মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৯

কম্পিউটার গেম: সিমসিটির লিনাক্স ভার্সান

অত্যন্ত প্রিয় একটা গেম ছিল SimCity। লিনাক্সে একটা আছে নাম LinCity। বছর দেড়েক আগে আমার বাসার সেলেরন ডেস্কটপ/হার্ডিতে খেলেছিলাম। তখন তেমন একটা ভালো লাগেনি ... কারণ কিছুদুর পর আর ডেভেলপমেন্টের রাস্তা খুঁজে পেতাম না ... সেতু বানানো যেতো না .. ইত্যাদি (মূল সিমসিটি খেললে এটা একটু পানসে লাগবেই)।

আজ এই পোস্ট দেখে ভাবলাম সিমসিটির বিকল্প কিছু নাই নাকি ... .... তারপর লিনসিটির পেইজে গিয়ে দেখি নতুন ভার্সানটার স্ক্রিনশট। এটাতো জোস্ মনে হচ্ছে .. ... কিন্তু ডাউনলোড করে খেলার সময় কি আদৌ পাবো   :-(  

এই গেমটা সাইনাপ্টিক থেকেই ইনস্টল করা যায়। :)
উইন্ডোজের জন্যও ডাউনলোড করা যায়।



এছাড়া সিমসিটির কোডকে মূল কোম্পানি OLPC (ওয়ান ল্যাপটপ পার চাইল্ড) প্রোজেক্টের জন্য ওপেনসোর্স করে দিয়েছিলো। নতুন এই ওপেনসোর্স গেমটার নাম হলো মাইক্রোপলিস। এটা খুব তাড়াতাড়িই জোস্ হয়ে উঠবে মনে হচ্ছে ... ... খেলতে মন চায় কিন্তু সময় পাই না  :-(  :-(
ডাউনলোড পেজ

সিমসিটি ৩০০০ আনলিমিটেড ভার্সানটা লিনাক্সের জন্যও ছেড়েছে বলে দেখলাম ওদের ওয়েবপেজে। ৫০ ডলারের মত দাম পড়বে। এইটা চাইলেও কি দেশ থেকে কেনার কোনো উপায় আছে?





(আমাদের প্রযুক্তি ফোরামে প্রকাশিত)

শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০০৯

হলিউড ব্লকবাস্টার সিনেমা তৈরীতে লিনাক্স ব্যবহৃত হয়!

এটা একটা অনুবাদ। মূল রচনা এখানে: http://news.softpedia.com/news/Hollywoo … 5571.shtml

হলিউডের Disney/Pixar, DreamWorks Animation, Sony, ILM এবং অন্য সিনেমা তৈরীকারক স্টুডিও তাদের সিনেমা তৈরীর জন্য লিনাক্স ব্যবহার করছে।  বেশিরভাগ লোকই এই কথাটা না জানলেও বাস্তবে যেই ব্লকবাস্টার ছবিগুলো হলে চলছে সেগুলো সবই লিনাক্স ব্যবহার করে তৈরী করা হয়েছে। হলিউডে উইন্ডোজ বা ম্যাকিনটোশের মত অন্য অপারেটিং সিস্টেমের বদলে লিনাক্স ব্যবহৃত হওয়ার কারণটা খুব সাধারণ: এটা ভালতর, দ্রুতগতির এবং সস্তা।

হলিউডে লিনাক্সকেই আধুনিকতম সিস্টেম ধরা হয়, এবং সোনি, ডিজনি/পিক্সারের মত বড় বাজেটের সিনেমা তৈরীকারক স্টুডিওগুলোর ৯৫%এর ডেস্কটপ এবং সার্ভারে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং এনিমেশন তৈরীর জন্য লিনাক্সভিত্তিক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হয়। হ্যাঁ .. হ্যাঁ .. আমি জানি যে আপনাদের অনেকেই বলে উঠবেন - "এটা সত্য নয়", "এটা ঠিক হতে পারে না" কিংবা, "আমি শুনেছিলাম যে ওরা ম্যাক ও.এস. এক্স ব্যবহার করে"; কিন্তু আসলে আমার কথাই সত্য এবং আপনি যেসব CGI-ব্লকবাস্টার সিনেমা দেখেন লিনাক্স দিয়েই ওগুলোর রেন্ডারিং করা হয়, কারণ এটা অন্য অপারেটিং সিস্টেমর চেয়ে তাড়াতাড়ি হয়। (CGI = Computer-Generated Imagery)

