বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১১

কাজ-কর্ম নিয়ে উর্বর(!) চিন্তাভাবনা

ঢিসক্লেইমার: এই লেখাটা আমার উর্বর মস্তিষ্কের সাময়িক উত্তেজনা এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনা হ্রাস করার উদ্দেশ্যে নামানো হয়েছে। কাজেই ইহার কোন তথ্যসূত্র চাইলে নিজ দায়িত্বে খুঁজিয়া লইতে হইবেক -- আমার মনে হয়, এর সূত্রগুচ্ছগুলোর কিছু অংশ আমার তথাকথিত উর্বর মস্তিষ্কে জটা পাকাইয়া রহিয়াছে।

যদি বলা হয় কী কাজ কর? তাহলে আমার মেয়ে হয়তো বলবে "কুকুল দেখি' -- আসলেই সে ইউটিউবে চালিয়ে রাখা কুকুরের ঘেউ ঘেউ দেখছে। কিন্তু আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমার প্রতিষ্ঠান আর পদবী বলবো হয়তো। অর্থাৎ কাজ বলতে আমি চাকুরী বাকুরীকেই বুঝিয়ে থাকি -- এই কাজের বিনিময়ে আমি বেতন পাই। এই লেখার পয়েন্ট অব ভিউ হল, যেই কাজ কোন না কোন ভাবে সমাজে অবদান রাখে। ... ... নাহ্ ঠিক মনমত হল না ... ... আরেকবার একটু গুছিয়ে শুরু করার চেষ্টা করি:

আমার মেয়ের বয়স ১বছর ৮মাস ৭ দিন। ওর কাজ হিসেবে "কাপল ধুই' কিংবা "কাক দেখি' ঠিক আছে বলেই মনে হয়। আবার এর চেয়ে একটু বড় হলে ওকে স্কুলে পাঠাতে হবে -- তখন কাজ হবে লেখাপড়া শেখা এবং তার সাথে সাথে অন্য মানবীয় গুণাবলীর বিকাশ ঘটানো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, অন্য প্রাণীদেরকে তো এ্যাত কঠিন স্কুল লাইফ পার করতে হয় না, আমাদের হয় কেন? কেন এই শৃঙ্খলা, কেন আমরা অন্য প্রাণীদের মত পারি না? এই প্রশ্নের একটা সুন্দর উত্তর হয়তো আছে ... ... । সেটা যাই হোক মোটা দাগে মনে হয়, বড় বা এডাল্ট হওয়ার আগে আমরা শিশু, কিশোরদেরকে সংসারের বৃহৎ কর্মযজ্ঞে প্রবেশের জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করি -- তাই শিক্ষার মাধ্যমে তাঁর মধ্যে কোন একটা দক্ষতা বা স্কিল উন্নয়নের চেষ্টা হয়। তাহলে ব্যাপারটা হল -- সেই কর্মযজ্ঞটাই হল আসল কাজ, আর আগেরগুলো কাজ হলেও সেটা সেই আসল কাজের পূর্বপ্রস্তুতি!

আর এই আসল কাজ বলি সেগুলোকেই যেগুলোর বিনিময়ে আয় উপার্জন হয় এবং যা সমাজব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভাল বা পজিটিভ অবদান রাখে। কে কী কাজ করে বা একটা সমাজে বা দেশে বা এলাকায় কাজের অবস্থা কী, এসব পরিসংখ্যান বা অর্থনৈতীক হিসাব কিতাবে আমরা তাই "কুকুল দেখা'কে গণ্য করি না কিন্তু "সকালে বাবা কাজে যায়' এটা হিসাবে ধরি। বেকারত্বের হিসাবের সময়েও এই ব্যাপারটাকেই উল্টাদিক থেকে হিসাব করি।

চাকুরী বা ব্যবসা করা যে কাজ সেটা আমরা জানি, কিন্তু যদি একটু বোকার মত কিংবা বেশি চালাকের মত প্রশ্ন করি -- ভিক্ষা করা, চুরি করা কিংবা খেলাধুলা করা, কবিতা লেখা কি কাজ? এগুলো সম্পর্কে আমার কিছু বিচ্ছিন্ন চিন্তাভাবনা আছে। সেই চিন্তাভাবনাকে সরলীকৃত রূপে বলার জন্য কাজের বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞার সাহায্য নিতে পারি:

বিজ্ঞান বইয়ে পরেছিলাম: কাজ = বল x সরণ .... .... যদিও এই সংজ্ঞার মধ্যে বিরাট ফাঁক আছে সেটা একটু চিন্তা করলেই বোঝা যায় (আপেক্ষিক গতি স্খিতি + প্রাথমিক ও শেষ অবস্থা ইত্যাদি)। তাই সরাসরি এর গাণিতিক অর্থ নিয়ে মাথা ঘামাবো না। বল অর্থ কতটুকু ইফোর্ট বা প্রচেষ্টা দেয়া হচ্ছে, আর সরণ = বলে কতটুকু পরিবর্তন করছে সেটা ধরে নিলেই আমার তাত্ত্বিক বিশ্লেষনের জন্য যথেষ্ট হবে বলে মনে করি। তবে, আবার একটু মনে করিয়ে দেই, ইহা একটি তথাকথিত বিশ্লেষন অথবা চিন্তাভাবনা - যা মাথায় কুটকুট করছিল দেখে বের করে দিলাম।

ভিক্ষা করা
সারাদিনে একজন ভিক্ষুকে ভিক্ষা সংগ্রহের জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয় এ ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কথা না। কিন্তু সেটা কি কোনো প্রোডাক্টিভ কাজ? এই কাজকে কি আমরা বিভিন্ন পরিসংখ্যানে গণ্য করি? প্রচেষ্টা বা পরিশ্রম এতে কম নয়, কিন্তু সরণ? এটা তো মনে হয় ঋণাত্নক। সমাজে এটা বিরক্তি ছাড়া কিছুই দেয় না।

আচ্ছা, ভিক্ষুকদেরকে যদি একটা অপশন দেয়া হয়, যে সারাদিনে তারা একই পরিমাণ পরিশ্রম করবে এবং একই পরিমান ইনকাম করবে কিন্তু সেটা ভিক্ষা করে নয় - বরং একটা ভাল কাজ করে: সেটা কেমন হয়? একমাসে যা ভিক্ষা দেই সেটা সেই কাজ করার ফান্ডে দিয়ে রাখবো। এই কাজ কেমন হতে পারে সে জন্য একটা ব্রেইন স্টর্মিং দরকার, আর প্রয়োগের জন্য একটা আগ্রহী আর্গানাইজিং গ্রুপ দরকার। ব্রেইন স্টর্মিং এর শুরুতেই কিছু আইডিয়া দিয়ে রাখি:
১। কোলে শিশু নিয়ে ভিক্ষা করে যে: বাসায় বাচ্চা রাখার কাজ।
২। সাধারণ ভিক্ষুক: রাস্তায় বা অন্য কোনো পাবলিক প্লেস (স্টেশন, স্কুল) পরিষ্কার রাখার কাজ + ভোকাল: দয়া করে বা আল্লার ওয়াস্তে যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না।
৩। বিকলাঙ্গ: অফিসের বিভিন্ন ইনফরমেশন বলবে -- যেমন: মানি অর্ডার করতে হলে ৪ নম্বর কাউন্টারে যান। ইত্যাদি।


চুরি ডাকাতি করা
এই কাজ করতেও অনেক পরিশ্রম করতে হয়। আবার পদাধিকার বলেও কেউ কেউ বিনা পরিশ্রমে এই কাজ করে থাকেন। এগুলো কি কাজ?

