বুধবার, ১৮ মে, ২০১১

ছবি রিসাইজ বা রোটেট করা এতই সোজা!

এক বা একাধিক ছবি সিলেক্ট করে মাউসের ডান ক্লিকে যেই মেনুটা খোলে সেখানে Resize Images .... এবং Rotate Images .... আসলে কার না ভালো লাগে। বিশেষত ফেসবুক বা অন্য সাইটগুলোতে ছবি আপলোডের সময় এইরকম করা তো খুবই দরকার। এই কাজটাই করার উপায় জানিয়ে রাখি:
আগে দেখি কীভাবে কাজ করে: দেখুন ছবির উপর ডান ক্লিকে কী দেখাচ্ছে (একাধিক ছবির ক্ষেত্রেও একই তরিকা)



এরপর Resize Images ... এ ক্লিক করলে যেই অপশনগুলো আসবে সেটা দেখুন:


উপরের ছবিতে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, ইমেজের সাইজ ৩ ভাবে দেয়া যায়। প্রথমত নির্দিষ্ট সাইজ থেকে সিলেক্ট করে। অথবা সরাসরি কত পার্সেন্ট ছোট করবে সেটা বলে দিতে হবে। আর ৩য় অপশন হল কাস্টম পিক্সেল সাইজ। আমার ছবিটা পাশে বড়, তাই আমি শুধু পাশে ৬০০ পিক্সেল হবে বলে দিলাম। উচ্চতা অটোমেটিকভাবে ঠিক হয়ে যাবে। এছাড়া দেখুন নতুন যেই ছবিটা আসবে সেটা আগের ছবির সাথেই সেভ হবে, কিন্তু নামের সাথে .resized কথাটা ডিফল্টভাবে লেগে যাবে (‌Append), ফলে ওভাররাইট হওয়ার সুযোগ নাই। এখানে নিজের ইচ্ছামত যেকোনো কিছুই দেয়া যায়। ব্যাস কাজ শেষ। Resize বাটনে চাপ দিলেই কেল্লা ফতে।

একইভাবে রোটেট সিলেক্ট করলে নিচের মত অপশন আসবে:



আমি একটু দুষ্টামি করে ৪৫ ডিগ্রি দিলাম। আউটপুট দেখেন নিচে:



কিভাবে এই কেরামতি মার্কা মেরামতি আপনার ডান ক্লিকে আনা যায় জানতে কৌতুহল হচ্ছে নাকি? তবে নিচের ছবি দেখুন সব ফকফকা লাগবে:



উবুন্টুর সফটওয়্যার কয়েকভাবে ইনস্টল করা যায়। আমি সহজতমটা দেখাচ্ছি। মেনু থেকে উবুন্টু সফটওয়্যার সেন্টারে ক্লিক করলে যেই উইন্ডো খোলে সেটার সার্চ বক্সে লিখুন nautilus-image আর লেখার আগেই আপনাকে শর্টলিস্ট করে এরকম তিনটা নাম দেখাবে। সেখান থেকে nautilus-image-converter টার ডানদিকের ইনস্টল বোতামে চাপ দিন। আমি ইতিমধ্যেই ইনস্টল করে ফেলেছি দেখে ইনস্টল বোতামের বদলে রিমুভ বোতাম দেখাচ্ছে। সাইজ ৩-৪শ কিলোবাইট বলে মনে পড়ছে।

একই কাজ সিনাপ্টিক থেকেও করা যায়।

হ্যাপি বুন্টু মিন্টিং।

টিপসটার জন্য উবুন্টু মেইলিং লিস্টে সগীর ভাইয়ের প্রশ্নের জবাবে রিং ভাইয়ের উত্তরে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সোমবার, ৯ মে, ২০১১

জরিপ: বাংলাদেশে কয়জন লিনাক্স ব্যবহার করেন?

