শনিবার, ১২ জুলাই, ২০১৪

ওভেন ছাড়াই পিজা বানানো - সচিত্র প্যান পিৎজা

Pizza/পিজা/পিৎসা/পিৎজা বানানো কঠিন কিছু না। শুধু এর উপকরণগুলো আমাদের জন্য একটু আনকমন -- তাও সবগুলো না -- শুধুমাত্র এর মূল উপকরন -চিজ বা পণিরটাই আনকমন। তবে সাধারন বাসাবাড়িতে পিজা বানানোর জন্য মূল বাধা হল ওভেন না থাকা। এই পিৎজাটি ওভেন ছাড়াই ফ্রাইপ্যানে (তাওয়া?) করা। যাদের ওভেন নাই, তাঁদের জন্য নিশ্চয়ই বেশ আগ্রহোদ্দীপক হবে বিষয়টা।

রান্নাঘরে প্রতিদিনই যাওয়া হয় -- সেটা বাসন ধোয়ার জন্য। আজ অবশ্য ছবি তোলার জন্য গিয়েছিলাম। পিজাটি আমি বানাইনি, আমার স্ত্রী বানিয়েছে। আমি নিজে চা বানাই মাইক্রোওয়েভ ওভেনে - সেটা দিয়ে কিন্তু পিৎজা বা অন্য বেকিং আইটেমগুলো হয় না - এটা খালি মাইক্রোওয়েভ দিয়ে গরম করে। কিন্তু বেকিং ওভেন না থাকলেও ঘরে পিৎজা বানানো যায়। সেটাই আজকের সফল এক্সপেরিমেন্ট ছিলো। এ নিয়ে ইউটিউবেও ইংরেজিতে ভিডিও পাওয়া যায়। ফ্রাইপ্যানে করা বলে এগুলোকে প্যান পিজা বলে।

১। প্রথমেই মূল আকর্ষণ: পিৎজাটির ছবি দেখুন। আগ্রহ জাগলে আগে বাড়ুন ...
https://scontent-b-cdg.xx.fbcdn.net/hphotos-xfp1/t1.0-9/10530928_10152236973409562_6587935564626597606_n.jpg

২। একজন স্যাটিসফাইড কাস্টমার! (আমার কন্যা - নীলিয়া)
https://scontent-b-cdg.xx.fbcdn.net/hphotos-xpf1/t1.0-9/10524737_10152236972799562_4041493115470765936_n.jpg

এবার একটু তদন্ত করে দেখি পরের পিৎজাটা কিভাবে বানালো সেটা বোঝা যায় কি না ... ...

৩। যা যা লাগে - ক্যাপসিকাম, সসেজ (ইচ্ছামাফিক অন্য বস্তুও নেয়া যায়) এগুলো একটু নন স্টিকি ফ্রাইপ্যানে টেলে নিতে হয় (অর্থাৎ গরম ফ্রাইপ্যানে নাড়াচাড়া করা)। অর্থাৎ তাহলে একটু নরম হবে, কাঁচার মত কচ কচ করবে না, আর মূল পিজাতে বেক করার সময় পানি ছাড়বে না।
https://scontent-b-cdg.xx.fbcdn.net/hphotos-xpf1/t1.0-9/10393173_10152236973339562_7128358882289588203_n.jpg

৪। আর অবশ্যই লাগবে চিজ বা পণির। চেডার (cheddar) চিজ নাকি এ কাজে ভাল।
https://fbcdn-sphotos-e-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xfp1/t1.0-9/10486657_10152236973764562_948518808692991267_n.jpg

৫। সসের কথা ভুলে গেলে চলবে না কিন্তু। পিজা সস নামেই সস পাওয়া যায়। না পাওয়া গেলে সাধারণ সস দিয়েই চলবে (পূর্ববর্তী পিজা বানানোর বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বলা হল)
https://scontent-a-cdg.xx.fbcdn.net/hphotos-xpf1/t1.0-9/10544795_10152236974234562_8651501912965272228_n.jpg

৬। আটা ছাড়া তো আর ক্রাস্ট হবে না। আটার মাখার সময়ে একটু পানিতে ঈস্ট (yeast)গুলে নিয়ে দিয়ে ময়ান করতে হবে। এরকম ময়ান করে সাধারণত একটা পাতলা ভেজা কাপড়ে জড়িয়ে বাটিতে আধাঘন্টার মত ঢেকে রাখতে হয়। এতে ময়ানটা ফুলে ওঠে। কাজেই এই কাজটা শুরুতে করে বাকী প্রিপারেশন করলে সময়ের ব্যবহারটা ভাল হবে। ময়ানে লবণ না দিলেও চলে, কেন? সেটা পরে বলা আছে।
https://scontent-a-cdg.xx.fbcdn.net/hphotos-xpf1//t1.0-9/10552505_10152236974259562_3773493459757459949_n.jpg

৭। বেলতে তো হবেই। একটু মোটা করে, যে সাইজের চান সেই সাইজের। তবে সেই সাইজ যেন আবার আপনার ফ্রাইপ্যান (নন স্টিকি হলে ভাল হয়) কিংবা তাওয়ার চেয়ে বড় না হয়ে যায় ...
https://fbcdn-sphotos-a-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpa1/t1.0-9/10552412_10152236974254562_5421176507987122144_n.jpg