কবিতা বা অন্য সাহিত্য চর্চা
এগুলো সমাজের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান - সেটা অস্বীকারের কোন উপায় নাই। কিন্তু একজন লোক কখন কাজ হিসেবে এগুলোর কথা বলতে পারে? -- যখন কবিতা আবৃত্তি করে, গান গেয়ে, বা গল্প-কবিতা-উপন্যাস ইত্যাদি লিখে বই ছাপিয়ে বা নাটক সিনেমার স্ক্রিপ্টে দিয়ে উপার্জন করতে থাকে -- তাই তো! হুমায়ুন আহমেদ -- লেখক; কিন্তু আমি এই ব্লগ লেখা কি কাজ হিসেবে সহজেই বলতে পারি?

স্পোর্টস
কেউ যদি নিজের আনন্দের জন্য খেলাধুলা করেন তাহলেও কিন্তু সাপোর্টিং ইন্ডাস্ট্রির জন্য সেটা লাভজনক। কারণ খেলা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সরাঞ্জাম বিক্রি বাড়বে এতে। খেলাধুলা করা মানুষের কর্মদ্যোম ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এটাকে কি আমরা কাজ বলি? কী কাজ করেন -- এমন প্রশ্নের জবাবে যদি বলা হয় ক্রিকেট খেলি - তাহলে বুঝতে হবে পেশাদার খেলোয়ার। শখের খেলা কিংবা অবসর বিনোদনের খেলাকে সাধারণত আমরা কাজ করা হিসেবে বলি না, তবে নিঃসন্দেহে সেটা কাজের অনুঘটক হিসেবে বেশ কার্যকর।

কম্পিউটারে কাজ করা
এখানেও যদি উপার্জনের সাথে জড়িত করে চিন্তা করি তাহলে বেশ একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার দাঁড়াবে। আমার জন্য অফিস সফটওয়্যার ব্যবহার কাজ - কারণ আমার লেকচার, প্রশ্নপত্র এবং প্রেজেন্টেশন বানাতে হয় চাকুরীর প্রয়োজনেই। মাঝে মাঝে সেই ডকুমেন্টগুলোতে গ্রাফিক্সের কাজ যথা: কিছু লোগো, কিছু ডিজাইন, কিছু ড্রইং লাগে। কিন্তু আমাকে গ্রাফিক্স ডিজাইনার বলা যাবে না। আমার গ্রাফিক্স, ডিজাইন বা ড্রইং দিয়ে উপার্জনক্ষম কোন পত্রিকা বা প্রকাশনা হয় না। ব্রাউজিং কোনো কোনো সময় কাজ -- কারণ, আমি এর দ্বারা প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাই যা লেকচার, প্রেজেন্টেশনে কাজে লাগে; পাশাপাশি জরুরী দাপ্তরিক ইমেইল, নোটিশ ইত্যাদিও এর মাধ্যমে পাই। তাই ব্রাউজিং কাজ। ব্লগিং, ফেসবুক আমার বিনোদন - এ থেকে উপার্জনক্ষম কোনকিছু এখন পর্যন্ত করিনি, তবে যারা ফেসবুকের অ্যাপস বানিয়ে উপার্জন করে তাঁদের জন্য ফেসবুক কাজের ক্ষেত্র বটে, আর ফেসবুক নির্মাতা বিজ্ঞাপন থেকে আয় করে।

এখন চেপে রাখা প্রশ্নটা করেই ফেলি -- কম্পিউটারে গেম খেলা কি কাজ? আমার তো গেমের নেশা প্রায়ই কাজে ব্যাঘাত ঘটায় ... তাই আমার ক্ষেত্রে এটা নেগেটিভ কাজ বা অকাজ। যদি এটা কাজ না হয় তবে, কোন সিস্টেমে যদি গেমিং অপশন তেমন শক্তিশালী না হয় তাহলে এটাকে অকাজের সিস্টেম বলাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে? কিংবা শুধু গেমিং সুবিধা বেশি বলে একটা সিস্টেমকে বেশি কাজের বলা কতটুকু যুক্তিযুক্ত হবে? ... ... এখানে সুক্ষ্ণ বিভেদটা খেয়াল রেখে জবাব দিতে হবে - আমার জন্য যা কাজ না (হয়তো বিনোদন), সেটা অন্য কারো জন্য কাজ হতেও পারে।

শেষ পর্যন্ত কাজ নিয়ে চিন্তাভাবনার জট খুললো নাকি আরো বিষগিট্টু লাগলো সেটা নিয়েই চিন্তাভাবনা বাড়ালাম বলে মনে হয়।

বুধবার, ১৫ জুন, ২০১১

আরো কত অবাক হওয়া বাকী কে জানে!

কয়েকদিন আগে টেকটিউনস নামক একটি ব্লগ সাইটে লিনাক্স নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম (বিচার মানি, তবে তালগাছ আমার)। সেখানের একটা মন্তব্যে একজন লিনাক্স সিডি জোগারের উপায় জানতে চেয়েছিলেন। আমি ওনাকে ঠিকানা দিতে বলে জানিয়েছিলাম পাঠিয়ে দেব। সেই অনুযায়ী ওনাকে (এবং আরো দুইজনকে) পরবর্তীতে লিনাক্স মিন্টের ডিভিডি কুরিয়ার করে পাঠিয়েছিলাম।

দেশের লিনাক্স কমিউনিটিতে প্রচলিত প্রথা হল, এমন ক্ষেত্রে সিডির মূল্য আর কুরিয়ারের খরচটা পরবর্তীতে গ্রহীতা, প্রেরকের মোবাইলে ফ্লেক্সি, আইটপআপ ইত্যাদি করে দিয়ে দেন। তবে আমি শুরু থেকেই এরকম করি নাই। একবার অবশ্য নিয়েছিলাম। আমি বলি, আপনি ডিভিডি বা সিডি বুঝে পান, চালিয়ে দেখুন তারপর জানাবেন -- আমি কিভাবে মূল্য শোধ করবেন জানিয়ে দেব।

এই পর্যায়ে আমি তাদেরকে যেটা বলার পরিকল্পনা করে রাখি এবং বলি, সেটা হল: আমাকে এর মূল্য পরিশোধের দরকার নাই; আপনি অন্য একজন সাহায্যপ্রার্থীকে এই একইরকম সাহায্য করবেন -- এতেই আপনার ঋন (!) শোধ হয়ে যাবে। কারণ শুধু আপনার আর আমার মধ্যে লেনদেন সীমাবদ্ধ না থেকে এটা তাহলে ছড়িয়ে পড়বে -- আর সমাজটা এভাবেই সামাজিক হয়।

