বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১১

GIMP দিয়ে সহজে এনিমেশন বানানো

আমি হাতুড়ে গিম্প ব্যবহারকারী। গিম্প একটা ওপেনসোর্স ও ফ্রী সফটওয়্যার যেটা দামী ফটোশপের বিকল্প হিসেবে ব্যাক্তিপর্যায়ে ব্যবহার করা যায়। আরও মজার ব্যাপার হল গিম্প লিনাক্সের বেশিরভাগ জনপ্রিয় ডিস্ট্রিবিউশনের সাথেই দেয়া থাকে, এমনকি লাইভ সিডি থেকেই চালানো যায়। এছাড়া উইন্ডোজ আর ম্যাকেও গিম্প চলে। আমি যেহেতু এনিমেশন বা গ্রাফিক্সের কাজ করে লাখ লাখ টাকা কামাই না, শুধু শখের বশে এটা ওটা করি তাই অত টাকা খরচ করে ফটোশপ কেনার প্রয়োজন দেখি না। আমার যেই কাজ সেটার জন্য গিম্পই যথেষ্টর চেয়েও বেশি।
সাধারণত সহজ সরল এনিমেশন বানানোর জন্য গিম্পের উপরই ভরসা করি এখনো। প্রথমে সহজ সরল বলতে কী বুঝাচ্ছি সেটা দেখেন একটু:

এটা ৭৫x৭৫ পিক্সেলে করা একটা ইমেজ। এটাতে তিনটা ছবি ১ সেকেন্ড পরপর দেখাচ্ছে। এ ধরণের এনিমেশন (এটাকে যদি এনিমেশন বলার দূঃসাহস দেখাই) বানানো যায় গিম্প দিয়েই।
এটা করা অসম্ভব সোজা। গিম্পর লেআউটও ফটোশপের মতই। এজন্য শুধু আলাদা আলাদা লেয়ারে বিভিন্ন ছবি জিনিষ রেখে সেটাকে সেভ এ্যাজ করে gif ইমেজ হিসেবে সেভ করতে হয়। তারপর সেভ করার সময় এনিমেশন অপশনটা সিলেক্ট করতে হয়। উপরের ইমেজটাও gif ইমেজ যেটাতে তিন লেয়ারে তিনটা ছবি/টেক্সট দেয়া হয়েছে।

এই ছবিটা বানানোর জন্য অবশ্য শুরুতে একটা নতুন ব্ল্যাংক ফাইল খুলেছিলাম। File –-> New থেকে। আপনারা এভাবেও করতে পারেন কিংবা একটা ছবিকেও গিম্প দিয়ে খুলে তার উপর কাজ করতে পারেন। নতুন ফাইল খুললে এমন একটা উইন্ডো আসে যেখানে আপনার পছন্দ বা পরিকল্পনা অনুযায়ী সাইজ, রেজুলুশন, ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিক করে দিতে পারবেন।

এরপর সুবিধামত লেয়ারগুলোতে ছবি রাখুন। আমার কাজের স্ক্রিনশট এরকম: ওহহো পুরা স্ক্রিনশট নিলে অনেক বড় ছবি হবে তাই দরকারী শুধু লেয়ার প্যানেলটা দেখালাম। এই প্যানেলের নিচে যেই আইকনগুলো দেখছেন সেগুলোর দিয়ে নতুন লেয়ার যোগ করা, ডুপ্লিকেট লেয়ার বানানো, লেয়ার মুছে ফেলা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ করা যায়। ওগুলোর উপরে মাউস নিয়ে গেলেই টুলটিপে সাহায্য দেখাবে। এই একই কাজগুলো মেনু থেকেও করা যায়, সম্ভবত শর্টকাট কী-ও আছে।


