৩য় দিন অর্থাৎ ১১-আগস্ট ২০১৯ - এদিন আমরা থিম্ফুতেই কাটাবো
সকালের নাস্তা, আজকে নতুন আইটেম হল একটা আঁচার আর পরিজ (সুপি ম্যাকারনির মত)
প্রথম গন্তব্য বুদ্ধা পয়েন্ট
বুদ্ধা পয়েন্টের বিশাল চত্বর দারুন চকচকে সব মূর্তিতে ভরা, দুরের পাহাড় আর মেঘের দৃশ্য অসাধারণ
বিশাল ভবন, বিশাল মূর্তি। এটার উপরের অংশে যাদুঘর। ভেতরটা অসাধারণ কারুকাজ আর ছোট ছোট বুদ্ধা মূর্তিতে ভর্তি কিন্তু ভেতরে ছবি তোলা নিষেধ।
ঐ যে বামদিকের হাতির ছবিটার উপরে কালো কালো পিঁপড়ার মত দেখা যাচ্ছে ওগুলো কিন্তু মানুষ। ওদের দেখলে পুরা স্থাপনাটার আকার বুঝতে সুবিধা হবে।
গাড়ি দিয়ে মূর্তির কাছাকাছি নেমেছিলাম, কিন্তু বের হলাম এই সিঁড়ি বেয়ে। এখানে সম্পুর্ন সিঁড়ির অর্ধেক উচ্চতা দেখা যাচ্ছে। সিঁড়ির দুই পাশে পাথরের দেয়ালও ধাপে ধাপে নেমে এসেছে।
এখনও এই সিঁড়িগুলো তৈরী শেষ হয়নি। এটা শেষ হওয়ার পর যদি এদিক বেয়ে উঠতে হয় তাহলে খবর আছে!
পরের গন্তব্য খাড়া পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত তেকিন চিড়িয়াখানা - নাম "রয়্যাল তেকিন প্রিজার্ভ"। তেকিন হল ভুটানের জাতীয় প্রাণী। এটা গরুর মত বড়, কিন্তু শরীরে ভেড়ার মত পশম। ধর্মীয় কোন একটা ব্যাপার জড়িত আছে এঁদের নিয়ে ...
চিড়িয়াখানার উঁচু ঢালু পথ বেয়ে যতই হাঁপিয়ে উঠেন না কেন, তেকিনের তাতে মন ভেঁজে না। দুরেই চুপচাপ বসে থাকে।
তেকিন না আসলে কি হবে হরিণগুলো কিন্তু ঠিকই কাছে চলে আসে
তেকিন না পেয়ে ওদের স্ট্যাচুর সাথেই ছবি তোলা হল
হোটেলে ফিরে দুপুরের খানা-পিনা করে ছোট্ট একটা ঘুম দেয়া হল। আজকের খাবারের নতুন আইটেম পণির মাসালা।
এবার বিকালে থিম্পু শহরে একটু হ্যান্ডিক্রাফটস কেনা কাটা করতে যাওয়া। মেয়েরা গেল দোকানে, আর আমি রাস্তাঘাটের ছবি তুলি।
ঝকঝকে শহর, পেছনে পাহাড়
তকতকে পরিষ্কার, ভীড় ভাট্টা ছাড়া সুশৃঙ্খল রাস্তাঘাট দেখলে মনেই হয় না এটা দক্ষিন এশিয়ার কোন জায়গা
ঐ যে দুরে একটা গ্যালারিওয়ালা চত্বর। ওটাই ক্লক টাওয়ার - যাকে সিটি সেন্টারও বলা হয়।
হঠাৎ একটা ময়লার গাড়ির আগমন। আর অমনি বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন ময়লা নিয়ে এসে এসে দিয়ে গেল!
কেনাকাটার আসল কাজ আপাতত শেষ, তাই এখানে একটু ঘোরাঘুরি করি। কোত্থাও কোন ময়লা প্যাকেট, কাগজ পড়ে নাই।
ক্লক টাওয়ারকে নিয়ে ছবি তোলা
এটা হল থিম্ফু জং। এর কাছে গিয়ে শুনি রাষ্ট্রীয় অতিথি আসবে দেখে টুরিষ্ট যাওয়া বন্ধ। তাই আসার পথে দুর থেকে একটা ছবি নিলাম।
এই ধানক্ষেতের জমিগুলো নাকি মং(সন্যাসী?)দের। তাই এগুলোতে এখনও কোনো অবকাঠামো ওঠেনি। দুরে নদী, রাস্তা, ঘরবাড়ি দেখা যায়।
মোমো খাইতে মন চায়। তাই ফেরার পথে কেনা হল। ৩ প্লেট (১৫টি) মোমো, ভেতরে বাধাকপি আর পণির দেয়া: ১৮০ উঁগুলট্রাম। সাথে একটা ছোট ফানটা আরো ৫০ উঁগুলট্রাম।
রাতের খাবার। আমাদের আব্দারে নতুন আইটেম ভুটানিজ খাবার মরিচ, পণিরের ঝোল: নাম সম্ভবত এমাদাতসি
৭। ৪র্থ দিন: থিম্ফু থেকে পারো গমন, দুর থেকে টাইগার নেস্ট দেখা
সকালের বিদায়ী নাস্তা। আজকের নতুন আইটেম প্যানকেক।
গাইড মহোদয়ের চা খাওয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায়। বিদায় Pemaling Villa.