উবুন্টু বাংলাদেশ মেইলিং লিস্টে জনৈক মেহদী ভাই হঠাৎ জানতে চাইলেন - আসলে বাংলাদেশে কতজন লিনাক্স ব্যবহার করে। কেউ বলে শ, কেউ কয় হাজার। তখন মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো, জরিপ করা হউক। এই জরিপে আপনি বা আপনার পরিচিত লিনাক্স ব্যবহারকারীর হয়ে ফর্ম পূরণ করে দিতে পারেন।

কয়েকজনে মিলে গুগল ডকসে একটা জরিপ স্প্রেডশীট বানালাম। ডেটা এন্ট্রি করতে হবে ফর্ম ফিলাপ করে - অপশনাল মন্তব্যের ঘরে কেউ যদি কাহিনী না লিখেন তাহলে এটাতে ২ থেকে ৫ মিনিট লাগতে পারে। সকলের জন্য ফোন নং বা ইমেইলের মত তথ্যগুলো উন্মুক্ত করা ঠিক নয়, তাই এই ডেটা শুধুমাত্র আমি বা শিপলু দেখতে পারি। কিন্তু মানুষের তথ্যতে অধিকার আছে। তাই ইমেইল, ঠিকানা ও ফোন নং-এর মত তথ্যগুলো লুকিয়ে রেখে বাকীগুলো নিয়ে একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা (!) প্রকাশ করে রেখেছি। প্রতিদিন এটাকে আমি একবার করে সর্ট করে রাখবো যাতে জেলা অনুযায়ী কয়জন সেটা সহজে বোঝা যায়।

প্রবাসীগণ এই ফর্ম পূরণের সময়ে জেলার স্থলে সর্বনিম্নে "প্রবাসী" এন্ট্রি ব্যবহার করতে পারেন।

নিচে ফর্মটা এমবেড করে দিলাম। যদি কোন কারণে এটা দেখতে না পারেন তবে সরাসরি এই লিংক থেকে ফর্ম ফিলাপ করতে পারেন। অন্যকে বলার জন্য সহজ লিঙ্ক হল http://bit.ly/lubd11 (lubd11 = Linux Users Bangladesh 2011)। আর কথা না বাড়াই, ধন্যবাদ।
.

বৃহস্পতিবার, ৫ মে, ২০১১

PTC হল প্রতারককে সাহায্য করা – ভুল বললে শুধরিয়ে দিন

কিছু বাংলা ব্লগসাইটে PTC বা Pay to Click নিয়ে পোস্টের ছড়াছড়ি দেখে খারাপ লাগে। পিটিসি টাকা ইনকামের কোন সম্মানজনক পদ্ধতি বলে মনে হয় না কখনই। এটা সংঘবদ্ধ প্রতারককে সহযোগীতা করার একটা পদ্ধতি ছাড়া কিছুই না।

কিছুদিন আগে আমাদের দেশে বেশ কিছু কাজ আসতো, ছবি দেখে ওখানে যা লেখা আছে তা টাইপ করার কাজ। ছবির লেখাগুলো খুব সাধারণ আর দৈর্ঘ্যও খুব বেশি না - একটা কি দুইটা শব্দ। পাবলিক তো ভাবলো, আহ্ কি সহজ কাজ -- টাকাও কামাইলো। কিন্তু ফলাফল হল বাংলাদেশের অনেক আইএসপি এখন ব্ল্যাক লিস্টেড এই কারণে। কারণটা কী? জানতে চান?

