নেপাল ভ্রমণ (জুন ২০২৩): পর্ব-০৭ (শেষ পর্ব)
পর্ব তালিকা: চন্দ্রগিরি>>পোখারা>>জমসম>>মুক্তিনাথ>>তাতোপানি>>পোখারা>>থামেল
২৯-জুন-২০২৩ পোখারা থেকে কাঠমুন্ডু
এই ভ্রমণের শুরুর দিকে কাঠমুন্ডু থেকে পোখারা আসার সময়ে জীপের মধ্যে আমাদের পরিবারের ৩ জনের সাথে নেপালি ট্যূর অপারেটর মিঃ দীপক কৈরালা এবং ওনার মিসেস ছিলেন। মূলত সেদিন পোখারায় ঝড়-বৃষ্টির কারণে ফ্লাইট ক্যান্সেল হওয়াতেই ওনাদের একই গাড়ি শেয়ার করতে হয়েছিল। তাই সেদিন একটু কষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে এর পর থেকে সব সময়েই গাড়িতে আমরা ৩ জনই। তাই দীর্ঘ ৮ ঘন্টার পথ হলেও সেদিনের মত কষ্ট হয়নি। মাত্র ২০০ কিলোমিটার যেতে ৮ ঘন্টা লাগার কারণ এইদিকের ৮০ কিলোমিটার জায়গা আন্ডার কনস্ট্রাকশন আর বাকী রাস্তা ভাল হলেও পাহাড়ী আঁকা-বাকা পথ - সবখানে ওভারটেক করার সুযোগও নাই তাই। মাঝামাঝিতে লাঞ্চ ব্রেক নেয়ার আধাঘন্টার পথ আগে একটু বাথরুম ব্রেক নেয়া হল একটা ফুয়েল পাম্প স্টেশনে।
![]() |
এই স্টেশনে শুকনা খাবারের দোকান আছে। ওদিকে একটা ছোট রেস্টুরেন্টের মত আছে। পেছনে চমৎকার টয়লেট ইউনিট। |
![]() |
সামনের টেবল চেয়ারগুলো রেস্টুরেন্টের সাথে, আর দুরে টয়লেট দেখা যাচ্ছে। |
![]() |
ইলেক্ট্রিক ভেহিকেল (গাড়ি) বা EV চার্জিং স্টেশন আছে একটা যেটা আমার জন্য একটা নতুন জিনিষ ছিল। |
![]() |
আরো আধাঘন্টা পরে সেই ডাল-ভাত পাওয়ার রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া। পনিরের আইটেম। |
![]() |
চাওমিন। এই রেস্টুরেন্টে যাওয়ার সময়ও খেয়েছিলাম। ২য় পর্বে সেগুলোর ছবিও আছে। |
![]() |
এই সেই রেস্টুরেন্ট। রেলিংএর মধ্যে ডিজাইন হিসেবে আস্ত একটা সাইকেল লাগানো |
ড্রাইভার মহাশয় পোখারার বাসিন্দা। কাঠমুন্ডু তেমন একটা চেনেন না। আমরাই গুগল ম্যাপ দেখে দেখে আসতে থাকলাম। মাঝে অন্য আরেকজায়গা হয়ে যাওয়ার চেষ্টায় পথ ভুলে কিছু গলি-টলিতে ঢুকেও সময় নষ্ট করেছি। অবশ্য পথ ঠিক থাকলেও লাভ হত না, কারণ সন্ধ্যায় সেই জায়গা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
থামেল হল কাঠমুন্ডু ঘুরতে আসা বিদেশীদের পছন্দের থাকার জায়গা। ঢাকার গুলশান-বনানী বললে তুলনাটা ভুল হবে। কারণ এখানে সব পুরান ঢাকার মত চিপা গলি। সবই ওয়ান ওয়ে করে দিয়েছে।
![]() |
অবশেষে আমাদের হোটেলে। বুটিক হোটেল। থামেলের চিপা গলির মধ্যে এমন উঠানওয়ালা হোটেল আশা করিনি। |
![]() |
হোটেলের ভবনে প্রবেশমুখ। আগের ছবির বাগানটা এই ছবিতে হাতের ডানদিকে। |
![]() |
ডিনারে আবার সেই থালি। ট্যূর অপারেটর আমাদেরকে কি ভেবেছিল কে জানে! |
৩০-জুন-২০২৩
![]() |
সকালের ব্রেকফাস্টে লিমিটেড বুফে ছিল |
![]() |
এই প্রথম কফি আর্ট পেলাম এখানে |
![]() |
ঘন্টাখানেকের ফ্লাইটে এইসব খাইতে দেয়। |
ভিডিও #১০
খরচাপাতি
এবার সংক্ষেপে আমাদের খরচাপাতির হিসাবটা দেই: আমরা তিন জন গিয়েছিলাম।
১। প্লেন ভাড়া - এটা সিজন এবং কত আগে কেটেছেন সেই অনুযায়ী কম-বেশি হবে। দেড়মাস আগে কাটাতে আমাদের জনপ্রতি ৩০হাজার করে লেগেছিল।
২। নেপালে সবগুলো জায়গায় সম্পুর্ন গাড়ির সাপোর্ট + ৩ বেলা খাওয়া + হোটেল চার্জ + আনুষঙ্গিক অন্য চার্জ (থাকলে) - ৭ রাতের জন্য লেগেছিল: জনপ্রতি ৬৭৫ ডলার করে। এই ডলার প্রথমদিন এয়ারপোর্টে নেমে আমাদের ট্যূর অপারেটর দীপক কৈরালা সাহেবের হাতে হাতে দিয়ে দিয়েছিলাম।
৩। কাঠমুন্ডুতে এয়ারপোর্টে নামার পরেই ৭ দিনের প্যাকেজের সিম কার্ড নিয়েছিলাম, ৫ জিবি ডেটা সহ: ২৫০ নেপালী রুপী।
৪। আসার পথে তাতোপানির হোটেলে অতিরিক্ত ৫৫০০ রুপি দিতে হয়েছিল।
৫। রাস্তায় চা-কফির বিরতিতে সব মিলিয়ে ২ হাজার রুপীর মত।
৬। সূভ্যেনির কেনাকাটার খরচ।
সবগুলো প্রকাশিত পর্বের লিংক এই পাতার একেবারে শুরুতে দেয়া আছে। (সমাপ্ত)