থিম্ফুর আরেকটা হ্যান্ডিক্রাফট মার্কেট। এখানে ৮৩টা দোকান রয়েছে।
জনগণ ক্রয়যোগ্য হ্যান্ডিক্রাফটের খোঁজে, আর আমি আকাশ বাতাসের ছবি তুলি। রাস্তা কিন্তু ওয়ান ওয়ে।
এই দোকানের মালিক আমাদের গাইড সাহেবের স্ত্রী ...
থিম্ফু থেকে পারো'র হাইওয়ে। রাজধানীকে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যুক্ত করেছে। তাই সবচেয়ে সুন্দর।
থিম্ফু থেকে পারো'র হাইওয়ে। লোকজন টয়লেটে যায়, আমি রাস্তার ছবি তুলি
হাইওয়ের টয়লেট ব্যবস্থা আসলেই খুব উন্নতমানের এবং পরিচ্ছন্ন। ১০ উঁগুলট্রাম দিয়ে ব্যবহার করা যায়।
থিম্ফু থেকে পারো'র হাইওয়ে। আঁকা বাঁকা হলেও অনেক ভাল।
থিম্ফু থেকে পারো'র হাইওয়ে। টয়লেটের জন্য গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থাও আছে। আমি অবশ্য আকাশ-পাহাড়ের ছবি তুলতেছিলাম।
পারো পৌঁছানোর ১০-১৫ মিনিট আগে নদীর সাথে দেখা করিয়ে দিলেন গাইড-ড্রাইভার সাহেব। এখানে একটা তার থেকে বেঞ্চে ঝুলে ঝুলে নদী পার হওয়ার ব্যবস্থাও আছে।
জুতা-মোজা খুলে আমিও ... ঠান্ডা পানিতে নেমে কন্যার ফূর্তি (গাড়িতে বসে থেকে ওর নাকি খারাপ লাগছিল, কিন্তু এখন একদম ফ্রেশ লাগছে)
পারো নদীর সাথে দেখা। ছোট্ট একটা ভিডিও ক্লিপ
কোথাও কোথাও নদীর মাঝে চরও পড়েছে। ডানদিকের সাদা দাগটি আসলে একটা রাস্তা।
নতুন জায়গায় যাওয়ার আগেই থেমে একটা ঘরোয়া জায়গায় দুপুরের খাবার। এখানেও সেই তথাকথিত বাঙালি খাবার। বেগুনের চাট, মুরগীর ঝোল, সালাদ আর পিকল্স (আঁচার - মটরশুটি+মূলা)। রান্না খুবই সুস্বাদু। জায়গাটির নাম সোনম'স হোমস্টে।
বাসাটির সামনে আপেল গাছ। নিচে কাঠের গুড়ির মত সব বসার জায়গা। ওনার রান্না বান্নার সব তরিতরকারী নিজের ক্ষেতেই উৎপন্ন করা।
চলতি পথে ছবি তোলা। দুরে পাহাড়ের ভাঁজে ঘোলা কুয়াশা নাকি মেঘ বোঝা যাচ্ছে না।
পাকা রাস্তা, কাঁচা রাস্তার ঢালু উৎরিয়ে, আবার একটু পাকা রাস্তা তারপর হঠাৎ করেই এই পার্কিং লট। আমাদের আগামী দু'রাতের ঠিকানা: তেনজিংলিঙ্গ রিসর্ট।
মানুষজন বেশি পড়তে পছন্দ করে না। তাই যতদুর সম্ভব সংক্ষেপে লিখবো। যাত্রার আয়োজন, খরচাপাতি, পাঁচদিনের সংক্ষিপ্ত ভ্রমণতালিকা, দিন অনুযায়ী ধারাবাহিক ছবি এবং কিছু ভিডিও ক্লিপ থাকবে।
পাঠকের সুবিধার্থে অনুচ্ছেদের নম্বর দিয়ে দেয়া হল।
২। যাত্রার আয়োজন:
এই ভ্রমণের প্রযোজক ও পরিচালক আমার স্ত্রী। কাজেই তথ্যে কিছুটা এদিক সেদিক হয়ে যেতে পারে 😏 - আগেই জানিয়ে রাখলাম; পরে যেন আবার না বলেন .... ...।
ভুটানে যেতে অন অ্যারাইভাল ভিসা; অর্থাৎ আগে থেকে ভিসা নেয়া লাগে না। বিমানে গেলে শুধু পাসপোর্ট থাকলেই চলবে, তবে কখনো হোটেলের ঠিকানা চাইতে পারে।