এই ধারণাটা নতুন কিছু নয়। ছোটবেলায় বড়ভাইদের পকেটের উপর দিয়ে অনেক কিছুই পার করেছি -- তাদেরকে তো সেটা দেয়া যাবে না। আমি সেটা দেই ছোটভাইদেরকে। একইভাবে জুনিয়র কলিগ যদি আমার সাথে ক্যাবে বাসায় আসার পথে লিফট নেয়, তাঁকে বলি শেয়ারটুকু সঞ্চয়ে রাখো, আমি যেমন আগে বড়ভাইদের কাছ থেকে নিয়েছি তেমনি তোমাকেও সামনে ছোটভাইদেরকে দিতে হবে।

বিদেশে যখন নতুন গেলাম, ওখানকার বড়ভাইরা অনেক সাহায্য করেছেন। আমিও যখন একটু পুরানা হলাম, নতুন আগতদেরকে সাহায্য করতাম। --- এভাবেই পারষ্পরিক ভাতৃত্ববোধ বাড়ে, এভাবেই চলা উচিত --- লেনদেনগুলো দুইপক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাটা তাই আমার পছন্দ নয়।

অবাক হলাম গতকাল। উনি আমাকে এক ব্যাগ আম পাঠিয়ে দিয়েছেন (জনাব আব্দুর রব সাহেব চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ)। সেই ছড়িয়ে দেয়ার মূলনীতি থেকে ব্যাপারটা একটু ভিন্ন হলেও আমি সত্যিই আপ্লুত। অন্তত এতে বাসায় - বনের মোষ তাঁড়ানোর জন্য প্রক্ষেপিত কটু কথাগুলো একটু হলেও কমবে।

পঠনের প্রায় ২০ বছর পর নতুন করে এই কবিতাটার মর্মার্থ উপলব্ধি হচ্ছে

The Arrow and the Song
- Henry Wadsworth Longfellow

I shot an arrow into the air,
It fell to earth, I knew not where;
For, so swiftly it flew, the sight
Could not follow it in its flight.

I breathed a song into the air,
It fell to earth, I knew not where;
For who has sight so keen and strong,
That it can follow the flight of song?

Long, long afterward, in an oak
I found the arrow, still unbroke;
And the song, from beginning to end,
I found again in the heart of a friend.

বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১১

এ্যাত লাফালাফি, চিল্লাপাল্লা করি কিল্ল্যাইগ্গা?

যাঁরা জানেন না, তাঁদের অনেকেরই মনে চিন্তা খেলা করে, এই লোকগুলো নিজেরা লিনাক্স ব্যবহার করে ভাল কথা, কিন্তু আমাদের পিছে লাগছে ক্যান? এঁদের স্বার্থ কী? এদের কি মহাপুরুষ রোগে ধরছে? কাউরে ইমপ্রেস করতে চায়? নাকি কেউ কি এঁদের টাকা দেয়?: দেয় মনে হয়, অবশ্যই দেয় …. নাইলে কার ঠেকা পড়ছে পকেটের টাকা খরচ করে সিডি বানায় দিবে, সময় খরচ করে আমাদের পেছনে ঘুরবে, ইনস্টল করে দিয়ে যাবে, সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করবে। আমি আমার মত ভাল আছি, ভাইরাস মারতেছি, রিইনস্টল করছি, এন্টিভাইরাস কিনতেছি … প্রতিনিয়ত এই প্রতিকূল পরিবেশেও আমাকে কত কিছু শিখতে হচ্ছে, লিনাক্সে গেলেও তো শিখতে হবে। … কী?! তোমরা টাকা পাও না কারো কাছ থেকে! তাহলে কি শুধুই দলে ভারী হইতে চাও জন্য এ্যাত কিছু কর? … আচ্ছা ভাল কথা, আমারে বাদ দিয়ে হিসাব কর। … যাও মিয়া ভাগো, আমি চোরাই উইন্ডোজ ব্যবহার করি আমার রিস্কে, তোমার তাতে কী!

জ্বী ভাই, আমার তাতে এসে যায়। আপনি জেনুইন সফটওয়্যার ব্যবহার করলে আমি কখনই আপনাকে লিনাক্স নিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে যাব না, যদি ইতিমধ্যেই গিয়ে থাকি তবে সেটা ভুল হয়েছে, কিন্তু আপনি চোরাই সফটওয়্যার ব্যবহার করলে তাতে আমার সমস্যা হয়। কীভাবে জানতে চান নাকি?

সম্মান হারাতে চায় না কেউ। বড়লোকের হারানোর মত অনেক কিছু থাকতে পারে, কিন্তু গরীবের সম্মান ছাড়া আর আছে কী? (এই রে! বাংলা ছিঃনেমার ডায়লগ দিয়ে ফেললাম মনে লয় ...) বংশের সম্মান, ব্যক্তির সম্মান ইত্যাদিকে ঘিরে কত ঘটনাই না আবর্তিত হয় চারিদিকে। অনেক ক্ষেত্রে আমরা আজও দেখছি অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে অপমানিত আত্মসম্মানী মানুষ। আবার পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে বিপথগামী সদস্য বা সদস্যাকে হত্যা করে অনেক জায়গায়: এটাকে ব্যাখ্যা করার জন্য অনার কিলিং বলে একটা শব্দ আছে ইংরেজিতে।

আপনি চোরাই উইন্ডোজ ব্যবহার করলে আমার সম্মান হারাই আমি। জ্বী, ঠিকই শুনেছেন ….. আপনি চোরাই সফটওয়্যার ব্যবহার করলে শুধু আপনি না সাথে আমিও সম্মান হারাই। আর হারানো সম্মান ফিরানোর জন্যই আমরা নিজেদের পকেটের টাকা আর মূল্যবান সময় খরচ করি, কিন্তু কোনো রকম আত্মহত্যা বা খুনাখুনি করি না (দেখেছেন, আমি কত্ত ভালো!)।

বাংলাদেশ খারাপ মানুষের দেশ, দূর্নীতিতে আগে টানা চ্যাম্পিয়ন ছিল, আর বর্তমানে এটা পৃথিবীতে সফটওয়্যার পাইরেসী তথা চুরীতে ৩য়। এর আগে ২য় পজিশনে ছিল, ইট্টুর লাইগা ফাস্ট হইতে পারে নাই …. আফসুস! এই ব্যাপারটা আপনি উপভোগ করেন কি না আমি জানিনা, তবে আমার কাছে এদেশের নাগরিক হিসেবে অসম্মানজনক মনে হয়।

