বুধবার, ৩০ মার্চ, ২০১১

এই অনুষ্ঠান কি আপনার জন্য?

পাঠকের কাছে ১০টি ব্যক্তিগত প্রশ্ন:


১. আপনি কি দেশপ্রমিক? দেশে
আমাদের ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে যারা আসতে ইচ্ছুক তারা দয়া করে এখানে একটু নাম এন্ট্রি করুন।র প্রতি আপনার ভালোবাসা কি ‘মা’ কে ভালোবাসার মতো?
২. দূর্নীতিতে দেশের মান সম্মান মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে দেখে আপনি কি চিন্তিত হন? এর প্রতিকারে নিজের করণীয় সম্পর্কে ভাবেন?
৩. আপনি কি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল? সচরাচর আইন অমান্য করেন না কিংবা করতে চান না?
৪. আপনি কি কম্পিউটারে ভাইরাসের জ্বালা-যন্ত্রনায় অতিষ্ট? এ যন্ত্রনা থেকে মুক্তির পথ খুঁজছেন?
৫. আপনি কি কম্পিউটারে আপনার মূল্যবান তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত?
৬. আপনি কি হালকা পাতলা বুদ্ধিবৃত্তিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার সামর্থ্য রাখেন এবং তা উপভোগ করেন?
৭. আপনি কি নতুন নতুন কম্পিউটার প্রোগ্রাম নিয়ে গবেষনা করতে পছন্দ করেন?
৮. আপনি কি ইন্টারনেটে বিচরন করার সময়ে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারজনিত নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন?
৯. আপনি কি দামী সব সফটওয়্যারের ফ্রী/উন্মুক্ত বিকল্প খুঁজছেন?
১০. আপনি কি জনসাধারনের/সাধারন কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের সেবা করতে আগ্রহী?
প্রিয় ভাই/বোন, উপরের এই প্রশ্নগুলোর উত্তর লিখে কোন ঠিকানায় গোপনে পোস্ট করতে হবে না। শুধুমাত্র যদি কোন প্রশ্নের উত্তর আপনার মন থেকেই ‘হ্যাঁ’ বোধক হয় তাহলে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে আপনি নিশ্চিতভাবেই কিছুটা উপকৃত হবেন। আর তা না হলে এই প্রশ্নপত্র পড়িয়ে আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

এবার তাহলে জেনে নিন অনুষ্ঠানের বিস্তারিতঃ--

তারিখ: ৮ই এপ্রিল ২০১১ইং, রোজ শুক্রবার 
সময়: বিকাল ৩টা থেকে ৭টা
স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তন
(শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত; অপরাজেয় বাংলার পেছনে কলা ভবন, তার পেছনে লেকচার থিয়েটার ভবন, ঐ ভবনটির নিচতলাতেই)
প্রবেশ মূল্য: ২০ টাকা।

অনুষ্ঠানসূচী:
  • লিনাক্স ও ওপেন সোর্স বিষয়ে মুক্ত আলোচনা। -- ২৫ মিনিট
  • পাইরেসী প্রতিরোধে লিনাক্স ও ওপেন সোর্স এর ভূমিকা -- ২৫ মিনিট
  • লিনাক্স ও ওপেন সোর্স সফটওয়্যার ব্যবহারের সুবিধা -- ২৫ মিনিট
  • অতিথি ও অংশগ্রহনকারীদের আপ্যায়ন পর্ব -- ৪০ মিনিট
  • অতিথি ও অংশগ্রহনকারীদের সমন্বিত আলোচনা ও মতামত বিনিময় -- ১২০ মিনিট
আরও থাকছে:
FOSS Bangladesh কর্তৃক সংকলিত/কাস্টমাইজ করা লিনাক্স মিন্ট ১০ জুলিয়া’র ডিভিডি (৫০ টাকা)। কাস্টমাইজড ডিভিডিটাতে এবারে পাসওয়ার্ড জনিত ঝামেলা দূরীভূত করা হয়েছে। তদুপরি কাস্টম ডিস্ট্রোটিতে এবারে থাকছে বেশ কিছু ওপেনসোর্স ও ফ্রী থ্রিডি গেমস যেমন এলিয়েন এরেনা, নেক্সুইজ, ব্যাটেল ফর ওয়েসনর্থ এবং অ্যাসল্টকিউব ইত্যাদি।
বাংলাদেশের সকল লিনাক্সপ্রেমী/আগ্রহীদের জন্য এটা একটা উন্মুক্ত আয়োজন। তাই সকলের অংশগ্রহন ও সহযোগীতা প্রত্যাশা করছি।

আয়োজনে:
ফাউন্ডেশন ফর ওপেন সোর্স সলিউশনস বাংলাদেশ (FOSS Bangladesh) - একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।


আমাদের ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে যারা আসতে ইচ্ছুক তারা দয়া করে এখানে একটু নাম এন্ট্রি করুন।

সোমবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১১

শেয়ার মার্কেট - ঘটনাটা কী?

শেয়ার মার্কেট কী জিনিষ? আমি ঠিক বুঝি না .... কেউ যদি বেসিক আইডিয়া দিতে পারতো ... .... (ডিসক্লেইমার: মরহুম অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া আমার কেউ নয়)shame মনের মধ্য প্রশ্ন ঘুরঘুর করে: একটা শেয়ারের মূল্য বাড়ে বা কমে কখন ... ... এর পেছনের বেসিক কারণ কী? thinking

আমি শেয়ার নিয়ে কিছু বুঝি কি না সেটা শেয়ার করা মুশকিল। আমি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছিলাম - ঐটাই ঠিকমত বুঝি না আর শেয়ার ......তবে এখন এই বিষয়ে আগ্রহী অনেক বান্দা আছেন মনে হয়। নিশ্চিতভাবেই অনেকে ভাল বুঝেন। তাই কোন সহৃদয় যদি এটা নিয়ে লিখতেন তবে একটু কৌতুহল মিটতো। এই নিয়ে আমার জানার দৌড়টা এর আগে শেয়ার করি একটু। তাহলে এই অধমকে পরামর্শ দিতে সুবিধা হবে।

সহজ সরল ভাবে দেখলে - একটা কম্পানির মূলধন দরকার ধরুন ১০ কোটি টাকা। কিন্তু মালিক/উদ্যোক্তার হাতে আছে ৬ কোটি। বাকি টাকা সে ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারে, অথবা পাবলিকের কাছ থেকে শেয়ার বিক্রি করে নিতে পারে। ধরুন ঐ ৪ কোটি টাকা ১০০ জন লোক প্রত্যেকে ৪ লাখ করে দিল। শেয়ার বিক্রি অর্থ হল এখন ১০ কোটি টাকা মূলধনের ৬ কোটি একজনের - কাজেই কম্পানির মালিকানার ৬০% মালিক সে। আর বাকী ৪০% মালিকানা শেয়ার করা হয়েছে। প্রতিজন ৪ লাখ টাকা করে দেয়াতে ঐ ১০০ জনের প্রতিজন ০.৪%  করে মালিকানা পাবে।