কারণ - এগুলো ছিল ক্যাপচা পূরণের কাজ। বিভিন্ন সাইটে রেজিস্ট্রেশন বা পোস্ট করার জন্য স্প্যাম ঠেকানোর জন্য ক্যাপচা দেয়া হয়। উদ্দেশ্য হল অটোমেটিক কোন স্ক্রিপ্ট দিয়ে এখানে তাহলে স্প্যামারটা কিছু পোস্ট করতে পারবে না - কারণ অটোমেটিক স্ক্রিপ্ট এই ক্যাপচা পূরণ করতে অক্ষম। দুষ্টু স্প্যামাররা তখন সেই কাজ করার জন্য এই কাজ আউটসোর্সিং করলো। ওদের স্ক্রিপ্ট একটা করে ক্যাপচা নিয়ে আসে আর এখানকার লোক টাকার জন্য সেটা পূরণ করা মাত্র ওদের স্ক্রিপ্ট ওখানে একটা স্প্যাম পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু দোষ হয় এখানকার আইপি'র। কারণ ওখানকার এডমিনরা দেখে যে, এখানকার আইপি থেকে এই ক্যাপচা পূরণ করে স্প্যাম পোস্ট করা হয়েছে।

এবার আসি পিটিসির ব্যাপারে। অ্যাডসেন্স কিভাবে কাজ করে সেটা বুঝতে হবে এজন্য। ইন্টারনেটে কোনো কম্পানি বিজ্ঞাপন দিলে সেটার জন্য পেমেন্ট দেয়ার সিস্টেমটা বেশ সুন্দর। তবে সেটা বলার আগে ইন্টারনেটের বদলে বাইরের বিজ্ঞাপনের কথা বলি .... ... একটা বিলবোর্ডে বিজ্ঞাপন দিলে সেটার ভাড়া স্থানভেদে ভিন্ন হয়। ঢাকার ফার্মগেটের মত জায়গায় যেখানে প্রচুর লোক এই বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে বড়সড় একটা বিলবোর্ডের ভাড়া মাসে লাখটাকার মত, আর একই বিলবোর্ড মিরপুর বা অন্য জায়গায় হলে সেটার ভাড়া ত্রিশহাজার টাকার মত। ভাড়ার এই তারতম্যের কারণ হল এই বিলবোর্ড কতজন সম্ভাব্য কাস্টমারের কাছে পণ্যটার কথা পৌঁছে দিচ্ছে সেটা। বেশি কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিলে চার্জ বেশি, আর কম কাস্টমারে চার্জ কম। একই কারণে বেশি প্রচারসংখ্যার পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের চার্জ বেশি (বেশি লোকের কাছে পণ্যের বিজ্ঞাপন পৌঁছাচ্ছে)। প্রথম আলোর মত পত্রিকার প্রথম পাতায় একবার (১ দিন) ৩*৫ বর্গইঞ্চি বিজ্ঞাপনের চার্জ লাখটাকা, কিন্তু একই বিজ্ঞাপন ৭ নম্বর পাতায় দিলে সেটার চার্জ ২০ হাজার -- কারণটা একই ... প্রথম বা শেষ পাতার বিজ্ঞাপন বেশি লোক দেখে, ভেতরের পাতার বিজ্ঞাপন দেখে কম মানুষ।

ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে এই বিজ্ঞাপনের রেট আরো বেশি যুক্তিসংগত করা গেছে। শুধুমাত্র সম্ভাব্য কতজন ক্রেতা সেই বিজ্ঞাপন দেখছে সেটার উপর ভিত্তি করে এখানেও ভাড়া বা মূল্য পরিশোধ করা হয়। একটা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে এটা সম্পর্কে আরেকটু ডিটেইলস খোঁজ খবর নেবে শুধুমাত্র আগ্রহী ক্রেতা, অন্যরা এই ব্যাপারে আগ্রহী না হলে এটাতে ক্লিক করার মত কাজ করে সময় নষ্ট করবে না। যেমন: আমি যখন ক্যামেরা কেনার কথা চিন্তা করি তখনই শুধু বিভিন্ন ক্যামেরার বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে স্পেসিফিকেশন দেখবো, কেনার চিন্তাভাবনা না থাকলে শুধু শুধু ক্লিক করে সময় ও ব্যান্ডউইড্থ নষ্ট করবো না। আবার, কখনো দেখা যায় ভুল ক্রমে কেউ একটা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে ফেলেছে - তখন দ্রুত সে ঐ সাইট থেকে বেরিয়ে যায়, বিজ্ঞাপনে কী লেখা আছে সেটা পড়ার দরকার বোধ করে না।

