্টবিট এসেছে।

এখানে যেই জিনিষটি অবাক লাগলো যে, প্রথমবার টেস্টেই কিন্তু ওর রক্তে গ্লুকোজ কম ধরা পড়েছিল। ওটার বিরূদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় আস্তে আস্তে অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। আমার বউয়ের ঐ কথাটাই ঠিক ছিল .... আসলেই ওর স্পেশাল কেস ... এই অবস্থাটার নাম হাইপারেমেসিস(সম্ভবত এরকমই কিছু খটমটে নাম) আর কারণ সম্ভবত:হাইপোগ্লাইসিমিয়া, পরিসংখ্যানগত ভাবে যেটা হাজারে ৫ জন গর্ভবতীর হয়ে থাকে। এই ব্যাপারটা কেন এ্যাত বড় প্রফেসরের চোখ এড়িয়ে গেল সেটাই খালাশাশুড়িকে চিন্তিত করে তুলেছে। মামা শ্বশুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক - মামী শাশুড়ির সূত্রে ওনার ঐ অধ্যাপকের বাসায় পরিচিতি আছে, উনি বললেন সম্ভবত প্রফেসরের বাসায় কিছু ঝামেলা চলছে, তাই একটু অমনোযোগী। আমি খারাপ মানুষ তাই খারাপ চিন্তাটাই আগে মাথায় আসে .... প্রফেসর সাহেব হয়তো চেয়েছিল যে আমার বউয়ের অবস্থা খারাপ হউক... তারপর নিজেরাই সুড়সুড় করে গিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি হব। কে জানে আসলে কী জন্য এমন করলো‍! এদিকে হলি ফ্যামিলিতে বেশ ভাল যত্ন নিচ্ছে .... এটা কী খালা শাশুড়ির পরিচয়ের সুবাদে, নাকি কেবিনে থাকি বলে ... নাকি হাসপাতালের গুনে সেটা বুঝতে পারি না।

সেন্ট্রাল হাসপাতালে খালা শাশুড়ির পরিচয়ের সূত্র ব্যবহার করি নাই। আর এখানকার সম্পর্কে ধারণাটা এমনিতেই ভাল না -- ব্যস্ত সড়কের উপরে অবস্থিত বলে আর সন্ধ্যায় কনসালটেন্সি রোগী/মেডিকেল প্রমোশন অফিসারদের ভীড়ে এটার যতদুর দেখেছি সেটা বাজারের মত সরগরম মনে হয়েছে। এছাড়া শাশুড়ির কলিগের আত্মীয়ের কাহিনীটাও সুখকর নয়। ঐ কলিগ (যার ছেলে বুয়েটে আমার রুমমেট/ক্লাসমেট ছিল ... ওর সূত্রেই শ্বশুরপক্ষের সাথে আমার পরিচয় ঘটেছিল) এর আত্মীয়ের ছেলের একটা ফোঁড়া হয়েছিল। হাউ কাউ করে ছেলেকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলো। ওখানে ফোঁড়া গালিয়ে দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে .. তারপর ঐ হাতটাকে গলার সাথে ঝুলিয়ে দিয়েছে (হাঁড় ভাঙ্গা রোগীদের যেমন দেয়) ---- এই পর্যন্ত কাহিনীতে কোন সমস্যা ছিল না .... কিন্তু এই কাজের জন্য ১২০০০ টাকা বিলটাই সব কেমন জানি করে দিল (হ্যাঁ ভাই, I repeat: বার হাজার টাকা!!)।

বর্তমানে গত রাত বাদ দিলে (আজ শুক্রবার বলে রাতে শাশুড়ি ছিলেন) চার রাত ধরে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালটাই আমার বাড়ি ঘর। এখানেই থাকি, খাই, ঘুমাই, গোছল করি ... এখান থেকেই সন্ধ্যায় অফিসে যাই (তখন শ্বশুর/শাশুড়ি পাহারা দেয়), অফিস শেষে এখানেই ফেরৎ আসি। বউ-এর রক্তের সমস্ত প্যারামিটারগুলো স্বাভাবিক হয়ে এসেছে .... তারপরেও কিছুটা অসুস্থ আছে। আগামী আরো দুই/এক মাস এমন যাবে, তারপর স্বাভাবিকভাবেই শরীরের হরমোন লেভেল এডজাস্ট হয়ে ঠিক হয়ে যাবে। এখন শরীরের অভাবগুলো স্যালাইন দিয়ে মিটিয়ে দিচ্ছে .... এ অবস্থায় বাসায় গেলে সমস্ত যত্নের মধ্যেও আবার এরকম হবে ... ১০/১২ দিন পর আবার এসে স্যালাইন নিতে হবে --- পরিচিতের মধ্যে দেশে/বিদেশে যারা এইরকম লক্ষণের মধ্য দিয়ে গেছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা তাই বলে। ব্যাপারটা অনেকটা ব্যাটারি চার্জ করার মত। একবার রক্তে পুষ্টির চার্জ দিলে এতে ১০/১২ দিন যায়।

বাবা হওয়ার পথটা মোটেও সুখকর নয় .... না জানি সামনে আরো কী কী সইতে হবে। মন খারাপ

(এই লেখাটা গতকাল কেনা HP mini 1001TU নেটবুক কম্পিউটার ব্যবহার করে হাসপাতালে বসে লেখা। ৬ই-মার্চ-২০০৯, শুক্রবার দুপুর আড়াইটা)

সচলায়তনে প্রকাশিত

শুক্রবার, ৯ মে, ২০০৮

দূঃস্বপ্ন

ছোটবেলায় নিজের দেখা
সবচে খারাপ স্বপ্ন,
ছড়ায় ছড়ায় যাই বলিয়া
নিয়ে অনেক যত্ন।

রাতের বেলা করতো ধাওয়া
বি.আর.টি.সি বাস,
লাল রঙের ঐ একতলা বাস
হতাম রে হাঁসফাঁস।

যতই ছুটি বাসটা যে আর
ছাড়েনাতো পিছু,
দৌড়ে উঠি দোতলাতে
change হয়না কিছু।

লাফায় নামি নিচতলায়
বাসও লাফায় নিচে,
আমি কোঁকাই, ওরে বাস তুই
পড়িস কেন পিছে?

দৌড়ে দৌড়ে হই একাকার
শরীর ভিজে ঘামে,
ক্লান্ত ভয়ে ঘুম ভেঙ্গে যায়
স্বপ্নটাতো থামে।

ঘুম ভাঙ্গলে স্বপ্ন ভেবে
আসে ভীষণ হাসি,
বাস ওঠে দোতলাতে
যুক্তিরে দেও ফাঁসি।

স্বপ্ন মাঝে ভাবিনি কেন
দৌড়টা থামায়,
এসব ভেবে এখনও
মাথাটা চুলকায়।

(সচলায়তনে প্রকাশিত)

রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০০৮

বিষ্মিত, অভিভূত!