বছর শেষে ঐ কম্পানি ধরি ৫ কোটি টাকা মুনাফা করে, এবং এ থেকে ২ কোটি টাকা ব্যবসা সম্প্রসারনে ব্যয় / পূণর্বিনিয়োগ করলো। তাহলে বাকি ৩ কোটি টাকার মধ্যে
মালিক/উদ্যোক্তা পাবে - ১কোটি ৮০ লাখ (যেহেতু ৬০% মূলধন তার)
শেয়ার হোল্ডার প্রতিজন পাবে - ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে। (১০০ জনে = ১কোটি ২০ লাখ = ৪০% লাভ)

এখন কেউ যদি তার শেয়ার রাখতে না চায় তবে ঐ লাভ নেয়ার পর ৪ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার ৪লাখ ৮০ হাজারে বিক্রি করতে পারবে। কারণ এখন ব্যবসার মূল্য ১০+২=১২ কোটি। কাজেই ১২ কোটি * ০.৪% = ৪ লাখ ৮০ হাজার। আর লভ্যাংশ না নিয়েই বিক্রি করলে দাম পাবে ৬ লাখ।
এভাবে ৪ লাখ টাকা ১ বছরে ৬ লাখ হল। কারণ মূল ব্যবসা একই অনুপাতে লাভ করেছে।

শেয়ার মার্কেটে যখন মানুষ বিনিয়োগ করে তখন এগুলোর কোন নাম নিশানা আমি দেখিনা। তার মানে ইহা ভিন্ন কোনো জিনিষ। এখানে হু হু করে দাম কেন বাড়ে, হুট করে কমেই বা কেন? ১০ টাকার ফেসভ্যালুর শেয়ারের মূল্য যখন দেখি ৩০০ টাকা - এর অর্থ আমার বুঝামতে ঐ কোম্পানি যখন শেয়ার ছে‌ড়েছিলো তখনকার তুলনায় ব্যবসা  ৩০ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ... ... আসলেই কি তাই ঘটেছে? ঐ শেয়ারের ক্রেতা কি এই তথ্যের ভিত্তিতেই আরো প্রবৃদ্ধিজনিত লাভের আশায় শেয়ারের মালিক হয় নাকি এর পেছনে অন্য কোনো শক্ত থিওরী আছে? এ্যাত টাকা বিনিয়োগ যখন করছে তখন নাড়ি নক্ষত্র না জেনে নিশ্চয়ই করেনি ... ... সেই নাড়ি নক্ষত্র কী কী -- কোন পুরাতন কেস স্টাডি করে দেয়া যাবে কি?

আমার বুঝা ঠিক কি না জানিনা। তবে এটা ঠিক হলে বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীই হুজুগে চলে - যাদের মূলধন হল লোভ; বিনা পরিশ্রমে বড়লোক হওয়ার দিবাস্বপ্ন। আর এর সুযোগ নেয় ঘাঘু ঠকবাজরা। লোভ করে নিজের কল্লা জবাই হওয়ার রিস্ক নিয়ে পেতে দিলে সেটা কাটা পড়তেই পারে। এজন্য কার ঘাড়ে দোষ চাপাবেন? ---  মাইন্ড খাইয়েন না -- পাগলের সুখ মনে মনে -- আমি এইসব ভেবে ও থেকে দুরে থাকার বুঝ নেই মনে মনে।

==আপডেট: আরো কিছু টেক্সট যোগ করি==

বিভিন্ন চিপায় লেকচার শুনে যা জানি তা হল: একটা বস্তুর দাম বাড়ে যখন কোন ভাবে এটাতে ভ্যালু এডিশন হয়।

সবচেয়ে বেশি ভ্যালু এডিশন হয় শিল্প কারখানাতে: ১০০ টাকার লোহার টুকরাতে আরো ৪০০ টাকার মেশিন/লেবার খরচ করে সেটা ৫০০০ টাকা মূল্যের বস্তুতে পরিণত হয়। কিংবা ধরুন ৬০ টাকার তুলাতে ৩০ টাকার মেশিন / লেবার খরচ করে ১২০ টাকার সুতা তৈরী হয়। সেই সুতা থেকে কাপড় বা কাপড় থেকে তৈরী পোশাক -- সবই ওরকম।

এছাড়াও ভ্যালু এডিশন হয় বিপননে। ৫০০০ টাকার বস্তু এনে সেটার পেছনে আরো ৩০০০ টাকার চমৎকার আলোকসজ্জা, ডিসপ্লে, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি দিয়ে ১০০০০ টাকায় বিক্রয় করা হয়। কিংবা ধরুন ১২০ টাকার সুতা ১৫ টাকার পরিবহন, গোডাউন, প্যাকেজিং, ডিসপ্লে ইত্যাদি পার হয়ে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

মোদ্দা কথা হল, শিল্প কারখানায় ভ্যালু এডিশন হয় বিপননের চেয়ে অনেক বেশি। সেজন্য বিনিয়োগ করতে হলে ঐ খাতে করাই বেশি বুদ্ধিমানের লক্ষণ। কিন্তু আমাদের এখানে শিল্প কারখানা বাদ দিয়ে কয়েকশ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে যমুনা ফিউচার পার্ক টাইপের বিপনন কেন্দ্র বানানো দেখে একজন দুঃখ করে এসব বলেছিলেন আমাকে।

আমার প্রশ্ন হল, এসেট ভ্যালুর সাথে শেয়ারের মূল্য যদি সংগতিপূর্ণ না হয় তবে এর ভ্যালু এডিশন হচ্ছে কিসের ভিত্তিতে? যতদুর বুঝি তাতে - সত্যিকার অর্থে যদি এর ভ্যালু এডিশন না হয়, তাহলে সেটা তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়তে বাধ্য।

কিছুদিন আগে বিশ্বমন্দা এ ধরণের কিছু শেয়ার কেলেংকারির জন্যই হয়েছিলো। তখন যা ঘটেছিলো তা মেকানিজম ছিল অনেকটা এমন:
একজন ১০০ টাকা মূলধনে ব্যবসা করে ৩০ টাকা লাভ করলো - ফলে শেয়ারের মূল্য বাড়লো ৩০%। আরেকজন নিজের ৫০ টাকা মূলধনের সাথে আরো ৫০ টাকা লোন নিয়ে ১০০ টাকার মূলধন বানিয়ে সেটা দিয়ে ব্যবসা করে সে-ও ৩০ টাকা লাভ করলো। কিন্তু হিসাবে দেখালো - আমার ৫০ টাকা মূলধন কিন্তু লাভ ৩০ টাকা .... অর্থাৎ শেয়ারের মূল্য ৬০% বৃদ্ধি পেল - যেটা আসলে ঠিক নয় (কারণ তারও ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি আসলে ৩০%)। ব্যবসার জন্য লোনগুলোতে অনেক জায়গাতেই প্রথম কয়েক বছর সুদ দেয়া লাগে না - তাই এর সুযোগ নিয়েছিল কেউ কেউ। ফলে কী হল? যে শেয়ারের আসল ভ্যালু এডিশন ৩০% সেটা ম্যানিপুলেট করে ৬০% এ কেনা বেচা হচ্ছে --- --- এভাবে কতদিন আর ধামাচাপা দেয়া যায়? এক সময় না এক সময় আসল থলের বেড়াল বের হয়ে পড়ে, আর এর আগেই আসল খেলোয়ারগণ নিজের শেয়ারগুলো বিক্রয় করে দেয়।


ফলে সাধারণ বিনিয়োককারীর অবস্থা হয় কৃষিকাজ বাদ দিয়ে বেশি দামে বানর কিনে বসে থাকা মানুষের সেই গল্পের মত। আসল জায়গায় ভ্যালু এডিশন না হয়ে যদি দাম বাড়ে তাহলে সেই অতিরিক্ত টাকা কারো না কারো পকেট থেকেই যাবে।

শনিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১০

যানজট নিরসনে তাহলে প্রতিদিন হরতালই কি সেরা সমাধান?