উদাহরণ হিসেবে Scooby Doo সিনেমার কথা বলা যায়; এটা Rhythm and Hues স্টুডিওতে তৈরী হয়েছে এবং পুরা সিনেমাটা রেন্ডার এবং উন্নত করা হয়েছে একটা বিশেষ কাস্টম-মেড সফটওয়্যার দ্বারা যা লিনাক্স সিস্টেমে চলে। এছাড়া The Matrix, Titanic, Gladiator, Superman Returns, What Dreams May Come, Cats and Dogs, Shrek, The Perfect Storm, Prince of Egypt, The Road to El Dorado, Antz, Chicken Run, Deep Blue Sea, Star Trek: Insurrection, Fantasia 2000, Men in Black, Hollow Man এবং আরো আরো অনেক সিনেমা লিনাক্স সফটওয়্যার (যেমন: RAYZ, Maya or Shake) ব্যবহার করে তৈরী হয়েছে। আবার ভেবে বসবেন না যে, এই সিনেমাগুলো তৈরীতে ব্যবহৃত সবগুলো সফটওয়্যার বিনামূল্যে পাওয়া গেছে; বরং সবগুলোর দামই ৮০০০ - ১৫০০০ ডলার বা এর চেয়ে বেশি; হলিউডে এটা ব্যাপার না।

আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে খুবই জনপ্রিয় Shrek যেটা DreamWorks Studios-এ তৈরী হয়েছে; এটা রেন্ডার করতে ১০০০+ প্রসেসর, ৮০% লিনাক্স ও ২০% IRIX ব্যবহৃত হয়েছে। DreamWorks যেই যেই রেন্ডার টাওয়ার তৈরী করেছিলো তাতে ডুয়াল ১গিগাহার্জ পি৩ ২গিগা ড়্যাম যা বসানো হয়েছিলো একটা 1RU প্যাকেজে ৪১ ইউনিট উচ্চতায়, যা ৪০-৫০ ফুট লম্বা ডেটাসেন্টার ড়্যাক লাগে এমন কম্পিউটারের সমান ক্ষমতাসম্পন্ন। DreamWorks তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব তৈরী সফটওয়্যার যেমন ব্যবহার করেছে, তেমনি বাণিজ্যিকভাবে প্রাপ্ত সফটওয়্যারও ব্যবহার করেছে। তাদের নিজস্ব তৈরী সফটওয়্যারগুলো SGI IRIX অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরী; আর এটা থেকে তৈরী অ্যাপ্লিকেশনগুলোর উইন্ডোজ বা ম্যাকের চেয়ে লিনাক্সের সাথে সাদৃশ্য বেশি।
http://news.softpedia.com/images/news2/Hollywood-Loves-Linux-3.png
উপরের ছবিতে DreamWorks স্টুডিওর লিনাক্স রেন্ডার টাওয়ার দেখা যাচ্ছে।

সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০০৯

হীনমন্যতার জুজুবুড়ি

(সচলায়তনে প্রকাশিত)

অস্ট্রেলিয়ার সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট ম্যাচ চলছে। মাত্র দুই/তিনদিন আগে একজন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বললেন যে বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট না খেলাই ভালো। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টে দারুন লড়ছে ... বলা যায় না হয়তো হার এড়াতে লড়তে হবে অস্ট্রেলিয়াকেই ...। অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড হল ক্রিকেটে সবচেয়ে প্রফেশনাল এবং হারামি দল, সাথে সাউথ আফ্রিকাকেও যোগ করা যায়। কোনো দেশ ওদের সাথে খেলতে যাওয়ার আগেই মিডিয়াতে বিভিন্ন অকথা, কুকথা বলে আলোড়ন তোলা হয় ... অমুক প্লেয়ারকে ঠেকানোর কৌশল আবিষ্কার করেছি, ওরা তো খেলাই পারেনা ইত্যাদি। এছাড়া বোলিং এ্যাকশন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উঠতি ভালো বোলারদেরকে হেনস্থা করতে এদের জুড়ি মেলা ভার ... ...।

ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটে নোংরা কথা বলা কিন্তু প্রফেশনালিজম। স্লেজিং-ও এরকম একটা টেকনিক। ওগুলো বলে তাদের নিজেদের সরাসরি কোনো লাভ না হলেও প্রতিপক্ষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ ওদের উদ্দেশ্য থাকে প্রতিপক্ষের মনে একটা খুঁতখুঁত বা সন্দেহ ঢুকিয়ে দিয়ে মানসিকভাবে একটু দূর্বল করে দেয়া যেন খেলার সময় ওরা ওদের স্বাভাবিক নৈপূন্য দেখাতে না পারে। এই ধরণের মনের খেলা মোকাবেলা করার জন্য আবার প্রতি দলেই সাইকোথেরাপিস্ট রাখা হয়।

সোজা সাপ্টা কথায়, কাউকে কাবু করতে চাইলে সেটা মনকে কাবু করা দিয়ে শুরু করতে হয়। খেয়াল করে দেখুন: ধার্মীক লোকজনের সামনে আমরা মাথা নিচু করে কথা বলি, দ্বীনের দাওয়াত দিতে আসলে অনিচ্ছা থাকলেও তাদের মুখের উপর না বলতে পারি না ... মাথা নিচু করে পালানোর চেষ্টায় থাকি। কারণ ছোটবেলা থেকেই কৌশলে মনে মধ্যে গেঁথে দেয়া হয়েছে যে ধর্মের রীতিনীতিগুলো পালন করা ভালো, না করা খারাপ/পাপ ... কাজেই পাপবোধটা মনকে হীনমন্য করে তোলে। আর এই হীনমন্যতার সুযোগ নিয়ে কত অযোগ্য বদমাইশ লোক আমাদের উপর কর্তৃত্ব করে বা করার চেষ্টায় রত থাকে।

এই ব্যাপারটা শোষক শ্রেণীর লোকজন সবচেয়ে ভালো বুঝে এবং নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে। তাই শোষিতদেরকে ভালো শিক্ষা/সংস্কৃতি চর্চা থেকে বিরত রাখতে তাদের চেষ্টার ত্রুটি হয় না ... কারণ শিক্ষা আর সংস্কৃতির চর্চা মানুষের মনকে উৎফুল্ল করে, তাদেরকে একতাবদ্ধ করে, তাঁদের নিজেদের সম্পর্কে গর্ব করতে শেখায়। মানসিকভাবে উঁচু থাকলে তাঁর উপরে সহজে অন্যায় চাপিয়ে দেয়া যায় না, শোষন করা কষ্টকর হয়ে যায়। এজন্যই দেখা যায় সৎ অফিসার চোখ না নামিয়ে উঁচুপদের ঘুষখোর অফিসারের সাথে কথা বলতে পারেন, আর উপরের লেভেলে থাকা অসৎ বা হীনমন্যতায় ভোগা লোকটি সেটার মুখোমুখি হতে পারে না বলে বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নেয়ার চেষ্টায় রত থাকে। আবার আগের সময়ে দেখা যেত, শোষক জমিদার প্রজাদের লেখাপড়া শেখার সুযোগ তৈরী করতে বড়ই অনাগ্রহী, বরং তাঁদেরকে অশিক্ষিত এবং আত্মমর্যাদাহীন করতে খুবই আগ্রহী। কোনো সৎ লোককে কাবু করতে চাইলে তাঁর উপর বিভিন্ন রকম অপবাদ চাপিয়ে দিয়ে তাকে হীনমন্যতায় ফেলার চেষ্টা করা হয়। একজনকে কাবু করার মত কোনো কিছু না পেলে তাঁর আশেপাশের আপনজনকে অপমান করার চেষ্টায় থাকে .... তোর ভাই তো আলকাতরার মত কালো, তোর অমুক তো আগে ডাকাত ছিলো ... ইত্যাদি অপবাদ দিয়ে হীনমন্যতা ঢুকানোর প্রানান্ত চেষ্টা চলতে থাকে। আবার এ-ও দেখা যায় অভাব অনটনের অমানুষিক কষ্ট হাসিমুখে সহ্য করলেও অপমান সহ্য করতে না পেরে অনেকে জীবন বিসর্জন দেয়।