সব লেয়ার রেডি হলে এরপরের কাজ হল File মেনু থেকে Save as সিলেক্ট করা। কিংবা শর্টকাট কী Shift+Ctrl+S। এতে যে উইন্ডো খুলবে সেটাতে কোথায় সেভ করবেন সেটা দেখায় দেয়া ছাড়াও gif হিসেবে সেভ করার জন্য দেখিয়ে দিতে হবে। এজন্য নিচের বামদিকে: Select File Type (By Extension) লেখাটায় ক্লিক করলেই নিচে বিভিন্ন অপশন পাবেন। সেখান থেকে GIF Imageটা সিলেক্ট করতে হবে। তারপর নিচের Save এ ক্লিক করতে হবে।
এতে নিচের ছবির মত একটা অপশন আসবে। এতে আপনাকে Save as Animation সিলেক্ট করে দিতে হবে। (ডিফল্ট হিসেবে অন্যটা থাকে) … বুঝতেই পারছেন এটা না করলে এনিমেট না করে সব লেয়ার মার্জ বা ফ্ল্যাটেন কর দেবে। অপর অপশনটা ঠিক আছে কি না চেক করে Export এ ক্লিক করুন।

এটা করলে গিম্প আপনাকে এনিমেশনের বৈশিষ্ট ঠিক করার জন্য GIF Options নামে নিচের ছবির মত আরেকটা উইন্ডো দেখাবে।

এখানে আপনাকে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী অপশন সিলেক্ট করতে হবে। তারপর Save দিতে হবে।
  • উপরে আমি Loop forever এ চেক দিয়েছি – এতে অ্যানিমেশনটি অনবরত চলতে থাকবে। এটা না দিলে একবার দেখিয়েই থেমে যেত।
  • Delay ১০০০ মিলিসেকেন্ড (=১ সেকেন্ড) দিয়েছি। এতে প্রতিটা লেয়ারের ছবি ১ সেকেন্ড করে দেখাবে। (অর্থাৎ আমার তিনটি লেয়ার মোট ৩ সেকেন্ডে দেখাবে)
  • One frame per layer (replace) দিয়েছি। এতে প্রতিটা ছবি আলাদা আলাদা ভাবে দেখাবে। অন্য অপশনটায় একটার উপরে আরেকটা একসাথে দেখাতো।
ব্যাস হয়ে গেল এনিমেশন করা ইমেজ।

এখানে আরেকটা উদাহরণ যোগ করলাম। এখানে দুইটা লেয়ার এবং মাঝখানে ২ সেকেন্ড গ্যাপ দেয়া হয়েছে (=২০০০ মিলিসেকেন্ড), অনন্ত লুপ হিসেবে রাখা হয়েছে।

এটাতে দুইটা ছবি। ৫০০ মিলিসেকেন্ড বিরতি।

উইন্ডোজের জন্য গিম্প ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে (১৯.৪ মেগাবাইট): http://gimp-win.sourceforge.net/stable.html


রংপুরে পেঙ্গুইন মেলা – ২২ শে এপ্রিল ২০১১

দেশকে সফটওয়্যার পাইরেসীর কলংক থেকে মুক্তি দিতে ও গ্লানি মুক্ত করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে দামী সফটওয়্যার চুরির মনোবাসনা পরিত্যাগ করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সকল ছাত্র-জনতার পক্ষে দামী সফটওয়্যার ক্রয় করে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। তাই এর বিকল্প হল ওপেন সোর্স এবং ফ্রী সফটওয়্যারগুলো। উন্মুক্ত বা ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের সুবিধা হল এর উৎসের কোডগুলো সকলে দেখতে পারে, ফলে লুকিয়ে কোন ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম এতে দেয়া আছে কি না তা সহজেই বের করা যায়, যা নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া সোর্সকোড উন্মুক্ত বলে আগ্রহী শিক্ষার্থীগণও এ থেকে উপকৃত হতে পারে। উন্মুক্ত সফটওয়্যার বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে যে কেউ মানোন্নয়ন করতে পারেন আর এজন্য এগুলো খুব দ্রুত উন্নত আর ব্যবহারবান্ধব হয়ে ওঠে। দেশকে পাইরেসীর গ্লানি ও কলংক মুক্ত করার একটা ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবে FOSS Bangladesh দেশে মুক্ত সফটওয়্যার প্রসারে স্বেচ্ছাসেবা দেয়ার জন্য একটা প্লাটফরম।
এই সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্য নিয়মিত ভাবে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। খুলনা, রাজশাহী, ঢাকা, টাঙ্গাইলের পরে এবার এরই ধারাবাহিকতায় রংপুরে আয়োজন করা হয়েছে পেঙ্গুইন মেলা। এর বিস্তারিত:

বিস্তারিত

অনুষ্ঠানের শিরোনামঃ

“পেঙ্গুইন মেলা – ২০১১” রংপুর বিভাগ

তারিখঃ

২২ শে এপ্রিল ২০১১, রোজ শুক্রবার।
বিকাল ৩:৩০মিনিট থেকে সন্ধ্যে ৬:৩০ মিনিট

স্থান:

হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন-২

আয়োজকঃ

ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ

সহযোগীতায়ঃ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর, রংপুর

অনুষ্ঠানসূচীঃ (মোট ৩ ঘন্টা)

  • লিনাক্স পরিচিতি, ইনস্টলেশন ও ব্যবহার
    (বিকাল ৩:৩০মিনিট থেকে সন্ধ্যে ৫:০০ মিনিট)
    • লিনাক্স পরিচিতি                                    — ৩০ মিনিট
    • লিনাক্স মিন্ট পরিচিতি                             – ৩০ মিনিট
    • লিনাক্স মিন্ট ইন্সটল ও কনফিগার করা      — ৩০ মিনিট
  • চা-বিরতি                                                     – ৩০ মিনিট
  • সমস্যা সমাধান
    (বিকাল ৫:৩০মিনিট থেকে সন্ধ্যে ৬:৩০ মিনিট)
    • প্রশ্নোত্তর ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান          — ৩০ মিনিট
    • দর্শকের অংশগ্রহনে আলোচনা                  — ৩০ মিনিট

ডিভিডি সংগ্রহ

অনুষ্ঠানস্থল থেকে স্বল্পমূল্যে ওপেনসোর্সড থ্রি-ডি গেমসহ লিনাক্স মিন্ট ১০ জুলিয়া’র সংকলিত ডিভিডি সংগ্রহ করা যাবে।

রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১১

ছবির উজ্জ্বলতা ঠিক করার জন্য GIMP এর একটি কৌশল

অনেক সময় ছবি তুললে দেখা যায় ছবি অন্ধকার। মনটা খারাপ হয়ে যায়। এই রকম ছবি সহজেই উজ্জ্বল করা যায় ফ্রী সফটওয়্যার GIMP এর সাহায্যে। আমি নিজে হাতুড়ে GIMP ব্যবহারকারী, তাই এর চেয়েও ভাল কৌশল থাকতে পারে যা আমি হাতড়িয়ে পাইনি। এই কৌশল ব্যবহার করে ছবি ঠিক করে ফেসবুক বা অন্যখানে শেয়ার করি প্রায়ই। উদাহরণ দেখুন প্রথমে:
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiYdVnBH1BUFhauJpyxIXMdTz79x72kRwr8pmuVoLeLL8oN5dscV5lAmq6Vf_RaMeh5tJxCl0GbyQRpm_yqx7PbC0kbV4521uLSIvg_5_BR9NgjqdBfYv0sxYgz6BKxkWt-wyfQ6XnXtAX-/s800/sample-1.jpg
বামদিকের ছবিটা হল একটা টেবিলকে খাড়া করে রেখে তার উপরে একটা দেয়ালিকা সাঁটিয়ে দেয়া হয়েছে। ডানদিকে শুধু দেয়ালিকাটাকে সিলেক্ট করে গিম্প দিয়ে উজ্জ্বলতা বাড়ানো হয়েছে। এমন আরেকটি উদাহরণ দেখুন নিচে: এই ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ অংশ নয় বরং পুরা ছবিটাতে একই টেকনিক ব্যবহার করা হয়েছে।
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEi3ASKmyJ0nfmTYmaNJtpeR2a14gHYyoP7niCE2vf6qJh-FEbUz7FnaX60KEkfBgH6bhA_CjdBGgdnJtOW8vFQGzREmXWT7a5nxU5MiWdBOkzP2hfyTIQQDkjaNgzZ4oVKxAEt8UEo41vT0/s800/sample-2.jpg
এবার দেখুন কিভাবে করতে হয়। যদি ছবির কিছু অংশে এই কাজ করতে চান তবে বামদিকের টুলবার থেকে চারকোনা, গোলাকার বা ইচ্ছামাফিক সিলেকশনের টুল নিয়ে দরকারী এলাকা সিলেক্ট করে নিন (নিচের ছবিতে চারকোনা টুল দিয়ে সিলেক্ট করা হয়েছে)। যদি নির্বাচিত এলাকা আর বাইরের অংশে হঠাৎ করে পরিবর্তন না দেখাতে চান তবে এই সিলেকশনের সাথে Feather অপশনটাও টিক দিয়ে ব্যবহার করতে হবে। পুরা ছবির জন্য কোনো কিছু সিলেক্ট করার প্রয়োজন নাই। তবে আমার পরামর্শ হল ছবিটার একটা কপির উপর কাজ করুন, কারণ ছবি পরিবর্তন হয়ে গেলে আগের অবস্থায় ফেরত যেতে পারবো কি না সেই টেনশন থাকবে না তাহলে। আর আগের অবস্থার সাথে পরিবর্তনের তুলনাও করতে পারবেন সহজে।
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgM-NsJELt72-8khskqfTODTtuiN624ZNne88gbdcmZcIIRt5hD0ZgzbGAGvdcD6tOJMvOabviiVDjjBRcLhWTtO52MeJ8OtRy6gqZXHglJYBhzVosRTMJrp86aq-hAgHNiq3RjkAfbr-G7/s800/steps.jpg
  • প্রথমে মেনু থেকে: Colors –-> Curves  সিলেক্ট করুন।
    এতে পরের অংশটার মত একটা উইন্ডো আসবে। যার কর্ন বরাবর একটা সরল রেখা। এই রেখাটাকে ইচ্ছামত টানা হেঁচড়া করুন, সাথে সাথে ছবির পরিবর্তন দেখতে পাবেন। আপনার পছন্দমত পরিবর্তন হলে OK  দিয়ে বের হয়ে আসুন।
    আমি সাধারণত রেখাটাকে ডানদিকের ছবির মত একটু সরিয়ে দেই, গ্রাফের যেই অংশে কিছু নাই ঐ অংশটুকু থেকে রেখাটার প্রান্তকে ভেতরের দিকে সরিয়ে দেই। তারপর রেখাটার মাঝামাঝি এক জায়গায় ধরে একটু উপরের দিকে ধনুকের মত বাঁকিয়ে দেই। অন্যভাবেও টেনে দেখতে পারেন।
  • এবার ফাইল মেনু থেকে save করুন।
তো ... উপভোগ করুন GIMP ও ছবি নিয়ে গুতাগুতি।
(GIMP ফটোশপের মত কাজ করার জন্য একটা ওপেনসোর্স সফটওয়্যার যা উইন্ডোজ, লিনাক্স এবং ম্যাকে ব্যবহার করা যায়।)
এই পোস্টে দেয়ার জন্য ছবিগুলো খুবই সহজে তৈরী করেছি Inkscape দিয়ে – এটা অনেকটা কোরেলের মত একটা দারুন ওপেনসোর্স সফটওয়্যার।

