শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

GIMP গিম্প এ গুতাগুতি

বাবা-মার পুরাতন কিছু ছবি একটা এলবামে ছিল। সেগুলো স্ক্যান করলাম। কয়েকটা ছবি লালচে ছিল। সেগুলো একটু ফটো এডিটরে দিয়ে চেষ্টা করতেই দূর্দান্ত কালার চলে আসলো। ক) নিচে এরকম ছবি, আর কিভাবে করেছি সেটার এককটা ৩:৩২ মিনিটের ক্লিপ দিলাম। খ) এছাড়া আরো একটা এডিট করা ছবি, আগে পরে দিলাম (ভিডিও নাই)। গ) তৃতীয়ত, বাবা-মা'র একটা পুরাতন সাদাকালো ছবিকে স্ক্যান করার পর ঠিক করে তারপর ভাবলাম রঙিন বানাই। একটু ঘষাঘষি করা পর অসংখ্য অপশন চলে আসলো -- যেটা খুশি বেছে নাও। ১৬ সেকেন্ডের একটা ক্লিপে সেটা দেখালাম।

ক)



 

 


 

খ)

 



 

গ)



রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

ফুকেট ও ব্যাংকক ভ্রমণ - ৫

(আগের পর্বগুলো:
ফুকেট ও ব্যাংকক ভ্রমণ - ১
ফুকেট ও ব্যাংকক ভ্রমণ - ২
ফুকেট ও ব্যাংকক ভ্রমণ - ৩
ফুকেট ও ব্যাংকক ভ্রমণ - ৪))
৪৭।
সক্কালে উঠে প্রথম কাজ ছিল ফ্রেশ হওয়া। আর গরম পানি থাকাতে গোসল করতেও বেশ আগ্রহ জাগে। তাই ব্রেকফাস্ট করতে যাওয়ার আগেই এই পর্বগুলো শেষ করলাম। ব্রেকফাস্টের জায়গায় গিয়ে দেখি এখানে এলাহী কারবার! নিচতলায় তিনটা রেস্টুরেন্টের জায়গা মিলে ব্রেকফাস্টের আয়োজন। করিডোর থেকে হাফওয়াল দিয়ে আলাদা করা প্রথম রেস্টুরেন্টের মধ্য দিয়ে প্রবেশমুখেই একজন দাঁড়িয়ে রুমনম্বর চেক করে নিল – কারণ সকালের নাস্তা রুম বুকিংএর অন্তর্গত। সেই রেস্টুরেন্ট পার হয়ে ৪টি সিড়ি নেমে মূল বুফে রেস্টুরেন্টে উপস্থিত হলাম। এটা থেকে বামদিকে ৬ সিড়ি উপরে আরেকটা চেয়ারটেবল বিছানো রেস্টুরেন্ট – সেটার ভেতর দিয়ে ওয়াশরুমে যেতে হয়।

এই সাত সকালেও রেস্টুরেন্টে লোকজন গমগম করছে। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম আইটেম দেয়া। ডানদিকের দেয়াল ঘেঁষে বিভিন্ন রকম চা-কফি-হটচকোলেট মেশিনের সুইচ টিপে সংগ্রহ করতে হয়। এর পরের টেবিলে জুসের মেশিন, যা থেকে তিন রকম জুস বের হচ্ছে। এরপর ডান-বাম বিস্তৃত কাউন্টার যেখানে থরে থরে ফ্রেশ খাবার সাজানো। ডিম সিদ্ধ, ভাজা, পোঁচ সব ধরণের অপশনই আছে। সাথে আছে দুই রকমের প্যানকেক। মধু, জ্যাম-জেলি, মাখন সহ কন্টিনেন্টাল আইটেম। কক্ষের মাঝখানে কলামের সাথে দেশীয় আইটেম – চাপাতি, ভেজিটেবল কারি, ডাল, চিকন চালের ভাত। এক জায়গায় বিভিন্ন রকম ফ্রুটস আইটেম। আরো দুইটা টেবিলের একটাতে বিভিন্ন রকম ডেজার্ট, আর আরেকটাতে বিভিন্ন রকম ব্রেড – সাথে টোস্ট করে নেয়ার যন্ত্রপাতি। খুব উপভোগ্য নাস্তা করলাম সেখানে।