নিজে জেনুইন সফটওয়্যার ব্যবহার করেও যদি আপনাদের চোরাই সফটওয়্যারের কারণে আমাকে নাগরিক হিসেবে এই অপমানের ভাগ নিতে হয়, আমার দেশমাতাকে অপমানিত হতে হয় তাতে আমি ক্ষিপ্ত হই। কিন্তু ঐ যে বললাম, সম্মান রক্ষার্থে এখনও খুনাখুনি করি না, তাই লিনাক্স প্রচার করি। আমি টাকা দিয়ে আপনাকে জেনুইন সফটওয়্যার কিনে দিতে পারবো না (দিতে পারলেও সেটা নিতে কি আপনার নিজেকে ছোট মনে হত না?!) - তাই লিনাক্স ব্যবহার করতে বলি। কারণ, বিনামূল্যে জেনুইন সফটওয়্যার ব্যবহার করার এটাই এখন পর্যন্ত জানা একমাত্র রাস্তা। আর এটা কারো দান নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এই ফ্রী সফটওয়্যারের আন্দোলন। এতে আমি সহ সমস্ত ব্যবহারকারীর বিভিন্নভাবে কন্ট্রিবিউট করি - কীভাবে জানতে চান? আজকে থাক, তবে চিন্তা (=দুশ্চিন্তা) কইরেন না, সেই কন্ট্রিবিউশন নিয়ে শীঘ্রই আরেকটা ত্যানা প্যাচানি লেখা নামাবো।

ভাইরাস মাইরাস, সিকিউরিটির সমস্যা অথবা উত্তেজনা - সেটা আপনার ব্যাপার, এগুলো আপনি এনজয় করলে আমার তাতে কী! বরং এইসব নিয়া আপনাদের পেরেশানী দেখলে আমিও আমোদিত হই, কারণ, আসলে আমিও খারাপ লুক, আর এই পেরেশানীর দলে আমিও ছিলাম এককালে। তারপরেও লিনাক্স নিয়া চিল্লাপাল্লা করার ইয়্যাকমাত্র কারণ - আমি আমার সম্মান বাঁচাতে চাই।

কখনো যদি এই দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করি তারপরেও এই দেশটাই আমার মা (টিপিকাল বাঙালীর মত, একটু বেশি আবেগ হইয়ে গেল মনে লয়) – এর গায়ে অপমানের থুথু আমৃত্যূ আমার গায়েও এসে পড়ে।

শুক্রবার, ২০ মে, ২০১১

পৃথিবীতে কারা কারা লিনাক্স ব্যবহার করেন

লিনাক্স যদিও মূলধারার অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে বেশ নতুন, তবুই ইতিমধ্যেই অনেক রকম পরিবেশেই এটা ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে সরকারী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান।

সরকার

বিভিন্ন দেশের স্থানীয় সরকারগুলো বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার মত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে অনবরত মেধাস্বত্ব রক্ষার ব্যাপারে চাপের মধ্যে থাকে। এই চাপ এড়াতে অনেক স্থানীয় সরকারই লিনাক্স এবং অন্যান্য ফ্রী সফটওয়্যার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছে, কারণ এগুলো তাদের ক্ষমতার মধ্যে থেকেই মাইক্রোসফট, অ্যাপেল বা অন্য কোম্পানিগুলোর দামী কিংবা ক্র্যাকড সফটওয়্যারের আইনসঙ্গত বিকল্প। লিনাক্সের প্রসারের ফলে এই উন্নত দেশগুলোর সরকারী কাজের জন্য স্বল্পোন্নত দেশের কম্পিউটারে দক্ষ মানবসম্পদ দ্বারা কাজ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক দামী সফটওয়্যার ছাড়া এমন অন্য কোন বিকল্প না থাকলে তাদের পক্ষে এমন কাজ করা কখনই সম্ভব হত না।