(সর্বপ্রথম সচলায়তনে প্রকাশিত)
ইদানিংকালে যানজট নিরসনে অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের বেশ কিছু বক্তব্য আমাকে বিষ্মিত করেছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে, উনি অর্থমন্ত্রী - যোগাযোগ মন্ত্রী নন!

এর মধ্যে একটি হল প্রাইভেট কারে ৫ জন ছাড়া চলা যাবে না। আহা ... ... এতে সঙ্গিযাত্রী হিসাবে কিছু বেকারের নিশ্চিত কর্মসংস্থান হবে। বাসা থেকে ৫ জন বের হল। বাচ্চা স্কুলে নামার পর ৫ জনের কোটা পূরণ করার জন্য সেখান থেকে একজন সঙ্গিযাত্রী উঠবে গাড়িতে (ঘন্টা হিসাবে মজুরি দিতে হবে) .... এভাবে শেষজন নামার আগ পর্যন্ত লোক অফিসে নামবে সঙ্গিযাত্রী উঠবে। ফেরার পথেও একই রকম কাহিনী। সঙ্গিযাত্রী বা প্রক্সি/ডামি যাত্রী হিসেবে কর্মসংস্থানের ফলে কিছু লোকের হয়তো বেকারত্ব দুর হবে (ছিনতাই বৃদ্ধির আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না), তবে উৎপাদনশীলতা বাড়বে না, বরং অতিরিক্ত ভারবহন করার কারণে জ্বালানী খরচ বাড়বে।

নির্দিষ্ট আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা না থাকলে এই রকম ব্যবস্থাটা (যার টেকনিক্যাল নাম কার-পুলিং car pooling) মানুষের ভোগান্তি আরেকটু বাড়ানো ছাড়া আর কোন কাজে আসবে বলে মনে হয় না। যানজট বেশি হয় অফিস টাইমে, অর্থাৎ, অফিস শুরু এবং ছুটির সময়ে। তখন হঠাৎ করে (খুব কম সময়ের ব্যবধানে) বিপুল সংখ্যক লোক রাস্তায় নেমে আসে। নির্দিষ্ট আবাসিক এবং বাণিজ্যিক এলাকা থাকলে দেখা যায় যে একই আবাসিক/বাণিজ্যিক এলাকা থেকে ৪/৫জন লোক ৪/৫টা গাড়ি ব্যবহার করে একই বাণিজ্যিক/আবাসিক এলাকায় যাচ্ছে। যাত্রা শুরু এবং গন্তব্যস্থল একই হওয়াতে এরা ৪/৫টি গাড়ির বদলে একটি গাড়ি দিয়েই যাতায়াত করতে পারে, যার ফলে রাস্তা থেকে কিছু গাড়ি কমে গিয়ে যানজট কমাতে সাহায্য করে।

ঢাকায় আমার জানামতে নির্দিষ্ট সময়ে এরকম নির্দিষ্ট যাতায়াতের জন্য কার শেয়ারিং বা কার পুলিং খুব ভালভাবেই বিদ্যমান। অফিসের কর্মকর্তা যাত্রাপথে অন্য সহকর্মীদেরকে তার গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে, এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। কিন্তু এক বাসা থেকে বের হওয়া ৪ জনের গন্তব্য ভিন্ন হলে তখন কী হয়? বাড়ির একজন সিটি কলেজের সিনিয়র শিক্ষিকা, ওনাকে কলেজে নামিয়ে তারপর ছেলে আর ছেলের বউয়ের অফিস মিন্টো রোডের পাশের রাস্তায় (ওল্ড এলিফ্যান্ট রোড); এরপর কনসালট্যান্ট কর্তার ৩/৪টি কর্মস্থলের যে কোনো একটিতে (ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট / মগবাজারের কনস্ট্রাকশন ফার্ম/ মনিপুরিপাড়ার কনস্ট্রাকশন ফার্ম / মহাখালি / অন্য কোনো অফিস)। এরকম একটা কর্মঠ ও কর্মব্যস্ত পরিবারের অতি প্রয়োজনীয় গাড়ি চালাতে তবে এরপর থেকে প্রথমে উল্লেখ করা সঙ্গিযাত্রী বা ডামি যাত্রী ছাড়া পথ খোলা থাকবে না। আর তা না করতে চাইলে হয় ক্যাব বা রিক্সা ... ... যা যানজট কমাবে কীভাবে সেটা বুঝি না।

বিদেশের কিছু কিছু শহরে কার পুলিং সফলতার সাথে প্রযুক্ত হয়েছে .... .... প্রশ্ন হল কীভাবে?
এসব শহরে পরিকল্পিত ভূমির ব্যবহার প্রযুক্ত হয়েছে, ফলে নির্দিষ্ট আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা গড়ে উঠেছে। এছাড়া ঐ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা যুক্ত করে এমন নির্দিষ্ট রাস্তা আছে। আসা এবং যাওয়ার জন্য দুইপাশে নির্দিষ্ট লেন ছাড়াও রাস্তার মাঝ বরাবর একটা অতিরিক্ত বিশেষ লেন আছে। এই লেনে নির্দিষ্ট কিছু জায়গা ছাড়া গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। এই লেনটির বিশেষত্ব হল, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এটি দিয়ে আবাসিকের দিক থেকে অফিসের দিকে আর দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত উল্টাদিকে (অফিস-আবাসিক) চলাচলের জন্য খোলা থাকে। অর্থাৎ যেদিকে চাহিদা বেশি সেদিকে সেবা দেয়। এই লেন ব্যবহার করে অনেক দ্রুত যাওয়া যায়, কিন্তু শর্ত সাপেক্ষে এটা ব্যবহার করা যায়। বাস কিংবা কমপক্ষে ৪জন যাত্রী আছে এমন কার বিনা বাঁধায় এই লেন ব্যবহার করতে পারে। অন্যরা ব্যবহার করতে চাইলে উচ্চমাত্রায় টোল দিয়ে করতে পারে। অর্থাৎ কার পুলিং করলে বিশেষ কিছু সুবিধা পাওয়া যাবে ... ... ... "পেটে খেলে পিঠে সয়', ঢাকায় প্রাইভেট কারের জন্য এমন কোন সুবিধার ব্যবস্থা আছে কি? আর, প্রাইভেট কারের বদলে পাজেরো (পাবলিক না হয় নির্লজ্জ্ব মন্ত্রী বা এমপিদের মত বিনাট্যাক্সে নাই কিনলো) ব্যবহার করা শুরু করলে তখন নিয়মটা কেমন হবে?