৪৮।
ব্রেকফাস্টের পর আজকের ট্যুর (প্যাকেজর সাথে ছিল) চিড়িয়াখানা(সাফারি ওয়ার্ল্ড) ভ্রমণ। আজকেও যথারীতি একটা ছাদউঁচু মাইক্রোবাস। ড্রাইভার আমাকে সম্বোধন করলো মিস্টার মা'। আমি বলি লে-হালুয়া, আমার নামের প্রথম অংশ যেটা বাপের নামের শেষের অংশ ছিল, আর সেটা ধরে ডাকতো বলে সামনে নিয়ে এসেছে সেই মিয়াতেই এসে ঠেকলো, তাও আবার অপভ্রংশে! যা হোক এটাও কয়েকটা ইন্ডিয়ান/বাঙ্গালি ফ্যামিলি দিয়ে টইটুম্বুর ভরে গেল। সকলেই সম্ভবত এই হোটেলে, আর এই গাড়িটার গায়ে বাংলাতেও এশিয়ান হলিডেজ লেখা ছিল। তবে ড্রাইভার সাহেব থাই নাগরিক। লোক ভাল।

এখানে সারি সারি মাইক্রোবাস, বড়বাসে শ'য়ে শ'য়ে যাত্রী গাইডেড ট্যূরে এসেছে; সাথে কোনো একটা স্কুলের বাচ্চা বাহিনীও আছে দর্শক দঙ্গলে ...। চিড়িয়াখানা পৌঁছানোর সময়ে একটু বৃষ্টি হচ্ছিলো, তাই সামনে থেকে পলিথিনের রেইনকোটের প্যাকেট দিয়ে বললো একেকটা ৫০ বাথ চাইলে নিতে পারো। কেউ কেউ নিল, আর কেউ কেউ নিজের ছাতা বের করলো। আমি কোনটা নিলাম না।

চিড়িয়াখানা (!)র সামনে বিশাল পার্কিং এরিয়া। পার্কিং এরিয়া আর চিড়িয়াখানার গেট ও টিকিট কাউন্টারের মাঝ দিয়ে সেখানকার রাস্তা চলে গেছে। আমরা গেট থেকে বেশ দুরে পার্কিং লটে নামলাম। আশেপাশে আরো মাইক্রোবাস আছে সেখানে। তারপর সেখান থেকে ড্রাইভারের ইশারায় তাকে ফলো করে মেইন গেটের ঠিক অপজিটে একটা ওয়েটিং জোনে আসলাম। যেটাতে উপরে ছাদ আছে, বসার বেঞ্চ আছে। সামনে সেই পার্কিংএর পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তা পার হলেই গেট। বড় বড় ট্যূরবাস সেখানে এসে থামছে জাপানি, চাইনিজ বড় বড় ট্যূর গ্রুপ নামছে। তাদের সাথে একজন করে গাইড। গাইডের হাতে একটা লাল, নীল বিভিন্ন কালারের ফ্ল্যাগ। অর্থাৎ কেউ হারিয়ে গেলে যেন গাইডের পতাকা দেখে সেখানে জড়ো হতে পারে সেজন্য।

আমাদেরকে রাস্তার এপারে এখানে অপেক্ষায় রেখে ড্রাইভার সাহেব আমাদের টিকেট আনতে গেল। একটু পর টিকেট কেটে আসলে তার সাথে রাস্তা পার হয়ে আমরা লাইন ধরে গেট দিয়ে সেখানে ঢুকলাম। এরপর ঐ লোককে ফলো করে করে বিভিন্ন রকম শো তে যেতে থাকলাম।


৪৯।
প্রতিটা শোতে হাউজফুল বললে কম বলা হবে। মানুষ গিজগিজ করতেছিল। শোতে ঢোকার আর বের হওয়ার সময় একটু হাত ছুটে গেলে মানুষজন হারিয়ে যাচ্ছিল; আবার একটু পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল। প্রতিটা শো থেকে বের হয়ে দেখা যেত আমাদের ড্রাইভার কাম ট্যূর অপারেটর/গাইড একপাশে দাঁড়িয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তারপর তাকে ফলো করে নেক্সট শো। এভাবে দুপুরের খাওয়া পর্যন্ত সে আমাদের গাইড করে শেষের একটা না দুইটা শো এর জায়গায় আমরা দৌড়াদৌড়ি বন্ধ করে গো-স্লো নীতি নিলাম। দরকার হলে শো একটা মিস যাক, কিন্তু দৌড়াবো না; কারণ আমাদের এইটা প্লেজার ট্যূর হওয়ার কথা, কোনো ল্যাব অ্যাসাইনমেন্ট না।