৮। গরম তাওয়া, ঢাকনা লাগবে। পিৎজার উপরে যত কম জায়গা ছাড়া যায় তত বেশি ঘন তাপ লাগার কথা।
https://fbcdn-sphotos-h-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xfp1/t1.0-9/10401556_10152236974369562_3612885865293597810_n.jpg

৯। তাওয়া বা ফ্রাইপ্যানে বেলা ক্রাস্ট (রুটি !) টা সেঁকতে হবে। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এতে দুই সাইডেই ভাল তাপ লাগবে। সেঁকার সময় উল্টানো যাবে না। আগুন কম-মিডিয়াম থাকবে, বেশি দিলে পুড়ে যেতে পারে।
https://scontent-b-cdg.xx.fbcdn.net/hphotos-xap1/t1.0-9/10409547_10152236974519562_5061245407008447465_n.jpg

১০। যখন ক্রাস্টের এইপাশটা এরকম বহু বাতাসের পুটুলি দেখা যাবে। তার মানে হয়তো হয়ে গেছে। পরে ছবি দেখুন।
https://fbcdn-sphotos-e-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xfa1/t1.0-9/10492107_10152236974594562_7249000969762028394_n.jpg

১১। খুন্তি দিয়ে তুলে যদি নিচের দিক হয়ে গেছে বোঝা যায় তাহলে নামিয়ে ফেলুন। নামিয়ে সেটা একটা প্লেটে (বা অন্য কোথাও) উল্টিয়ে রাখতে হবে। অর্থাৎ যে দিক ফ্রাইপ্যানের সাথে লেগে ছিলো সেটা উপরের দিকে রাখতে হবে। এই দিকটা মচমচে হয়ে যাওয়ার কথা। একটু ভেঙ্গে ভেঙ্গে দিন, যেন পরেরবার উল্টাদিক সেঁকার সময়ে এদিকে ভেতরে বাতাসের পুটুলি জমা না হয়। এছাড়া টপিংগুলোও একটু ভেতরে ঢোকে।
https://fbcdn-sphotos-c-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xaf1/t1.0-9/10342921_10152236974624562_7138634093629593320_n.jpg

১২। প্রথমে এর উপরে সস মাখিয়ে দিন -- সসটা অনেকটা সিমেন্টের মত, টপিংগুলোকে ভালভাবে ক্রাস্টে লাগিয়ে ফেলে। তাছাড়া সসের স্বাদ তো আছেই। এই কারণে ক্রাস্টের ময়ানে লবণ না দিলেও চলে
https://fbcdn-sphotos-a-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpf1/t1.0-9/10445527_10152236974754562_8521448399685618597_n.jpg

১৩। এরপর ইচ্ছামাফিক টপিং দিন
https://scontent-a-cdg.xx.fbcdn.net/hphotos-xap1/t1.0-9/10511351_10152236974924562_782437400358489607_n.jpg

১৪। টপিং-২
https://fbcdn-sphotos-f-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpa1/t1.0-9/10505273_10152236974994562_3028905932690232368_n.jpg

১৫। সব শেষে চিজ ছড়িয়ে দিন -- গেল আমার চেডার চিজ
https://fbcdn-sphotos-d-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpa1/t1.0-9/10505627_10152236975014562_1470930669006424091_n.jpg

১৬। আসলে এটা একাধারে বানানো তৃতীয় পিজা। সেজন্য চিজ কম হয়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে স্লাইস চিজ ছিলো, সেটাই দিয়ে দেয়া হল। চেডার বা এই স্লাইস চিজ - দুইটাই লবণাক্ত। ময়াণে বা টপিং-এ আলাদা লবণ না লাগার এটাও একটা কারণ ...
https://fbcdn-sphotos-b-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpf1/t1.0-9/10491289_10152236975114562_6911894569325811462_n.jpg

১৭। এবার পুরা জিনিষটাকে আবার ফ্রাইপ্যান বা তাওয়াতে দিয়ে বেক করুন। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। আর অল্প আঁচে করতে হবে। এতে আস্তে আস্তে চিজ গলে পুরা টপিং-এ মাখা মাখা হবে। ক্রাস্টের নিচের (আগে যেটা উপরে ছিল) দিকটা সেঁকা হয়ে বেশ খাস্তা হবে। মাঝে মাঝে ঢাকনা তুলে দেখতে হবে উপরের চিজে বুদবুদের মত ফুটছে কি না। ওটা হলে রান্না পুরা হয়েছে বোঝা যায়। ওভেনে হলে অবশ্য আগুনের আঁচে উপরের দিকটা লালচে হয়ে যেত। নিচের ছবিরটা হয়নি, এটা সম্পুর্ন হতে আরো সময় লাগবে।
https://fbcdn-sphotos-h-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpf1/t1.0-9/10527588_10152236975174562_3790070314548735947_n.jpg

১৮। এই হল ফাইনাল প্রোডাক্ট। এটা অবশ্য দ্বিতীয় পিজাটা। উপরের ছবিগুলো ৩য়টা বানানোর সময়ে তোলা।
https://fbcdn-sphotos-g-a.akamaihd.net/hphotos-ak-xpf1/t1.0-9/10456042_10152236975244562_4064277262205872230_n.jpg


তারপর কেমন করে খেতে হবে সেটা কি বলে দেয়া লাগবে?