এরপর আরেকটা উদ্যোগের কথা জেনে হাসবো নাকি কাঁদবো তা এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। এটা হল জোড় আর বেজোড় সংখ্যার প্রাইভেট কার বিষয়ক। অন্যান্য গাড়ির মতই ১০০% ট্যাক্স দিয়ে কেনা এই গাড়িগুলোর দোষ হল, এরা সংখ্যায় বেশি। তাই একদিন জোড় সংখ্যা বিশিষ্ট ও অন্যদিন বেজোড় নম্বরবিশিষ্ট কার রাস্তায় চলাচল করতে পারবে। যাদের একটি মাত্র গাড়ি তারা তাহলে বাকী কর্মদিবসগুলোতে কীভাবে যাতায়াত করবে? এমনতো নয় যে যথেষ্ট পরিমান গণপরিবহন ব্যবস্থা করা সত্বেও দুষ্টু মানুষ ওগুলো ব্যবহার না করে শুধু শুধু গাড়ি বের করে রাস্তায় যানজট বাড়াচ্ছে। বরং অকার্যকর এবং অনুপযোগী গণপরিবহন ব্যবস্থায় অতীষ্ট হয়েই স্বল্প আয়ের এই দেশেও, মানুষ এক প্রকার বাধ্য হয়েই, অন্য দেশের চেয়ে আড়াইগুন দামে প্রাইভেট কার কিনছে। নাহলে কোন মধ্যবিত্তের ঠেকা পড়েছে যে বেতন দিয়ে ড্রাইভার নিয়োগ দিয়ে, এদের তেল/পার্টস্ চুরি ও মোবাইল হারানো সহ্য করে, রিক্সার ঘষা খেয়ে, ২/৩ ঘন্টা গ্যাসের জন্য সিরিয়াল ধরে গাড়ি চালানোর?

ট্যাক্সির ধারণাটাই হল যাত্রী এতে উঠে কোথায় যেতে হবে যাত্রী তা বলবে - শহরের যে কোনো জায়গায় যেতে এরা বাধ্য ... ... অথচ ঢাকায় ক্যাব/ট্যাক্সিকে গন্তব্যে যাবে কি না সেটা জিজ্ঞেস করতে হয় আগেই, এবং ওরা সেখানে যেতে চায় না; আবার গেলেও ৬০ টাকার ভাড়া ১৫০টাকার কমে যায় না। আর এখানে প্রাইভেট কার ব্যবহারকারীদেরকেও ঠেলে দিলে আরও কী তুঘলকী কাণ্ড ঘটবে তা কল্পনা করা দুরূহ।

গণপরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত না করলে এবং ট্রিপ ডিমান্ড না কমালে যানজট কমানোর উদ্যোগগুলো সফল হবে না - এটা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার হয় না। গণপরিবহণ প্রসঙ্গে গত ২২শে ডিসেম্বর রাতে দেশ টিভিতে সোজাকথা নামক টক-শোতে আমন্ত্রিত অতিথি জনাব মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া সাহেব (শুরু থেকে দেখিনি বলে ওনার পদমর্যাদা জানা হয়নি) সরকারের তরফ থেকে যে সকল উদ্যোগের কথা জানালেন সেগুলোকে আমার চমৎকার এবং সঠিক মনে হল। উনি বলেছিলেন যে, পর্যায়ক্রমে (১০-১৫ বছর) তিনটি রুটে MRT / মেট্রো ট্রেন চালু করা হবে। দেশের বিদ্যূৎ ব্যবস্থা, ভূতত্ব এবং খরচ বিবেচনা করে এগুলো যতদুর সম্ভব মাটির উপরে এবং উড়াল লাইনে (স্কাই ট্রেন) করা হবে। সামান্য কিছু জায়গায় হয়তো স্থানাভাবে বাধ্য হয়ে পাতালে যেতে হতে পারে। তাহলে সিঙ্গাপুর বা ওসাকা/টেকিওর মতই কিছু উপরে আর কিছু নিচে হচ্ছে। আর, ব্যাংককের মতই রাস্তার ডিভাইডার থেকে কলাম তুলে উপরে লাইন হবে। MRT করতে প্রচুর অর্থ লাগবে, যা নিঃসন্দেহে আমাদের উপর বিরাট ঋনের বোঝা চাপিয়ে দেবে।

তবে আগামী বছরেই যা হবে সেটা হল কিছু কিছু রুটে BRT বা বাস রেপিড ট্রানজিট। এটাতে উপরোল্লিখিত কার পুলিং লেনের মতই বাস চলাচলের জন্য রাস্তায় বিশেষ সুরক্ষিত লেন আলাদা করা হবে। এখানে চলাচলের জন্য সুপরিসর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস আনা হবে (কোরিয়া বা ভারত থেকে এবার যেগুলো আসছে সেগুলো নয়)। বাসে ওঠা-নামা করার জন্য প্ল্যাটফর্ম এমন হবে যেন অতি দ্রুত ওঠা/নামা যায় (মেট্রো'র মতই)। বিভিন্ন ক্রসিংএ ও সিগনালে এই বাসগুলো অগ্রাধিকার পাবে। ফলে বাসে যাতায়াত হবে আরামদায়ক এবং প্রাইভেট গাড়ির চেয়ে দ্রুততর। সারা ঢাকাতে এই সুবিধা ছড়ানোর জন্য দুই তিনটি প্রাইভেট কম্পানিকে লিজ দেয়া হবে। এজন্য পরিবহন কম্পানিগুলো একিভূত করার জন্য কাজ চলছে। MRT'র তুলনায় কম যাত্রী বহন করলেও BRTতে খরচ সেই তুলনায় অনেক কম হবে।

ট্রিপ ডিমান্ড কমানোর প্রসঙ্গে চমৎকার একটা উদ্যোগ ছিল এলাকাভিত্তিক ভিন্ন ভিন্ন দিনে সাপ্তাহিক বন্ধের আইডিয়াটা। এখন পর্যন্ত আমি এই উদ্যোগের সুফল ভোগ করছি। এছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন ফলাফল প্রকাশের কারণেও ট্রিপ ডিমান্ড বা যাতায়াত চাহিদা কমেছে। এভাবে অফিসের কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে (ভিডিও কনফারেন্সিং ইত্যাদি, অনলাইন বুকিং, অনলাইন আবেদন পত্র জমা দেয়া ইত্যাদি) ততই যাতায়াতের প্রয়োজনীয়তা কমে তা যানজট কমানোতে সাহায্য করবে।

এরকম যৌক্তিক কাজকর্মগুলো এ বিষয়ে পেশাদারগণ যাতে দক্ষভাবে করতে পারে সেটা নিশ্চিত করলেই মন্ত্রী মহোদয় সকলের অকুন্ঠ সমর্থন পাবেন। যানজট বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা বুঝাতে অযথা উদ্ভট কাজকর্ম করার প্রয়োজন নাই। নাহলে দেখা যাবে আজ প্রাইভেট কার বন্ধ করার পর উৎসাহিত হয়ে পরবর্তীতে সরকার-ই প্রতিদিন হরতাল না ডেকে বসে।

শেষে বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত, জাতীয় স্থল পরিবহন নীতিমালা, এপ্রিল ২০০৪ হতে ঢাকা মহানগরীর জন্য নীতিমালা অংশটি আপনাদের জন্য সংযুক্ত করলাম। এতে চমৎকার দিক নির্দেশনা আছে।

এইটা পড়ার আগেই বলি, এটা ডাউনলোড করতে পারবেন এখানে ক্লিক করে (মাত্র ৪১৫ কিলোবাইট)। তবে ওটার বাংলা লেখাগুলো কোনোভাবেই ইউনিকোডে আনতে না পেরে শেষে টাইপ করে ফেললাম।