টিপটিপ বৃষ্টির জন্য সব জায়গা স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে ছিল আর আবহাওয়া বেশ গুমোট গরম ছিল। আমরা ঘামতে ঘামতে ঘুরতেছিলাম আর ভাবতেছিলাম কেন যে এই গরমে এই ট্যূর গছিয়ে দিয়েছিল আমাদের ট্রাভেল এজেন্ট কে জানে।

প্রথম শো-টা ছিল সম্ভবত ওরাং ওটাং শো। গ্যালারীতে যেখানে বসা সেখান থেকে দুরে ওরাং ওটাংএর বিভিন্ন কেরামতি দেখলাম। তারচেয়ে বেশি দেখলাম চারপাশের দর্শক। মাইকে ওরা ইংরেজিতেই বিভিন্ন ইভেন্টের বর্ণনা দিচ্ছিল, কিন্তু ওদের ইংলিশ বোঝা খুবই কঠিন। আর দুরে বসার কারণে ভাল করে কিছু বোঝা যাচ্ছিল না। তবে শোটা গোছানো, একটা মঞ্চ নাটকের মত। প্রতিটা ডায়লগ আর পদক্ষেপ আগে থেকে চর্চা করা, মাপা। তাই ঠিক সময়েই শেষ হল শো। আমরা ভাবতে লাগলাম, কী এসব শোতে ঢুকাইলো, তার চেয়ে খাঁচায় বান্দর দেখতাম ...

ওরাং ওটাং শো
৫০।
এর পরের শোটা ছিল সীল মাছের। এটাকেও আহামরি কিছু না লাগলেও; পুরা নাটকের মত চর্চিত ও শৃংখলা ছিল। সামনা সামনি সীল মাছের কসরত দেখলাম। এটাতে আগের শো-এর চেয়ে একটু কাছাকাছি বসতে পেরেছিলাম; কিন্তু তবুও খুব একটা উচ্চ কোনো ধারণা নিয়ে বের হতে পারলাম না। গুমোট গরমটাই হয়তো এটার কারণ।

তবে এই শো-এর আগে গিন্নি হারিয়ে গিয়েছিল। বেশ কিছুদুর যাওয়ার পর দেখি তিনি পিছে নাই। তবে হঠাৎ করে পেছন থেকে না বলে কয়ে গায়েব হয়ে যাওয়া - ওনার একটা পুরাতন অভ্যাস। তাই ঘাবড়ালাম না। কিন্তু অনেকক্ষণ পরেও যখন তিনি আসলেন না, তখন আমি আর কন্যা ওনাকে খুঁজতে উল্টা পথে হাঁটা শুরু করলাম। বিদেশ বিভুঁই বলে একজনের কাছেই সীমসহ মোবাইল, সুতরাং দেশের মত কল করে পেয়ে যাব- এমন উপায় ছিল না। তাই সার্চ এন্ড রেসকিউ মিশনে মেয়ে আর আমি অনেকদুর ফিরে এসে ওকে পেলাম। ওর স্যান্ডেল ছিঁড়ে গিয়েছিল জন্য তাড়াতাড়ি হাঁটতে পারছিলো না। ভাগ্য ভাল যে, আমরা যতদুর গিয়ে ফিরে এসেছিলাম, সেখানে (চিড়িয়াখানার ভেতরেই) স্যান্ডেলের দোকান দেখে এসেছিলাম। সম্ভবত এইরকম ঘটনা প্রায়ই ঘটে এখানে। তাই সেখানে গিয়ে একজোড়া কিনে এ যাত্রা রক্ষা। আর একটু ঘোরাঘুরি করে পরের শোটাতেও সময়মত যাওয়া গেল।