সংযুক্তি: আরেকটি ছবি যোগ করলাম। এতে প্রতিটি মুখমন্ডল আলাদাভাবে গোলাকার সিলেকশন টুল দিয়ে সিলেক্ট করে একই কাজ করা হয়েছে।  smile
https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEiSGVOLtunDK9tnlygEXryzAim9Rl34UwN2hzDj_NjsOoUSw4sI5SiDA_WiXCLWWM88BOnOdGRPStDzyWwfpok53lAEFVUpKiPwmFcpvXE0bhqYky2WyNB71YDwVwC4IRAcfJ6RteJrlRHO/s800/sample-3.jpg


একইসাথে টেকটিউনস ও প্রজন্মফোরামে প্রকাশিত।

বুধবার, ৩০ মার্চ, ২০১১

এই অনুষ্ঠান কি আপনার জন্য?

পাঠকের কাছে ১০টি ব্যক্তিগত প্রশ্ন:


১. আপনি কি দেশপ্রমিক? দেশে
আমাদের ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে যারা আসতে ইচ্ছুক তারা দয়া করে এখানে একটু নাম এন্ট্রি করুন।র প্রতি আপনার ভালোবাসা কি ‘মা’ কে ভালোবাসার মতো?
২. দূর্নীতিতে দেশের মান সম্মান মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে দেখে আপনি কি চিন্তিত হন? এর প্রতিকারে নিজের করণীয় সম্পর্কে ভাবেন?
৩. আপনি কি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল? সচরাচর আইন অমান্য করেন না কিংবা করতে চান না?
৪. আপনি কি কম্পিউটারে ভাইরাসের জ্বালা-যন্ত্রনায় অতিষ্ট? এ যন্ত্রনা থেকে মুক্তির পথ খুঁজছেন?
৫. আপনি কি কম্পিউটারে আপনার মূল্যবান তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত?
৬. আপনি কি হালকা পাতলা বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সামর্থ্য রাখেন এবং তা উপভোগ করেন?
৭. আপনি কি নতুন নতুন কম্পিউটার প্রোগ্রাম নিয়ে গবেষনা করতে পছন্দ করেন?
৮. আপনি কি ইন্টারনেটে বিচরন করার সময়ে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারজনিত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন?
৯. আপনি কি দামী সব সফটওয়্যারের ফ্রী/উন্মুক্ত বিকল্প খুঁজছেন?
১০. আপনি কি জনসাধারনের/সাধারন কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের সেবা করতে আগ্রহী?
প্রিয় ভাই/বোন, উপরের এই প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখে কোন ঠিকানায় গোপনে পোস্ট করতে হবে না। শুধুমাত্র যদি কোন প্রশ্নের উত্তর আপনার মন থেকেই ‘হ্যাঁ’ বোধক হয় তাহলে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আপনি নিশ্চিতভাবেই কিছুটা উপকৃত হবেন। আর তা না হলে এই প্রশ্নপত্র পড়িয়ে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

এবার তাহলে জেনে নিন অনুষ্ঠানের বিস্তারিতঃ--

তারিখ: ৮ই এপ্রিল ২০১১ইং, রোজ শুক্রবার 
সময়: বিকাল ৩টা থেকে ৭টা
স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তন
(শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত; অপরাজেয় বাংলার পেছনে কলা ভবন, তার পেছনে লেকচার থিয়েটার ভবন, ঐ ভবনটির নিচতলাতেই)
প্রবেশ মূল্য: ২০ টাকা।