হীনমন্য লোকগুলো শুভ্র সত্যবাহীদের সামনে চোখ তুলে তাকাতে পারে না, তাই পেছন থেকে কামড়ানোর জন্য কুটচাল চালতে থাকে। একই গোত্রের হীনমন্য আরো কাউকে পেলে আঁকড়ে ধরে দলে ভারী হওয়ার চেষ্টায় থাকে; নিজেরা নিজেদেরকে শান্তনা দেয়ার চেষ্টা করে ... ঠিক যেন অন্ধকারে ভয় পেলে যেমন আমরা ভয় তাড়ানোর জন্য অদরকারী কথাবার্তাও খুব জোরে জোরে বলি; অথবা, নার্ভাস হলে অতিরিক্ত হাসি বা ফুর্তি দেখানোর চেষ্টা করি; কিংবা, কাকের মত খড়ের গাঁদায় মাথা ঢুকিয়ে ভাবি আমাকে কেউ দেখছে না ... ... ... কিন্তু ভয়ের জড়তা কি আর কাটে!

কাজেই হীনমন্যতার ব্যাপারটি মোটেও অগ্রাহ্য করার নয়। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় কারণ এটা মানুষকে ভীষনভাবে আক্রান্ত করে - তাই যেন কোনোভাবেই নিজের অজান্তে হীনমন্যতায় ভুগতে হয় এমন পরিস্থিতির শিকার না হই সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ের কারণে মনের গভীরে এই ক্ষতিকর হীনমন্যতা জটা পাকিয়ে আছে। চেষ্টা করি সেগুলোকে মূলসহ উপড়ে ফেলে সামনের দিকে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যেতে। এইরকম একটা সুযোগ পেয়েছি ওপেনসোর্স সফটওয়্যারের কল্যানে; পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহারে মনের গভীরে একটা গ্লানি ও হীনমন্যতা কাজ করতো ... এইটা থেকে বের হওয়ার উপায় পাওয়া মাত্র তাই লুফে নেই ... হাসি মুখে সংশ্লিষ্ট কিছু অসুবিধা মেনে নিয়েও।

চমৎকার বিকল্প থাকা সত্বেও আমরা কি জেনেশুনে পাইরেসী করেই যাবো (এবং মাথা নিচু করে চলবো) নাকি মুক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করবো - এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারটা নিজেকেই নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০০৯