  • ব্রাজিলের পিসি কানেক্টাডো প্রোগ্রাম লিনাক্সে চলে। এটা ২০০৩ সাল থেকে ব্রাজিলের সরকারী প্রোগ্রাম। এতে ফেডোরা নির্ভর  অপারেটিং সিস্টেম সহ কম্পিউটারে ট্যাক্স মওকুফ পাওয়া যায়। এখানকার কম্পিউটারগুলো সব ১২৮ বা ২৫৬ মেগাবাইট মেমরিতে সেলেরন ভিত্তিক প্রসেসরে ৪০ বা ৮০গিগাবাইট হার্ডডিস্ক সহ পাওয়া যায়। এই প্রজেক্টের শুরুতে মাইক্রোসফট কমদামে তাদের এক্সপি স্টার্টার এডিশন দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু সেই উপায়ে মারাত্নক রকম সীমাবদ্ধতা থাকায় সরকার সেটা গ্রহণ করেনি। মুক্ত সফটওয়্যারে ইঙ্কস্কেপ, গিম্প, ওপেন অফিস ও আমারক এখানে বহুল ব্যবহৃত।
  • মিউনিখ শহরে ২০০৩ সালে এর ১৪,০০০ ডেস্কটপ কম্পিউটারে ডেবিয়ান নির্ভর LiMux ব্যবহার করা শুরু করার উদ্যোগ নেয়। তবে ২০১০ পর্যন্ত এই লক্ষ্যমাত্রার ২০% অর্জন করেছে।
  • যুক্তরাস্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (United States Department of Defense) লিনাক্স ব্যবহার করে। আমেরিকান আর্মি রেড হ্যাট লিনাক্সের সবচেয়ে বড় গ্রাহক। এছাড়া আমেরিকার নৌবাহিনীর পারমানবিক সাবমেরিনগুলো লিনাক্স ব্যবহার করে।
  • ভিয়েনা শহর কর্তৃপক্ষ এর পিসিগুলোকে ডেবিয়ান নির্ভর উইয়েনাক্সে (wienux) নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদের প্রয়োজনীয় কাস্টমাইজড সফটওয়্যারের উপযুক্ত লিনাক্স বিকল্পের অভাবে এই পরিকল্পনা ত্যাগ করা হয়।
  • ২০০৩ সালে স্পেনকে লিনাক্স গ্রহণে সবচেয়ে অগ্রবর্তী ছিল। তাঁদের এক্সট্রিমাদুরা (Extremadura) প্রদেশে সরকারী উদ্যোগে এজন্য LinEx নামক ডিস্ট্রিবিউশন তৈরী করা হয়। তাঁরা পত্রিকার সাথে ২ লক্ষ লিনাক্স সিডি বিতরণ করে এবং আরো ৭০ হাজার কপি ডাউনলোড করা হয়। ঐ প্রদেশের শতকরা ১০ ভাগ লোক লিনাক্স ব্যবহার করে।
  • চীন সরকারের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (ICBC) এর ২০,০০০ শাখায় ওয়েব সার্ভার এবং নতুন টার্মিনাল প্লাটফর্মে লিনাক্স ইনস্টল করছে (২০০৫ সালের খবর)।
  • ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন রেড হ্যাট এন্টারপ্রাইজ লিনাক্সে চলে আসা সম্পন্ন করার ঘোষনা দেয়। এতে তাদের পরিকল্পিত সময়ের তিন ভাগের এক ভাগ সময়ে সম্পন্ন হয় আর এতে তাঁদের ১৫ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়।
  • ২০০২ সালে পাকিস্থান সরকার টেকনোলজি রিসোর্স মবিলাইজেশন ইউনিট গঠন করে, যাতে পেশাদার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। লিনাক্স এতে একটা বিকল্প হিসেবে ছিল। পাকিস্থানের সরকারী স্কুল এবং কলেজে মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয় এবং তারা আশা করছে যে  খুব শীঘ্রই তাদের সমস্ত সরকারী সেবা লিনাক্সের মাধ্যমে দেবে।
  • ফরাসী পার্লামেন্ট তাদের ডেস্কটপ পিসিগুলোতে উবুন্টু ব্যবহার করছে।
  • জার্মানীর ফেডারেল কর্মসংস্থান অফিস (Bundesagentur für Arbeit) তাদের ১৩,০০০ কম্পিউটার ওয়র্কস্টেশন উইন্ডোজ এনটি থেকে ওপেনসুযেতে নিয়ে এসেছে। (ওপেনসুযে একটি জনপ্রিয় লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন)
  • চেক প্রজাতন্ত্রের পোস্টাল সার্ভিস তাদের ৪০০০ সার্ভার এবং ১২,০০০ ক্লায়েন্টকে নভেল লিনাক্সে নিয়ে এসেছে ২০০৫ সালে।
  • জার্মানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর ১১,০০০ ডেস্কটপগুলোকে লিনাক্স এবং অন্য মুক্ত সফটওয়্যারে নিয়ে আসা শুরু করেছে। ২০০১ সালে সার্ভারগুলোকে আর ২০০৫ সালে ডেস্কটপগুলোকে, আর সবগুলো ল্যাপটপেই ডেবিয়ান লিনাক্স চলে। ২০১১ সালে তারা আবার মাইক্রোসফট অফিস, আউটলুক এবং উইন্ডোজে ফিরে যাওয়ার ঘো‌‌ষনা দিয়েছে; কারণ হিসেবে হার্ডওয়্যার চালনায় অসুবিধার অযুহাত দেখিয়েছে, তবে এর পেছনে মাইক্রোসফটের দেয়া প্রণোদনাও (incentive) ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
  • কিউবার ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন সায়েন্স-এর ছাত্ররা 'নোভা' নামে নিজেদের লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন চালু করেছিল। এটা দিয়ে তার সরকারী এবং ব্যক্তিগত কম্পিউটার থেকে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ প্রতিস্থাপন করতে চায়; আর এই প্রজেক্টটা এখন সরকারী সমর্থন পেয়েছে। ২০১১ সালের শুরুতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০০০ পিসিতে এই নতুন অপারেটিং সিস্টেমে চালানোর ঘোষনা দেয়া হয়।
  • ক্যান্টন অব সোলথুর্ন নামক সুইজারল্যান্ডের অঙ্গরাজ্য ২০০১ সালে এর কম্পিউটারগুলো লিনাক্সে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ২০১০ সালে সুইস প্রশাসন পুরা উল্টা ঘুরে ডেস্কটপগুলোতে উইন্ডোজ-৭ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
  • ফ্রান্সের জাতীয় পুলিশ বাহিনী এর ৯০,০০০ ডেস্কটপগুলোকে উইন্ডোজ এক্সপি থেকে উবুন্টুতে নেয়া শুরু করে ২০০৭এ। কারণ এতে উইন্ডোজ ভিসতার জন্য যে প্রশিক্ষণ লাগবে তার চেয়ে কম প্রশিক্ষণ লাগবে। এই প্রতিস্থাপন ২০১৫ সাল নাগাদ শেষ হবে; ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এভাবে সফটওয়্যার লাইসেন্স বাবদ ৫০ মিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় হয়েছে।
  • ফ্রান্সের কৃষি মন্ত্রণালয় ম্যানড্রিভা লিনাক্স ব্যবহার করে।
  • মেসিডোনিয়ার বিজ্ঞান ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ক্লাসে ১,৮০,০০০ এরও বেশি উবুন্টু নির্ভর ডেস্কটপ ব্যবহার করছে এবং প্রতি ছাত্রকেই উবুন্টু ওয়র্কস্টেশন ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করছে।
  • প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার লক্ষ্যে চীন সেদেশের Loongson প্রসেসর পরিবারের জন্য অপারেটিং সিস্টেমে শুধুমাত্র লিনাক্স ব্যবহার করে।
  • আমেরিকার পারমানবিক নিরাপত্তা প্রশাসন বিশ্বের তৃতীয় দ্রুততম সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে, এটার নাম আইবিএম রোডরানার – যা ফেডোরা এবং রেড হ্যাট এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স ব্যবহার করে চলে।
  • ২০০৪ সালে স্পেনের অ্যান্ডালুসিয়া অঞ্চলের স্বায়ত্বশাসিত সরকার Gaudalinex নামে তাদের নিজস্ব লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন তৈরী করে নিয়েছে।
  • দক্ষিন আফ্রিকান সামাজিক নিরাপত্তা সোসাইটি মাল্টি স্টেশন লিনাক্স ডেস্কটপ ব্যবহার করে তাদের ৫০টি প্রত্যন্ত এলাকার বাজেট এবং অবকাঠামোগত অসুবিধা মোকাবেলা করছে।
  • ২০০৩ সালে তুরস্কের সরকার তাদের নিজস্ব লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন তৈরীর সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের জাতীয় ইলেক্ট্রনিক্স ও ক্রিপ্টোগ্রাফি রিসার্চ ইনস্টিটিউট Pardus নামক এই ডিস্ট্রিবিউশন তৈরী করা শুরু করে এবং ২০০৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর এটার ১.০ ভার্সনের অফিসিয়াল ঘোষনা দেয়।
  • ২০১০ সালে ফিলিপিনসে উবুন্টু চালিত জাতীয় ভোট গ্রহণ সিস্টেম চালু করা হয়।
  • ২০১০ সালের জুলাই মাসে মালয়েশিয়ার সরকারী ৭২৪টা এজেন্সির মধ্যে ৭০৩টায় লিনাক্স ভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ফ্রী এবং ওপেনসোর্স সফটওয়্যার ব্যবহার করা শুরু হয়। সরকারের প্রধান সচিব বলেছিলেন যে, এটার মূল লক্ষ্য হল উন্নততর মান, উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা, অধিকতর পরিবর্তনযোগ্যতা (flexibility) এবং স্বল্প খরচ।
  • ২০১০ সালের শেষের দিকে ভ্লাদিমির পুতিন, রাশিয়া ফেডারেশন সরকারের ২০১২ সালের মাঝামাঝির মধ্যে লিনাক্স এবং ফ্রী সফটওয়্যারে সরে আসার একটি পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করেন।
  • আমেরিকার ফ্লোরিডার লার্গো শহরের প্রশাসন লিনাক্স ব্যবহার করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করে। এটা থেকে শহর ব্যবস্থাপনার প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ের ব্যাপারটা বোঝা যায়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে

শিক্ষার জন্য উবুন্টুর একটা ভার্সন আছে - যা এডুবুন্টু নামে পরিচিত।

প্রায়শঃই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত বিষয়গুলোতে এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে লিনাক্স ব্যবহৃত হয়। এটা বিনামূল্যে উপলব্ধতা এবং অসংখ্য সফটওয়্যার ব্যবহারের সুযোগ থাকা এর পেছনে অনেকগুলো কারণের মধ্যে রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে কম্পিউটার সায়েন্স এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং থেকেও লিনাক্সে কিছু অবদার রাখে। আইবিএম "লিনাক্স ইজ এডুকেশন" নামে একটা বিজ্ঞাপন তৈরী করেছে, যেখানে একটা ছোট ছেলেকে দেখানো হয় যে বড় হয়ে লিনাক্স (লিনুস?) হয়।