সপ্তাহে ৩টা ফ্লাইট আছে Drukair এর। আমরা যাওয়ার সময়ে জেট ইঞ্জিনওয়ালা এয়ারবাস ৩১৯ মডেলের বিমানে গিয়েছিলাম (১৬০ সিট ক্যাপাসিটির বিমান), কিন্তু আসার সময়ে পাখাওয়ালা ATR 42-500 (৪৮ সিট ক্যাপাসিটির বিমান)।
ওখানকার নিয়ম হল কোন একজন ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে সবকিছু আগে থেকেই বুক করে যেতে হবে। বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমেই এই ভ্রমন প্যাকেজ নেয়া যায়। এটার মধ্যে থাকা, তিনবেলা খাওয়া, এবং প্রতিদিন গাড়ি, এয়ারপোর্ট পিক-ড্রপ সহ থাকে। এছাড়া ভুটানের সরকারের জন্য ট্যাক্সও থাকে। ব্যাপক গবেষণা করতে চাইলে এখানে ক্লিক করা যেতে পারে।, পিডিএফ গাইড চাইলে এখানে।
একটা বিশেষ ব্যাপার না বললেই নয়। প্রথম টিকেটিং এজেন্টের ট্যূর অপারেটর (ভেন্ডর) ৩ দিনের প্যাকেজ দিয়েছিল। আর যেসব জায়গার তালিকা দিয়েছে তার অনেকগুলোতেই বিশাল প্রবেশ ফী ছিল। এছাড়া আমাদের ফ্লাইট নামবে বিকাল ৫টায় তারপর নিশ্চয়ই বের হতে কিছুটা সময় লাগবে; কিন্তু উনারা সেদিন আবার বিকালে (আফটারনুন) সাইট সি-ইং দিয়ে রেখেছিল ...। এসব দেখে আমাদের আক্কেল গুড়ুম, তাই বউ পাঁচদিনের ভ্রমনসূঁচী দিয়েছে, কোনদিন কোথায় যাবে বলে দিয়েছে, ৩ জায়গার বদলে দুই জায়গায় হোটেল নিয়েছে (কারণ বারবার প্যাকিং আর টানাটানি সহ্য হয় না + কারণ দূরত্ব ২ ঘন্টার ড্রাইভ মাত্র)। আবার প্রথম ভেন্ডর পুনাখা'য় যাওয়ার কথা বেমালুম চেপে গেছে - ওটা দেয়ার কথা বলাতে কোথায় যাবে, দেখার কী আছে কিছুই বলতে পারে না - বলে 'ওখানে গিয়ে কী করবেন, কিছুই তো নাই'। পরবর্তীতে ট্রাভেল এজেন্ট নিজেই নিজের কোম্পানি বাদ দিয়ে drukair থেকে সরাসরি টিকেট আর প্যাকেজ আয়োজন করে দিয়েছিল। সুতরাং ওদের কাছে যাওয়ার আগেই নিজেরা একটু ট্রাভেল ব্লগ বা ভ্লগ (ভিডিও ব্লগ - ইউটিউব জিন্দাবাদ) ঘাঁটাঘাটি করে নেয়া ভাল।
৩। খরচাপাতি:
অন্যদের ব্যাপার জানিনা, আমাদের তিন জনের বিমান ভাড়া ৭৪.৫ হাজার লেগেছিল - সিজন অনুযায়ী এবং কত আগে কাটছেন সেটা অনুযায়ী এটা কম বেশি হবে। আমরা গেলাম অগাস্টে, যাত্রার মাত্র ৩/৪ দিন আগে টিকেট কাটা হয়েছিল।
৫ রাতের মধ্যে তিন রাত থিম্ফুতে আর দুই রাত পারোতে থাকা, তিন বেলার খাওয়া এবং ফুল-টাইম গাড়ি-গাইড সহ তিন জনের মোট ৯০ হাজার পড়েছিল। বাচ্চার জন্য দুই জায়গাতেই আলাদা বেডের কথা বলা ছিল -- তাই সবকিছুতেই ওকে এডাল্ট ধরে (অর্থাৎ ৩ জন এডাল্ট ধরে) হিসাব-কিতাব করা হয়েছিল। খাওয়া-দাওয়ার ডিটেইল পরবর্তীর ছবি সেকশনে আছে।
এর বাইরে স্যূভেনির এবং স্ন্যাকস কিনতে কিছু খরচ হয়েছিল।
৪। ১ম দিন: ঢাকা - পারো - থিম্ফু
বিকাল ৩:৫৫ তে ফ্লাইট। তাই ১:১৫ এর মধ্যে রওয়ানা দিয়েছিলাম। অনেক আগে পৌঁছেছিলমা তাই খুব দ্রুত চেক-ইন হল - একটা কাগজে সই নিল যে লাগেজে কোনরকম ব্যাটারি/পাওয়ার ব্যাংক নাই। ইমিগ্রেশন ঝামেলাবিহীন। বোর্ডিংএর সময়ে জুতা খুলে স্ক্যানারে দিতে হয়েছিল।