বৃহষ্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪

মোবাইল ক্যামেরায় তোলা প্যানারমা

বসুন্ধরা সিটি শপিং সেন্টারের কম্পাউন্ডেই যে টাওয়ার (কয়েক বছর আগে আগুন লেগেছিলো যেটাতে), সেটার ১৯ তলায় দারুন একটা রেস্টুরেন্ট আছে। সেটার সামনে ওপেন টেরাস থেকে শহরের দারুন একটা ভিউ পাওয়া যায় -- আসল এক্সাইটমেন্টটা ক্যামেরায় ধরা যায় না। প্যানারমা তোলার চেষ্টা করলাম গরীব মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে। সামনের দেয়ালটা আসলে বৃত্তাকার বাইরের দিকে। আর প্যানারমা করার ফলে ছবিতে এসেছে উল্টা ভেতরের দিকে বাঁকানো।

মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

লিব্রে অফিস রাইটার টিউটোরিয়াল: একই নথিতে ভিন্ন ধরণের পৃষ্ঠা এবং নম্বর দেয়া


ভূমিকা

একটা রিপোর্ট বইয়ে কয়েকরকম পৃষ্ঠা রাখার দরকার হতে পারে। সবচেয়ে কমন হল একটা টপ/ফার্স্ট/কভার পেজ থাকে, তারপর সূচীপত্র-অ্যাকনলেজমেন্ট-অ্যাব্রিভিয়েশনস-ইত্যাদি দেয়ার জন্য কিছু পাতা থাকে তারপর মূল ডকুমেন্ট থাকে। মূল লেখার পূর্বের এই “ফ্রন্ট ম্যাটারস” বা প্রথম দিকের পৃষ্ঠাগুলোর নিচে রোমান সংখ্যা দিয়ে পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া হয় (i, ii, iii, iv, v … x, xi, …) আর মূল লেখাতে আবার সাধারণ পৃষ্ঠা নম্বর (১, ২, ৩ … ) দেয়া হয়। নিচের চিত্রে (চিত্র ১) বিষয়টা তুলে ধরা হল: লক্ষ্য করবেন যে চিত্রের নিচের দিকে বাম কোনায় ১/২৪ লেখা আছে, অর্থাৎ এই ডকুমেন্টে মোট ২৪টি পাতা আছে, যার প্রথম পাতাটি এখানে সিলেক্টেড (নীল বর্ডার) অবস্থায় আছে; এছাড়া এই ডিসপ্লেতে মোট ৮টি পৃষ্ঠা দেখাচ্ছে বাকীগুলো দেখতে স্ক্রল করতে হবে।
চিত্র ১: একই ডকুমেন্টে বিভিন্ন রকম পৃষ্ঠার সন্নিবেশের উদাহরণ

এই টিউটোরিয়ালে এই ধরণের পৃষ্ঠা তৈরীর কৌশল দেখবো। আগের টিউটোরিয়ালের চিত্র ২২ লক্ষ্য করলে সেটাতে সূচীপত্র সহ আপাতত ৩টি পৃষ্ঠা আছে লক্ষ্য করা যায়। ওটাতেই আমরা এই কৌশল প্রয়োগ করে যা করবো তা হল: ক) শুরুতে ১টি কভার পেজ, যার নিচে কোনো পৃষ্ঠা নম্বর থাকবে না। খ) এরপর ৪টি ইনডেক্স পেজ, যার নিচে রোমান পৃষ্ঠা নম্বর থাকবে তবে এর পৃষ্ঠা নম্বর শুরু হবে ii থেকে, কারণ কভার পেজ হল ১ম পৃষ্ঠা। গ) সাধারণ পৃষ্ঠা যার নিচে Page-1, Page-2 … এভাবে পৃষ্ঠা নং লেখা থাকবে।

বিভিন্ন প্রকার পৃষ্ঠা যোগ করা

সর্বপ্রথমে আগের ডকুমেন্টের সূচীপত্রটি মুছে দিলে কাজে সুবিধা হবে। সূচীপত্রের উপর মাউসের ডান ক্লিকে যেই মেনু আসবে সেখান থেকে Delete Index/Table ক্লিক করলেই সূচীপত্র মুছে যাবে (চিত্র ২)।
চিত্র: সূচীপত্র মুছা
এবার ঐ ফাঁকা প্রথম পাতায় কার্সার রেখে মেনু থেকে Insert → Manual Break দিলে চিত্র ৩ এর মত Insert Break এর উইন্ডো আসবে। সেখানে ডানদিকের উইন্ডোর মত করে Style = Default Style এবং Change page number এ চেকবক্স চেক দিয়ে OK দিলে একটা নতুন পেজ খুলবে।