সীল শো
স্যান্ডাল কেনার পর, চমৎকার ছবি তোলার স্পট ছিল অনেকগুলো
৫১।
এই শোটা ছিল: ওয়েস্টার্ন কাউবয় স্টান্ট শো। প্যামফ্লেটে নাম দেখে ভেবেছিলাম থাইল্যান্ডে কৃষক কিভাবে গরু পালে সেটা দেখাবে ... ... শোন মা আমিনা রেখে দে রে কাজ ত্বরা করে মাঠে চল, যমুনায় বুঝি আসছে আবার ঢল .. ... এই টাইপের কিছু। কিন্তু দেখা গেল এটা পুরা উল্টা; ওয়েস্টার্ন কাউবয় নিয়ে একটা নাটিকার মত। অনেক স্পেশাল ইফেক্ট ছিল। এক পর্যায়ে একটা ইভেন্টে ঘোড়ার পানি খাওয়ার জায়গা থেকে পানি ছিটিয়ে সামনের দর্শকদের ভিজিয়ে দেয়ার ইভেন্ট ছিল একটা অ্যাক্টে। আমরা বেশ সামনের দিকেই ছিলাম, তবে সেটা আরেক সাইডে; ফলে ভিজতে হয় নাই। মূহুর্মুহু গুড়ুম গুড়ুম গোলাগুলি, কান ফাটানো শব্দ আর এক পর্যায়ে তো একটা বিল্ডিংএর সামনের অংশ পুরা ভেঙ্গে সামনে ধরাম করে পড়লো ... ... এই শো-টাতে বেশ মজা পেয়েছিলাম।
এই ওয়েস্টার্ন কাউবয় শোটা সবচেয়ে উপভোগ্য ছিল।
কাউবয় শো
কাউবয় শো
৫২।
মাঝে দুপুরের খাওয়া দাওয়ার জন্য একটা গণ রেস্টুরেন্টে নিয়ে গেল। ইন্ডিয়ান মিলের মত একটা টেবিল সাজানোই ছিল। সেখানে অন্য বাঙালিদের সাথে খাওয়া দাওয়া করলাম। বুফে থেকেই নিয়ে খেতে হল, কিন্তু আমাদের টেবিলের নম্বর ওয়ালা সিল লাগিয়ে দিয়েছিল পোশাকে, সেই টিকেট কেটে ঢোকার সময়েই। না হলে ঐ ভীড়ে সেখানে জায়গা পাওয়াই মুশকিল হত। খেতে খেতে একজন ডাক্তার এবং তাঁর স্ত্রীর সাথে পরিচিত হলাম। জানা গেল মহিলা ঐ ডাক্তার স্বামী সহ ঢাকাতে একটা ক্লিনিক চালান।

এখান থেকে বের হয়ে আর ড্রাইভার সাহেবকে ফলো করলাম না। কারণ আমাদের কাছে সব শো-এর টাইমটেবল সহ লিস্ট ছিল, চিড়িয়াখানার ম্যাপও ছিল। তাই কথা হল আমরা একটা নির্দিষ্ট টাইমে পার্কিংএ থাকবো- তখন গাড়ি ছাড়বে।
 
এটি একটি পুরষ্কারপ্রাপ্ত সেরা ডিজাইনের পাবলিক টয়লেট। বাইরে থেকে দেখলে গাছের গুঁড়ি মনে হবে।

৫৩।
একটা হাতির শো ছিল। সেখানে যাই নাই। টিয়া পাখির শো ছিল, সেখানেও যাই নাই। কারণ ফুকেটের বার্ড প্যারাডাইসে পাখি দেখার শখ মিটে গিয়েছিল। তবে জিরাফ দেখার শখ হওয়াতে ম্যাপ দেখে সেদিকে গেলাম। পথে আরো অনেকরকম পাখি, পেলিকান, সাপ ইত্যাদিও দেখেছিলাম।