ফ্লাইট অন টাইম
একঘন্টার ফ্লাইট হলেও খানাদানা খারাপ দেয় না। শুধু প্যাটিসের মধ্যে মরিচ-মটশুটির একটা পুর ছিল, বানের ভেতরে চিজ দিয়ে ভরা ছিল। ছবিটা অবশ্য আসার সময়ের ফ্লাইটে তোলা।
কেউ ব্যাস্ত খাওয়া দাওয়ার দোকানের ঠিকানা খুঁজতে ...
আর কেউ ব্যাস্ত নিজের ভ্রমণ ডায়েরি লিখতে
পারোতে নেমে সবাই কোথায় ইমিগ্রেশনে দৌড়াবে তা না; ছবি তুলতেই ব্যস্ত। আর তুলবে নাই বা কেন ... ঢাকা থেকে এরকম সবুজ পাহাড়ে ঘেরা জায়গায় গেলে এক ঝটকায় মুগ্ধতা দিয়েই যাত্রা শুরু হবে।
এয়ারপোর্ট
ভিডিও শটও নিলাম কিন্তু অযথাই তাড়াহুড়া করাতে ভাল হয় নাই মোটেও। তারপরেও এটা এক ঝলকে ছবির চেয়ে বেশি তথ্য দিবে
এয়ারপোর্টের ভেতরে
এয়ারপোর্টের ভেতরটাও ছিমছাম, আধুনিক। নির্ঝঞ্ঝাট ইমিগ্রেশন পার হতে ৫ মিনিটও লাগলো না। বের হতেই দেখি বেল্টে লাগেজগুলো থেমে আছে। এরপর ভবন থেকে বের হবার মুখে প্রথমে মোবাইল সিম কার্ডের স্টল, বাইরে নামের প্ল্যাকার্ড হাতে বেশ কিছু ব্যক্তি দাঁড়িয়ে - নিজের নাম দেখে এগিয়ে গিয়ে ইংরেজিতে বললাম হ্যালো আমিই এই লোক, একটু অপেক্ষা কর, ফ্যামিলি সিম কার্ড নিয়েই চলে আসছে। ৩০০ উঁগুলট্রাম (=৩৬০ টাকা) দামে ৩ জিবি এক মাসের সিম নেয়া হল। একটা হোন্ডা স্টেশন ওয়াগনের পেছনে আরামেই লাগেজ এঁটে গেল আর আমরা চমৎকার ঝকঝকে রাস্তা ধরে থিম্ফুর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেলাম - বেলা তখন প্রায় সোয়া পাঁচটা। পারো থেকে থিম্ফু ৪৫ কিলোমিটারের মত, যেতে এক থেকে দেড় ঘন্টার মত লাগে।
উপরের ভিডিওতে সম্পুর্ণ সৌন্দর্য তেমন একটা আসেনি, বাঁকগুলোও তেমন হয়তো বোঝা যাচ্ছে না। কিন্তু সামনের সিটে বসে থেকে শেষের দিকে আমার মাথা চক্কর দিচ্ছিলো। কিন্তু পেছনের সিটের দুজন কিন্তু বেশ ফূর্তিতেই ছিল। আমাদের হোটেলটা থিম্ফু শহর পার হয়ে অন্য প্রান্তে ছিল বলে পৌঁছুতে প্রায় পৌণে ছয়টা বেজে গেল। বাইরে তখনও ঝকঝকে উজ্জ্বল। ড্রাইভার সাহেব জানালেন আগামীকালই পুনাখা যাওয়ার জন্য পারমিট করা হয়ে গেছে। কাজেই কালকে সকালেই পুনাখা যেতে হবে। আমরা ভেবেছিলাম একদিন এখানেই ঘুরাঘুরি করে রেস্ট নিয়ে পরের দিন যাব - কিন্তু তা আর হল না।
Pemaling villaতে প্রথমে চমৎকার বড় কাপে দুধ চা-খাওয়ালো - তবে চিনি দেয়নি মনে হয়। আর কিছুই করা লাগলো না, একটা পাসপোর্ট চেয়ে নিল শুধু একটু সময়ের জন্য। রুমের ওয়াইফাই পাসওয়র্ড দিল ব্যাস। তিন তলার রুমটা বিশাল, মাঝে স্ট্যান্ডার্ড বাথরুম রুমটাকে দুইভাগে ভাগ করে ফেলেছে। বামের ভাগে তিনটা বেড, কার্পেট বেছানো অংশে জানালার সামনে দুটি সোফা আর পাঁচ ফুট লম্বা কাঠের টেবল, একপাশে আলমারি, চা বানানোর টেবল-চেয়ার। আর ডানের রুমের অংশে আরো দুটি সোফা, কাঠের টেবল, বিরাট একটা কেবিনেট-কাম টেবল। বড় বড় তিনটা জানালা।