বৃহৎ পরিসরে লিনাক্স গ্রহণকরার কিছু উদাহরণ নিচে তুলে ধরা হলঃ

  • OLPC XO-1 (ওয়ান ল্যাপটপ পার চাইল্ড: যা আগে এমআইটির ১০০ ডলার ল্যাপটপ প্রজেক্ট বা বাচ্চাদের ল্যাপটপ নামে পরিচিত ছিল) হল একটা সস্তা ল্যাপটপ যা লিনাক্সে চলে; এই ল্যাপটপটি মূলত: উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রতি শিশুর জন্য একটি ল্যাপটপ প্রজেক্টের অধীনে কয়েক মিলিয়ন শিশুর মধ্যে বিতরণ করার লক্ষ্যে তৈরী করা হয়েছে।
  • মেসিডোনিয়ার ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে ৪৬৮টি সরকারী স্কুল এবং ১৮২টি কম্পিউটার ল্যাবে ৫০০০ উবুন্টু চালিত ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করা শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে উবুন্টু চালিত আরো ১,৮০,০০০ থিন ক্লায়েন্ট কম্পিউটার চালু করা হয়। (থিন ক্লায়েন্ট হল একটা শক্তিশালি সিপিইউ থেকে অনেকগুলি মনিটর, কিবোর্ড ও মাউসের সাহায্য অনেকে ব্যবহারের সুবিধা - অনেকটা মেইনফ্রেম কম্পিউটারের মত)
  • ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইটালির বোলযানোর ১৬,০০০ স্কুল ছাত্রের ক্লাসরুমে ব্যবহারের জন্য একটা সংকলিত লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন চালু করে। (FUSS Soledad GNU/Linux)
  • ব্রাজিলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সরকারী স্কুলগুলোতে প্রায় ২০,০০০ লিনাক্স ডেস্কটপ চলছে।
  • ভারতের কেরালা রাজ্যের সরকারী কর্মকর্তারা ঘোষনা করেন যে, তারা কম্পিউটার শিক্ষার জন্য শুধুমাত্র লিনাক্সে চালিত ফ্রী সফটওয়্যার ব্যবহার করবে;  ২,৬৫০টি সরকারী ও সরকারী অনুদানপ্রাপ্ত উচ্চ বিদ্যালয় দিয়ে এটা শুরু করা হয়।
  • ২০০৬ সালে আমেরিকার ইন্ডিয়ানা রাজ্যের ২২,০০০ ছাত্রের জন্য তাদের উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে লিনাক্স ওয়র্কস্টেশন ব্যবহারের সুযোগ ছিল।
  • ২০০৭ সালে জার্মানি এর ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫,৬০,০০০ ছাত্র লিনাক্স ব্যবহার করবে বলে ঘোষনা দিয়েছে।
  • ফিলিপিনসে ১৩,০০০ ডেস্কটপে ফেডোরা চলে, যার প্রথম ১০,০০০ ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে ASI (Advanced Solutions Inc) এগুলো সরবরাহ করে। মাইক্রোসফট ২০ ডলারে উইন্ডোজ আর ৩০ ডলারে অফিস দেয়ার প্রতিযোগীতামূলক অফার দেয়ার কারণে এই প্রজেক্টের সিদ্ধান্ত ৪/৫ মাস পিছিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু তাসত্ত্বেও লিনাক্স আরো স্বল্পখরচের সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়। এই প্রজেক্টে আরো ১০,০০০ এডুবুন্টু ও কুবুন্টু ডেস্কটপ দেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
  • লাইসেন্স খরচ বাঁচাতে ২০০৭ সালের অক্টোবরে রাশিয়া সমস্ত স্কুলের কম্পিউটার লিনাক্সে চালানোর ঘোষনা দেয়।
  • ২০০৪ সালে জর্জিয়া এর সমস্ত স্কুলের কম্পিউটারগুলো এবং লিনাক্স টার্মিনাল সার্ভার প্রজেক্টের (LTSP) থিন ক্লায়েন্টগুলো লিনাক্সে চালানো শুরু করে। এখানে মূলত কুবুন্টু, উবুন্টু এবং হালকা ফেডোরা নির্ভর ডিস্ট্রো ব্যবহার করা হচ্ছে।
  • ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ৯০০০ কম্পিউটারে লিনাক্স ও ওপেন অফিস ব্যবহার শুরু হয়।
  • ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে ছাত্রদেরকে ১,০০,০০০ লিনাক্স ল্যাপটপ বিতরনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। (২০০৮)
  • অভ্যন্তরীন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে চীন সরকার ১৫ লক্ষ লিনাক্স loongson পিসি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া জিয়াঙ্গসু প্রদেশে ২০০৯ সাল থেকে গ্রামাঞ্চলের স্কুলগুলোতে ১,৫০,০০০ loongson প্রসেসর চালিত লিনাক্স পিসি স্থাপন করা হবে।
  • ভারতীয় সরকাররের ছাত্রদের জন্য ট্যাবলেট পিসি প্রজেক্টের লক্ষ্য হল ১,৫০০ রুপীর (৩৫ ডলার) কমে ট্যাবলেট পিসি বানানো, এই পিসিগুলো লিনাক্সে চলে।

আবাসিক গৃহে

  • সনির প্লেস্টেশন-৩ এর ভেতরে হার্ডডিস্ক (২০, ৬০ ও ৮০ গিগাবাইট) দেয়া হয়েছে এবং এটা সহজে লিনাক্স ইনস্টলের উপযোগী করে তৈরী করা হয়েছে। অবশ্য এর ৩ডি গ্রাফিক্স ফীচারগুলো লিনাক্সে চালানোর সুযোগ দেয়া হয় না। এছাড়া সনি এর প্লেস্টেশন-২ এর জন্যও লিনাক্স কিট ছেড়েছে। সহজ ইনস্টলেশন আর তুলনামূলক কম দামের কারণে (প্লেস্টেশন-৩ এর তুলনায় সমপর্যায়ের অন্য হার্ডওয়্যার ক্রয়ের ক্ষেত্রে) ছোট পরিসরে ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং পরীক্ষার জন্য মাঝে মাঝে এই লিনাক্স চালিত প্লেস্টেশন হার্ডওয়্যার ব্যবহৃত হয়। নিরাপত্তা বিবেচনায় ২০১০ সালের ১লা এপ্রিলে লিনাক্স ইনস্টলের সুবিধা রহিত করে এবং ফার্মওয়্যার ৩.২১ ব্যবহার শুরু করে।
  • ২০০৮ সালে নেটবুকের অনেকগুলো মডেল হালকা লিনাক্স (xandros, linpus) ইনস্টল করা অবস্থায় সরবরাহ করা হত। এতে এর সীমিত ক্ষমতা সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যেত।
  • ২০০৭ ও ২০০৮ এ ব্যবহারবান্ধবতা বিচারে উবুন্টুর মত লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে, ফলে ডেলের মত কিছু নির্মাতা উবুন্টু এবং অন্য লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন চালিত ডেস্কটপ কম্পিউটার মডেল বাজারে ছাড়ে।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহ

রেডহ্যাট এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স, সুযে লিনাক্স এন্টারপ্রাইজ ডেস্কটপ এবং লিনস্পায়ারের মত বাণিজ্যিক লিনাক্স সমাধানগুলো কিছু কর্পোরেটে ব্যবহৃত হয়।

  • ১৯৯৯ সাল থেকে বার্লিংগ্টন কোট ফ্যাক্টরি (Burlington Coat Factory) শুধুমাত্র লিনাক্স ব্যবহার করে।
  • ২০০০ সাল থেকে আর্নি বল (Ernie Ball) নামক সুপার স্লিংকি গিটারের স্ট্রিং প্রস্তুতকারক লিনাক্স ডেস্কটপ চালায়।
  • নোভেল উইন্ডোজ থেকে লিনাক্সে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এর ৫,৫০০ কর্মীর মধ্যে ৫০% এপ্রিলের ২০০৫ নাগাদ সফলতার সাথে লিনাক্সে চলে এসেছে। নভেম্বর মাস নাগাদ এটা বেড়ে ৮০% হওয়ার কথা।
  • Wotif নামক অস্ট্রেলিয়ান হোটেল বুকিং ওয়েবসাইট তাদের ব্যবসার প্রবৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্যতা রক্ষায় উইন্ডোজ সার্ভার থেকে লিনাক্স সার্ভারে সরে আসে।
  • ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিয়ন ব্যাংক খরচ কমানোর জন্য এর আইটি অবকাঠামো রেড হ্যাট এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স উপযোগী করার ঘোষনা দেয় ২০০৭ সালের জানুয়ারী মাসে।
  • ২০০৭ সালে ইউরোপের গাড়ি প্রস্তুতকারক Peugeot ঘোষনা করে যে এরা ২০,০০০ কপি নোভেলের লিনাক্স ডেস্কটপ, সুযে লিনাক্স এন্টারপ্রাইজ ডেস্কটপ এবং ২,৫০০ কপি সুযে লিনাক্স এন্টারপ্রাইজ সার্ভার চালু করবে।
  • মাইন্ডব্রিজ নামক একটা সফটওয়্যার কোম্পানি ২০০৭ সালে ঘোষনা দেয় যে, এটা অনেকগুলো উইন্ডোজ সার্ভার থেকে কমসংখ্যক লিনাক্স সার্ভার এবং কিছুসংখ্যক বিএসডি সার্ভারে প্রতিস্থাপন করবে। এরা এভাবে বেশ বড় পরিমান সাশ্রয় করেছে বলে দাবী করেছে।
  • আমেরিকার বাজেট এয়ারলাইন, ভার্জিন আমেরিকা এর বিমানের REDএন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেম লিনাক্সে চালায়।
  • আমেরিকার ইন্টারনেট ভিত্তিক বেচাকেনা প্রতিষ্ঠান আমাজন.কম এর ব্যবসার প্রতিটা ক্ষেত্রেই লিনাক্স ব্যবহার করে।
  • গুগল Goobuntu নামক উবুন্টু ভিত্তিক একটা অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে।
  • আইবিএম লিনাক্সের প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজে জড়িত, এবং তাঁদের অফিসে সার্ভার এবং ডেস্কটপে লিনাক্স ব্যবহার করে। এছাড়া “IBM supports Linux 100%” শিরোনামে একটা টিভি বিজ্ঞাপন করেছে।
  • উইকিপিডিয়া ২০০৮ সাল থেকে এর সার্ভারগুলো উবুন্টুতে চালায়, এর আগে রেড হ্যাট এবং ফেডোরার সমন্বয়ে চালাতো।
  • ড্রিমওয়র্কস এনিমেশন কোম্পানি ২০০১ সাল থেকে লিনাক্স ব্যবহার শুরু করে। এদের ১,০০০ এরও বেশি লিনাক্স ডেস্কটপ এবং ৩,০০০ এর বেশি লিনাক্স সার্ভার রয়েছে।
  • শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ সমস্ত কম্পিউটিং অবকাঠামোই লিনাক্সে চালায়, এবং এটা ব্যবহার করে এক কোয়াড্রিলিয়ন ডলারের বেশি লেনদেন সম্পন্ন করেছে।
  • Chi-X প্যান ইউরোপিয়ান ইক্যুয়িটি এক্সচেঞ্জ এর মার্কেটপ্রিজম ট্রেডিং প্লাটফর্ম সফটওয়্যারটি লিনাক্সে চালায়।
  • লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ লিনাক্স নির্ভর মিলেনিয়ামআইটি মিলেনিয়াম এক্সচেঞ্জ সফটওয়্যারটা ব্যবহার করে সমস্ত ট্রেডিং পরিচালনা করে। উইন্ডোজের বদলে লিনাক্স ব্যবহারের ফলে ২০১১‌-১২ অর্থবছরে তাঁদের কমপক্ষে ১০ মিলিয়ন ইউরো (১৪.৭ মিলিয়ন ডলার) খরচ বাঁচবে বলে অনুমান করেছে।
  • নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ এর সমস্ত ট্রেডিং সফটওয়্যার লিনাক্সে চালায়।
  • আমেরিকার ইলেক্ট্রনিক মিউজিক কম্পোজার কিম ক্যাসকোন তার মিউজিক স্টুডিও, পার্ফর্মেন্সে ব্যবহার এবং এডমিনিস্ট্রেশনের সমস্ত কাজ ২০০৯ সাল থেকে এ্যাপল ম্যাকের বদলে উবুন্টুতে করছেন।
  • ম্যাকডোনাল্ডস এর ম্যাক ক্যাফেতে উবুন্টু ব্যবহার করে।
  • উইন্ডোজের স্পাইওয়্যার সমস্যার কারণে লাফিং বয় রেকর্ডস এর মালিকের নির্দেশে এর রেকর্ডিং‌এর কাজ উইন্ডোজ থেকে লিনাক্সে নিয়ে এসেছে ২০০৪ সালে।
  • ২০১১ সাল থেকে কাজ শুরু করা ন্যাভ কানাডার নতুন ইন্টারনেট ফ্লাইট প্লানিং সিস্টেম পাইথনে করা এবং রেড হ্যাট লিনাক্সে চলে।
  • স্মার্ট রেফ্রিজারেটর ইলেক্ট্রোলাক্স ফিজিডেয়ার ইনফিনিটি আই‌-কিচেন লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে যার মধ্য একটা এমবেডেড ৪০০ মেগাহার্টজ্ ফ্রীস্কেল I.MX25 প্রসেসর এবং ১২৮ মেবা RAM এবং ৪৮০x৮০০ টাচ প্যানেল রয়েছে।