৯. ঢাকা মহানগরীর জন্য নীতিমালা

৯.১ পরিকল্পনা এবং কার্যক্রম

৯.১.১ সরকার ঢাকা নগরীর পরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করবে।
৯.১.২ গণপরিবহনের উন্নতি, যানজট হ্রাস ও পরিবেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করবে। এ ব্যবস্থাসমূহের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
     ১. মহানগরীর জন্য দীর্ঘমেয়াদী আধুনিক গণ-পরিবহন ব্যবস্থার পরিকল্পনা প্রণয়ন
     ২. অধিক সংখ্যায় সুপরিকল্পিত বাস রুট চালু;
     ৩. গণ-পরিবহন ব্যবস্থায় উচ্চমানের যানবাহন ব্যবহার এবং সার্ভিসের মান বৃদ্ধি;
     ৪. বেসরকারী খাতের বাস অপারেটরদের অংশগ্রগণের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি; 
     ৫. বাস সার্ভিসকে অগ্রাধিকার প্রদান; 
     ৬. সব ধরণের যানবাহন থেকে দূষণ হ্রাস;
     ৭. সড়কের উপর পার্কিং এবং সড়কের অনধিকার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ;
     ৮. ট্রাফিক ব্যবস্থারনার উন্নয়নে ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ;
     ৯. ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার;
     ১০. পদযাত্রীদের জন্য উন্নততর সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি; 
     ১১. গণপরিবহন ব্যবস্থার মূল্যায়ন;
     ১২. সকলের জন্য বিশেষ করে দূর্ঘটনা প্রবণ (vulnerable) সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য উন্নততর নিরাপত্তা ব্যবস্থা; 
     ১৩. পরিবেশগত সুরক্ষা ব্যবস্থা; এবং
     ১৪. উন্নত ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা।

৯.২ অযান্ত্রিক যানবাহন

৯.২.১ প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিক্সা চলাচল পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হবে। অপ্রধান সড়কে চলাচলকারী রিক্সাকে কেবল প্রধান প্রধান সড়কের নির্ধারিত স্থানেই ক্রসিং করতে দেয়া হবে।
৯.২.২ সড়ক সংযোগস্থল (intersection) উন্নতিকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সড়ক সংযোগস্থলের ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখার স্বার্থে সড়ক ও ফুটপাথের সন্ধিস্থল (curb side) রিক্সামুক্ত করা হবে।
৯.২.৩ শহরতলীর যেসব এলাকায় বাস নেটওয়ার্ক অপেক্ষাকৃত স্বল্প এবং/অথবা চলাচল কম সে সব এলাকায় ফিডার সার্ভিস হিসেবে রিক্সা ব্যবহার হবে।
৯.২.৪ আগামী ১০ বছরে রিক্সার ট্রিপ অর্ধেকে কমিয়ে আনা হবে।

৯.৩ অটো রিক্সা

৯.৩.১ ২-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার যানবাহনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ঢাকায় ৪-স্ট্রোক সিএনজি অথবা পেট্রোল চালিত অটো-রিক্সা ব্যবহার নিশ্চিত করা।
৯.৩.২ প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সমূহে অগ্রাধিকার ভিত্তিক বাস সার্ভিস প্রবর্তনের পর ঐসব রুটে পর্যায়ক্রমে অটো-রিক্সা চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
৯.৩.৩ কেবলমাত্র বাস এবং রেল পরিবহনের ফিডার সার্ভিস হিসেবে অটো-রিক্সা ব্যবহার উৎসাহিত করা।
৯.৩.৪ চূড়ান্ত পর্যায়ে অটো-রিক্সা চলাচল বন্ধ করা।

৯.৪ প্রাইভেট কার

৯.৪.১ জরুরী সার্ভিস সমূহের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা (যেমন সড়ক পার্শ্বে পণ্য বোঝাই-খালাসের জন্য সাময়িক বিরতিস্থল নির্ধারণ) রেখে সড়কের উপরে পার্কিং নিয়ন্ত্রণের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
৯.৪.২ পুরাতন ঢাকা এবং এরূপ অন্যান্য যে সকল স্থানের সড়ক কার ব্যবহারের জন্য অনুকুল নয় সে সকল স্থানে শুধু পায়ে চলার ব্যবস্থা প্রবর্তনের কার্যক্রম গ্রহন করা।
৯.৪.৩ ২০২২ সালে ঢাকার প্রাইভেট কারের ব্যবহার মোট যান্ত্রিক যানবাহন ট্রিপের ৩০% এর মধ্যে সীমিত রাখা।

৯.৫ ট্রাক

৯.৫.১ সকল নতুন বাণিজ্যিক ও শিল্প স্থাপনার জন্য সড়কের বাইরে ট্রাকে পণ্য বোঝাই-খালাসের প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা।
৯.৫.২ ঢাকার রাস্তায় দিনের বেলা ট্রাক চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে পর্যালোচনা করা।
৯.৫.৩ কন্টেইনার ট্রাকে মালামাল ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য নতুন সুবিধাদি সৃষ্টি করা।

৯.৬ রেলওয়ে

৯.৬.১ জয়দেবপুর-নারায়নগঞ্জ লাইনে রেল কমিউটার সার্ভিস প্রবর্তন।
৯.৬.২ ২০১২ সালের মধ্যে কমিউটার রেল সার্ভিসের মাধ্যমে দৈনিক ২,০০,০০০ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।
৯.৬.৩ গণ-পরিবহন (Mass Transit System) পরিকল্পনা প্রণয়ন, পাতাল, এলিভেটেড ও সার্কুলার রেলওয়ে ব্যবস্থা প্রবর্তন, পরিবহন সেক্টরে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগীতায় সমীক্ষা পরিচালনা করা।

৯.৭ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

৯.৭.১ ঢাকা মহানগরীর জন্য একটি পূর্নাঙ্গ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন।
৯.৭.২ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন কারিগরি কৌশল প্রবর্তন।
৯.৭.৩ পদযাত্রীদের জন্য উন্নততর সুবিধাদি এবং একই গ্রেডে নিরাপদ ক্রসিং সুবিধার জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচী প্রণয়ন।
৯.৭.৪ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাদি, বিশেষত: ঝুঁকিপ্রবণ সড়ক ব্যবহারকারীগণের (vulnerable road users) বিষয় অন্তর্ভুক্তকরণ।
৯.৭.৫ কোন নতুন উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের পূর্বে ট্রাফিকের প্রতিক্রিয়া নিরূপণের (traffic impact assessment, TIA) সমীক্ষা করা এবং সে মতে এর জন্য প্রয়োজনীয় সকল সুবিধাদি সৃষ্টি করা।

৯.৮ প্রাতিষ্ঠানিক উন্নতি

৯.৮.১ সাধারণভাবে ডিটিসিবি'র ভূমিকা হবে সমন্বয়কারীর। তবে একে নিম্নবর্ণিত বিষয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা প্রদানের ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে শক্তিশালী করা হবে-
     ১. প্রকল্পের ভৌত (physical) বাস্তবায়ন
     ২. প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার নির্ণয়
     ৩. যৌথ দায়িত্ব সম্পন্ন প্রকল্পের সমন্বয় সাধন
৯.৮.২ ডিটিসিবি'র বিশেষ দায়িত্ব হবে যাত্রীর চাহিদা যথাযথভাবে পূরণের লক্ষ্যে একটি নিরাপদ, দক্ষ ও আধুনিক বাস রুট নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করা। রুট ইজারা (route franchising) ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ডিটিসিবি নিজস্ব কৌশল বা পদ্ধতি উদ্ভাবন করবে।

শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০১০

নতুন রূপে(!) লিনাক্স ফোরাম আপনারই প্রতীক্ষায়!