ফ্রেশ হয়ে ডিনারের জন্য নামলাম ৮:১৫তে। টেবিলে খাবার সার্ভ করলো - পাপড়, সাদা ভাত, কাচা আটার রুটি, আলুভর্তা, মুরগীর কারি, মিক্সড ভেজিটেবল, ডাল, পানি। দেশ থেকে এ্যাত দুরে এসে কোথায় নতুন কিছু টেস্ট করবো, তা না - সেই দেশি খাবার দাবারই: বিষয়টা আমাদের ভাল লাগেনি; কিন্তু বাংলাদেশ থেকে প্যাকেজ দিলে নাকি এরকমই মেনু দেয়া থাকে। আর আমাদের লোকজনও সবজায়গায় ভাত ভাত করে - তাই এই অবস্থা। রান্না-বান্না খুবই ভাল ছিল। এ্যাত খাবার খেয়ে শেষ করা সম্ভব ছিল না।
নিজেদের রুমে চা খেতে খেতে বাইরের ঝকঝকে রোদ আর পাহাড় দেখা
অন্য দিকের জানালাতেও পাহাড়
হোটেল থেকে দোচুলা পাস - ৪৫ মিনিটের ড্রাইভ। রাস্তা চরম আঁকা বাঁকা - যথারীতি একপাশে পাহাড় আর আরেকপাশে খাদ। সেখানে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে এত বড় একটা চত্বর দেখে মনটা খুশি হয়ে যায় নিমিষেই।
দোচুলা পাস
দোচুলা পাস। মেঘের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার অনুভুতি পাহাড়ের ভিউ মিস করার কষ্ট ভুলিয়ে দেয়
দোচুলা পাস: মনে হয় ছাদে দাঁড়িয়ে আছি
এখানেও চমৎকার টয়লেট সুবিধা আছে, অত্যন্ত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন - ২০ উঁগুলট্রাম করে নেয়। পরের লক্ষ্য পুনাখা। এখানে থেকে সোয়া এক ঘন্টার পথ। আঁকা বাঁকা পথে শুধু নামতে হবে ... পুনাখার ১০ মিনিট আগে, পথে দুপুরের খাবারের জন্য থামা হল।
পুনাখার পাহাড়গুলো একটু কম খাড়া আর সবুজে ভরা
আঁকা বাঁকা রাস্তার মাঝে মাঝে সমতল দেখলে কেমন জানি আরাম লাগে
সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশ
ঐ তো ক্ষেত খামার আর মানুষজনের বাড়িঘর দেখা যাচ্ছে
একই সাথে সবুজ পাহাড়, আঁকা-বাঁকা রাস্তা, পাহাড়ি নদী, ধাপে ধাপে ধানক্ষেত আর বাড়িঘর দেখা যাচ্ছে
অবশেষে রেস্টুরেন্টে। এমন জায়গায় বুফে দেখে অবাক! তবে খাবার আহামরি কিছু নয়।
খাবার যাই হোক না কেন, সামনে এমন দৃশ্য থাকলে সবকিছুই অসাধারণ লাগে (খাবার ট্যূর প্যাকেজের সাথে ছিল, কিন্তু ড্রিংকস আর পানি কিনতে হয়েছিল; দুইটা ক্যান কোক আর একটা হাফ লিটার পানির দাম পড়েছে ২৬০ উঁগুলট্রাম)
খাওয়ার পরে হাঁটাহাঁটি। বামের কাঁচঘেরা ভবনটাই সেই রেস্টুরেন্ট
এবার রেস্টুরেন্ট থেকে আবার রাস্তায় গাড়িতে ফিরে যাওয়া। রাস্তার পাশেই কল কল করে ঝরণার মত পানির প্রবাহ
এরপর লক্ষ্য ঝুলন্ত সেতু
নদীর ডাক কি উপেক্ষা করা যায়। পানি ছুঁতে দৌড়াতে হবেই। নদীর স্থানীয় নাম: মো ছু (ছু মানে নদী)
এই সেই ঝুলন্ত সেতু
সেখানে উঠতে হলেও ট্রেকিং করতে হবে
সেতুতে উঠতে ভয় লাগে নাকি? মোটেই না ...