ফ্রী ক্যাড প্রোগ্রাম

কম্পিউটার ব্যবহার করছেন কিন্তু অটোক্যাডের নাম শোনেননি এমন পাঠক হয়তো পাওয়া যাবে না। অটোডেস্ক কোম্পানির এই সফটওয়্যারটি পুরকৌশলে ক্যাড (কম্পিউটার এইডেড ড্রইং) কাজের জন্য অলিখিত স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন কাজে অটোক্যাড প্রোগ্রামটি এদেশেও বহুল ব্যবহৃত হয়; এমনকি কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের ডিপ্লোমা পাঠ্যক্রমেও এই সফটওয়্যার ব্যবহারের কোর্স আছে (অনেক আগে একবার সেই কোর্স পড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলাম!)।
অটোক্যাড শেখার জন্য বাজারে দারুন সব বই পাওয়া যায়। তবে প্রাথমিক কাজগুলো শিখে ফেললে ঐ মোটা বইগুলোর বদলে পকেট রেফারেন্স হ্যান্ডবুক বেশি কাজে লাগে। দেশে অটোডেস্ক সার্টিফায়েড ট্রেনিং সেন্টারগুলোও দারুন ব্যাবসা করছে। আমি অবশ্য সেই বই পড়ে এটা ব্যবহার করা শিখেছিলাম। তবে সত্যিকারের কাজ তেমন না থাকাতে উৎসাহটা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আমি মূলতঃ পুরকৌশলী (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার), তাই প্র্যাকটিসের জন্য যে বাসাগুলোতে থাকতাম সেগুলোর ক্যাড ড্রইং করে ফেলতাম। এছাড়া অবশ্য খুব ক্ষুদ্র পরিসরে দুই/তিনটা কাজ করেছিলাম।
সেই সময়ে বাসা বাড়ির ড্রইং করার জন্য আরো কিছু ক্যাড সফটওয়্যার ঢাকাতে পাওয়া যেত। এমন একটার নাম থ্রিডি হোম আর্কিটেক্ট। এটা খুব সহজ এবং মজার হলেও অটোক্যাডের মত স্বাধীনতা থাকতো না। তবে সুবিধা হল বিভিন্ন ক্যাড প্রোগ্রামগুলোকে একটা সাধারণ ফরম্যাটে সংরক্ষণ করে ফাইল আদান প্রদান করা যায়। তাই ঐটা দিয়ে দ্রুত একটা ড্রইং এর কাঠামো দাঁড় করিয়ে পরবর্তীতে অটোক্যাড দিয়ে সেটাকে মানুষ করা যেতে পারে।
কিন্তু পাইরেসি থেকে দুরে থাকার লক্ষ্যে বেশ কয়েকবছর যাবত আমি মোটেও অটোক্যাড ব্যবহার করিনা। বরং ঠিক অটোক্যাডের মত কিছু ফ্রীওয়্যার ব্যবহার করি। এই লেখায় আপনাদেরকে সেই ক্যাড সফটওয়্যারগুলো সম্পর্কে যৎসামান্য জানি তা বলার চেষ্টা করবো।

যখন ল্যাপটপে উইন্ডোজ ব্যবহার করতাম তখন ক্যাডের জন্য ব্যবহার করতাম progeCAD নামে একটা প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামটির নিজস্ব ইন্টারফেস ছাড়াও হুবহু অটোক্যাড ইন্টারফেস আছে যেটা ইনস্টলের সময়ই নির্ধারণ করে দেয়া যায়; এমনকি অটোক্যাডের সমস্ত কমান্ডও এখানে হুবহু একই কাজ করে। ProgeCAD-এর এই ফ্রীওয়্যারটির ক্ষমতা সীমিত -- যা 2D টু-ডাইমেনশনাল ড্রাইং পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। 3D, অ্যানিমেশন, রেন্ডারিং এটা দিয়ে করা যায় না .... বিদেশে উচ্চতর লেখাপড়া করার সময় আমার টুকটাক ড্রাইং-এর জন্য এটাই যথেষ্ট ভালো সাপোর্ট দিয়েছিল। কিছুদিন আগেই এটার নতুন ভার্সান বাজারে ছাড়লো। যথারীতি 2D ক্ষমতার ফ্রী ভার্সানটিও আছে। উচ্চতর কাজের জন্য এটার প্রোফেশনাল ভার্সানগুলো যথেষ্ট দাম দিয়েই কিনতে হবে, তবে সেগুলো অটোক্যাডের চেয়ে সস্তা। এটার কোনো লিনাক্স ভার্সান নাই, তাই লিনাক্সে এটা ব্যবহার করি না। এই সফটওয়্যার দিয়ে আঁকা আমার একটা ড্রইং-এর নমুনা দেখেন; লেখাগুলো পরবর্তীতে ডকুমেন্টে পেস্ট করার পর ওপেন অফিস থেকে করা হয়েছে।