আজ অফিস থেকে ফেরার পথে বাসার কাছের দোকান থেকে চাল এবং চকলেট কিনে বাসায় ফিরলাম। ফেরার কথা ছিল ৬টায়, কিন্তু মিটিং থাকাতে ফিরতে ফিরতে ৮টা বেজেছে। মাথা এবং ঘাড় একটু ব্যাথা করছিল। সম্ভবত বার্ধক্যের দিকে ধাবিত হওয়ার পথে কোন চেক পয়েন্ট পার হয়েছি। গতকালও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। ফলে নির্ধারিত ক্লাস বাতিল করেছিলাম। আজও মনে হয় সেই রকমই কোন অসুস্থতা আঘাত করবে .... ...।

বাসায় এসেই কাপড় পাল্টে গোসল করে শুয়েছি। বউ বলছে রাতের খাবার খেয়ে এই ঝামেলা চুকিয়ে ফেলতে। এমন সময় কেউ একজন কড়া নাড়ল। দেখি দোকানের কর্মচারী ... বলছে আপনি দোকানে সম্ভবত মানিব্যাগ ফেলে এসেছেন। আমিতো অবাক!! ... ... কাপড় পাল্টানোর সময় বের করে রাখা জিনিষপত্র ঘেটে দেখলাম আসলেই তাই ... মানিব্যাগ নাই।

ইতিমধ্যে একটা ফোন আসল। দোকান থেকে এর মালিক সোহাগ ফোন করেছেন (বয়স ৩০এর কমই হবে) ... সম্ভবত মানিব্যাগের ভেতরে আমার ভিজিটিং কার্ড থেকে ফোন নম্বর নিয়ে ফোন করেছে। জানালাম যে, ঠিক .... আপনার কর্মচারীও এসেছেন। এরপর, দোকানে গিয়ে মানিব্যাগ নিয়ে আসলাম। মানিব্যাগে প্রায় আড়াই হাজার টাকা ছিল .... সবই অক্ষত।

আমি সত্যই বিষ্মিত, অভিভূত!!


সচলায়তনে প্রকাশিত

ডাক্তারদের থেকে শেখা


আব্বা একবার হার্টের কেরাবেরা অবস্থায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ-এর সি.সি.ইউতে ভর্তি হলেন (এই যায় যায় অবস্থা)। তখন বিভিন্ন বড়, ছোট, পাতি ... ডাক্তার রাউন্ডে দেখতে আসতো আর বিভিন্ন মন্তব্য করতো। এই সব গুজুর গুজুর শুনে আমরা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছিলাম যে সুস্থতার জন্য আব্বাকে অবশ্যই হৃদপিন্ডে পেসমেকার লাগাতে হবে। খোঁজখবর নেয়াও শুরু করেছিলাম কোথায়, কিভাবে, কত খরচ, কতদিন টেকে ইত্যাদি বিষয়। খুবই সীমিত আয় ও সঞ্চয়ের লোক বিধায় আমাদের দুশ্চিন্তাও কম ছিল না। সেই সময়েই (২০০০ সালের দিকে সম্ভবত) পেসমেকারের দাম লাখ টাকায় (২ লক্ষ/ ৫ লক্ষ ...)হিসেব করতে হত যেটা যোগাড় করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব না হলেও খুবই কঠিন ছিল।

পরবর্তীতে যেই ডাক্তার সাহেবের অধীনে ভর্তি হয়েছিলেন, ওনার পরামর্শমত পরীক্ষা করালাম ঐখানেই (হল্টার মনিটরিং), তারপর সেই ফলাফল ওনার ক্লিনিকে দেখালাম। হাসপাতালেও ডাক্তার স্যারদের দেখা পাওয়া যায় কিন্তু ঐ সময় রোগীর দিকে কতটুকু মনযোগ দিতে পারেন সেই ব্যাপারে সন্দেহ রয়েই যায় মনে। কারণ অনেক রোগী, তার উপর ছাত্রদের গ্যাঞ্জাম সামলে ... রোগীর দিকে মনযোগ দিতে হয়। সরকারী হাসপাতালে রোগী স্থির, ডাক্তারগণ ছোটাছুটির মধ্যে থাকেন ... তাই দেখা পাওয়ার জন্য দৌড়ে খুবই দক্ষতার প্রয়োজন, যেটা রোগীদের পক্ষে সম্ভব নয়; অপরপক্ষে ক্লিনিকে ডাক্তার স্থির, রোগীরা সহজেই খুঁজে পান ওনাদের। তাই ওনার চেম্বারেই গেলাম (ল্যাব এইড)। উনি কিছু ঔষধ লিখে দিয়ে ছেড়ে দিলেন ... বললেন ভাল হয়ে যাবেন। ঐটা শুনেই আব্বা অর্ধেক ভাল হয়ে গেলেন, কারণ পেসমেকারের খরচের চিন্তাটা ওনার বুকে একটা বিরাট দুশ্চিন্তার বোঝার মত হয়ে ছিল। বাকীটুকু সেরে গেল ঔষধ খেয়ে।

একই হাসপাতালের এক ডাক্তার বলল যে পেসমেকার ছাড়া এই রোগী শেষ আর আরেকজন ঐ নামই নিলেন না ... ব্যাপারটা একটু অবাক করার মত - তাই না! একটু অনুসন্ধান আর চিন্তা করে এর কারণ বুঝতে পেরেছিলাম অবশ্য: আব্বা ভর্তি হয়েছিলেন মেডিসিনের ডাক্তার প্রফেসর আব্দুজ্জাহের স্যারের অধীনে। তাই তিনি মেডিসিন দিয়ে রোগ নিরাময় করলেন। বাকী ফুসমন্তর দেয়া পাতি ডাক্তাররা বেশিরভাগই সার্জারীর ডাক্তার (ক্লিনিকের ব্যবসাও মাথায় থাকে) .. তাই সেই তরিকা বাৎলায়।

এই অধ্যায় থেকে একটা শিক্ষা পেয়েছিলাম .... : বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোন সমস্যা সমাধানের কয়েকটা বিকল্প ব্যবস্থা থাকে। যে শুধু একটাই জানে, সে সেটাকেই পরম সমাধান ধরে নেয়। আসলে পরম সমাধান বলে কিছু নাই। কাজেই চোখের সামনের সমাধান মনমত না হলে বিকল্পটা খুঁজে নিতে হবে। নিরাশ হলে নিজেরই ক্ষতি।


(দয়া করে কেউ আবার মাইন্ড খাইয়েন না)

সচলায়তনে প্রকাশিত

শনিবার, ২২ মার্চ, ২০০৮

মুঠোফোনে ইতরামী প্রসঙ্গে

মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ইতরামীর মাত্রা দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে।

প্রায়ই মাঝরাতে একটা ফোন নম্বর থেকে আমার স্ত্রীর ফোন নাম্বারে ফোন আসে। ফোন যে করে, সে কোন এক জায়গা থেকে নম্বরটা জোগাড় করেছে কিন্তু সে পুরোপুরি নিশ্চিত না যে নাম্বারটা আমার বউএর-ই। কারণ আমার সে কখনই ফোন রিসিভ করে একটা শব্দ করেনি। ঐ এক লোকই যে ফোন করে সেটা নিশ্চিত কারণ ডিস্টার্ব করা নম্বরটা সেভ করে রাখা আছে। ফোনটা ধরে যদি আমি হ্যালো বলি, তাহলেই লাইন কেটে দেয়।

গতকাল রাতে আরেক ফোন থেকে একটা অশ্লীল (এতটাই অশ্লীল যে এখানে দিতে রুচি হচ্ছে না) মেসেজ এসেছে। মেজাজটা এত খারাপ হয়েছে যে বলার না।

কিছু একটা করা দরকার কিন্তু সেটা কী বুঝতে পারছি না। এই সমস্যা যে একা আমার তা হয়ত না। আরো পরিচিত অপরিচিত অনেকেরই হচ্ছে সেটা নিশ্চিত। ইভ টিজিং-এর ফলে আত্মহত্যার ঘটনাও ইদানিং পত্রিকায় আসছে। মোবাইলে ইতরামীর ফলে অত্যাচারীতের প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারটাও সেই পর্যায়ে যাক সেটা নিশ্চয়ই কারো কাম্য নয়।

সকল মোবাইল ফোন তো মালিকের নাম সহ রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। ফোন কম্পানিতে যোগাযোগ করলে কি এ ধরণের ক্রিমিনালদের পরিচয় বের করা যাবে? পরিচয় পেলেই বা কী? আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঐ ফোনের মেসেজ যথেষ্ট হবে কি? তাছাড়া আইন প্রয়োগের কান্ডারীদের এড়িয়ে চলাই শ্রেয় বলে মনে হয়। কারণ পুলিশ আর উকিল ... দুটোই খুব খরুচে .... .... .... .... ড়্যাবকে বললে কী হবে? উল্টা আমাকেই যে হয়রানী করবে না তার কি কোন নিশ্চয়তা আছে?