চিত্র ৩: বিশেষ ধরণের পেজ ব্রেক দেয়া
পেজ ব্রেক যে হয়েছে সেটা বোঝার কয়েকটা উপায় আছে যা পরবর্তী চিত্রে (চিত্র ৪) দেখানো হল। স্ক্রল করার সময়ে দুটি পৃষ্ঠার মাঝে একটা অতিরিক্ত ডট ডট লাইন দেখা যাবে - যা পেজ ব্রেক নির্দেশ করে। এছাড়া ব্রেকের পর নতুন পেজ নম্বর দেয়ার অপশন দেয়ায় নিচের স্ট্যাটাস বারের বাম কোনায় এটা প্রথম পৃষ্ঠা না হওয়া সত্বেও ১ম পাতা দেখাবে (চিত্র দ্রষ্টব্য)।

চিত্র ৪: পেজ ব্রক যে হয়েছে - সেটা বোঝার উপায়
দ্রুত চেনার সুবিধার্থে এই পাতায় দুয়েকটা শব্দ লিখে রাখতে পারেন। এবার আবার ১ম পাতায় গিয়ে আগেরবারের মতই Insert → Manual Break দিয়ে আরেকটা নতুন পেজ আনতে হবে। তবে এতে Style = Default Style এবং Change page number এ চেকবক্স আনচেক দিয়ে OK দিবেন। OK দেয়ার পর যেই পৃষ্ঠা খুলবে সেটাতে চিত্র ৫ এর মত বৈশিষ্ট দেখতে পারবেন।
চিত্র ৫:আরেকটা নতুন পেজ ব্রেক হয়েছে - সেটা বোঝার উপায়
তাহলে আমাদের ডকুমেন্টে উদ্দিষ্ট ৩ প্রকার পৃষ্ঠা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ২টি ম্যানুয়াল পেজ ব্রেক দেয়া হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই  এর মধ্যে ২য় ভাগটি Index হিসেবে বলা হয়েছে। এবার প্রথম পাতাটাকে Default Style এর বদলে First Page হিসেবে ডিক্লেয়ার করতে হবে। এজন্য প্রথম পৃষ্ঠাতে কার্সার রেখে নিচের স্ট্যাটাস বারে যেখানে Default Style লেখা সেখানে মাউসের ডান ক্লিকে একটা মেনু খুলবে। সেখান থেকে First Page ক্লিক করলেই ঐ পাতা উদ্দিষ্ট ফরম্যাট গ্রহণ করবে। চিত্র ৬ এ এই বিষয়টা দেখানো হয়েছে। তবে এখানে সম্পুর্ন বিষয়টা বোঝার সুবিধার্থে জুম কমিয়ে সবগুলো পৃষ্ঠা একত্রে দেখা হচ্ছে - যা জরুরী নয়। এই উপায়ে ম্যানুয়াল পেজ ব্রেক দিয়ে আলাদা করা যে কোন অংশকেই সহজে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে পরিণত করা যাবে।
চিত্র ৬: সহজেই পৃষ্ঠার ধরণ পরিবর্তন (First Page)