তাই ইন্টারনেটে বিজ্ঞাপন দাতাগণ এখানে বিজ্ঞাপনে কতগুলো ক্লিক হয়েছে সেটার উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন প্রকাশের সাইটকে মূল্য পরিশোধ করে। তবে আগ্রহী ক্রেতা তারাই যারা অন্তত ৩০ সেকেন্ড ঐ বিজ্ঞাপনটা দেখেন, এর চেয়ে কম দেখলে তিনি আসলে আগ্রহী ক্রেতা নন, ভুলক্রমে ঐ সাইটে ক্লিক করে ঢুকেছিলেন বলে ধরা হচ্ছে।

এইখানেই পিটিসি সাইটগুলো চিট করে। আপনি ক্লিক করে ঢুকছেন, ৩০ সেকেন্ড থাকছেন --- কাজেই আপনি সম্ভাব্য ক্রেতা। এই ক্লিকের জন্য বিজ্ঞাপনদাতা সাইটকে পে করবে। আর সাইটওয়ালা আসলে অসৎ ... ... কারণ তার সাইটে আসলে জেনুইন ক্রেতা ক্লিক করে নাই, করেছে ভাড়া করা ক্রেতার অভিনেতা (আপনি)। তাই তার ইনকাম থেকে কিছু অংশ আপনার অভিনয়ের চার্জ হিসেবে দিয়ে দিচ্ছে।

একই কারণে একই বিজ্ঞাপনে একাধিকবার ক্লিক করা নিষেধ। কারণ সেখানে মূল বিজ্ঞাপনদাতার একজন সম্ভাব্য ক্রেতার জন্য একবারই মূল্য পরিশোধের কথা। আপনি একাধিকবার ক্লিক করলে সেটার জন্য সাইটওয়ালা চার্জ করবে এতে সাইটওয়ালাকে বিজ্ঞাপনদাতা এর জন্য টাকা তো দেবেই না উল্টা মিথ্যাবাদী বলবে আর ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপনও দেবে না। তাই সাইটওয়ালারা এই অভিনেতা ক্রেতা আনার ব্যাপারে খুবই সতর্ক। একাধিক ক্লিক করলে পিটিসি একাউন্ট বাতিল ... .... .... মিয়া প্রতারণার সহযোগী হতে হলে আরো স্মার্ট হতে হবে - সহযোগীতা করতে গিয়ে ওস্তাদরে ফাঁসায় দিবেন নি - আপনি বাতিল!
এই হইলো কাহিনী।

পুরাটা আমার কমনসেন্স থেকে লিখেছি। ভুল থাকতে পারে। থাকলে ধরিয়ে দিবেন আশা করছি ... ... আর সিদ্ধান্ত নিবেন - এই প্রতারণার সহযোগী হবেন কি না।

শনিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১১

ফ্রী ক্যাড প্রোগ্রাম (পূণর্লিখিত)

কম্পিউটার ব্যবহার করছেন কিন্তু অটোক্যাডের নাম শোনেননি এমন পাঠক হয়তো পাওয়া যাবে না। অটোডেস্ক কোম্পানির এই সফটওয়্যারটি পুরকৌশলে ক্যাড (কম্পিউটার এইডেড ড্রইং) কাজের জন্য অলিখিত স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন কাজে অটোক্যাড প্রোগ্রামটি এদেশেও বহুল ব্যবহৃত হয়; এমনকি কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের ডিপ্লোমা পাঠ্যক্রমেও এই সফটওয়্যার ব্যবহারের কোর্স আছে (অনেক আগে একবার সেই কোর্স পড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলাম!)।