মাঝ নদীর উপর থেকে ছবি না তুললে হয় নাকি! প্রবল বাতাসে ব্রীজ কিন্তু এদিক সেদিক দুলছে
ঐ যে ডানদিকের রাস্তায় আমাদের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। আর ঐখান থেকেই পায়ে চলা খাড়া পথে ট্রেক করে উঠতে হয়েছে ব্রীজে
পরের লক্ষ্য পুনাখা জং -- এখানে জং মানে দূর্গ। এখন এটার ভেতরে জেলার প্রশাসনিক অফিস আছে।
পুরা জং এর ছবি, একটা কাঠের ব্রীজ দিয়ে মো ছু (নদী) পার হয়ে ঢুকতে হয়
জং এর সামনের অংশ। দূর্গটি এদিকে মো ছু (নদী) আর ওদিকে ফোঁ ছু (নদী) থাকায় এই নদীদুটির মিলনস্থলে প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত।
হঠাৎ করে দেখে মনে হয় এটা কোন দেশ! গাড়ি পার্কিংএর পর দূর্গের প্রবেশপথ কাঠের ব্রীজের শুরু এই অংশে।
আহ্! বড়ই শান্তির জায়গা
ব্রীজের এলোমেলো বাতাসে মন ভাল হয়ে যাবে নিমিষেই
ওরে বাবা! এখানেও এ্যাত্ত উঁচু!! উপরে উঠার পরিকল্পনা বাদ ...
দূর্গের আরেকটা ভবন
অন্য পাশ থেকে দেখলে এর বিশালত্ব কিছুটা আঁচ করা যায়
এই সেই কাঠের ব্রীজ (দূর্গের এ পাশ থেকে)
উঁচু দেখে উঠার পরিকল্পনা বাদ দিয়েছিলাম। এটার মাঝখানে দেখি আরোও উঁচু অংশ আছে!!
দূর্গ দেখা শেষে ফেরার পথে
ফেরা পথের শুরুতেই একটু কেক-চিপস-চা খেয়ে নিলাম। চমৎকার ৩ পিস কেক (আমাদের পেস্ট্রির মত), দুই-প্যাকেট চিপস আর ৩ কাপ চা = ২৩০ উঁগুলট্রাম ... এই প্রথম ঢাকার চেয়ে সস্তা মনে হল।
থিম্পুর Pemaling Villaতে ফিরে রাতের খাবার। ওখানকার জন্য দূষ্প্রাপ্য মাছও ম্যানেজ করে ফেলেছে! (আমরা কিন্তু চাইনি)। আমাদের আগের আব্দার রক্ষায় ভুটানি ডিশ বানিয়েছে একটা -- আলুর ঝোল।
১৯৩৩ সালে ইলেক্ট্রিকাল ড্রাফটসম্যান হ্যারি বেক লন্ডনের টিউবের (মেট্রো) একটা সহজবোধ্য সোজাসাপ্টা ম্যাপ তৈরী করেন। এটা মোটেই আসল ম্যাপের মত আঁকাবাঁকা বা মাপজোক মেপে করা ছিল না, বরং সমস্ত গন্তব্যগুলো সহজ সরলরেখা দিয়ে ধারাবাহিক ভাবে করা হয়েছিল। এক স্থান হতে আরেক স্থানে যাওয়ার জন্য এটা সাধারণ মানুষের কাছে পুরা জটিল নেটওয়র্কটা সহজবোধ্য করে তুলেছিল। এখনকার সমস্ত শহরের গণপরিবহণের ম্যাপগুলো এভাবে করা হয় এবং প্রতিটা স্টেশনে লাগিয়ে রাখা হয় --- এতে করে যাত্রীগণ অতি সহজেই কোথায় গিয়ে বাস বা ট্রেন পরিবর্তন করতে হবে তা সহজে বুঝতে পারে এবং পরিকল্পনা করতে পারে।
অন্য শহরের গণপরিবহণ ম্যাপ দেখেছি অনেকবার, এবার নিজের শহরেরটা দেখতে কেমন লাগে সেই কৌতুহল ছিল, কিন্তু উপায় ছিল না। ঢাকা শহরে যে গণপরিবহণ ব্যবস্থার পরিকল্পনা বিভিন্ন ওয়েবসাইট আর পত্রিকা ঘেটে যত তথ্য পেয়েছি সেগুলো দিয়ে যতদুর সম্ভব সঠিকভাবে একটা প্রাথমিক গণপরিবহণ ম্যাপ তৈরী করলাম।
কলকাতায় ১টা মেট্রো লাইন। ইদানিং ২য় লাইনের কাজ চলছে। তাই আমি ভেবেছিলাম, ঢাকায়ও ১টা BRT আর ১টা MRT করেই ক্ষ্যান্ত দেয়া হবে। কিন্তু না ... ... বাকী চারটাও ২০৩০ সালের মধ্যে হবে বলে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে -- নিঃসন্দেহে ঢাকার যে অবস্থা তাতে এর প্রয়োজন আছে বলেই।