জিরাফের জায়গাটা খুবই ইন্টারেস্টিং। উঁচু একট লম্বা প্ল্যাটফর্মে উঠে জিরাফের মুখের কাছাকাছি যাওয়া যায়। ২০০ বাথ দিয়ে কিনে জিরাফকে খাবার খাওয়ানো যায়। তবে আমার কন্যা এবং বৌ কেউই জিরাফের অত কাছে যাওয়ার পক্ষপাতি ছিল না, জিরাফের লম্বা জিহবা দেখে তারা ইয়াইক ভাব নিয়ে একটু দেখে চলে আসলাম।
জিরাফ ধরা যায়। উঁচু প্লাটফর্ম। জিরাফের জিহবাগুলোও অনেক লম্বা -- ইয়াইক্।
টাইমটেবলে ডলফিন শো-টা দেখার ইচ্ছা ছিল। তাই সময়মতই ওখানে গিয়ে হাজির হলাম। এই শো-টা বেশ উপভোগ্য ছিল। ডলফিনগুলোর সিনক্রোনাইজড অ্যাক্টগুলো বেশ ভাল লেগেছিল। আর লাফানো অবস্থায় কয়েকটা ছবি তুলতে পেরেও নিজের ভাল লেগেছিল। ছবি যা তোলা হয়েছে, তখনকার গরীব মোবাইল দিয়েই তোলা হয়েছিল।
ডলফিন শো। ডলফিনগুলো পানি ছেড়ে শূণ্যে লাফ দেয়ার ঠিক সময়ে ক্লিক হয়েছে।
৫৪।
নির্দিষ্ট সময়ে পার্কিংএ এসে গাড়িতে উঠলাম সবাই। গাড়ি ফিরে সরাসরি ফিরে যাওয়ার বদলে আরেকদিক দিয়ে সাফারি রাইডে প্রবেশ করলো। গাড়িতে চড়ে বিভিন্ন প্রাণীদের এলাকায় বেড়াতে গেলাম। সবখানেই প্রাণীগুলো তাঁদের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে - বিরক্তি ও কৌতুহল নিয়ে এরকম একের পর এক গাড়ি (মাইক্রো, বড় বাস ইত্যাদি) দিয়ে যেই মানুষ নামক দুপেয়ে চিড়িয়া যাচ্ছে তা দেখছে। শুধু বাঘের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ... দুর থেকে দুইটা বাঘ মাথা উঁচিয়ে দেখছে ঠিকই কিন্তু উঠছে না। বাঘদুইটাকে বেশ উত্তেজিত মনে হচ্ছিল, কিন্তু তাও বসেই রইল ... তাই মনে হল ওদের পায়ে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা আছে। আর সামনে যে বাঘগুলো পড়লো ওগুলো কুম্ভকর্ণের ঘুম দিচ্ছে। পেট নড়াচড়া দেখে বুঝা গেল ওগুলো আসলেই জ্যান্ত বাঘ। ধারণা করলাম এখানের সাফারি শুরুর আগে এদের ঘুমের ঔষধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখে। বাঘের জোনটা অন্য জোন থেকে ডবল গেট দিয়ে আলাদা করা ছিল। যা হোক এই অংশটাও বেশ মজার ছিল; কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়াতে আর গাড়ির ভেতরে থাকাতে তেমন কোনো ছবি তোলা হয় নি।
কোনোরকম ঝুটঝামেলা এড়াতে মনে হয় বাঘগুলোকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে

৫৫।
হোটেলের সামনের ভবনের ট্রাভেল এজেন্টের অফিস থেকে পরদিন সন্ধ্যার জন্য ডিনার ক্রুজ ট্যূর বুক করলাম। পরদিন দিনে নিজেদের ঘোরাঘুরি করার প্লান। তাই হেঁটে হোটেলের গলির মাথায় থাকা মেট্রো স্টেশনে আসলাম। যদিও সার্ভিস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু  সেখান থেকে রুট ম্যাপ সংগ্রহ করতে পেরেছিলাম। সামনের সেভেন ইলেভেন আর এক ভবন পরেই আরেকটা গ্রোসারি স্টোর থেকে পানি, স্ন্যাকস টাইপের খাবার সংগ্রহ করলাম। রুমে এসে সেসব খাবার খেলাম মজা করে।
মেট্রো রুট ম্যাপের ছবি।

(চলবে)

সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২০

কম্পিউটার ফান্ডামেন্টাল কোর্সের জন্য ম্যাটেরিয়াল


আমাদের সিলেবাস আপডেট করেছি নতুন ব্যাচগুলোর জন্য। সেখানে কম্পিউটার ফান্ডামেন্টাল ল্যাব নামে একটা ল্যাব কোর্স দেয়া হয়েছে। আশা করি এর ফলে পরবর্তীতে ক্যাড, প্রোগ্রামিং করতে আসা সকলেই আরো ভালভাবে শিখতে পারবে। এবার এই কোর্সের একটা সেকশন পড়াচ্ছি। কোর্সটা নতুন, তাই মাস্টারও খাবি খায়, কী শেখাবে, কী শেখাবে না এসব ভেবে। কিন্তু এটা আমার জন্য কিছু বিষয় শেয়ার করার একটা সুযোগ হিসেবে চলে এসেছে। এই কোর্সে ব্যবহারের জন্য বানানো ভিডিও এবং পাঠ্যগুলো এখানে সন্নিবেশ করে রাখা হল। নতুন কিছু তৈরী হলে সেগুলোও এখানে আপডেট করে দেয়া হবে।

১। ডকুমেন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সূচীপত্র তৈরী করা
২। ডকুমেন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সূচীপত্র তৈরী -০২
৩। মোবাইলেই স্প্রেডশীট 
৪। মোবাইলে জায়গার জিপিএস লোকেশন জানা (ইন্টারনেট ছাড়াই) 
৫। জিপিএস লোকেশন দিয়ে ম্যাপে খুঁজে বের করা 

১। ডকুমেন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সূচীপত্র তৈরী করা


২। ডকুমেন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সূচীপত্র তৈরী -০২


৩। মোবাইলেই স্প্রেডশীট 


। মোবাইলে জায়গার জিপিএস লোকেশন জানা (ইন্টারনেট ছাড়াই)


৫। জিপিএস লোকেশন দিয়ে ম্যাপে খুঁজে বের করা 


সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২০

প্যাচাল

একটু অন্যকিছু করার চেষ্টা।

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯

ভুটান ভ্রমণ - ০৩

ভুটান ভ্রমণ - ০১

ভুটান ভ্রমণ - ০২

৮। ৫ম দিন: পারো শহরে ঘোরাঘুরি - জাদুঘর, কাঠের ব্রীজ দেখা, কেনাকাটা

সকালের এবং বিকালের কিছু অংশ নিয়ে রিসর্টের ভিডিও

যথারীতি বুফে নাস্তা
এবার ঘুরাঘুরি শুরু
ভুটান ন্যাশনাল মিউজিয়াম, ভেতরে ছবি তোল নিষেধ, তাই বাইরে ছবি তুলি।
এটা ১৬ কিংবা ১৭ শতকে তৈরী একটা ওয়াচ টাওয়ার, জাদুঘরের ঠিক পাশেই একই বাউন্ডারির ভেতরে।
জাদুঘরের পাশে হাটাহাটির জায়গা
জাদুঘরের পাশ থেকে পারো এয়ারপোর্ট, নদী এবং জং দেখা যায়।
একটা ভিডিও দেখা যেতে পারে এবার:

জাদুঘরের পাশ থেকে অন্যদিকেও ভ্যালিটি দেখা যায়। মোটামুটিভাবে সম্পুর্ন পারো শহরই এখানে থেকে দেখা যায়।
এই যে মূল দোকানপাট ওয়ালা শহর, একটু পরে ওখানেই যাব কেনাকাটা করতে।
পারো জং দেখতে এলাম। তবে এখান থেকেই ঘুরে গেলাম। ভেতরে প্রশাসনিক অফিস আছে, আর ঢুকতে প্রবেশমূল্যও কম নয়।
গতকালের জায়গাতেই দুপুরের খাবার। আমাদের আবদার রেখে পাস্তা রান্না করেছেন, সাথে গাজরের স্যূপ। সব চেটেপুটে খেয়েছি।
এই সেই সোনম আপা, যার নামে সোনম'স হোম স্টে
রাস্তা থেকে দেখলে এমন: সোনম'স হোমস্টে।
খাওয়া দাওয়া শেষে এবার কাঠের ব্রীজ দেখতে আসলাম
এবার একটা ভিডিও দেখা যাক

কাঠের ব্রীজের প্রবেশপথ। ঠিক যেন পুনাখার জং এর মতই।
ব্রীজটিও একই রকমই বলতে হয়
ব্রীজের ঐপাশে রূপকথার বইয়ে থাকা ছবির মত নদীর পাড় দিয়ে পায়েচলা পথ।
একটা পথ উঠে গেছে জং এর দিকে; এটাও তো সেই বইয়ের ছবির মতই
এবার শহরে যাওয়া যাক:

পারো শহরের দোকানপাট, লোকজন
পারো শহরের দোকানপাট, লোকজন
পারো শহরের দোকানপাট, লোকজন - মেইন রাস্তার শাখা রাস্তায়
মনে হচ্ছে বেশ হাইফাই রেস্টুরেন্ট হবে
পেট্রল পাম্পের সাথে এটা সম্ভবত একটা ট্যাক্সি স্ট্যান্ড
রিসর্টে ফিরে রাতের বুফে খাওয়া দাওয়া
অদ্যই শেষ রাত। ডিনারের পরে শাটার টিপি।

৯। ৬ষ্ঠ দিন: চেকআউট ও ডিপার্চার

চেক আউট করে বিদায় আসন্ন। ওখানে সব হোটেল-রিসর্টেই লাগেজ টানাটানির কাজগুলো মেয়েরা করেছে!
ডিপার্চারে অপেক্ষায় কেউ কেউ ডায়েরি লেখে :)। অন্যরা এয়ারপোর্টের চমৎকার ফ্রী ওয়াইফাই নিয়ে ব্যস্ত।
বিদায় ভুটান উপর থেকে ভিডিও

১০। কিছু শেষ কথা:

- প্রথম এবং দ্বিতীয় হোটেল/রিসর্টে চেক-ইন, চেক আউট দুই সময়েই মেয়ে কর্মী এসে লাগেজ নিয়ে গিয়েছে (গাড়ি থেকে রুম এবং রুম থেকে গাড়ি)। দুই জায়গাতেই ডাইনিং, রিসেপশন সব জায়গায় মেয়ে । এসব দেখে আমার বউ আমাদের ড্রাইভার কাম গাইডকে জিজ্ঞেস করেছিল -- ছেলেরা সব কোথায়। উনি বললেন ভুটানে ২৫% ছেলে বাকী সব মেয়ে। পরবর্তীতে রিসর্টের স্যুভনির শপের মহিলা বলেছিল - তেমন কিছু নাই; পুরুষ মহিলা সমান সমান। উইকিপিডিয়াতেও পুরুষ/মহিলা = ১.০৯ দেখাচ্ছে। কাজেই এখান থেকে বুঝা যায়: গাইড সবসময় সঠিক তথ্য না-ও দিতে পারে।
- আমরা যাওয়ার আগে প্লেনের টিকেট কাটা নিয়ে বিরাট টেনশন। আমরা ফেরত আসতে চাই ১৪ তারিখে কিন্তু অনলাইনে এই তারিখে ফ্লাইট দেখায় কিন্তু বুক করতে দেয় না। আবার, ট্রাভেল এজেন্টও ১৪ তারিখের ফেরত ফ্লাইট নিয়ে খুব টেনশন। আমাদের উপস্থিতিতেই টিকেটিং অফিস থেকে তাঁর কাছে ফোনের পর ফোন আসতে থাকে -- টাকা নিয়ে আজকেই টিকেট নেন - নাহলে পরে পাবেন না। আমরা বলেছিলাম - না পেলে বাদ দেন (যেহেতু ভিসা করে ফেলেছি --- এমন কিছু বাধা পড়া ব্যাপার নাই।)। অনেক টেনশনের পর যাত্রার ৩/৪ দিন আগে টিকেট কেটে দিতে পেরেছিল। কিন্তু আসলে ফেরত আসার সময়ে দেখি ৪৮ সিটের প্লেনে সম্ভবত ২০ জনের বেশি যাত্রী ছিল না। বেশিরভাগ সিটই ফাঁকা। তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এখানেও বিমানের মত কালোবাজারী হচ্ছে। সুতরাং ট্রাভেল এজেন্টের কাছ থেকে এই ধরণের চাপ আসলে সেটাকে একটু যাচাই করে নেবেন। 
- আমাদের ট্রাভেল এজেন্ট ওখানে পৌঁছানোর পরও মেসেঞ্জারে ফোন করে খোঁজ খবর নিয়েছে। আসার পরও ফোনে খোঁজ খবর নিয়েছে। সিট ফাঁকা প্লেনের কথা তাঁকে বলায় জানালো ভুটান আর নেপালের ফ্লাইটে এই ধরণের বদমায়েশি করে। মনোপলী বলে কথা!

(সমাপ্ত)