সামাজিকভাবে এটা ঠেকানো যায় কি? বহুদিন পূর্বে সামহোয়্যারে পোস্ট করে রাগইমন আপা এমন মোবাইল ইতরামীর অভিযোগ করাতে ওনাকে বুদ্ধি দিয়েছিলাম যে শুধু নম্বরটা এখানে প্রকাশ করে দিন। সদস্য সকলেই ঐ নম্বরে ফোন করে ইতরের শান্তি বিঘ্নিত করবে। কেউ হয়ত পরিচয়ও প্রকাশ করে দিতে পারে। এই পদ্ধতিরও ক্ষতিকর দিক আছে ... ... শুধুমাত্র শত্রুতা করে নিরীহ কোন লোককে হেয় করার জন্যও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারে কেউ - অবশ্যওওও.... মানুষের শুভবোধের উপর আস্থা রাখা যায় - সংখ্যালঘু এবং ছদ্মবেশী বদমাশদের জন্য ভয়ে সিটিয়ে থাকলে তো সমস্যা।

যা হোক আপাতত দ্বিতীয় পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় কি না দেখি। পরিচয় ফাঁস করে দেই ... ...
আমার স্ত্রীকে রাতে ফোন করত যে ছেলে তার নম্বর .... দিলাম না, যেহেতু আর ডিস্টার্ব করেনি।
গতরাতে অশ্লীল মেসেজ পাঠিয়েছে যে তার নম্বর: 01717 049 983



সচলায়তনে প্রকাশিত

বাসায় আই.পি.এস. নেয়া হল

বউয়ের মাস্টার্স প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে লোড শেডিং~X(। আই.পি.এস নিব নিব করে নেয়া হচ্ছিল না অলসতার জন্য। শেষ পর্যন্ত গত পরশু (বৃহস্পতিবার) ফোন করলাম পরিচিত সেই ছেলেটিকে। গতকাল (শুক্রবার) সকালে এসে আই.পি.এস. স্থাপন করে গেল। এর পর আর বিদ্যূতের লোড শেডিং হয়নি .... কাজেই আই.পি.এস. এর সুবিধাটুকুও ভোগ করতে পারিনি।

আই.পি.এস.গুলো পূর্ণ ক্ষমতায় দুই ঘন্টা বিদ্যূৎ সরবরাহ করতে পারে বলে দাবী করে। এক বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা (ওয়ারেন্টি) দেয়। বর্তমানে বাজারে রহিম আফরোজের আই.পি.এস.-এর প্রচার ও সুনাম সর্বাধিক। তবে দামের দিক দিয়ে কিছু ক্ষেত্রে লুকাস ব্যাটারীর দাম কিছু ক্ষেত্রে রহিম আফরোজ ব্যাটারীর চেয়ে বেশি।

গত বছর আই.পি.এস. এর দাম আরো ৩/৪ হাজার টাকা করে কম ছিল। এবার ব্যাটারীর দাম বেড়ে গেছে। রহিম আফরোজের আই.পি.এস.-এর দরের চেয়ে ২/৩ হাজার টাকা কম দামে ঐ ছেলেটির সংস্থা আই.পি.এস. স্থাপন করে। গ্রাহকের পছন্দ মত রহিম আফরোজ, লুকাস বা হ্যামকো ব্যাটারী লাগিয়ে দেয়।

এবার ঐ ছেলেটির সরবরাহকৃত আই.পি.এস.-এর মূল্যতালিকা জানিয়ে দেই ... কারো উপকারে লাগতে পারে।

ক্ষমতা ---- দাম
৪০০ ভি.এ. ---- ১৬,৫০০ টাকা।
৬০০ ভি.এ. ---- ২২,০০০ টাকা।
৮০০ ভি.এ. ---- ২৮,০০০ টাকা।
১০০০ ভি.এ. ---- ৩৪,০০০ টাকা।
১৫০০ ভি.এ. ---- ৪০,০০০ টাকা। (লুকাস ব্যাটারী হলে ৪২,০০০ টাকা)
২০০০ ভি.এ. ---- ৬০, ০০০ টাকা। (লুকাস ব্যাটারী হলে ৬২,০০০ টাকা)

(ছেলেটার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে, ফোন করুন: আমিনুল ইসলাম 01554 318 026)

ঘ্যানরঘ্যানরঃ বিদ্যূৎ বিভ্রাটে গাড়ী ভাড়া বৃদ্ধি

কান টানলে মাথা আসে।

বিদ্যূৎ না থাকলে গাড়ীর জ্বালানী সংগ্রহ কেন্দ্রে যন্ত্রপাতি চলে না। ফলে গ্যাস সংগ্রহের জন্য গাড়ীর দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অতিরিক্ত কয়েক ঘন্টা (আগে লাগতো ১০ মিনিট এখন হয়ত ২ ঘন্টা ১০ মিনিট)। ফলশ্রুতিতে দায়ভারটা পড়ে গাড়ী ব্যবহারকারীদের উপর। ত্রিচক্রযানের ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ টাকা বেশি (আগে লাগতো ৮০টাকা এখন ১০০ টাকা)। আশেপাশে ভাড়া করার মত তিন চাকার গাড়ীও আর চোখে পড়ে না .... নির্ঘাৎ গ্যাস স্টেশনে লাইনে অপেক্ষমান। অতএব.... মাথা পেতে দিলুম।


সচলায়তনে প্রকাশিত

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০০৭

আমার ফাস্টফুড ... ...

ইদানিং শুধু পরীক্ষায় ইনভিজিলেশনের ডিউটি থাকে ... সবই সন্ধার পর। তাই দুপুরের খাওয়াটা বাসাতে করেই বের হই। কিন্তু অন্যান্য সময় যখন দুপুরের আগেই অফিসে (প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি) যাই তখনই দুপুরে ফাস্টফুড খাই। অফিস বিল্ডিঙেই ক্যান্টিন .. ইন্টারকমে বলে দিলেই রূমে খাদ্য হাজির।