অটোক্যাড শেখার জন্য বাজারে দারুন সব বই পাওয়া যায়। তবে প্রাথমিক কাজগুলো শিখে ফেললে ঐ মোটা বইগুলোর বদলে পকেট রেফারেন্স হ্যান্ডবুক বেশি কাজে লাগে। দেশে অটোডেস্ক সার্টিফায়েড ট্রেনিং সেন্টারগুলোও দারুন ব্যাবসা করছে। আমি অবশ্য সেই বই পড়ে এটা ব্যবহার করা শিখেছিলাম। তবে সত্যিকারের কাজ তেমন না থাকাতে উৎসাহটা খুব দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আমি মূলতঃ পুরকৌশলী (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার), তাই প্র্যাকটিসের জন্য যে বাসাগুলোতে থাকতাম সেগুলোর ক্যাড ড্রইং করে ফেলতাম। এছাড়া অবশ্য খুব ক্ষুদ্র পরিসরে দুই/তিনটা কাজ করেছিলাম।

সেই সময়ে বাসা বাড়ির ড্রইং করার জন্য আরো কিছু ক্যাড সফটওয়্যার ঢাকাতে পাওয়া যেত। এমন একটার নাম থ্রিডি হোম আর্কিটেক্ট। এটা খুব সহজ এবং মজার হলেও অটোক্যাডের মত স্বাধীনতা থাকতো না। তবে সুবিধা হল বিভিন্ন ক্যাড প্রোগ্রামগুলোকে একটা সাধারণ ফরম্যাটে সংরক্ষণ করে ফাইল আদান প্রদান করা যায়। তাই ঐটা দিয়ে দ্রুত একটা ড্রইং এর কাঠামো দাঁড় করিয়ে পরবর্তীতে অটোক্যাড দিয়ে সেটাকে মানুষ করা যেতে পারে।

কিন্তু পাইরেসি থেকে দুরে থাকার লক্ষ্যে বেশ কয়েকবছর যাবত আমি মোটেও অটোক্যাড ব্যবহার করিনা। বরং ঠিক অটোক্যাডের মত কিছু ফ্রীওয়্যার ব্যবহার করি। এই লেখায় আপনাদেরকে সেই ক্যাড সফটওয়্যারগুলো সম্পর্কে যৎসামান্য জানি তা বলার চেষ্টা করবো।

প্রোজক্যাড


যখন ল্যাপটপে উইন্ডোজ ব্যবহার করতাম তখন ক্যাডের জন্য ব্যবহার করতাম ProgeCAD নামে একটা প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামটির নিজস্ব ইন্টারফেস ছাড়াও হুবহু অটোক্যাড ইন্টারফেস আছে যেটা ইনস্টলের সময়ই নির্ধারণ করে দেয়া যায়; এমনকি অটোক্যাডের সমস্ত কমান্ডও এখানে হুবহু একই কাজ করে। ProgeCAD-এর এই ফ্রীওয়্যারটির ক্ষমতা সীমিত — যা 2D টু-ডাইমেনশনাল ড্রাইং পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। 3D, অ্যানিমেশন, রেন্ডারিং এটা দিয়ে করা যায় না …. বিদেশে উচ্চতর লেখাপড়া করার সময় আমার টুকটাক ড্রাইং-এর জন্য এটাই যথেষ্ট ভালো সাপোর্ট দিয়েছিল। কিছুদিন আগেই এটার নতুন ভার্সান বাজারে ছাড়লো। যথারীতি 2D ক্ষমতার ফ্রী ভার্সানটিও আছে। উচ্চতর কাজের জন্য এটার প্রোফেশনাল ভার্সানগুলো যথেষ্ট দাম দিয়েই কিনতে হবে, তবে সেগুলো অটোক্যাডের চেয়ে সস্তা। এটার লেটেস্ট ভার্সনটারও একটা ফ্রী ট্রায়াল ভার্সন আছে, তবে আগের বছরগুলোতে ফ্রী ট্রায়ালটার অসীম সময়ের জন্য কিন্তু সীমিত ক্ষমতার হত (2D), কিন্তু ইদানিংকার ফ্রী-ট্রায়ালগুলো পূর্ণ ক্ষমতার কিন্তু সীমিত সময়ের জন্য (১ মাস)।