অনুষ্ঠানসূচী:
  • লিনাক্স ও ওপেন সোর্স বিষয়ে মুক্ত আলোচনা। -- ২৫ মিনিট
  • পাইরেসী প্রতিরোধে লিনাক্স ও ওপেন সোর্স এর ভূমিকা -- ২৫ মিনিট
  • লিনাক্স ও ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহারের সুবিধা -- ২৫ মিনিট
  • অতিথি ও অংশগ্রহনকারীদের আপ্যায়ন পর্ব -- ৪০ মিনিট
  • অতিথি ও অংশগ্রহনকারীদের সমন্বিত আলোচনা ও মতামত বিনিময় -- ১২০ মিনিট
আরও থাকছে:
FOSS Bangladesh কর্তৃক সংকলিত/কাস্টমাইজ করা লিনাক্স মিন্ট ১০ জুলিয়া’র ডিভিডি (৫০ টাকা)। কাস্টমাইজড ডিভিডিটাতে এবারে পাসওয়ার্ড জনিত ঝামেলা দূরীভূত করা হয়েছে। তদুপরি কাস্টম ডিস্ট্রোটিতে এবারে থাকছে বেশ কিছু ওপেনসোর্স ও ফ্রী থ্রিডি গেমস যেমন এলিয়েন এরেনা, নেক্সুইজ, ব্যাটেল ফর ওয়েসনর্থ এবং অ্যাসল্টকিউব ইত্যাদি।
বাংলাদেশের সকল লিনাক্সপ্রেমী/আগ্রহীদের জন্য এটা একটা উন্মুক্ত আয়োজন। তাই সকলের অংশগ্রহন ও সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি।

আয়োজনে:
ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ (FOSS Bangladesh) - একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।


আমাদের ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে যারা আসতে ইচ্ছুক তারা দয়া করে এখানে একটু নাম এন্ট্রি করুন।

সোমবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১১

শেয়ার মার্কেট - ঘটনাটা কী?

শেয়ার মার্কেট কী জিনিষ? আমি ঠিক বুঝি না .... কেউ যদি বেসিক আইডিয়া দিতে পারতো ... .... (ডিসক্লেইমার: মরহুম অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া আমার কেউ নয়)shame মনের মধ্য প্রশ্ন ঘুরঘুর করে: একটা শেয়ারের মূল্য বাড়ে বা কমে কখন ... ... এর পেছনের বেসিক কারণ কী? thinking

আমি শেয়ার নিয়ে কিছু বুঝি কি না সেটা শেয়ার করা মুশকিল। আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছিলাম - ঐটাই ঠিকমত বুঝি না আর শেয়ার ......তবে এখন এই বিষয়ে আগ্রহী অনেক বান্দা আছেন মনে হয়। নিশ্চিতভাবেই অনেকে ভাল বুঝেন। তাই কোন সহৃদয় যদি এটা নিয়ে লিখতেন তবে একটু কৌতুহল মিটতো। এই নিয়ে আমার জানার দৌড়টা এর আগে শেয়ার করি একটু। তাহলে এই অধমকে পরামর্শ দিতে সুবিধা হবে।

সহজ সরল ভাবে দেখলে - একটা কম্পানির মূলধন দরকার ধরুন ১০ কোটি টাকা। কিন্তু মালিক/উদ্যোক্তার হাতে আছে ৬ কোটি। বাকি টাকা সে ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারে, অথবা পাবলিকের কাছ থেকে শেয়ার বিক্রি করে নিতে পারে। ধরুন ঐ ৪ কোটি টাকা ১০০ জন লোক প্রত্যেকে ৪ লাখ করে দিল। শেয়ার বিক্রি অর্থ হল এখন ১০ কোটি টাকা মূলধনের ৬ কোটি একজনের - কাজেই কম্পানির মালিকানার ৬০% মালিক সে। আর বাকী ৪০% মালিকানা শেয়ার করা হয়েছে। প্রতিজন ৪ লাখ টাকা করে দেয়াতে ঐ ১০০ জনের প্রতিজন ০.৪%  করে মালিকানা পাবে।