ফাস্টফুড .... তবে মনে হয় জাঙ্কফুড নয় ... কারণ আমি খাই চারটি সিঙ্গারা।

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭

অবশেষে কম্পিউটার কিনলাম

আজ ১১ই ডিসেম্বর ২০০৭। গতকাল আমাদের বাসায় একটা নতুন কম্পিউটার কিনলাম।

আগের ল্যাপটপ কাহিনী:
গত অক্টোবর মাসের শেষের দিকে জাপান থেকে আনা আমার ল্যাপটপ কম্পিউরটারটার ডিসপ্লে নষ্ট হয়ে যায়। তারপরে বেশ কিছুদিন এর ওর কম্পিউটারের সি.আর.টি মনিটরের সাথে ল্যাপটপের সংযোগ দিয়ে ডিসপ্লে করিয়ে কাজ করেছি কয়েকবার। জরুরী কিছু ফাইল সিডিতে সংরক্ষণ করেছি। আর একজন সহকর্মীর পোর্টেবল হার্ডডিস্কে কিছু ব্যাকআপ রেখেছি। তারপর গতমাসে ল্যাপটপটির মনিটর/ডিসপ্লে ঠিক করার জন্য মেরামতের দোকানে দিয়েছিলাম। ওরা তো ঠিক করতে পারেইনি বরং এখন ল্যাপটপ অন করলেও সেটি চালু হয় না। শুরুতে যেটা ছিল মনিটরের ডিসপ্লে কন্ট্রোলকারী চিপের সমস্যা সেটি এখন মাদারবোর্ডের ইনপুট-আউটপুট চিপের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। NEC ব্রান্ডের আমার ল্যাপটপের সমতুল্য কোন মডেল বাংলাদেশে এখনও বানিজ্যিকভাবে আসেনি, তাই এর সাথে মানানসই (compatible) চিপ আছে কি না এ বিষয়েও মেরামতকারী নিশ্চিত নয়। অন্য একটি সার্বজনিন চিপ লাগিয়ে দিতে পারবেন তবে সেটার কোন গ্যারান্টি দিতে পারবেন না।

কম্পিউটারের প্রকট অভাব:
আমার অফিসে চমৎকার ইন্টারনেট সংযোগ সহ একটা ডেস্কটপ কম্পিউটার পাই আমি। সুতরাং ব্রাউজিং, ইমেইল সহ কম্পিউটারের যাবতীয় কাজ ওখানেই করে ফেলতে পারি। তবে কিছু কিছু কাজ, যেমন - লেখালেখি .. .. ওভাবে করে অভ্যস্থ নই। কারণ কাজগুলি প্রচুর সময় নেয় এবং এজন্য মাথা থেকে অন্য চিন্তা বের করে দিয়ে স্থিরচিত্তে কাজ করতে হয়। অফিসে (একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়) সেটি করার কোন উপায় নেই কারণ, বাসা থেকে একের পর এক অভিযোগের ফোন আসতে থাকে। সুতরাং কাজগুলি বাসায় বসে করাটাই সমাধান। কম্পিউটারের অভাবে সেই ধরণের কোন কাজ করতে পারছিলাম না মোটেই। এ তো গেল আমার কথা ... এবার আসি বউয়ের কথায়: বুয়েটের ওয়াটার রিসোর্সে মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হয়েছে, ইতিমধ্যে ক্লাস শুরু হয়ে এসাইনমেন্ট দেয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। কাজেই ওসব কাজ করার জন্য কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট থাকা অত্যাবশ্যক। সুতরাং বাসায় একটা কম্পিউটারের ব্যবস্থা না করে আর উপায় ছিল না।

কম্পিউটারে কী আছে:
খুবই সাধারণ একটা কম্পিউটার কিনলাম। কারণ বাসায় আমরা কেউই গেমার নই। সিনেমা দেখা বা গান শোনাও তেমন একটা হবে না বলেই আমার বিশ্বাস ... কারণ ওসবের পরিপূরক টেলিভিশন ও কেবল সংযোগ আছে। এছাড়া এম.পি.থ্রি সহ অন্যান্য সাধারণ ফরম্যাটের গান বাজানোর উপযোগী সিডি প্লেয়ারও বাসায় আছে। সুতরাং আমার বিবেচনায় শুধু লেখালেখি, হিসাব নিকাশ, প্রেজেন্টেশন, ইন্টারনেট ব্যবহার, কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং সফটওয়্যার এবং সীমিত কিছু ছবি/গ্রাফিক্স সফটওয়্যার ব্যবহারের মধ্যেই আমাদের কম্পিউটারের ব্যবহার সীমাবদ্ধ থাকবে।

হার্ডওয়্যার: তাই আর আকাশচুম্বী দামের কোর-টু-ডুয়ো বা ওই মাত্রার কোন প্রসেসরের পেছনে না দৌড়িয়ে সেলেরন প্রসেসর (৩.০ গিগা) নিলাম। RAM ৫১২ মেগাবাইট। ইন্টেলের ৯১৫ চিপসেটসহ ইন্টেল মাদারবোর্ড। ৮০ গিগা সাটা হার্ডডিস্ক। ১৫ ইঞ্চি LG Flatron এল.সি.ডি মনিটর। অপটিকাল ড্রাইভ আপাতত নাই, কারণ আমার নষ্ট/অকার্যকর ল্যাপটপের চমৎকার ডিভিডি রাইটারসহ ড্রাইভটাকে ইউ.এস.বি. ড্রাইভ হিসেবে রূপান্তরিত করছি। এছাড়া ল্যাপটপের হার্ডডিস্কটাকেও পোর্টেবল ইউ.এস.বি. হার্ডডিস্কে রূপান্তরিত করব, ফলে ওটা ব্যাকআপ হার্ডডিস্ক হিসেবে কাজ করবে। কিবোর্ড আর অপটিকাল মাউসের কথা নাই বা বললাম। এছাড়াও ৬০০VA ক্ষমতার একটা ইউ.পি.এস কিনেছি। সবমিলিয়ে দাম পড়ল বত্রিশ হাজার টাকা। এছাড়াও অপটিকাল ড্রাইভ এবং হার্ডডিস্ক রূপান্তরে আরও আড়াইহাজার টাকার মত খরচ হবে বলে শুনেছি।

সফটওয়্যার: আপাতত পাইরেটেড এক্স.পি. দিয়ে চলছে। সাথে অফিসটাও পাইরেটেড। সম্ভবত ম্যাকাফিটাও ক্র্যাক করা। বাকী সবই ফ্রীওয়্যার। ক্যাডের কাজ করার জন্য প্রোজক্যাড নামক ফ্রীওয়্যার, বাংলার জন্য অভ্র, পিডিএফ রিডার হিসেবে ফক্সইট আর মেসেঞ্জার হিসেবে পিজিন ইতিমধ্যেই ইনস্টল করেছি। সামনে ইনস্টলের তালিকায় আছে ওপেনঅফিস, পিডিএফ রাইটার, ফ্রী-ডাউনলোড-ম্যানেজার, ফায়ারফক্স, GIMP, কোন একটা ফ্রী-এন্টিভাইরাস, IrfanView ইমেজ ভিউয়ার ইত্যাদি। এছাড়া ডুয়েল বুটিং অপশনসহ উবুন্টু/কুবুন্টু লিনাক্স থাকবে অতিশীঘ্র।

শনিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০০৭

চুরির কবলে!

গত ১২ই নভেম্বরে আর সবদিনের মতই অফিসে (প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি) আসলাম। নাহ্... আর সবদিনের মত বললে ভুল হবে। এই দিনে আমি আমার পিঠে ঝুলানো ব্যাগের ভেতরে ভরে এনেছিলাম অনেক কিছু। কলিগের জন্য নিয়ে এসেছিলাম লিনাক্সের সমস্ত সিডিগুলো। সাথে ল্যাপটপ, পোর্টেবল হার্ডডিস্ক ইত্যাদি। কিন্তু অফিসের ভেতর থেকেই আমার ব্যাগটা চুরি হয়ে গেল। চুরি যাওয়া ব্যাগের ভেতরে ছিল আমার সমস্ত সিডির কালেকশন (লিনাক্সের অনেকগুলি ডিস্ট্রো-সিডি, ডিভিডি রিপজিটরি, গান, সফটওয়্যারের সিডি, লাইসেন্সেড মাইক্রোসফট অফিসের মূল সিডি দুইটা), পোর্টেবল হার্ডডিস্ক (১২০ গিগা, সমস্ত ডেটা/ডিস্ট্রোর ব্যাকআপ), দুটো ইউ.এস.বি. ফ্লাশ ড্রাইভ, একটা মোবাইল সিম, ডেটা কর্ড দুইটি, নোকিয়া ফোনের হেডসেট, কিছু জরুরী কাগজপত্র ইত্যাদি।

এখানকার অফিসে সবকিছু খোলাই থাকে (থাকতো)। ইতিপূর্বে কখনই কেউ চুরির শিকার হয়নি। আমিই উদ্বোধন করলাম। মনটা বড়ই খারাপ। এইখানেও হয়ত ইয়াবাখোর রয়েছে ... তা নাহলে আর চুরি কেন!