এটার কোনো লিনাক্স ভার্সান নাই, তবে wine নামক একটা পদ্ধতিতে এটা লিনাক্সেও ব্যবহার করা যাচ্ছে। এই সফটওয়্যার দিয়ে আঁকা আমার একটা ড্রইং-এর নমুনা দেখেন; লেখাগুলো পরবর্তীতে ডকুমেন্টে পেস্ট করার পর ওপেন অফিস থেকে করা হয়েছে।


কিউক্যাড

এই মাত্র তিন বছর আগেও লিনাক্সে (উবুন্টুতে) ক্যাডের জন্য ভালো কিছু ছিল না। তাই ইউজার ফোরামগুলোতে এই নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হত, এমনকি ওয়াইন নামক সফটওয়্যার দিয়ে অটোক্যাড চালানোর জন্যও সাহায্য চেয়ে পোস্ট থাকতো। তখন বেশ কিছু ক্যাড সফটওয়্যারের নাম জানতে পারি। ব্রিক্সক্যাড নামক একটা সফটওয়্যারের স্ক্রীনশট দেখে বেশ পছন্দ হয়েছিল। এটার উইন্ডোজ এবং লিনাক্স ভার্সান ছিল, কিন্তু কোনটাই ফ্রী ছিল না; তাই শুধু ক্রীনশট দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিলো। এছাড়া আরো ডজনখানেক ক্যাড সফটওয়্যারের মধ্যে স্যাগক্যাড(SagCAD) এবং কিউক্যাডকে (QCAD) একটু জাতের মনে হয়েছিলো। স্যাগ ক্যাড দিয়ে কিছু আঁকা গেলেও কিউ ক্যাডের কিছুই বুঝতে পারি নাই সেই সময়ে।

কিন্তু দিন বদলেছে; উবুন্টু ৮.০৪ বা ৮.১০ থেকে QCAD প্রোগ্রামটা দিয়ে কাজ করার পদ্ধতি জেনে গেলাম (অথবা প্রোগ্রামটা উন্নত হওয়াতে সেটা করতে পারলাম)। এখন (উবন্টু ১০.১০, মিন্ট জুলিয়া ইত্যাদিতে) অনায়েসে অতি সহজে এটা দিয়ে প্রয়োজনীয় আঁকাআঁকির কাজ করছি। রিবনসফট কোম্পানির এই সফটওয়্যারটির লিনাক্স ভার্সান ফ্রী, উইন্ডোজেও কমিউনিটি ডেভেলপড একটা ওপেনসোর্স এবং ফ্রী ভার্সান আছে বলে ওদের ওয়েবসাইটে দেখলাম। উবুন্টু লিনাক্স থেকে এটা দিয়ে খুব তাড়াহুড়া করে আঁকা একটি নমুনা দেখুন।

একটা স্পনিং মিলের লেআউট প্ল্যান করে দিয়ে এই খাতে আমার প্রথম কনসালটেন্সির রোজগারটাও কিউক্যাড দিয়েই করেছিলাম। একটা ট্রায়ালের নমুনা আউটপুট দেখুন


এবার একটু 3D মডেলারের কথা বলি, এগুলো আমার ঠিক কাজে লাগে না তবে দেখার জন্য নামিয়েছিলাম:

সুইট হোম থ্রিডি


Sweet Home 3D পুরা থ্রীডি হোম আর্কিটেক্টের মত একটা সফটওয়্যার, তবে এটা ওপেনসোর্স। এটা দিয়ে দারুন মডেল করা যায়। এটা উইন্ডোজ, ম্যাক বা লিনাক্সে চলে। ডাউনলোড পাতার লিংক। আমার গুতাগুতির একটা ফলাফলের স্ক্রিনশট দেখুন:



গুগল স্কেচআপ


এটা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই। ইতিমধ্যেই দেশের আর্কিটেকচারাল ফার্মগুলো দ্রুত মডেল বানানোর জন্য এটা ব্যবহার করা শুরু করেছে। আমার হাতুড়েগিরি করা একটা মডেলের ছবি দেখুন।


ফ্রী (কিন্তু ওপেনসোর্স নয়) এই সফটওয়্যারটা মূলত ম্যাক ও উইন্ডোজের জন্য হলেও ওয়াইন দিয়ে লিনাক্সে অনায়েসেই চালাচ্ছি।


==============
পুরকৌশলে ব্যবহৃত কয়েকটি ক্যাড সফটওয়্যারের ওয়েবপেজের লিংক এবং দামের তালিকা:

নাম দিয়ে গুগলে সার্চ দিলে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে।
(একই সাথে টেকটিউনসে প্রকাশিত)

বৃহস্পতিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১১

GIMP দিয়ে সহজে এনিমেশন বানানো

আমি হাতুড়ে গিম্প ব্যবহারকারী। গিম্প একটা ওপেনসোর্স ও ফ্রী সফটওয়্যার যেটা দামী ফটোশপের বিকল্প হিসেবে ব্যাক্তিপর্যায়ে ব্যবহার করা যায়। আরও মজার ব্যাপার হল গিম্প লিনাক্সের বেশিরভাগ জনপ্রিয় ডিস্ট্রিবিউশনের সাথেই দেয়া থাকে, এমনকি লাইভ সিডি থেকেই চালানো যায়। এছাড়া উইন্ডোজ আর ম্যাকেও গিম্প চলে। আমি যেহেতু এনিমেশন বা গ্রাফিক্সের কাজ করে লাখ লাখ টাকা কামাই না, শুধু শখের বশে এটা ওটা করি তাই অত টাকা খরচ করে ফটোশপ কেনার প্রয়োজন দেখি না। আমার যেই কাজ সেটার জন্য গিম্পই যথেষ্টর চেয়েও বেশি।
সাধারণত সহজ সরল এনিমেশন বানানোর জন্য গিম্পের উপরই ভরসা করি এখনো। প্রথমে সহজ সরল বলতে কী বুঝাচ্ছি সেটা দেখেন একটু:

এটা ৭৫x৭৫ পিক্সেলে করা একটা ইমেজ। এটাতে তিনটা ছবি ১ সেকেন্ড পরপর দেখাচ্ছে। এ ধরণের এনিমেশন (এটাকে যদি এনিমেশন বলার দূঃসাহস দেখাই) বানানো যায় গিম্প দিয়েই।
এটা করা অসম্ভব সোজা। গিম্পর লেআউটও ফটোশপের মতই। এজন্য শুধু আলাদা আলাদা লেয়ারে বিভিন্ন ছবি জিনিষ রেখে সেটাকে সেভ এ্যাজ করে gif ইমেজ হিসেবে সেভ করতে হয়। তারপর সেভ করার সময় এনিমেশন অপশনটা সিলেক্ট করতে হয়। উপরের ইমেজটাও gif ইমেজ যেটাতে তিন লেয়ারে তিনটা ছবি/টেক্সট দেয়া হয়েছে।

এই ছবিটা বানানোর জন্য অবশ্য শুরুতে একটা নতুন ব্ল্যাংক ফাইল খুলেছিলাম। File –-> New থেকে। আপনারা এভাবেও করতে পারেন কিংবা একটা ছবিকেও গিম্প দিয়ে খুলে তার উপর কাজ করতে পারেন। নতুন ফাইল খুললে এমন একটা উইন্ডো আসে যেখানে আপনার পছন্দ বা পরিকল্পনা অনুযায়ী সাইজ, রেজুলুশন, ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিক করে দিতে পারবেন।