ম্যাপ দেখার একটা বদঅভ্যাস আছে আমার (পারিবারিকভাবে, মানে মা'য়ের কাছ থেকে পেয়েছি), তাই সবগুলো লাইন হলে এখানকার ম্যাপে কেমন দেখাবে সেটা দেখতে ইচ্ছা করতো। কিন্তু নেটে সার্চ করে সবগুলো একসাথে পাইনা -- হয়তো অনেকগুলোর ফিজিবিলিটি/ডিজাইন ফাইনাল হয়নি তাই। কিন্তু তাই বলে তো আমি ক্ষ্যান্ত দিতে পারি না। তাই সব রিপোর্ট টিপোর্ট ঘেটে আর গুগল ম্যাপের স্ক্রিনশট নিয়ে তার উপরে বানিয়ে ফেললাম একটা ম্যাপ।
RSTP অনুযায়ী MRT Line - 5 এর আন্ডারগ্রাউন্ড Southern Route টি গাবতলী থেকে আদাবর, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, দক্ষিন বাড্ডা হয়ে আফতাব নগর পর্যন্ত যাবে। তবে আরেক জায়গায় আফতাবনগরে ৩টা স্টপেজ হয়ে দাসেরকান্দি (বালু নদীর সাথে, দাসেরকান্দিতে ওয়াসার ওয়েস্টওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট হচ্ছে) পর্যন্ত দেখেছি। আরেক জায়গায় বালু নদী পার করে ভুলতার কাছাকাছি যাবে বলে পড়েছি।
১। জাপানে একটা বেশ অদ্ভুদ ব্যাপার লক্ষ্য করেছিলাম। টোল রোডের কিছু জায়গায় সাইনবোর্ড দেয়া যে কিছুদুর (যেমন: ৩০০ মিটার) সামনে ট্রাফিক ক্যামেরা আছে। তাই না দেখে সমস্ত গাড়িগুলো সব গতি কমিয়ে ৮০ কিমি/ঘন্টার নিচে চলতো, কারণ ঐ রাস্তার স্পিড লিমিট ৮০ কিমি/ঘন্টা। আর যেইনা ক্যামেরা পার হল, আবার আগের মত গতি বাড়িয়ে ১৩০-১৫০ কিমি/ঘন্টায় গাড়ি চালাতো। আমরা বিদেশিগণতো অবাক, আরে এখানকার পুলিশ বেকুব নাকি!! কারণ অন্য জায়গায় হলে কোথায় ক্যামেরা সেগুলো জানানোর প্রশ্নই উঠে না – ওভারস্পিডিং করলে সুন্দর করে বাসায় জরিমানার স্লিপ চলে আসবে। এ আপাত বোকামির ঘটনা বরং জাপানি পুলিশের দক্ষতাতে আমার শ্রদ্ধা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণটা খুবই সাধারণ ---
২। মানুষকে নিরাপদে এবং দ্রুততর সময়ে গন্তব্যে পৌছানোর লক্ষে প্রকৌশলীগণ প্রতিনিয়ত উন্নততর মসৃন রাস্তা তৈরী করার চেষ্টা করেন। আর সেই রাস্তায় আমাদের দেশে যখন হাতির মত উঁচা স্পিড ব্রেকার দেয়া হয় সেটা দেখে তখন আমার শিক্ষাদীক্ষা হোঁচট খায়! গতি কমাতে চাইলে সেখানে রাস্তা মসৃন ও উন্নত না করে এবড়ো থেবড়ো অবস্থায় ফেলে রাখাই বেশি যুক্তিযুক্ত এবং কম খরচের অপশন। হাতির মত উঁচা স্পিডব্রেকারে একটি গতিময় গাড়ি যদি এসেই পড়ে তাহলে সেটার স্প্রিং ভাঙ্গবে এবং সেটা হটাত ঝাঁকিতে ব্যালেন্স হারিয়ে নিজেই দূর্ঘটনায় পতিত হবে। একান্তই যদি গতিসীমা কমাতে বলা হয় তাহলে সেখানে ছোট ছোট কয়েকটি স্পিডব্রেকার দেয়া উচিত যেটা গতিতে পার হলেও গাড়ির ক্ষতি হবে না, কিন্তু গাড়ির চালক টের পাবে যে গতি কমাতে বলা হচ্ছে। এর পরে একটু বড় স্পিডব্রেকার দেয়া যেতে পারে। ইদানিং দেশের হাইওয়েতে এরকম গুড়ি গুড়ি গুচ্ছ স্পিডব্রেকার দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলো দেখে কোন কোন ইতর গাড়িচালক দাঁত কেলিয়ে, তারপর আরো জোরে টান দিয়ে চলে যায়।