সোমবার, ৩০ জুলাই, ২০০৭

আমার বুদ্ধি কম্পিউটারের মত!!

১. ছোটবেলার কথা। বিকালে মাঠে খেলাধুলা করে বাসায় ফিরেছি। আম্মার কমান্ড আসলো .... হাতমুখ ধুয়ে আয়। বাধ্য ছেলে হাত মুখ ধুয়ে চলে এলাম (কোন কারণে ক্ষিপ্ত থাকায় বুদ্ধি কম্পুটারসম হইলো) - পাগুলো ধুলিময় রয়ে গেল... শুধু হাত-আর মুখ ধুয়ে চলে এসেছিলাম!

২. একই সময়ে আরেকরকম কমান্ড আসতো, যা নাস্তা খাবি, টেবিলে বস্। যথারীতি অতিবাধ্য ছেলে তাঁর কম্পিটারসদৃশ বুদ্ধি প্রয়োগ করলো .... চেয়ার টেনে ওটার সাহায্যে টেবিলে চড়ে বসা হলো!

৩. এখন পর্যন্ত মাঝে মাঝেই মাথা কম্পু হয়ে যায়। খাওয়া প্রসঙ্গে কেউ যদি প্রশ্ন করে কী দিয়ে খেলে -- উত্তরটা হয়: হাত দিয়ে তুলে তুলে মুখ দিয়ে চিবিয়ে খেলাম!

৪. মাঝে মাঝে অর্ধাঙ্গিনীর সাথে কিঞ্চিৎ মনোমালিন্য হয়। তখন শুনতে হয় - আমি মরে যাবো ... ...। কম্পুটার ব্রেনের রেসপন্স: এই সময়ে কোন মোড়ে যাবে; ঐখানে গিয়ে কী করবে? একা যাইয়ো না ... ...

৫. চ্যাটে/ফোনে মাঝে মাঝে প্রশ্ন আসে: এখন কী করছেন? উত্তর: এইতো আপনার সাথে চ্যাট করছি / ফোনে কথা বলছি।

এরকম ঘটনা অহরহ ঘটছে.... সত্যই আমার বুদ্ধি কম্পিউটারের মত!! :(

জাপানে এই ধরণের উত্তর দিলে ওদের সাথে বেশ মেলে। ;)


(সর্বপ্রথম সচলায়তনে প্রকাশিত)

শনিবার, ৭ জুলাই, ২০০৭

উৎকর্ষবাদীতা - যেভাবে দেখি

উৎকর্ষবাদীতা/পারফেকশনিজম হলো কোন একটা কাজ করার সময় ওটাকে বার বার নিখুত করার চেষ্টা এবং মনমত সুন্দর হওয়ার আগ পর্যন্ত সেটার উন্নয়নে কোন বিরতি না দেয়ার একটা দারুন বৈশিষ্ট - যা কিছু মানুষের স্বভাবে থাকে। ব্যাপারটাকে খুতখুতে স্বভাবও বলা যেতে পারে। খুতখুতে স্বভাবটা আমি নিজেও পরিমিত পরিমানের বেশি পছন্দ করি না। বিশেষতঃ কিছু মানুষের এই ব্যাপারটা যখন মানসিক বিকারের পর্যায়ে চলে যায় - তখন তো নয়ই। যেমন ধরুন, কারো কারো পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বড়ই খুতখুতে স্বভাব। অসুখ বলি তখনই যখন এজন্য তিনি দিনে ৭বার গোছল করবেন, আয়নার সামনে কয়েকঘন্টা ব্যয় করবেন। কোন কোন ব্যক্তি আছেন, মাছ যতই ধোয়া হউক না কেন তাঁদের মন ভরে না - মনে হয় ময়লা তো রয়েই গেছে।

জাপানে এসে আর এদের সাথে কাজ করে বুঝলাম বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এরা পারফেকশনিস্ট বা উৎকর্ষবাদী মনোভাবের। ধরুন মেকানিকাল ল্যাবরেটরিতে কোন ছাত্র একটা যন্ত্রাংশ বানাবে, সে সেটা নির্দিষ্ট আকার দেয়ার জন্য ঘষার যন্ত্র দিয়ে ঘষতেই থাকবে ঘষতেই থাকবে -- যতক্ষণ না মনমতো হচ্ছে। সময়ের কোন ব্যাপার নাই, সন্ধা ৬টায় ল্যাব বন্ধ হয়, কিন্তু ঐ ব্যাটা দেখা যাবে রাত ১০টা পর্যন্ত ঘষতেছে। যে কোন ল্যাবে, একটা প্রেজেন্টেশন বানাবে, সেটা নিয়ে কি যে আদিখ্যেতা -- অক্ষরের রঙের ব্যাপারে, আকারের ব্যাপারে, ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন রং ইত্যাদি। দেশে কাজ করতে গিয়েছি ইউনিভার্সিটি থেকে, সাথে জাপানি প্রফেসর, আরও কয়েকজন ছাত্র। একটা ম্যাটেরিয়াল ময়লা, ব্যাস ... সবাই মিলে বসে গেলাম সবগুলো হাতে ঘষে ঘষে ধোয়ার কাজে - ১ ইঞ্চি আকারে ছোট ছোট করে কাটা ০.৫ ইঞ্চি ব্যাসের প্লাস্টিক পাইপের এক বস্তা টুকরা, ধরুন, একবস্তা ছোট ইটের খোয়ার মত পরিমান -- সবগুলো ধুলাম সবাই মিলে, প্রফেসরও বাদ নাই।

প্রথম প্রথম এসব আদিখ্যেতা মনে হলেও এখন বুঝি, জাপানের উন্নতির মূলকারণগুলোর একটি হয়ত এই উৎকর্ষবাদী মনোভাব। এরা নিজেরা কম্পিউটার বা গাড়ীর আবিষ্কর্তা না; আমেরিকা বা অন্য কোন দেশ থেকে এনেছে টেকনোলজি ---- তারপর সেই অক্লান্ত ঘষাঘষি। জাপানের প্রতিটি শিল্পপন্যের মধ্যেই এই অতিরিক্ত যত্নের ছাপটা চোখে পড়ার মত। যেমন এর ভেতরের কলকব্জা তেমনি এর বাইরের ফিনিশিং। ফলাফল ব্যবসা সফল। এ প্রসঙ্গে ২য় বিশ্বযুদ্ধের উপরে নির্মিত বিভিন্ন সিনেমায় দেখা জার্মানদের কথা মনে পড়ে। ওদের প্রতিটি গাড়ী, অস্ত্রের অতিরিক্ত যত্ন নেয়া হত - তাই সবকিছুই চলতো দারুন।