ভিন্ন রকম পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া

ভিন্ন রকম পৃষ্ঠা তৈরীর একটা মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রথম অংশে (Index pageএ) রোমান পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া। যেহেতু ফুটারে  পৃষ্ঠা নম্বর দিতে হয় তাই প্রথমে ফুটার যোগ করতে হবে। আমরা প্রথমে Default Style এর পাতায় ফুটার দিয়ে তাতে পৃষ্ঠা নম্বর দেব। এরপর Index টাইপের পাতায় ফুটার দিয়ে তাতে পৃষ্ঠা নম্বর দিব এবং তারপর পৃষ্ঠা নম্বরের ফরম্যাটকে রোমান সংখ্যায় পরিবর্তন করে দেব। সবশেষে Index অংশের মধ্যেই Ctrl+এন্টার দিয়ে পৃষ্ঠার সংখ্যা বাড়িয়ে এর ইফেক্ট দেখবো।
প্রথমে মূল লেখালেখির অংশ অর্থাৎ Default style এর পাতায় ফুটার দেয়ার জন্য মেনু থেকে Insert → Footer → Default Style দেই (চিত্র ৭)। এরকম করলে এই মেনুতে Default Style লেখার পাশে চেকবক্সটা চেক হয়ে যাবে আর আপনার পয়েন্টার/কার্সার ঐ স্টাইলের পাতার ফুটারে চলে যাবে।
চিত্র ৭: Default পাতায় ফুটার দেয়ার মেনু কমান্ড
এবার পৃষ্ঠা নম্বর দেয়ার জন্য আবার মেনু থেকে Insert → Fields → Page Number এ ক্লিক করি (চিত্র ৮)। এতে ফুটারের বাম প্রান্তে একটা নম্বর যুক্ত হয়ে যাবে। দেখতে সুন্দর দেখানোর জন্য এর আগে “Page_“ কথাটা টাইপ করে পুরা জিনিষটাকে ডান দিকে নিয়ে আসতে পারি। ডানে আনার জন্য কিবোর্ড থেকে Ctrl+R দিতে পারেন কিংবা টুলবারের বাটন ব্যবহার করতে পারেন।
চিত্র ৮: ফুটারে পেজ নম্বর দেয়ার মেনু কমান্ড
চিত্র ৯ এ Index পৃষ্ঠা বা পৃষ্ঠাগুলিতে ফুটার দেয়ার মেনু কমান্ড দেখানো হয়েছে। এই চিত্রে ডিফল্ট পৃষ্ঠায় দেয়া পৃষ্ঠা নম্বর দেখা যাচ্ছে - যা'র পূর্বে Page লেখা হয়েছে এবং ডানদিকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।
চিত্র ৯: Index পাতায় ফুটার দেয়ার মেনু কমান্ড
এভাবে দেয়া পৃষ্ঠা নম্বরটি আগের মতই সংখ্যা আসে। সেটাকে রোমান সংখ্যায় পরিণত করার জন্য ঐ পৃষ্ঠা নাম্বারের উপরে ডবল-ক্লিক করতে হবে (কিংবা সংখ্যার আগে কার্সার রেখে মেনু থেকে Edit → Fields …)। এতে  চিত্র ১০ এর মত Edit Fields: Document উইন্ডো খুলবে। সেখান থেকে চিত্রের মত রোমান সংখ্যা সিলেক্ট করে OK ক্লিক করলেই সংখ্যাগুলো রোমান হয়ে যাবে।
চিত্র ১০: Index পৃষ্ঠার নম্বরকে রোমান পৃষ্ঠা নম্বরে পরিবর্তন করা
চিত্র ১১ তে জুম করে সবগুলো পৃষ্ঠা দেখা যাচ্ছে। এতে প্রথম পাতায় পৃষ্ঠা নম্বর নেই, পরে Index পাতায় রোমান নম্বর (সেন্টার এলাইনমেন্ট করা) এবং Default পাতায় সাধারণ পৃষ্ঠা নম্বর দেখা যাচ্ছে।
চিত্র ১১: পরিকল্পনামাফিক ভিন্ন ভিন্ন পাতায় ভিন্ন রকম পৃষ্ঠা নম্বর দেয়া সম্পন্ন হয়েছে
ফ্রন্ট ম্যাটারে আরো পৃষ্ঠা যোগ করতে Index পৃষ্ঠার লেখার শেষে কার্সার রেখে Ctrl+এন্টার চাপুন। দেখবেন নতুন খোলা পৃষ্ঠা একই প্রকৃতির এবং রোমান সংখ্যায় পৃষ্ঠা নম্বর সহ তৈরী হবে।

শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৩

লিব্রে-অফিস রাইটার টিউটোরিয়াল: স্বয়ংক্রিয় সূচীপত্র তৈরী করা

একটা ডকুমেন্টে স্বয়ংক্রিয় সূচীপত্র তৈরী করা জরুরী। এ ধরণের সূচীপত্র নিজ থেকেই সমস্ত অনুচ্ছেদের তালিকা ও পৃষ্ঠানম্বর জোগাড় করে চমৎকার সূচী তৈরী করে। কোনো কারণে ডকুমেন্টে কোনোকিছু পরিবর্তন করলে এরপর মুহুর্তেই আপডেট করা যায়। স্বয়ংক্রিয় সূচীপত্র না হলে ডকুমেন্টে সামান্য পরিবর্তনের ফলেও সেখান হতে পরবর্তী প্রতিটি আইটেমের পৃষ্ঠা নম্বর পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে যা কষ্ট করে খুঁজে খুঁজে ম্যানুয়ালী ঠিক করতে হয়।
সাধারণত একটা বড় ডকুমেন্ট তৈরীর সময় এর সম্ভাব্য অধ্যায় এবং আর অনুচ্ছেদগুলোর শিরোনাম প্রথমেই লিখে একটা কাঠামো-পরিকল্পনা দাঁড় করানো হয়। পরবর্তীতে এটা আমূল পরিবর্তীত হয়ে গেলেও কোনো সমস্যা নাই। স্বয়ংক্রিয় সূচীপত্র তৈরীর প্রথম ধাপ হল সঠিক উপায়ে শিরোনামগুলো চিহ্নিত করা। এরপর সহজে রেফার করার জন্য শিরোনামগুলোকে স্বয়ংক্রিয় নম্বর দেয়া যেতে পারে (অপশনাল)। এরপর সফটওয়্যারের বিল্ট ইন ফিচারের সাহায্যে সূচীপত্র তৈরী করা যাবে। প্রতিটা ধাপ এই টিউটোরিয়ালে পর্যায়ক্রমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

হেডারের ব্যবহার

স্বয়ংক্রিয় সূচীপত্র তৈরীতে সর্বপ্রথম কাজ হল মূল ডকুমেন্টে হেডার বা শিরোনামগুলোকে সঠিক উপায়ে চিহ্নিত করা। এই পদ্ধতিটি নিম্নে কয়েকটি স্ক্রিনশটের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হল:
শিরোনাম বা হেডার হিসেবে যে লাইনটি হবে সেখানে পয়েন্টার রেখে চিত্রের মত Apply Style ড্রপ ডাউন মেনুতে ক্লিক করতে হবে (চিত্র ১)।
চিত্র ১: ডকুমেন্টের হেডার/শিরোনাম চিহ্নিতকরণ - ০১