এই মাত্র দুবছর আগেও লিনাক্সে (উবুন্টুতে) ক্যাডের জন্য ভালো কিছু ছিল না। তাই ইউজার ফোরামগুলোতে এই নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হত, এমনকি ওয়াইন নামক সফটওয়্যার দিয়ে অটোক্যাড চালানোর জন্যও সাহায্য চেয়ে পোস্ট থাকতো। তখন বেশ কিছু ক্যাড সফটওয়্যারের নাম জানতে পারি। ব্রিক্সক্যাড নামক একটা সফটওয়্যারের স্ক্রীনশট দেখে বেশ পছন্দ হয়েছিল। এটার উইন্ডোজ এবং লিনাক্স ভার্সান ছিল, কিন্তু কোনটাই ফ্রী ছিল না; তাই শুধু ক্রীনশট দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিলো। এছাড়া আরো ডজনখানেক ক্যাড সফটওয়্যারের মধ্যে স্যাগক্যাড(SagCAD) এবং কিউক্যাডকে (QCAD) একটু জাতের মনে হয়েছিলো। স্যাগ ক্যাড দিয়ে কিছু আঁকা গেলেও কিউ ক্যাডের কিছুই বুঝতে পারি নাই সেই সময়ে।
কিন্তু দিন বদলেছে; উবুন্টু ৮.০৪ বা ৮.১০ থেকে QCAD প্রোগ্রামটা দিয়ে কাজ করার পদ্ধতি জেনে গেলাম (অথবা প্রোগ্রামটা উন্নত হওয়াতে সেটা করতে পারলাম)। এখন অনায়েসে অতি সহজে এটা দিয়ে প্রয়োজনীয় আঁকাআঁকির কাজ করছি। রিবনসফট কোম্পানির এই সফটওয়্যারটির লিনাক্স ভার্সান ফ্রী, উইন্ডোজেও কমিউনিটি ডেভেলপড একটা ওপেনসোর্স এবং ফ্রী ভার্সান আছে বলে ওদের ওয়েবসাইটে দেখলাম। উবুন্টু লিনাক্স থেকে এটা দিয়ে খুব তাড়াহুড়া করে আঁকা একটি নমুনা দেখুন।


এইটা এবং আরো কিছু ছবিসহ একটা পোস্ট এর আগে সচলায়তনে করতে গিয়ে কোনো কারণে হচ্ছিলোনা। প্রসববেদনা সইতে না পেরে তাই সেই পোস্টটাকে বিজ্ঞানী.কম-এ ছেড়ে দিয়েছি। ইচ্ছা করলে সেখান থেকে একটু ঘুরে আসতে পারেন। লিংক: ইটভাটার বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে
==============

পুরকৌশলে ব্যবহৃত কয়েকটি ক্যাড সফটওয়্যারের ওয়েবপেজের লিংক এবং দামের তালিকা:
অটোক্যাড - ৪৯৯৫ ডলার, রিসেলারদের কাছ থেকে কমেও (৮৫০ ডলার)পাওয়া যায়
প্রোজক্যাড (ডাউনলোড ফ্রী ভার্সান) প্রফেশনাল ৪০০ ডলার থেকে

ব্রিক্সক্যাড - ৩৮০ ডলার থেকে দাম শুরু
ZWCAD - ৪৯৫ ডলার; ১ মাসের ট্রায়াল ডাউনলোড; ফ্রী ডাউনলোড!
কিউক্যাড - লিনাক্সে ফ্রী, উইন্ডোজে ৩৭.৫ ডলার থেকে

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

নেশা জাগানিয়া সাইট: ধাঁধাঁরু

(সচলায়তনে প্রকাশিত)

এক পেগ টানলেই কারো টাল অবস্থা ... আর ৫ বোতলের পরও কেউ কেউ টনটনা থাকে। আমার এক কলিগতো বাসে করে ঢাকা আসার সময় সিগারেট না খাওয়ার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সিগারেট খাওয়াতে গন্ধে টাল হয়ে সেই লোকের পাশে গিয়ে ওয়াক্ করে দিয়ে এসেছিলো। তবে, তরল বা বায়বীয় যাই হউক, যে যাই বলুক, নেশা জিনিষটা খারাপ বলেই মনে করি।

ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে নেই আরেকটু। আমি নাকি মিচকা শয়তান ... ... হাইস্কুলে পড়ার সময় আমার কাছে সেবা প্রকাশনীর কিশোর ক্লাসিক সিরিজের বেশ ভাল একটা বইয়ের সংগ্রহ ছিল। কিন্তু ঐ বইগুলো আমি কাউকে দেখাতাম না। শুধুমাত্র পরীক্ষার আগে ওগুলো বাসার ডিসপ্লেতে রাখতাম। কোনো বন্ধুবান্ধব চাইলে উদার হাতে ধার দিতাম ... ওরা সময় নষ্ট করুক, আমি পরীক্ষার পড়া করি। যেই সাইটের কথা বলতে এই ব্লগ, নিশ্চিত ভাবেই সেটা আমার ভালই ক্ষতি করছে ... নেশা জাগিয়েছে, কাজ কাম মাথায় তুলে ফেলেছে। তবে আমিও লেজকাটা শেয়াল ... আমার লেজ কেটেছে তো কী হয়েছে ... অন্যদের লেজও কাটা পড়তে হবে .... মু হা হা হা ... আর সেজন্যই সকলের নজরে আনার জন্য রিভিউ লিখবো ঠিক করলাম। এই খবর পাইলে নিশ্চিত ভাবেই অনেকের ক্ষতি করবে, বিশেষ করে জ্বীনের বাদশা ভাইয়ের ক্ষতি করবে (আমাকে ওনার ক্ষমা না করে উপায় নাই ... কারণ ওনার হাতের নাগালের বাইরে আছি দেঁতো হাসি )। আর আমার সফল হওয়ার সম্ভাবনা ভালই ... ... কারণ নেশা জাগানিয়া হলেও ঐ সাইটটা অপ্রাপ্তবয়ষ্কদের জন্য নিষিদ্ধ টাইপের নয়।

জ্বীনের বাদশা ভাইয়ের প্রসঙ্গটা কেন আসলো সেটা বলি .... .... উনার গেসবল সিরিজটা আমার খুব প্রিয় ছিল। ওখানে মজার মজার সব ধাঁধাঁ টাইপের বিষয় থাকতো। তবে সাধারণ ফোরাম/ব্লগের এইরকম ধাঁধাঁগুলোর সমস্যা হল ... একজন আগে উত্তর দিয়ে ফেললে পরের পাঠকদের মজাটা নষ্ট হয়ে যায়। এই সমস্যা দুর করা হয়েছে ধাঁধাঁরু সাইটে: এখানে উত্তর লেখার আর মন্তব্য করার জন্য দুইটা আলাদা প্যানেল আছে (লগ-ইন আবশ্যক)। মন্তব্যগুলো সাধারণ ব্লগ সাইটের মন্তব্যের মত যে কেহই দেখতে পারে, কিন্তু অন্যের উত্তর পারে না। কোন ধাঁধাঁর একবার মাত্র উত্তর দেয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। উত্তর দেয়ার পরই (ভুল হোক/শুদ্ধ হোক)................ খুল্ যা সিমসিম .. অর্থাৎ ধাঁধাঁ প্রদায়কের দেয়া সঠিক উত্তর দেখতে পারবেন, অন্যরা কে কী উত্তর দিয়েছে দেখতে পারবেন; এই সংক্রান্ত আলোচনা দেখতে/করতে পারবেন। কারো উত্তর পছন্দ না হলে, অথবা অন্য কোনো কারণে ধাঁধাঁ অপছন্দ হলে অভিযোগ করার জন্যও একটা লিংক আছে। তবে সাধু সাবধান! .... মন্তব্য প্যানেলে উত্তর সংক্রান্ত কোনো কথাবার্তা/হিন্ট লিখলেই খবর আছে ... ... পেনাল্টি .... মডুরা এসেই ঘ্যাচাং করে আপনার ১০ পয়েন্ট কেটে দেবে।

পয়েন্টের কথা যখন আসলোই তখন একটু ঝেড়ে কাশি ... ... এখানে ধাঁধাঁর জন্য পয়েন্টের সিস্টেম আছে ... যেটা বিষয়টাকে করে তুলেছে আরও মজার (এবং মারামারির)। প্রতিটা ধাঁধাঁর উত্তর দিলেই ২ পয়েন্ট যোগ হবে। তারপর সেটা যদি ঠিক হয় তবে আরো ৩ পয়েন্ট, আর ভুল হলে -১ পয়েন্ট (প্রশ্নকর্তা যাচাই করার পর)। অর্থাৎ সঠিক উত্তর দিলে মোট ৫ পয়েন্ট আর ভুল উত্তর দিলে ১ পয়েন্ট। আর, বাকি রইল, ধাঁধাঁ প্রদায়ক ... ... প্রতিটি ধাঁধাঁর জন্য প্রদায়ক পাবে মোট ৩ পয়েন্ট (মনে হয় শুদ্ধ আর ভুল উত্তরের পয়েন্টের অ্যাভারেজ করা হয়েছে), কারণ এই বেচারা(!) তো আর এটার উত্তর দিয়ে পয়েন্ট নিতে পারবে না।

ধাঁধাঁগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে রাখা হয়েছে (ট্যাগিং)। সবচেয়ে ভেজাইল্যা হল ... মজারু বিভাগটা। - কেমন ভেজাইল্যা? এটা জানতে হলে ঐখানে দুই একবার ধরা খাইতে হবে! গাণিতিক বিভাগে বিভিন্ন রকম আঁতেল মার্কা হিসাব কিতাবের ধাঁধাঁ থাকে। কুহক বিভাগে রহস্য টাইপের বা লজিকাল টাইপের ধাঁধাঁ থাকে। এছাড়াও যেই বিভাগগুলো আছে তা হল: শব্দ, ছবি, কুইজ, কোডিং, বিজ্ঞান।

এখানে নিবন্ধন করার সময় ইংরেজিতে নাম দিতে হয়। লগ-ইন করার সময়ও তাই। তবে ডিসপ্লে নামটা পরবর্তীতে নিজের পৃষ্ঠা থেকে বাংলায় করে নিতে পারবেন (উদাহরণ: আমার পৃষ্ঠা)। গুগল মামার রাজত্বে বাংলায় ধাঁধাঁর এই সাইটটা বানিয়েছেন আমার প্রিয় ভিলেন নাসিমুল হক ভাই ... বাংলা ফোরামগুলোতে উনি স্বপ্নচারী নামে লিখে থাকেন। সাইটটি এখনও বেটা পর্যায়ে রয়েছে ... আপনারা পরামর্শ দিয়ে এটাকে বেটা থেকে পিতাতে(!) উন্নয়নে সাহায্য করতে পারেন।

আইচ্ছা ... আর বেশি প্যাচালের কাম নাই। আরো বেশ কিছু বিষয় আছে (টুইটার/RSS ইত্যাদি) .... জানতে চাইলে নিজেরা গিয়েই দেখেন। লিংক: http://dhadharu.appspot.com/quiz/ .... অবশ্য এইখানে গিয়ে একটু বেদিশা (বিদিশা নহে!) লাগতে পারে। তাই একটু নিচে ডানদিকের সাম্প্রতিক লিংকটা ক্লিক করেন। কিংবা আমার দেয়া একটা সহজ (মজারু কিন্তু!) ধাঁধাঁ দিয়ে শুরু করতে পারেন (লিংক)।

  1. এছাড়া সাইটের বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানগর্ভ ভালোচনা।
  2. অফিসিয়াল সাইট পরিচিতি

চিপা দিয়ে আরেকটা কথা বলে রাখি:
সাম্প্রতিক লিংকে গিয়ে দেখবেন বামদিকে প্যানেলে সাধারণ ক্যাটাগরি ছাড়াও আরও কয়েক উপায়ে সাজিয়ে ধাঁধাঁ দেখা যায় (ধাঁধাঁ সাজানোর ক্রম)। ঐখানে "সঠিক উত্তর" অপশনটা নিলে সবচেয়ে বেশি সঠিক উত্তর দেয়া ধাঁধাঁগুলো আগে দেখাবে .... এইগুলা মনে হয় একটু সহজ। কাজেই আপনারও সফলভাবে পয়েন্ট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

এত খারাপ খারাপ কথা লিখলাম ... সম্ভাব্য উপকারের কথাও লেখা দরকার ... নাইলে কেউ আবার মাইন্ড খাইতে পারে ... উপকারসমূহ:

  1. সময়ের বারোটা বাজবে .... যাদের সময় পার হইতে চাচ্ছে না ... বিশেষত রোজা রমজানের দিনে ... কোনদিক দিয়ে সময় যাবে টেরও পাবেন না।
  2. ভবিষ্যতে(!) GRE টাইপের পরীক্ষায় লজিক্যাল বিভাগে ভালো করার সম্ভাবনা হয়তো বেড়ে যাবে।