এখানে একজন উড়িষ্যার বাঙালি দাদাবাবু থাকতেন, পশ্চিমবঙ্গে চাকরি, লেখাপড়ার সুবাদে বাংলা দারুন বলতেন। বলতেন এই এটিচ্যুডের পার্থক্যটা বড়ই চোখে পড়ার মত দেশে আর জাপানে। ওখানে কেনা সবচেয়ে দারুন মটরসাইকেল হিরো হোন্ডা কিনে দুদিন পরে আর ঠিকমত স্টার্ট নেয় না। সার্ভিস সেন্টারে বলে - আরে দাদা ওটা ব্যাপার না, কয়েকদিন বেশি করে কিক দিন, ঠিক হয়ে যাবে; অথচ ঐ একই ঘটনা এখানে ঘটলে কী হতো, সার্ভিস সেন্টারের প্রধান দৌড়ে আসতেন, মাথা ঝুকিয়ে গলায় কাতরতা ঢেলে দিয়ে সুমিমাসেন সুমিমাসেন (দূঃখিত অর্থে) বলে একাকার করতেন। তারপর, ওটার বদলে আরেকটা ভালো দেয়ার চেষ্টা করতেন। সার্ভিস চার্জ নিতেন না, কারণ এটা তাঁদের ত্রুটি। --- দাদাবাবু ঠিকই বলেছিলেন মনে হয়।

আমি নিজেও একটু খুতখুতে স্বভাবের মনে হয়। বিশেষত টাইপ করার সময়ে বানানের প্রতি অতিযত্ন নেবার প্রবণতাটাকে ঐ স্বভাবেরই এক রূপে বহিঃপ্রকাশ বলা যেতে পারে। যখনই টাইপ করি, কোন বানানের ব্যাপারে মনে একটু সন্দেহের উদ্রেক হলেই অভিধান ঘাটার চেষ্টা করি। অবশ্য কখনো কখনো খুব ক্লান্ত থাকলে অবশ্য ... ভুল হচ্ছে, এই ধরণের কোন অনুভুতি/সন্দেহই মনে কাজ করে না - ফলে লেখাটা হয়ে যায় দায়সারা গোছের।

অবশ্য শুরু থেকে এমন উৎকর্ষবাদী ছিলাম না। স্কুলে খাতায় এমনভাবে লেখতাম, যে হাতের লেখা দেখে বাবা বলত, যে তুই তো স্যারকে বাসায় টেনে আনবি, কিংবা, তোর হাতের লেখা পড়ার জন্য স্যার তোকে ডেকে নিয়ে যাবে। নিজের হাতের লেখা সম্পর্কে আমার নিজের ধারণাও ওরকমই ছিল। তবে আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করতাম, স্যার ঠিকই পড়ে নম্বর দিত -- স্যারদের যোগ্যতা দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে যেত :D । পরবর্তীতে কোন এক সুন্দর দিনে ঠিক করলাম --- নাহ্ এভাবে অন্যদের কষ্ট দেয়া আর নয়। সুন্দর না হোক, অন্তত বেশির ভাগ মানুষ বুঝতে পারে এমন পাঠযোগ্য করে লিখতে হবে। হ্যাঁ - ঠিকই ধরেছেন --- উৎকর্ষবাদীতা আমাকে দখল করলো বোধহয়।

ধুর ...... ...... ব্যাপার ঠিক তা না; একটু খুলে বলিঃ মূল উৎসাহ (!?) বা আগ্রহটা পেয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়; বন্ধু সৌরভ (বর্তমানে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক), কিংবা পান্থ (ওকলাহোমাতে আছে) বা আবীর (সাউথ ডাকোটাতে আছে) সকলের হাতের লেখার পাশে আমারটা খুলতে ইচ্ছা করতো না। কিন্তু আমার ক্লাসনোট নেয়া ছিল খুব ভাল। কোচিং করার সময়েই পান্থর সাথে পরিচয় - ও ব্যাটা চার রঙের কালিতে নোট নিত। কোন লাইন কালো কালি, কোনটা নীল আবার কোনটা লাল বা সবুজ। দেখাদেখি আমিও শুরু করেছিলাম। যা হোক, ক্লাসনোট নেয়ার সময় কালির ব্যবহার আর বিস্তারিত টুকে রাখার জন্য (স্যার এই সময়ে একটু খুক খুক করে কাশলো ... এই টাইপের ডিটেইলিং ;) ) পরীক্ষার আগে কিছু ক্লাসনোট উদাসীন বন্ধু এসে আমার খাতা ফটোকপি করতো পড়ার সুবিধার জন্য। ওদের বরংবার এসে আমাকে ঘুম থেকে তোলা থেকে বাঁচার জন্যই হাতের লেখাটা একটু উন্নয়ন করতে বাধ্য হলাম শেষে (হল/ছাত্রাবাসে থাকতাম)।

সেই সুন্দর করার ইচ্ছাটা মনে প্রভাব ফেলেছিল নিঃসন্দেহে। কারণ নিজের পাঠযোগ্য লেখায় খাতার ফটোকপি দেখে নিজেই মুগ্ধ হতাম - প্রেরণা পেতাম :D ।

থিসিস করার সময় পার্টনার ছিল পান্থ। ব্যাটাও ওরকম। আমি যখন ছেড়ে দিতাম ও তখন দ্বিগুণ উৎসাহে সৌন্দর্য বর্ধনে বসতো। কাজ ছিল সফটওয়্যার বানানো, যেটা যে কোন কাঠামোর একটা বিশেষ বৈশিষ্ট হিসাব করে দিতে পারবে। কোডিং করার পর ঐ ব্যাটা আবার বসতো সৌন্দর্য বর্ধনে .... ইনপুট, আউটপুট আর গ্রাফিকাল ফিল্ডের রূপচর্চা। থিসিস লেখার সময়ে, ও ব্যাটার জ্বালায় বিরক্ত হয়ে যেতাম .... কিন্তু দেখা যেতো, ও ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিলে আমি আবার একই ভূমিকা নিতাম। সমমনা না হলে আর বন্ধুত্ব কেন ... ...

নিজের অনেক গুণগান করলাম :D । তবে, এখন আর ১০০% শুদ্ধ করার জন্য চেষ্টা করি না আমি। সবসময়ই চেস্টা করি মোটামুটি ৯৫% বা এর বেশি শুদ্ধ করতে। কারণ ৫০-৭০% উৎকর্ষ বা শুদ্ধভাবে লেখার জন্য এ্যাতদিনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা অর্জিত দক্ষতাই যথেষ্ট। কিন্তু সেই ৭০ থেকে আগে বাড়ার জন্য জ্যামিতিক হারে চেষ্টা/যত্নের পরিমানটা বাড়াতে হয়। এসকল ক্ষেত্রে ১০০% সবসময়ই একটি কাল্পনিক ব্যাপার মনে হয়। তাই থামতে জানতে হবে। জানতে হবে কখন ও কোথায় থামতে হবে .... ...তা না হলে ঘষতে ঘষতেই জীবন পার হয়ে যাবে, অন্য কিছুই আর করা হয়ে উঠবে না।


৭-জুলাই-২০০৭
(লেখাটি সচলায়তন এবং খিচুড়ী ব্লগে প্রকাশিত হল)

বুধবার, ৪ জুলাই, ২০০৭

নামে কী বা এসে যায় !