এরপর সুবিধামত লেয়ারগুলোতে ছবি রাখুন। আমার কাজের স্ক্রিনশট এরকম: ওহহো পুরা স্ক্রিনশট নিলে অনেক বড় ছবি হবে তাই দরকারী শুধু লেয়ার প্যানেলটা দেখালাম। এই প্যানেলের নিচে যেই আইকনগুলো দেখছেন সেগুলোর দিয়ে নতুন লেয়ার যোগ করা, ডুপ্লিকেট লেয়ার বানানো, লেয়ার মুছে ফেলা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ করা যায়। ওগুলোর উপরে মাউস নিয়ে গেলেই টুলটিপে সাহায্য দেখাবে। এই একই কাজগুলো মেনু থেকেও করা যায়, সম্ভবত শর্টকাট কী-ও আছে।


সব লেয়ার রেডি হলে এরপরের কাজ হল File মেনু থেকে Save as সিলেক্ট করা। কিংবা শর্টকাট কী Shift+Ctrl+S। এতে যে উইন্ডো খুলবে সেটাতে কোথায় সেভ করবেন সেটা দেখায় দেয়া ছাড়াও gif হিসেবে সেভ করার জন্য দেখিয়ে দিতে হবে। এজন্য নিচের বামদিকে: Select File Type (By Extension) লেখাটায় ক্লিক করলেই নিচে বিভিন্ন অপশন পাবেন। সেখান থেকে GIF Imageটা সিলেক্ট করতে হবে। তারপর নিচের Save এ ক্লিক করতে হবে।
এতে নিচের ছবির মত একটা অপশন আসবে। এতে আপনাকে Save as Animation সিলেক্ট করে দিতে হবে। (ডিফল্ট হিসেবে অন্যটা থাকে) … বুঝতেই পারছেন এটা না করলে এনিমেট না করে সব লেয়ার মার্জ বা ফ্ল্যাটেন কর দেবে। অপর অপশনটা ঠিক আছে কি না চেক করে Export এ ক্লিক করুন।

এটা করলে গিম্প আপনাকে এনিমেশনের বৈশিষ্ট ঠিক করার জন্য GIF Options নামে নিচের ছবির মত আরেকটা উইন্ডো দেখাবে।

এখানে আপনাকে নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী অপশন সিলেক্ট করতে হবে। তারপর Save দিতে হবে।
  • উপরে আমি Loop forever এ চেক দিয়েছি – এতে অ্যানিমেশনটি অনবরত চলতে থাকবে। এটা না দিলে একবার দেখিয়েই থেমে যেত।
  • Delay ১০০০ মিলিসেকেন্ড (=১ সেকেন্ড) দিয়েছি। এতে প্রতিটা লেয়ারের ছবি ১ সেকেন্ড করে দেখাবে। (অর্থাৎ আমার তিনটি লেয়ার মোট ৩ সেকেন্ডে দেখাবে)
  • One frame per layer (replace) দিয়েছি। এতে প্রতিটা ছবি আলাদা আলাদা ভাবে দেখাবে। অন্য অপশনটায় একটার উপরে আরেকটা একসাথে দেখাতো।
ব্যাস হয়ে গেল এনিমেশন করা ইমেজ।

এখানে আরেকটা উদাহরণ যোগ করলাম। এখানে দুইটা লেয়ার এবং মাঝখানে ২ সেকেন্ড গ্যাপ দেয়া হয়েছে (=২০০০ মিলিসেকেন্ড), অনন্ত লুপ হিসেবে রাখা হয়েছে।

এটাতে দুইটা ছবি। ৫০০ মিলিসেকেন্ড বিরতি।

উইন্ডোজের জন্য গিম্প ডাউনলোড করা যাবে এখান থেকে (১৯.৪ মেগাবাইট): http://gimp-win.sourceforge.net/stable.html