(সচলায়তনে প্রকাশিত)

(পোস্টের দৈর্ঘ্যের জন্য লেখক দায়ী নহে)
দেশে যে হারে এরা(?) বাড়তেছে যে এদের কথা চিন্তা করে পোস্টাইলাম। কিছু মনে নিয়েন না।
ধরেন আপনি নতুন লিনাক্স ব্যবহারকারী, কিন্তু এটা নিয়ে মনের মধ্যে আকুলি বিকুলি করা কথামালা সমমনাদের সাথে শেয়ার করতে পারছেন না। অথবা লিনাক্সে একটা ঝালেমা (ঝামেলা নহে) লাগছে কিন্তু সেই ঝালেমাটাকে ঝামেলা মনে হচ্ছে .... ... মনে মনে ভাবছেন "ভাইডি/বোনটি( চোখ টিপি ) একটু ঝামেলাটা ঠিক করনের রাস্তা দেহায় দাও"। অথচ সেই ভাইডি/আপাডি কোথায় সেটা বিছড়াইতে (খুঁজতে) আপনি সচলায়তন, প্রজন্ম ফোরাম, আমাদের প্রযুক্তি (এখন অসুস্থ!) ইত্যাদি বিস্তর জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করতেছেন, SOS পোস্টাইতেছেন ... আপডেট খুঁজতেছেন। এর সমাধানযুক্ত ইংলাজি (ইংলিশ) ফোরামের ভাষা পছন্দ হয় না। তাহলে আপনার জন্য একখান ভাল সমাচার আছে: আহেন ভাই চইল্যা আহেন ... সম্পুর্ন বাংলায় শুধুমাত্র লিনাক্স বিষয়ক একখান ফোরাম পূণর্জন্ম লাভ করেছে ... আগে এখানেও ইংলাজি ভাষায় সবকিছু ছিলো, এখন সব বাংলায়। আরেকখান কথা হইলো আমাদের অভ্রনীল ভাইয়া কিন্তু ওখানে আরেকটু উন্মুক্ত পরিচয়ে মডুগিরি করছেন দেঁতো হাসি
কি? পছন্দ হইলো না? ... ... আচ্ছা আবার শুরু করি:
ধরেন আপনি পুরাতন লিনাক্স ব্যবহারকারী। আপনি ভালু লোক ... তাই অন্য নতুনদের সাহায্য করতে চান। কিন্তু এই নতুন লুকজন যে কোথায় কোন চিপায় গিয়ে সাহায্য চায় ... ... খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। আবার সব চিপাতে আপনার প্রবেশাধিকারও নাই। আপনার পরোপকার করতে না পারার এই দুষ্ক (দূঃখ) শেষ হইলো বলে: .... আহেন ভাই চইল্যা আহেন ... সম্পুর্ন বাংলায় শুধুমাত্র লিনাক্স বিষয়ক একখান ফোরাম পূণর্জন্ম লাভ করেছে ... আগে এখানেও ইংলাজি ভাষায় সবকিছু ছিলো, এখন সব বাংলায়। আরেকখান কথা হইলো আমাদের অভ্রনীল ভাইয়া কিন্তু ওখানে আরেকটু উন্মুক্ত পরিচয়ে মডুগিরি করছেন দেঁতো হাসি
তা-ও পছন্দ হইলো না?? ... ... ঠিক আছে, আবার শুরু করি (দান দান .. তিন দান):
ধরেন আপনি লিনাক্স ব্যবহার করেন না। ভবিষ্যতে করতেও পারেন, না-ও করতে পারেন। তবে, যারা এ্যাত সুন্দর জানালা ফেলে লিনাক্স ব্যবহার করে তাঁদের সম্পর্কে একটু কৌতুহল হচ্ছে ... ... ব্যাটারা এ্যাত বোকা কেন? ... ... কেন এ্যাত সুন্দর জানালা ছেড়ে খোলা মাঠে দৌড়াচ্ছে? ... কেনু কেনু কেনু? এরা আর কী-রকম বোকাসোকা কথাবার্তা বলে ... ... এইসব জেনে যদি মজা লুটতে চান তবে .... ... আহেন ভাই চইল্যা আহেন ... সম্পুর্ন বাংলায় শুধুমাত্র লিনাক্স বিষয়ক একখান ফোরাম পূণর্জন্ম লাভ করেছে ... আর এখানে শুধু লিনাক্স বিষয়ক আলতু-ফালতু কথাবার্তা হয়। আহেন ... এগো কাজ কারবার দেইখ্যা মজা লুটেন ... ...
এইটাও পছন্দ হইলো না??? ... ... তাইলে আমি খেলুম নাঃ - জন রাসেলের করা মূল পোস্টটাই দেখেন:

উদ্ধৃতি
আপনি লিনাক্স ব্যবহারকারী। কিন্তু আপনার মনে খুব দুঃখ যে শুধুমাত্র লিনাক্স নিয়ে আলোচনা করার জন্য বাংলায় কোনো ফোরাম নেই। সমস্যায় পড়লে বিভিন্ন বাংলা ফোরাম কিংবা ব্লগে গিয়ে সাহায্য চাইতে হয়। তাছাড়া অনলাইনে লিনাক্স নিয়ে বাংলায় আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফোরাম না থাকায় লিনাক্স ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন বাংলা ব্লগ ও ফোরামে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছেন। কেমন হত যদি এই সব লিনাক্স ব্যবহারকারীদের একছাদের নীচে আনা যেত। যদি শুধু লিনাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য একটা ফোরাম থাকতো! যেখানে সব লিনাক্স ব্যবহারকারীরা একসাথে আড্ডা মারবেন। মনের সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারবেন, একে অন্যকে সাহায্য করতে পারবেন, সেই সাথে নিজেদের মধ্যে ঠাট্টা তামাশাও করতে পারবেন। শুধু চিন্তা করে দেখুন, সব লিনাক্স ব্যবহারকারী এক জায়গায়! আপনি উবুন্টু-মিন্ট-ফেডোরা যেটা নিয়েই সমস্যায় পড়েন না কেন, কেবল কোনো মতে হাঁচড়ে পাঁচড়ে সেই জায়গায় গিয়ে পৌঁছুতে পারলেই হয়, বাঘা বাঘা লিনাক্স ব্যবহারকারীরা আপনার সমস্যা সমাধানে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ভাবতেই মনটা ভালো হয়ে যাচ্ছে - তাইনা! ২০০২ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন বাংলাদেশ লিনাক্স ইউজার্স এলায়েন্স বা বিএলইউএ বাংলাদেশে লিনাক্স ছড়িয়ে দেবার জন্য কাজ করে আসছে। বিএলইউএ এর শাখা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে উবুন্টু বাংলাদেশ এবং ফেডোরা বাংলাদেশ। তাছাড়া বাংলাদেশে ক্রিয়েটিভ কমন্স এর অ্যাফিলিয়েট হিসেবে কাজ করছে বিএলইউএ। পাশাপাশি বেশ কিছু সফটওয়্যারের বাংলা লোকালাইজেশনের উপরও কাজ হচ্ছে বিএলইউএ। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে যে, সেই ২০০৫ সাল থেকেই কেবলমাত্র বাংলাদেশী লিনাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য বিএলইউএ একটি ফোরাম রয়েছে। এর নাম লিনাক্স ফোরাম।
অবাক হচ্ছেন তাইনা! একটা পুরো ফোরাম লিনাক্সের জন্য, তাও আবার বাংলাদেশের লিনাক্স ব্যবহারকারীদের জন্য - অথচ এ ব্যাপারটাই আপনি জানতেননা। না জানার মূল কারণ হচ্ছে লিনাক্স ফোরাম যখন থেকে শুরু হয় (২০০৫ সালে) তখনও লিনাক্স বাংলাদেশে ততটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি, তাছাড়া সেসময় লোকজন এখনকার মত ব্যাপকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতো না ফলে ব্লগে ও ফোরামগুলোতে এত লোকের আনাগোনা ছিলনা। তাই স্বল্পসংখ্যক ব্যবহারকারীর ব্যবহার করা ফোরামটি অনেকটা আড়ালেই ছিল। তাছাড়া ফোরামটি বাংলাদেশীদের জন্য তৈরি করা হলেও সেসময় বাংলা লোকালাইজেশনের সুবিধা সেরকম না থাকায় এর ভাষা ছিল ইংলিশ। ফলে মায়ের ভাষায় সেভাবে আলোচনা করতে না পারায় এবং তার কিছু পরেই অনলাইনে সম্পূর্ণ বাংলা কয়েকটি ফোরাম চলে আসায়, লিনাক্স ফোরাম কার্যত অদৃশ্য হয়ে পড়ে।
বর্তমানে বাংলাদেশে লিনাক্স প্রসার ও প্রচারে এবং নবীন ব্যবহারকারীদের জন্য লিনাক্স সম্পর্কীত বিভিন্ন আলোচনার জন্য কয়েকটি বাংলা ফোরাম ও ব্লগের অবদান অনস্বীকার্য। সত্যি বলতে কি, ঐ সব ফোরামে মাধ্যমেই লোকজন লিনাক্স সম্পর্কে উৎসাহী হয়েছে এবং এখন লিনাক্স ব্যবহার করছে। কিন্তু এতে কিছু সমস্যায়ও পড়তে হয় নতুন ব্যবহারকারীদের। যেহেতু এরকম কোনো ফোরাম বা ব্লগ নেই যেখানে সকল লিনাক্স ব্যবহারকারী একসাথে রয়েছেন, সেহেতু দেখা যায় যে সর্বোচ্চ সাহায্য পাবার আশায় একজন ব্যবহারকারী একই প্রশ্ন বিভিন্ন ফোরাম ও ব্লগে পোস্ট করেন এবং উত্তর দেখার জন্য সবগুলো ফোরাম ও ব্লগে তাকে নিয়মিত যেতে হয়। ব্যাপারটা বেশ ঝামেলার। তাই শুধুমাত্র লিনাক্সের জন্য একটা বাংলা ফোরামের অভাব সবসময়ই অনুভূত হত। এমন একটা ফোরাম যেখানে নবীন থেকে প্রবীন কিংবা নাদান থেকে ঝানু - সব ধরনের লিনাক্স ব্যবহারকারীরা একত্রিত হবেন, যেখানে নতুন ব্যবহারকারীরা সব রকমের সাহায্য পাবেন, যেখানে পুরনো ব্যবহারকারীরা তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন ব্যবহারকারীদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবেন, যেখানে লিনাক্স ব্যবহার করতে গিয়ে মুখোমুখি হওয়া যে কোনো সমস্যা নিয়ে যে কেউ নির্দ্বিধায় আলোচনা করতে পারবেন। সোজা কথায়, শুধু বাংলায় পুরোপুরি লিনাক্সময় একটা ফোরামের খুব অভাব ছিল।
বাংলা ভাষায় নির্মিত সম্পূর্ণ লিনাক্স ফোরামের এই অভাবটি এবার ঘুচতে যাচ্ছে। বিএলইউএ লিনাক্স ফোরামটিকে পুরোপুরি বাংলায় রূপান্তর করে ফেলা হয়েছে। সেই সাথে নতুন থিম ব্যবহার করে চেহারায়ও নতুনত্ব দেয়া হয়েছে লিনাক্স ফোরামকে। বলা যায় যে নতুন রূপে লিনাক্স ফোরামের পুণর্জন্ম হয়েছে। এবার লিনাক্সপ্রেমী ও লিনাক্স ব্যবহারকারীদের কলতানের অপেক্ষায় রয়েছে ফোরামটি। আপনি যদি লিনাক্স নিয়ে আগ্রহী হয়ে থাকেন কিংবা আপনি যদি লিনাক্সের দুনিয়ায় নতুন হয়ে থাকেন, যদি লিনাক্সের সাথে আরো ভালোভাবে পরিচিত হতে চান, যদি লিনাক্সের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপভোগ করতে চান, যদি লিনাক্স নিয়ে যেকোন সমস্যায় অভিজ্ঞদের পরামর্শ পেতে চান - তবে আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে লিনাক্স ফোরাম। আর আপনি যদি লিনাক্সের দুনিয়ায় পুরনো হয়ে থাকেন, আপনি যদি আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলি দিয়ে নতুনদেরকে সাহায্য করতে উদগ্রীব হয়ে থাকেন, আপনি যদি বাংলাদেশে লিনাক্স প্রচার ও প্রসারে যদি কিছু করতে চান - তাহলে আপনার জন্যও ফোরামটি অপেক্ষা করছে। আপনি যদি উপরের দু'ধরনের কোনটাই না হয়ে থাকেন, তারপরও আপনি লিনাক্স ফোরামে আমন্ত্রিত; লিনাক্স কি, এটা দিয়ে কি করা যায় না করা যায়, আপনার সব কাজ কিভাবে লিনাক্স দিয়ে করতে পারবেন ইত্যাদি নিয়ে কিছু ধারণা পাবেন। আর কিছু নাহোক, বাংলাদেশী লিনাক্স ব্যবহারকারীদের সাথে অন্তত আড্ডা তো মারতে পারবেন।
লিনাক্স ফোরাম আপনার জন্য প্রস্তুত। আপনি যোগ দিতে প্রস্তুত তো? আমরা কিন্তু আপনার নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছি...
http://forum.linux.org.bd/
প্রচারে:
বাংলাদেশ লিনাক্স ইউজার্স এলায়েন্স (বিএলইউএ)