(পোস্টটি গতকাল সর্বপ্রথম সচলায়তনে প্রকাশিত হয়েছিলো)

নিজের নাম নিয়েই একটা ছোট অনুভুতি লেখব বলে মনস্থির করলাম। যদিও এ ধরণের তুচ্ছ ব্যাপারে লেখা আদৌ উচিৎ হচ্ছে কি না সেটার ব্যাপারে মনে একটু সন্দেহ রয়েই গেল।

জগৎ-সংসারে এ্যাত বিষয় থাকতে নিজের নাম নিয়ে কেন পড়লাম? সেটা হয়ত আমিত্বকে সন্তুষ্ট করার জন্য, তবে লেখার মশলা মনে জমা হয়ে ছিল অনেক দিন আগে থেকেই, আগের লেখায় হাসান মোরশেদ ভাইয়ের একটা মন্তব্য দেখে ইচ্ছাটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল।

যা হোক, আমার নামটা বেশ ... মানে বেশ ভালই লম্বা। দৈর্ঘ্যের কারণেই নামে কিছু ব্যাপার এসে যায় আমার নিত্যজীবনে।

ছোট বেলা থেকেই বিড়ম্বনার শুরু। সবার খাতার নাম লেখার জায়গায় সুন্দর নাম এটে যায়... আমারটা হয় না। তারপর, পরীক্ষার ফর্ম পূরণ, বেতন বই, ব্যাংকের জমা বই সমস্ত জায়গাতেই নিজের নামের স্থান সংকুলান করতে ন্যারো ফন্টে হাতের লেখা শিখতে হয়েছে। টোফেল পরীক্ষা দেয়ার সময় তো কানের পাশ দিয়ে গুলি গেল, আর একটা অক্ষর বেশী হলেই ফর্মে নাম আটতো না। পাসপোর্টের নামের ঘরেও বেচারা অফিসার এক লাইনে নাম লিখতে পারে নাই। আর স্কুলের ক্লাসের স্যাররা আমাকে নাম ধরে ডাকতে গেলেই কেমন জানি ঘুম ঘুম হয়ে যেত তাঁদের কন্ঠস্বর।

আমার গবেষণার কাজে, প্রফেসরের পয়সায় প্রায়ই দেশে পাঠায়, নমুনা সংগ্রহ করতে হয় -- বিমানে চড়া/নামা আর ইমিগ্রেশনের ফর্ম পূরণ করতে আমার সবসময়ই সহযাত্রীদের চেয়ে বেশি সময় লাগে।

যা হোক সবচেয়ে বড় ফাপরে পড়েছিলাম জাপানে এসে। এখানে স্বাক্ষর করার তেমন চল নেই। সকলেই তার বদলে ছোট্ট সীল ব্যবহার করে। সীলগুলো গোলাকার বা চারকোনা। গোলাকার সীলগুলো মোটাসোটা একটা কলমের মত ৩ /৪ সে.মি. লম্বা এক টুকরা কাঠ। তাঁর নিচের মাথায় নামের কাঞ্জি বা জাপানী আকিবুকিমার্কা অক্ষরে নাম লেখা থাকে।

কাহিনী হলো, আমাকে দেশ থেকেই পরিচিতিমূলক সমস্ত মেইলে আমার দেশের প্রফেসর শামীম নামেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আমার নতুন জাপানী প্রফেসর আমার লম্বা নাম জানলেও সবসময় সুবিধাজনক ছোট শামীম নামে ডাকতেন। জাপানে আসার পরপরই ব্যাংকে এ্যাকাউন্ট খোলার জন্য সেই সীল (হাংকো/ইনকান বলে) লাগবে। প্রফেসর আমাকে সহ গিয়ে অর্ডার দিলেন ... জাপানী অক্ষরে শামীম। ওটা দিয়ে এ্যাকাউন্ট খুললাম। এরপর গাড়ী কেনার সময়ে জানা গেল এ জন্য সীলটাকে সিটি অফিসে নিবন্ধিত করতে হবে। কিন্তু ওখানে বলে এটা তো তোমার পাসপোর্টের নামের অংশ না এটা করা যাবে না। তখন ওখানকার অফিসার ফোনে আমার প্রফেসরকে না পেয়ে একটা চিঠি লিখে দিলেন।

চিঠি পড়ে প্রফেসর বললেন তোমার মূল নাম এ্যাত বড় যে এটা দিয়ে সাইজমত সীল বানানো অসম্ভব, তাই শেষাংশ জামান দিয়ে সীল বানাও। ওটার অর্ডার দিলাম -- কয়দিন পরে ওটা নিয়ে গেলাম সিটি অফিসে .... আবার বলে হবে না। তোমার নাম ভেঙ্গে কোন অংশ দিয়ে হবে না। তাই শেষ পর্যন্ত সীল হল ছোটখাটো মিয়া।

ওহহো.. আমার নামটাই তো দেয়া হল না: মিয়া মোহাম্মদ হুসাইনুজ্জামান (Miah Mohammad Hussainuzzaman)।

যশোরের প্রজেক্ট অফিসে আমাকে বলে মিয়াজাকির মিয়া ভাই।

তাই বলি, নামে এসে যায়। আমার পরবর্তী বংশধরদেরকে এ ধরনের ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করতে ঠিক করেছি খুব ছোটখাট নাম রাখবো ওদের।

এ্য্যতক্ষণ শুধু অসুবিধাই বললাম। বড্ড একপেশে হয়ে গেল ব্যাপারটা। তাই বড় নামের একটা সুবিধার কথা বলে শেষ করি: এ্যাত বড় নাম সাধারণত হয় না জন্য একনামে চেনা যায়। আমার নামের মূল অংশ দিয়ে কোন ইমেইল বা অন্যকিছু রেজি: /নিবন্ধন করতে গেলে কখনই অসুবিধা হয় না। আর, কখনো যদি এই নাম দিয়ে গুগল করেন, নিশ্চিতভাবেই আমাকে খুঁজে দেবে।

মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০০৭

ফিল্ডওয়র্কে গুরুত্বপূর্ণ তুচ্ছ ব্যাপারসমূহ

বেশ কিছু ছোট ছোট বিষয় মাঝে মাঝে বড় মনে হয়। বেশ কিছুদিন আগে চাপাইনবাবগঞ্জ শহরের কাছে চুনাখালি গ্রামে গেলাম কাজ করতে। মূল কাজ নলকূপের পানির নমূনাসংগ্রহ বা স্যাম্পলিং। ওখানকারই একটা ছোট ছেলে স্বত:প্রনোদিত হয়ে প্রচুর সাহায্য করছিল। অবশ্য আমাদের সাথে কৌতুহলীদ্দপক পদার্থ হিসেবে জাপানী ছাত্র ও প্রফেসর ছিলেন, সাথে ছিল অনেক যন্ত্রপাতি - সুতরাং উৎসাহি দর্শকের অভাব ছিল না। যেখানেই যাচ্ছিলাম, মোটামুটি একটা মিছিল সহযোগেই যাচ্ছিলাম। যা হোক, আমাদের গ্রুপের একদল, মানে দুই জন, একজায়গায় বসে ফিল্ডকিটের সাহায্যে পানির আর্সেনিক পরীক্ষা করছিল। আর অপরদল, আমরা ঘুরে ঘুরে পানি সংগ্রহ করে কিছু অংশ পাঠিয়ে দিচ্ছিলাম সেখানে - ঐ ছেলেটি বার বার যাওয়া আসা করে স্যাম্পলগুলি দিয়ে আসছিল। আমরা অন্য সব পরীক্ষা করছিলাম আর চাপকলগুলির জি.পি.এস. অবস্থানও রেকর্ড করছিলাম।