ড্রপ ডাউন মেনু থেকে Heading  এ ক্লিক করে উক্ত লাইনকে প্রথম লেভেলের শিরোনাম হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে (চিত্র ২)। এতে ঐ লাইনটা শিরোনামের মত ফরম্যাট নিবে। আর যখনই ঐ লাইনে কার্সার নেয়া হবে তখন Apply Style এর জায়গায় Heading  লেখা দেখা যাবে (চিত্র ৩)।
চিত্র ২: ডকুমেন্টের হেডার/শিরোনাম চিহ্নিতকরণ - ০২
চিত্র ৩: ডকুমেন্টের হেডার/শিরোনাম চিহ্নিতকরণ - ০৩

একই ভাবে অন্য শিরোনামগুলো চিহ্নিত করতে হবে। ২য় ও ৩য় পর্যায়ের শিরোনামের জন্য যথাক্রমে Heading 2 ও Heading 3 ব্যবহার করতে হবে (চিত্র ৪)। সবগুলো হেডিং চিহ্নিত হয়ে থাকলে এর মাঝে মাঝে প্রয়োজনীয় লেখা টাইপ করা কিংবা কপি-পেস্ট করা যেতে পারে (চিত্র ৫)। তবে আগে লিখে নিয়েও পরে প্রয়োজনীয় হেডার সিলেক্ট করা যেতে পারে।
চিত্র ৪: ডকুমেন্টের হেডার/শিরোনাম চিহ্নিতকরণ - ০৪

চিত্র ৫: ডকুমেন্টের হেডার/শিরোনাম চিহ্নিতকরণ - ০৫

অটোনাম্বারিং

একটি ডকুমেন্টে বিভিন্ন অধ্যায়গুলোকে এবং এর অধীনের শিরোনামগুলোকে 1.1, 1.2, …. … 3.5; 2.2.8 প্রভৃতি নাম্বার দেয়া স্বয়ংক্রিয় করাটা জরুরী। এতে পরবর্তীতে সামনে বা পেছনে নতুন অনুচ্ছেদ যুক্ত করলে তার পরের শিরোনামগুলোর নাম্বার স্বয়ংক্রিয় ভাবে ঠিক হয়ে যাবে। এজন্য প্রথমে মেনু থেকে Tools → Outline Numbering... এ ক্লিক করতে হবে (চিত্র ৬)। এতে চিত্র ৭ এর মত একটি উইন্ডো খুলবে।
চিত্র ৬: স্বয়ংক্রিয় নাম্বারিং প্রয়োগ - ০১

চিত্র ৭: স্বয়ংক্রিয় নাম্বারিং প্রয়োগ - ০২

সবচেয়ে দ্রুত হওয়ার জন্য এখানে কিছু পরিবর্তন করি। প্রথমে Level এর জায়গায় 1-10 নির্বাচন করি। এরপর Number এর স্থলে 1, 2, 3, … দেই এবং Show sublevels এ 10 দেই। পাশের ডিসপ্লেতে এই পরিবর্তনের সাধারণ প্রিভিউ দেখা যাবে (চিত্র ৮)। এর পর OK দিলে পরবর্তী চিত্রের মত (চিত্র ৯) নাম্বারিং দেখা যাবে।
চিত্র ৮: স্বয়ংক্রিয় নাম্বারিং প্রয়োগ - ০৩

চিত্র ৯: স্বয়ংক্রিয় নাম্বারিং প্রয়োগ - ০৪

তবে এই নাম্বারিং এ আরো কিছু অপশন আছে যা ব্যবহার করে আরো চমৎকার ডকুমেন্ট তৈরী করা সম্ভব। এর কিছু অংশ পরবর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে।

অটোনাম্বার ফরম্যাটিং

নাম্বারিং এর মধ্যে বেশ কিছু পরিবর্ধন করা সম্ভব যার একটি পরবর্তী চিত্রে দেখানো হয়েছে। এজন্য প্রথমেই আগের মত মেনু থেকে Tools → Outline Numbering... এ ক্লিক করে নাম্বারিং এর উইন্ডোতে প্রবেশ করতে হবে। এরপর চিত্র ১০ এর মত Level 1 সিলেক্ট থাকা অবস্থায় মাঝে Before = Chapter_ (আন্ডারস্কোর _ দিয়ে বুঝানো হচ্ছে লেখার পর একটা ফাঁকা স্পেস টাইপ করতে হবে) এবং After = :_ লিখলে ডানদিকের প্রিভিউয়ের মত অটোনাম্বারের সাথে সাথে এই লেখাগুলো আগে-পিছে আসতে থাকবে। এই পরিবর্তনের ইফেক্ট চিত্র ১১ এ দেখানো হয়েছে। এভাবে প্রয়োজনমত অন্য লেভেলে পরিবর্তন ছাড়াও এই উইন্ডোর Position ট্যাব থেকে আরো কিছু ফরম্যাটিং করা সম্ভব।
চিত্র ১০: স্বয়ংক্রিয় নাম্বারিং প্রয়োগ - ০৫ (অতিরিক্ত ফরম্যাটিং)
চিত্র ১১: স্বয়ংক্রিয় নাম্বারিং প্রয়োগ - ০৬ (অতিরিক্ত ফরম্যাটিং)