৩। যেহেতু রাস্তা নকশা ও তৈরী করা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ, তাই সেই রাস্তার স্পিড-লিমিট বা নিরাপদ গতিসীমাও নির্ধারণ করে দেয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। রাস্তায় গতিসীমা দেয়া কিন্তু খুবই ঝামেলার কাজ। কারণ, একটি উজ্জ্বল দিনে একটা নির্দিষ্ট রাস্তায় নিরাপদে যত দ্রুত গাড়ি চালানো সম্ভব, সেই একই রাস্তায় সন্ধ্যার আলো আঁধারীতে নিরাপদে চলতে হলে একটু কম গতিতে চলতে হবে। এর সাথে যদি যুক্ত হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, অর্থাৎ পিচ্ছিল বা স্লিপারি রাস্তা তাহলে নিরাপদ গতি আরো কম হতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন রকম গাড়ি, এবং তাদের ফিটনেস অনুযায়ীও নিরাপদে যাত্রার গতিসীমা কম বেশি হবে। যেহেতু দিনের বেলা, রাতের বেলা, বৃষ্টির সময় আলাদা আলাদা গতিসীমা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাই সবরকম বিপদের কথা মাথায় রেখে একটা রক্ষণশীল গতিসীমা লিখে দেয়া হয়। কিন্তু আসলে, একটি উজ্জ্বল শুকনা দিনে ঐ রাস্তায় ঐ গতিসীমার চেয়ে অনেক বেশি গতিতেও নিরাপদে চলা যায়। উন্নত বিশ্বে কিছু রাস্তায় ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে কন্ডিশন অনুযায়ী নিরাপদ গতিসীমা দেখানো হয়।
৪। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে, “সামনে ক্যামেরা” সাইনবোর্ডটা দেখে যদি গাড়িচালক গতি কমিয়ে সেই লিমিটের মধ্যে গাড়ি চালায় তাহলে বোঝা যায় সে হুঁশে আছে, সবকিছু খেয়াল করতে পারছে। সুতরাং আগে-পিছে বেশি গতিতে গাড়ি চালালেও রাস্তায় যাত্রী ও গাড়ির নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু কোন ড্রাইভার যদি সেই সাইন দেখে খেয়াল না করে, তখন সেই বেশি গতি অন্যদের ক্ষেত্রে নিরাপদ হলেও, ঐ চালক আসলে বেখেয়ালে গাড়ি চালাচ্ছে - যেটা রাস্তা ব্যবহারকারীগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ – সুতরাং ক্যামেরাতে ধরা পড়ে তার জরিমানা হওয়া যুক্তিযুক্ত।
জাপানি পুলিশ রাস্তার নিরাপত্তার মূল বিষয়টা সঠিকভাবে বুঝে বলেই ও ধরণের একটা সিস্টেম করেছে। সুতরাং তারা আসলেই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে। অযথা মানুষকে হয়রানি করার জন্য সিস্টেমকে কাজে লাগাচ্ছে না।
৫। শুধু রাস্তায় গতিসীমাই নয়, এরকম আরো অনেক সিস্টেম আছে যেগুলো আসলে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা আবশ্যকীয় নয়, ব্যাখ্যা জেনে সঠিক প্রয়োগ করা যুক্তিযুক্ত। কিন্তু সেগুলো প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অন্যদেরকে হয়রানি করার জন্য ব্যবহার করে। হতে পারে প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ ঐ নিয়মের মূল বিষয়টাই বোঝে না (না বুঝে মুখস্থ বিদ্যা), না হয় বোঝার চেষ্টাও করে না - অর্থাৎ নিপীড়ন করাই তাই মূল উদ্দেশ্য।
[ ইদানিং এরকম বেকুবি/ নিপীড়নের উদাহরণ দেখে পোস্টটির অবতারণা করলাম]