যা হোক, দু-দিনের কাজ শেষে প্রফেসর বললেন যে ছেলেটিকে কিছু টাকা দিবেন। যথারীতি ছেলেটাকে গাড়ীতে তুলে সবার আড়ালে টাকা দেয়া হল - যেন সে টাকা নিচ্ছে এটা লোকজন দেখলে সে লজ্জা না পায়। ক্ষুদ্র যে ব্যাপারটি আমি খেয়াল করলাম, সেটা হল টাকাটা যতদুর সম্ভব ছোট নোটে দিলাম (১০-২০ টাকার নোট): কারণ ঐ ছেলেটা টাকা পেয়েছে এটা অনেকেরই গাত্রদাহের কারণ হতে পারে। অপরদিকে, যখন ও কোন দোকানে কিছু কিনতে যাবে, বড় নোট দিলে অবধারিতভাবেই প্রশ্ন এসে যেতে পারে, এ্যাত টাকা সে কই পেল। তারপর কথাটা ছড়িয়ে যাবে, যেটা অনেকক্ষেত্রেই ছেলেটির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই ছোট নোট -- ব্যাপারটা অতি তুচ্ছ হলেও আমার কাছে জরুরী মনে হয়েছিল। আবার, যেই ব্যক্তি আমাদের সাহায্য করেন, তাঁকে টাকা দেয়ার সময় বলতাম চলেন একটু পানি খাওয়ান, আপনার কূয়ার পানি আমার খুব ভালো লাগে -- বলে বাসার ভেতরে গিয়ে, সবার থেকে আড়ালে টাকা দেয়া হত।

আরেকটি ব্যাপার। আমাদের ফিল্ড ট্যূরগুলির একটা বৈশিষ্ট হল, প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই একটা স্থায়ী রেফারেন্স মানুষ থাকেন। কারণ আমরা মূলত আর্সেনিক দূরীকরণের যন্ত্র স্থাপনের পর সেগুলো মনিটরিং বা মেইনটেনেন্সের কাজেই যেতাম। এর আগে যতবারই কোথাও ফিল্ডট্যুরে যাওয়া হত, দুপুরের খাবার দোকান থেকে আনিয়ে নেয়া হত। তারপর সেইসকল গুরুপাক আর পচা তেলের খাবার খেত সবাই ... অবশ্য তেল এড়ানোর জন্য রুটি, ডিমভাজি বা সিঙ্গারাও খাওয়া হত। ঠিক করলাম যে, যেখানে যাচ্ছি, সেখানেই খাওয়ার আয়োজন করতে হবে। যেইখানে যাই, ওখানেরই একজনের বাসায় খাই, বিনিময়ে হোটেলে খেলে যেমন টাকা খরচ হত সেটা দিয়ে দেই। অনেকগুলো সুবিধা তাতে, প্রথমত: দোকানে কি পাওয়া গেল না গেল তা নিয়ে চিন্তার কারণ নাই; রান্নার উপাদানের মান নিয়ন্ত্রত; টাকাটার প্রবাহ কার্যক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকল; ঘনিষ্ঠতা বাড়ল; ওখানে সাময়িক হলেও একটা কর্মসংস্থান হল। অফিসের মোটামুটি সকলেই ব্যাপারটা সমর্থন করল ... .. কিন্তু আগে থেকে কেউই এই নিয়ে নিজ থেকে কিছু বলেনি। অভিজ্ঞ সমাজ-বিজ্ঞানীদের (সোশাল সায়েন্স থেকে পাশ করে রিসার্চার হিসেবে সহকর্মী) সাথে আমার ফিল্ডে চাকরী করার পূর্ব অভিজ্ঞতাই কি এই ধরনের সামাজিক সমাধান খুঁজে বের করার জন্য দায়ী ? -- হতে পারে.. ... অভিজ্ঞতা তাই এ্যাত মূল্যবান।

শুক্রবার, ১৮ মে, ২০০৭

এক্সাইটিং সময়!

ইদানিং ভীষন একটা এক্সাইটিং সময় পার করছি। এক্সাইটিংই বলা যায়। কারণ আমার থিসিস ডিফেন্স করার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ চলছে। এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই থিসিস আউটলাইন আর শিরোনাম নিয়ে একবার পরীক্ষকদের সামনে প্রেজেন্ট করতে হল। ওনারা আমার এ পর্যন্ত হওয়া সমস্ত প্রকাশনাগুলোর গুণগত মান পরীক্ষা করলেন। কোথায় প্রকাশিত হয়েছে তা পুঙখানুপুঙ্খরূপে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে রায় দিলেন .. হ্যাঁ এই ছাত্র ডিগ্রী আবেদন করতে পারে। এসকল শেষ করতে করতে মে মাস চলে আসল। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে জাপানে পরপর ৪ দিনের বিভিন্ন ছুটি থাকে; তার সাথে সপ্তাহান্তের দুদিন যোগ করে মোটামুটি টানা এক সপ্তাহ ছুটি পাওয়া যায়। এজন্য এ সময়টাকে গোল্ডেন উইক বলা হয়, সারাবছরে এত বড় ছুটি আর নেই। তাই সকলেই এই সময়ে বিভিন্ন রকম বেড়ানোর পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত করে। সমস্ত বেড়ানোর জায়গাগুলোতেও ব্যবসা হয় রমরমা। প্লেনের ও অন্যান্য যানবাহনের ভাড়াও সিজন হিসেবে বেশি থাকে। যাই হোক, এবছর আমারও কয়েকটা জায়গায় বেড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। তাছাড়া জাপানে এটা আমার সম্ভবত শেষ বছর, বউও ফেরৎ চলে যাবে কয়েকদিন পরেই - ওর ভাইয়ের বিয়েতে অংশগ্রহন করে আমার আসার অপেক্ষা করবে বলে। কিন্তু ছুটি শুরুর ঠিক আগের দিন সন্ধ্যায় আমাকে জানানো হল যে থিসিসের একটা খসড়া জমা দিতে হবে। তাও আবার ঠিক চার দিন পরে, যেদিন বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে ঠিক সেদিন। পূর্ব পরিকল্পিত বেড়ানো কাট-ছাট করতে হল, কিন্তু পুরোপুরি বাদ দেয়া গেল না। দিনে বেড়িয়ে রাতে কাজ। রাত জেগে জেগে মোটামুটি দাঁড় করালাম থিসিসের ড্রাফট। কি যে লিখেছি নিজেই ঠিকমত জানিনা .... শুধু কোনরকমে জমা দেয়ার মত একটা কিছু প্রস্তুত করা।

ইতিমধ্যে চারজন পরীক্ষক ওটা দেখে উন্নয়নকল্পে বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়েছেন। ওগুলো সমন্বয় করে তারপর আবার জমা দেয়ার মাঝখানে তিন সপ্তাহ সময়। এর মাঝেই ডিগ্রীর জন্য আবেদনপত্র জমা দিতে হল। সে আরেক ঝক্কি। সমস্ত ফরমগুলো জাপানিতে। ওগুলোর সফটকপি থেকে জাপানিগুলো কপি করে ইন্টারনেটের ট্রানস্লেশন সাইট থেকে কিছুটা ইংরেজি করে করে অর্থ বুঝার চেষ্টায় গেল দুই দিন। যা হোক আমার প্রফেসরের আন্তরিক সহায়তায় ওগুলো পূরণ করা গেল.... বেশিরভাগ কাজ প্রফেসরই করে দিলেন। এখন থিসিসটার পরবর্তী পর্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ করছি। এর পরে এটা চুড়ান্ত রূপে আসার আগে আরোও দুইবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পরামর্শ-উন্নয়ন হবে। আমন্ত্রিত এক্সামিনারগণ দেখবেন। তারপরে ফাইনাল ডিফেন্স।

আরো একটা ডিগ্রীর ছোঁয়া অনুভব করছি... তাই এ্যাত খাটুনির পরেও এক্সাইটেড লাগে। আশা করছি, এর ফলে ভবিষ্যত কর্মক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা পাব .... দেখা যাক।