সূচীপত্র দেয়া

শিরোনামগুলো ঠিকভাবে দেয়া হলে এরপর যে কোনো পৃষ্ঠাতেই অতি সহজে সূচীপত্র দেয়া যায়। আমরা এবার আগের বানানো ফাইলটিতে প্রথম পাতায় সূচীপত্র দেব। প্রথম Introduction লেখাটির শুরুতে কার্সার নিয়ে Ctrl + এন্টার চাপলে একটা পেজ ব্রেক হবে এবং সামনে একটা ফাঁকা পাতা চলে আসবে। এই ফাঁকা পাতার প্রথম লাইনে কার্সার রাখলে Apply Style এর জায়গায় Heading 1 দেখাতে পারে। তাই সূচীপত্র দেয়ার আগে ঐ লাইনে কার্সার রেখে Apply Style থেকে সেটাকে Default Style হিসেবে পরিবর্তন করে নেই। এবার সূচীপত্র দিতে মেনু থেকে Insert → Indexes and Tables → Indexes and Tables … এ ক্লিক করি (চিত্র ১২)।এতে চিত্র ১৩ এর মত একটি উইন্ডো খুলবে। এখানে কোনরকম পরিবর্তন ছাড়াই OK তে ক্লিক করলেই চমৎকার একটা সূচীপত্র (চিত্র ১৪) তৈরী হয়ে যাবে। তবে এখানকার অপশনগুলো পরিবর্তন করে সূচীপত্রের চেহারা পছন্দমত পরিবর্তন করা যাবে যা পরবর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে।
চিত্র ১২: স্বয়ংক্রিয় সূচীপত্র তৈরী - ০১

চিত্র ১৩: স্বয়ংক্রিয় সূচীপত্র তৈরী - ০২

চিত্র ১৪: স্বয়ংক্রিয় সূচীপত্র তৈরী - ০৩

সূচীপত্রের লেখা ফরম্যাটিং

ডকুমেন্টের সূচীপত্র যে কোনো সময়েই আপডেট করা যায়। ফাইনাল প্রিন্ট দেয়ার আগে একবার সূচীপত্রটি আপডেট করা উচিত। আপডেট করার জন্য সূচীপত্রের যে কোন জায়গায় মাউসের ডান ক্লিকে যে মেনু আসবে সেখান থেকে Update Index/Table এ ক্লিক করলেই হয়ে যাবে (চিত্র ১৫ এ যেটা সিলেক্ট হয়ে আছে তার ঠিক উপরের অপশন)।
চি্ত্র ১৫: সূচীপত্র আপডেট ও পরিবর্ধন করা - ০১
এই চিত্র ১৫ কিংবা এর আগের চিত্রে (চিত্র ১৪) লক্ষ্য করলে দেখবেন যে অধ্যয়ের নম্বর এবং নামগুলো একেবারে গায়ে গায়ে লেগে গিয়েছে। অনুচ্ছেদের নম্বর এবং লেখার মধ্যে অন্তত দুটি ফাঁকা স্পেস দেয়ার জন্য সূচীপত্রের যে কোনো জায়গায় মাউসের ডান ক্লিকে যেই মেনু খুলবে সেখান থেকে Edit Index/Table নির্বাচন করি (চিত্র ১৫ এর মত)। এতে আবার চিত্র ১৩ এর মেনুটি আসবে, সেখানে প্রথমে চিত্র ১৬ এর মত Entries ট্যাবটি খুলুন (১ নং চিহ্নিত), এরপর Level 1 সিলেক্ট করে (চিত্রে ২নং চিহ্নিত স্থানে – ওখানে অবশ্য Level 3 সিলেক্টেড অবস্থায় দেখাচ্ছে) তারপর অনুচ্ছেদ নাম্বার এবং শিরোনামের মাঝের জায়গায় কার্সার ক্লিক করে (৩নং চিহ্নিত) দুইটি স্পেস টাইপ করুন। একই ভাবে ৪ ও ৫ নং চিহ্নিত জায়গায় একটি করে স্পেস টাইপ করুন। ২নং চিহ্নিত জায়গা থেকে যথাক্রমে Level 2 এবং Level 3 সিলেক্ট করেও একই কাজ করুন। এবার OK গিয়ে বের হয়ে আসলে পরবর্তী চিত্রের মত (চিত্র ১৭) উদ্দিষ্ট পরিবর্তন দেখতে পারবেন।
চি্ত্র ১৬: সূচীপত্র আপডেট ও পরিবর্ধন করা - ০২

চি্ত্র ১৭: সূচীপত্র আপডেট ও পরিবর্ধন করা - ০৩

এবার আরেকটু সৌন্দর্য বর্ধন করা যাক। আমরা অধ্যায়ের নামগুলোকে একটু বোল্ড করে দিতে চাই এবং এর উপরে এবং নিচে একটু ফাঁকা স্পেস যোগ করতে চাই। এজন্য প্রথমে সূচীপত্রের যে কোন অধ্যায়ের নামের লাইনে কার্সার রেখে মাউসের ডান ক্লিকে যে মেনু আসবে সেখান থেকে Edit Paragraph Style … ক্লিক করতে হবে (চিত্র ১৮)।
চি্ত্র ১৮: সূচীপত্র আপডেট ও পরিবর্ধন করা - ০৪