বছর শেষে ঐ কম্পানি ধরি ৫ কোটি টাকা মুনাফা করে, এবং এ থেকে ২ কোটি টাকা ব্যবসা সম্প্রসারনে ব্যয় / পূণর্বিনিয়োগ করলো। তাহলে বাকি ৩ কোটি টাকার মধ্যে
মালিক/উদ্যোক্তা পাবে - ১কোটি ৮০ লাখ (যেহেতু ৬০% মূলধন তার)
শেয়ার হোল্ডার প্রতিজন পাবে - ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে। (১০০ জনে = ১কোটি ২০ লাখ = ৪০% লাভ)

এখন কেউ যদি তার শেয়ার রাখতে না চায় তবে ঐ লাভ নেয়ার পর ৪ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার ৪লাখ ৮০ হাজারে বিক্রি করতে পারবে। কারণ এখন ব্যবসার মূল্য ১০+২=১২ কোটি। কাজেই ১২ কোটি * ০.৪% = ৪ লাখ ৮০ হাজার। আর লভ্যাংশ না নিয়েই বিক্রি করলে দাম পাবে ৬ লাখ।
এভাবে ৪ লাখ টাকা ১ বছরে ৬ লাখ হল। কারণ মূল ব্যবসা একই অনুপাতে লাভ করেছে।

শেয়ার মার্কেটে যখন মানুষ বিনিয়োগ করে তখন এগুলোর কোন নাম নিশানা আমি দেখিনা। তার মানে ইহা ভিন্ন কোনো জিনিষ। এখানে হু হু করে দাম কেন বাড়ে, হুট করে কমেই বা কেন? ১০ টাকার ফেসভ্যালুর শেয়ারের মূল্য যখন দেখি ৩০০ টাকা - এর অর্থ আমার বুঝামতে ঐ কোম্পানি যখন শেয়ার ছে‌ড়েছিলো তখনকার তুলনায় ব্যবসা  ৩০ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ... ... আসলেই কি তাই ঘটেছে? ঐ শেয়ারের ক্রেতা কি এই তথ্যের ভিত্তিতেই আরো প্রবৃদ্ধিজনিত লাভের আশায় শেয়ারের মালিক হয় নাকি এর পেছনে অন্য কোনো শক্ত থিওরী আছে? এ্যাত টাকা বিনিয়োগ যখন করছে তখন নাড়ি নক্ষত্র না জেনে নিশ্চয়ই করেনি ... ... সেই নাড়ি নক্ষত্র কী কী -- কোন পুরাতন কেস স্টাডি করে দেয়া যাবে কি?

আমার বুঝা ঠিক কি না জানিনা। তবে এটা ঠিক হলে বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীই হুজুগে চলে - যাদের মূলধন হল লোভ; বিনা পরিশ্রমে বড়লোক হওয়ার দিবাস্বপ্ন। আর এর সুযোগ নেয় ঘাঘু ঠকবাজরা। লোভ করে নিজের কল্লা জবাই হওয়ার রিস্ক নিয়ে পেতে দিলে সেটা কাটা পড়তেই পারে। এজন্য কার ঘাড়ে দোষ চাপাবেন? ---  মাইন্ড খাইয়েন না -- পাগলের সুখ মনে মনে -- আমি এইসব ভেবে ও থেকে দুরে থাকার বুঝ নেই মনে মনে।

==আপডেট: আরো কিছু টেক্সট যোগ করি==

বিভিন্ন চিপায় লেকচার শুনে যা জানি তা হল: একটা বস্তুর দাম বাড়ে যখন কোন ভাবে এটাতে ভ্যালু এডিশন হয়।

সবচেয়ে বেশি ভ্যালু এডিশন হয় শিল্প কারখানাতে: ১০০ টাকার লোহার টুকরাতে আরো ৪০০ টাকার মেশিন/লেবার খরচ করে সেটা ৫০০০ টাকা মূল্যের বস্তুতে পরিণত হয়। কিংবা ধরুন ৬০ টাকার তুলাতে ৩০ টাকার মেশিন / লেবার খরচ করে ১২০ টাকার সুতা তৈরী হয়। সেই সুতা থেকে কাপড় বা কাপড় থেকে তৈরী পোশাক -- সবই ওরকম।