বৈজ্ঞানিক সংস্থা সমূহ

  • আমেরিকার পারমানবিক নিরাপত্তা প্রশাসনে পৃথিবীর ৩য় দ্রুততম সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে; এটার নাম আইবিএম রোডরানার, এবং এটা রেড হ্যাট এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স এবং ফেডোরা দিয়ে চলে।
  • লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার এবং এর ২০,০০০ অভ্যন্তরিন সার্ভার চালানোর জন্য সায়েন্টেফিক লিনাক্স ব্যবহার করে এর গবেষণাপ্রতিষ্ঠান CERN।
  • ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে কানাডার সবচেয়ে বড় সুপার কম্পিউটার, আইবিএম আইডেটাএক্স ক্লাস্টার কম্পিউটার, চালাতে লিনাক্স ব্যবহার করে।
  • ইন্টারনেট ক্যাটালগ করতে ইন্টারনেট আর্কাইভ এর শত শত এক্স৮৬ সার্ভার সবই লিনাক্সে চালায়।
  • ASV Roboat নামক স্বায়ত্বশাসিত রোবোটিক নৌকা লিনাক্সে চলে।
  • অক্টোবর ২০১০ পর্যন্ত বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার Tianhe-I, লিনাক্সে চলে। এটা চীনের তিয়ানজিনে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সুপারকম্পিউটিংএ অবস্থিত।
  • FermiLabএর Dark Energy Camera এবং সংশ্লিষ্ট ৪মিটার টেলিস্কোপ যা The Dark Energy Survey প্রগ্রামের অংশ, পরিচালনা এবং এর সমস্ত ডেটা সংরক্ষণ করার জন্য লিনাক্স ব্যবহার করবে।
  • যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টস্মাউথ পৃথিবীর বিভিন্ন টেলিস্কোপের ডেটা বিশ্লেষনের জন্য একটা উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন এবং সাশ্রয়ী (cost effective) কম্পিউটার চালু করেছে। এটা দিয়ে ব্রক্ষ্মান্ড সম্পর্কে প্রচলিত তত্বগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। এটা সায়েন্টিফিক লিনাক্স নামক অপারেটিং সিস্টেমে চলে। পোর্টস্মাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ডেভিড বেকন বলেন  "Our Institute of Cosmology is in a great position to use this high performance computer to make real breakthroughs in understanding the universe, both by analysing the very latest astronomical observations, and by calculating the consequences of mind-boggling new theories...By selecting Dell’s industry-standard hardware and open source software we’re able to free up budget that would have normally been spent on costly licenses and reinvest it."।

তথ্যসূত্র:

এই লেখাটি মূলত একটি অাংশিক অনুবাদ। নিচের লিংকগুলোর ইংরেজি থেকে কিছু অংশ এখানে বাংলা করা হয়েছে।

১। http://en.wikipedia.org/wiki/Linux_adoption
২। http://en.wikipedia.org/wiki/PC_Conectado
৩। http://en.wikipedia.org/wiki/LinEx
৪।  http://www.computerworld.com.au/article/204950/23_000_linux_pcs_forge_education_revolution_philippines/?pp=1

বাংলাদেশে:

এদেশেও কিছু মানুষ আর প্রতিষ্ঠান আছে যারা ঘরে ও অফিসে লিনাক্স ব্যবহার করে। তথ্যের অভাবে সব দেয়া সম্ভব হল না। তবে কিছু বোকা লোকের একটা তালিকা ইদানিং তৈরী করা শুরু হয়েছে। এখানে ক্লিক করে দেখতে পারেন

বুধবার, ১৮ মে, ২০১১

ছবি রিসাইজ বা রোটেট করা এতই সোজা!

এক বা একাধিক ছবি সিলেক্ট করে মাউসের ডান ক্লিকে যেই মেনুটা খোলে সেখানে Resize Images .... এবং Rotate Images .... আসলে কার না ভালো লাগে। বিশেষত ফেসবুক বা অন্য সাইটগুলোতে ছবি আপলোডের সময় এইরকম করা তো খুবই দরকার। এই কাজটাই করার উপায় জানিয়ে রাখি:
আগে দেখি কীভাবে কাজ করে: দেখুন ছবির উপর ডান ক্লিকে কী দেখাচ্ছে (একাধিক ছবির ক্ষেত্রেও একই তরিকা)



এরপর Resize Images ... এ ক্লিক করলে যেই অপশনগুলো আসবে সেটা দেখুন:


উপরের ছবিতে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, ইমেজের সাইজ ৩ ভাবে দেয়া যায়। প্রথমত নির্দিষ্ট সাইজ থেকে সিলেক্ট করে। অথবা সরাসরি কত পার্সেন্ট ছোট করবে সেটা বলে দিতে হবে। আর ৩য় অপশন হল কাস্টম পিক্সেল সাইজ। আমার ছবিটা পাশে বড়, তাই আমি শুধু পাশে ৬০০ পিক্সেল হবে বলে দিলাম। উচ্চতা অটোমেটিকভাবে ঠিক হয়ে যাবে। এছাড়া দেখুন নতুন যেই ছবিটা আসবে সেটা আগের ছবির সাথেই সেভ হবে, কিন্তু নামের সাথে .resized কথাটা ডিফল্টভাবে লেগে যাবে (‌Append), ফলে ওভাররাইট হওয়ার সুযোগ নাই। এখানে নিজের ইচ্ছামত যেকোনো কিছুই দেয়া যায়। ব্যাস কাজ শেষ। Resize বাটনে চাপ দিলেই কেল্লা ফতে।

একইভাবে রোটেট সিলেক্ট করলে নিচের মত অপশন আসবে:



আমি একটু দুষ্টামি করে ৪৫ ডিগ্রি দিলাম। আউটপুট দেখেন নিচে:



কিভাবে এই কেরামতি মার্কা মেরামতি আপনার ডান ক্লিকে আনা যায় জানতে কৌতুহল হচ্ছে নাকি? তবে নিচের ছবি দেখুন সব ফকফকা লাগবে:



উবুন্টুর সফটওয়্যার কয়েকভাবে ইনস্টল করা যায়। আমি সহজতমটা দেখাচ্ছি। মেনু থেকে উবুন্টু সফটওয়্যার সেন্টারে ক্লিক করলে যেই উইন্ডো খোলে সেটার সার্চ বক্সে লিখুন nautilus-image আর লেখার আগেই আপনাকে শর্টলিস্ট করে এরকম তিনটা নাম দেখাবে। সেখান থেকে nautilus-image-converter টার ডানদিকের ইনস্টল বোতামে চাপ দিন। আমি ইতিমধ্যেই ইনস্টল করে ফেলেছি দেখে ইনস্টল বোতামের বদলে রিমুভ বোতাম দেখাচ্ছে। সাইজ ৩-৪শ কিলোবাইট বলে মনে পড়ছে।

একই কাজ সিনাপ্টিক থেকেও করা যায়।

হ্যাপি বুন্টু মিন্টিং।

টিপসটার জন্য উবুন্টু মেইলিং লিস্টে সগীর ভাইয়ের প্রশ্নের জবাবে রিং ভাইয়ের উত্তরে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।