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০১০

বান্ধবীর চিঠি যেন বউয়ের কাছে না যায় - মুনীর হাসান

(সচলায়তনে প্রকাশিত)
গত ২৩শে জুলাই বন্টু মিন্টুর আড্ডায় গিয়েছিলাম। সচলায়তন এটার লাইভ ব্লগিং পার্টনার ছিল সেটা সকলেই জানেন আশা করছি (গৌতম দাদাকে আন্তরিক ধন্যবাদ)। সেই আড্ডা সম্পর্কে একটু ছোট রিভিউ লেখার খায়েশ জাগলো বলেই .... ....।
বেশ কিছুদিন যাবৎ (সাড়ে ৩ বছর +) নিয়মিত শুধুমাত্র লিনাক্স ব্যবহার করছি বলেই, বুঝি বা না বুঝি - এ বিষয়ে খুটিনাটি বিষয়গুলো অনলাইনে পড়ে রাখার চেষ্টা করি সবসময়। কারণ আমি জানি যে, কম্পু বিষয়ে বিপদে পড়লে নিজেকেই নিজের সাহায্য করতে হবে। এই একই কারণে প্রথম যখন কম্পিউটার কিনি ১৯৯৮-৯৯ সালের দিকে, তার প্রায় দুই বছর আগে থেকে নিয়মিতভাবে কম্পিউটার জগত নামক একটা পত্রিকার শুরুর মলাট থেকে শেষ মলাট পর্যন্ত পড়তাম এবং কপিগুলো সংগ্রহে রাখতাম। নিঃসন্দেহে সেই পড়াগুলো এই যন্ত্রটাকে ভালভাবে(?!?) বুঝতে অনেক সাহায্য করেছিলো - এবং কম্পুটারের সমস্যা হলে প্রায় সবসময় নিজে নিজেই হাতুড়ে চিকিৎসা দিতে পারতাম।
যা হোক, নিজের পড়ার উপরে একটু আত্মপ্রসাদ থাকলেও বন্টু মিন্টুর আড্ডাতে গিয়ে রেভুলুশন ও.এস. তথ্যচিত্র দেখে এমন কিছু নতুন তথ্য জানলাম যা লিনাক্স ও মুক্তসোর্স সম্পর্কে নিজের আগ্রহ ও শ্রদ্ধাটাকে আরও উপরে তুলে নিল। মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনের জনক রিচার্ড স্টলম্যান সম্পর্কে বিভিন্ন সময়ে ব্লগে ফোরামে পড়েছি ... ... কিন্তু জানতামই না যে এই ব্যাটা MIT'র (= খ্যাতনামা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে গবেষণা দলের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। MIT বা স্ট্যানফোর্ড শুনলেই কেমন যেন শিরশিরে একটা অনুভুতি জাগে বেশ আগে থেকেই, আর এই ব্যাটা সেখানকারই একজন ... ...। বাকী যেসব লোকেরা এই লিনাক্স বা ওপেনসোর্স আন্দোলনের সাথে জড়িত এবং এই তথ্যচিত্রে দেখালো তারাও কিন্তু বাণের জলে ভেসে আসা কেউ না .... ... নামী সব ইউনিভার্সিটির পাগলাটে সব গবেষক। ওপেনসোর্সের জন্য কর্মরত বেশিরভাগ লোকজনই এমন সব ব্রিলিয়ান্ট লোকজন .... .... .... .... তা-ই-তো বলি, আমার কাছে জানালার তুলনায় লিনাক্স কেন এ্যাত বেশি নিঁখুত মনে হয়।
তথ্যচিত্রর শুরুর দিকে একটা হিট ডায়লগ না জানালে তো ব্লগটাই নিজের কাছে অসম্পুর্ন মনে হবে। ওপেনসোর্স পথিকৃতদের একজন বললেন যে একদিন লিফটে সুটেড বুটেড লোককে মাইক্রোসফটের লোগো বা আই.ডি. লাগানো দেখে বলেছিলেন: So .... ... you work in microsoft! ঐ লোক একটু হয়তো খুশি, জবাব দিলেন "হ ঠিকাছে, তয় তুমি কী কর চান্দু?" .... .... আমি তো একজন হ্যাকার, এ কথা ওরে বুঝাই কীভাবে ..... কিছু তো একটা বলা দরকার ... ... একটা কঠিন বিষদৃষ্টি দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে বললাম: I am your worst nightmare.
যা হোক, তথ্যচিত্রের পর শুরু হওয়া আড্ডায় এক পর্যায়ে শ্রদ্ধেয় মুনির হাসান ভাই অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন। তিনি জানালেন যে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মহোদয়কে ওপেনসোর্সের বিষয়টা উপলব্ধি করাতে পেরেছেন, তাই সরকারী কাজকর্মগুলোতে ওপেনসোর্স চলে আসছে প্রতিনিয়ত। এছাড়া, যেখানে নির্বাহী কর্মকর্তা বা চেয়ারম্যানদের প্রশিক্ষণ হয় সেই ল্যাবের কম্পিউটারগুলো উবুন্টুতে চলে। কিন্তু প্রশিক্ষণ অফিসের যেই কম্পুতে তিনি উবুন্টু রেখেছিলেন, পরবর্তী ব্যক্তি সেটা আবার জানালাতে নিয়ে গেছে, কিন্তু ল্যাবের গুলো পরিবর্তন করেনি ... ... কারণ জানালা বিশিষ্ট নেটওয়র্কের জানালা গলে অনেক ঝামেলা চলে আসে যা উবুন্টুতে হয় না। এরকম একবার উবুন্টু আবার জানালা দেখে মনখারাপের কিছু নাই, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, আর এভাবেই আগুপিছু করতে করতে একসময় ওপেনসোর্স চুরি করা জানালার স্থান নিয়ে নেবে।
এই প্রসঙ্গে তিনি আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বললেন যেটা নিঃসন্দেহে আমাদের নীতিনির্ধারক মহলের মাথাতেও দিয়েছেন - সেটা হল "বান্ধবী বা গার্লফ্রেন্ডের কাছে লেখা চিঠির কপি যেন বউয়ের কাছে চলে না যায়" - নাইলে কিন্তু বিরাট ক্যাচালের মধ্যে পড়তে হবে! জানালাতে তথ্যচুরির কিছু ব্যাকডোর মাঝে মাঝে ইচ্ছাকৃতভাবেই দেয়া হয়, এবং NSA নামক উইজেটের কী কাজ, এই ব্যাপারে মাইক্রোসফট কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি; তবে এটা খুবই স্পষ্ট যে এন.এস.এ. আমেরিকার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির নামের অদ্যক্ষর ... কাজেই এই উইজেট কী করছে সেটা সহজে অনুমেয়।
মুনির হাসান ভাইয়ের মুখে এই কথা শুনে আমার একটা পঠিত ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল। জার্মানীর পার্লামেন্ট জানালা বাদ দিয়ে লিনাক্সের দিখে ঝুকেছে এমন খবরটা ২০০১ সালের; কারণ হল জানালার খরচ বেশী ছাড়াও এর ফাঁক গলে সমস্ত গোপনীয়(!) তথ্য আমেরিকায় চলে যাচ্ছে বলে একটা থলের বেড়াল বের হয়ে পড়েছিলো। ব্লগটি লেখার জন্য এই খবরের রেফারেন্সের জন্য গুগল করলাম একটু ... ...সামান্য কিছু অবশিষ্ট খবর পেলাম এখানে এবং এখানে
আড্ডার এমন পর্যায়ে চা বিরতি দিয়েছিলো, আর আমিও এর পরে থাকতে পারিনি (শুক্কুরবারেও ক্লাস নিতে হয় মন খারাপ ) ... ... তাই বাকীটুকুর জন্য হয় গৌতম দাদা অথবা রণদীপম দাদার পোস্টের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নাই ... .... থুক্কু ...সকাল সকাল ব্লগ লিখে সচলে পোস্টাইতে এসে দেখি রণদীপম দাদা দারুন একখান পোস্ট দিয়ে ফেলেছেন গতরাতেই