এছাড়াও ভ্যালু এডিশন হয় বিপননে। ৫০০০ টাকার বস্তু এনে সেটার পেছনে আরো ৩০০০ টাকার চমৎকার আলোকসজ্জা, ডিসপ্লে, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি দিয়ে ১০০০০ টাকায় বিক্রয় করা হয়। কিংবা ধরুন ১২০ টাকার সুতা ১৫ টাকার পরিবহন, গোডাউন, প্যাকেজিং, ডিসপ্লে ইত্যাদি পার হয়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

মোদ্দা কথা হল, শিল্প কারখানায় ভ্যালু এডিশন হয় বিপননের চেয়ে অনেক বেশি। সেজন্য বিনিয়োগ করতে হলে ঐ খাতে করাই বেশি বুদ্ধিমানের লক্ষণ। কিন্তু আমাদের এখানে শিল্প কারখানা বাদ দিয়ে কয়েকশ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে যমুনা ফিউচার পার্ক টাইপের বিপনন কেন্দ্র বানানো দেখে একজন দুঃখ করে এসব বলেছিলেন আমাকে।

আমার প্রশ্ন হল, এসেট ভ্যালুর সাথে শেয়ারের মূল্য যদি সংগতিপূর্ণ না হয় তবে এর ভ্যালু এডিশন হচ্ছে কিসের ভিত্তিতে? যতদুর বুঝি তাতে - সত্যিকার অর্থে যদি এর ভ্যালু এডিশন না হয়, তাহলে সেটা তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য।

কিছুদিন আগে বিশ্বমন্দা এ ধরণের কিছু শেয়ার কেলেংকারির জন্যই হয়েছিলো। তখন যা ঘটেছিলো তা মেকানিজম ছিল অনেকটা এমন:
একজন ১০০ টাকা মূলধনে ব্যবসা করে ৩০ টাকা লাভ করলো - ফলে শেয়ারের মূল্য বাড়লো ৩০%। আরেকজন নিজের ৫০ টাকা মূলধনের সাথে আরো ৫০ টাকা লোন নিয়ে ১০০ টাকার মূলধন বানিয়ে সেটা দিয়ে ব্যবসা করে সে-ও ৩০ টাকা লাভ করলো। কিন্তু হিসাবে দেখালো - আমার ৫০ টাকা মূলধন কিন্তু লাভ ৩০ টাকা .... অর্থাৎ শেয়ারের মূল্য ৬০% বৃদ্ধি পেল - যেটা আসলে ঠিক নয় (কারণ তারও ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি আসলে ৩০%)। ব্যবসার জন্য লোনগুলোতে অনেক জায়গাতেই প্রথম কয়েক বছর সুদ দেয়া লাগে না - তাই এর সুযোগ নিয়েছিল কেউ কেউ। ফলে কী হল? যে শেয়ারের আসল ভ্যালু এডিশন ৩০% সেটা ম্যানিপুলেট করে ৬০% এ কেনা বেচা হচ্ছে --- --- এভাবে কতদিন আর ধামাচাপা দেয়া যায়? এক সময় না এক সময় আসল থলের বেড়াল বের হয়ে পড়ে, আর এর আগেই আসল খেলোয়ারগণ নিজের শেয়ারগুলো বিক্রয় করে দেয়।


ফলে সাধারণ বিনিয়োককারীর অবস্থা হয় কৃষিকাজ বাদ দিয়ে বেশি দামে বানর কিনে বসে থাকা মানুষের সেই গল্পের মত। আসল জায়গায় ভ্যালু এডিশন না হয়ে যদি দাম বাড়ে তাহলে সেই অতিরিক্ত টাকা কারো না কারো পকেট থেকেই যাবে।