এতে চিত্র ১৯ এর মত একটা প্যারাগ্রাফ স্টাইল পরিবর্তনের উইন্ডো খুলবে। খেয়াল করুন যে এটার উপরের বর্ডারে Paragraph Style: Contents  কথাটি লেখা আছে – অর্থাৎ যেটার পরিবর্তন করতে চাচ্ছি সেটারই পরিবর্তন হবে।
চি্ত্র ১৯: সূচীপত্র আপডেট ও পরিবর্ধন করা - ০৫

এই উইন্ডোতে অনেকগুলো ট্যাব আছে - প্রতিটা ট্যাবেই অনেক রকম ফরম্যাটিং অপশন রয়েছে। এই টিউটোরিয়ালে শুধু দুটো ট্যাবে সাধারণ দুটো পরিবর্তন করবো। প্রথমে Font ট্যাবে (চিত্র ১৯তে দেখানো) Style এর মান Regular থেকে Bold বদলে দেই। এরপর Indents and Spacing ট্যাবে গিয়ে (চিত্র ২০) স্পেসিং এর মান Above paragraph = 0.06” এবং Below paragraph = 0.02” করে দেই। এরপর নিচের OKতে ক্লিক করলে সূচীপত্রতে চিত্র ২১ এর মত উদ্দিষ্ট পরিবর্তন দেখতে পারবো।
বলাই বাহুল্য দক্ষতা বৃদ্ধি পেলে এই কাজগুলো মূল সূচীপত্র তৈরীর সময়েই ঠিক করে দেয়া যেত।

চি্ত্র ২০: সূচীপত্র আপডেট ও পরিবর্ধন করা - ০৬

চি্ত্র ২১: সূচীপত্র আপডেট ও পরিবর্ধন করা - ০৭

নেভিগেটরের ব্যবহার

নেভিগেটর হল একটা বড় ফাইলে দ্রুত বিভিন্ন অংশে যাওয়ার জন্য একটা সূচীপত্রের মত। তাই বড় ডকুমেন্ট লেখার বা রিভিউয়ের সময় মাউস স্ক্রল না করেই দ্রুত অন্য অনুচ্ছেদে চলে যাওয়া যায়। এটা সাধারণত স্ক্রিনের বামদিকে লেগে থাকে। মেনু থেকে View → Navigator দিয়ে এটা চালু/বন্ধ করা যায়। এছাড়া টুলবারের আইকনে ক্লিক করেও এটা চালু/বন্ধ করা যায়। চিত্র ২২ এ নেভিগেটর এবং এটা চালু করার আইকনটি দেখানো হয়েছে।
চি্ত্র ২২: নেভিগেটরের ব্যবহার

এখানকার সিস্টেমটি ফাইল ব্রাউজারের Tree এর মত, কোনায় ক্লিক করে সাব-হেডারগুলো দেখানো বা লুকানো যায়। নেভিগেটরে যেমনটি দেখায়, মূল সূচীপত্রেও শিরোনামগুলো সেরকম দেখায়। কাজেই নেভিগেটরে যদি কোনো হেডার না দেখায় কিংবা কোনো অতিরিক্ত হেডার দেখায় সেটা সূচীপত্রতেও আসবে (বানানোর সময়ে বা আপডেট করলে)। কাজেই বার বার সূচীপত্র আপডেট না করে নেভিগেটরেই সবকিছু ঠিক আছে কি না সেটা দেখে নেয়া যায়।
আপডেট:

সূচীপত্রের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা

মাঝে মাঝে সূচীপত্রে অনাকাঙ্খিত এন্ট্রি চলে আসে। এগুলো দুর করতে চাইলে ডিফল্ট অপশনের বদলে অতিরিক্ত স্টাইল ব্যবহার করতে হবে: প্রথমে নিচের দিকে Additional Styles এ চেক মার্ক দিয়ে বাকী দুইটা অপশনের চেকমার্ক তুলে দিতে হবে। এরপর অতিরিক্ত স্টাইলের জন্য পাশের … বাটনে ক্লিক করুন (চিত্র ২৩)।
চিত্র ২৩: সূচীতে অতিরিক্ত স্টাইলের ব্যবহার-০১

এতে Assign Styles উইন্ডো খুলবে। যাতে Heading  সিলেক্ট করে নিচের ডানদিকের অ্যারো বাটন চেপে একঘর ডানে সরাতে হবে। Heading  ও  কে একই উপায়ে ২ ও ৩ ঘর ডানে চাপিয়ে দিয়ে (চিত্র ২৪) OK দিয়ে মূল উইন্ডোতেও OK দিলে আপনার কাঙ্খিত সূচীপত্র পাবেন।
চিত্র ২৪: সূচীতে অতিরিক্ত স্টাইলের ব্যবহার-০২