বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০১৫

পরিবেশ প্রকৌশলীর খারাপ (গরীব) ক্যামেরার হিজিবিজি

১। গত ২৪ জানুয়ারী ইপিজেডে গিয়েছিলাম। মনে আছে সেই লেখাপড়া মার্কা পোস্টটা? -- সেদিনই এই ছবি তোলা, ওখানকার পাওয়ার স্টেশনের ছাদ থেকে। বেশি জানতে ইচ্ছা করলে গুগল ম্যাপকে 23.947858, 90.275323 লিখে সার্চ দেন।
https://lh3.googleusercontent.com/LQxZxTM8nteoRkNm7Ih-PKmHh8aQOpUd6NfadgQcCNM=w732-h549-no
২। ঐ একই জায়গা থেকে ইপিজেডের দিকে শট। আমাদের বাহন জলপাই বাসটাও দেখি ছবিতে আছে।
https://lh6.googleusercontent.com/-DHQG5LQCDOs/VRNCGLjsJyI/AAAAAAAAD1k/v2990ZTIA9s/w732-h549-no/20150124_161458.jpg
৩। অনলাইনে রকমারী ডট কম থেকে প্রথম (এবং শেষ) বই কেনা। শেষেরটা বই না -- পেপার টেকনোলজি সহ কিন্ডেল: সেখানে চাঁদের পাহাড় (সিনেমা হয়েছে) ডাউনলোড এবং কনভার্ট করা।
https://lh4.googleusercontent.com/-tBpNMO_LFaU/VRNCGqECFOI/AAAAAAAAD1s/HlNmfg_33IU/w732-h549-no/20150219_221335.jpg
৪। কনস্ট্রাকশন করতে গিয়ে রাস্তার অর্ধেকই দখলে। আশা করি তাদের যথাযথ অনুমতি নেয়া আছে। ছবিটা বনানি পোস্টঅফিসের পাশের লোকেশনের। ছবির উপরে (একটু বামের দিকে) ওখানকার স্টার-কাবাবের অংশ বিশেষ দেখা যাচ্ছে।
https://lh4.googleusercontent.com/-xVd6QGZyV_E/VRNCIENcWpI/AAAAAAAAD10/sb0iR-RCGyU/w732-h549-no/20150305_150259.jpg
৫। জঙ্গলে মঙ্গল -- বাসার গলির মাথায়। দেখলেই যেতে ইচ্ছা করে -- একদিন হয়তো গিয়ে হাজির হব।
https://lh4.googleusercontent.com/-dgc2vqc9zXI/VRNCJ0rC7-I/AAAAAAAAD2E/wH8hnZ-4DCE/w732-h549-no/20150314_084001.jpg
৬। মেঘনা ব্রীজের উপর, বাসের জানালা থেকে ভাটির দিকে ক্লিক। ২৪-মার্চ-২০১৫ এই যাত্রায় গরমে সিদ্ধ ও অসুস্থ হয়ে গিয়েছিলাম।
https://lh6.googleusercontent.com/-FyPwFMhRioQ/VRNCJeojZsI/AAAAAAAAD2A/LxtofrsPl4Q/w732-h549-no/20150324_092203.jpg
৭। এর আগে এটার থ্রি-ডি ইমেজ পোস্ট করেছিলাম (প্ল্যানিং ধাপে)। এবার আসল জিনিষের পালা ... প্রায় কমপ্লিট: ২৪-মার্চ-২০১৫ টেস্ট রান শুরু করলাম। জায়গার নাম: লাকসাম --> মনোহরগঞ্জ --> বচইড়। গ্রামের পাইপ লাইন।
https://lh4.googleusercontent.com/-PfeTsJdrKsA/VRNCLYpaeYI/AAAAAAAAD2M/K2s5WRe8Tro/w732-h549-no/20150324_130040.jpg
৮। একই জিনিষ। টাওয়ারের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটায় উঠে এদিকে নেয়া। আগের ছবিটা ডানের ঐ পুকুরের ভেতরে নেমে নেয়া। গাছপালার পাতা থেকে রক্ষা করতে এই ইউনিটগুলোর উপরে ঢাকনা দেয়া হয়েছে।
https://lh4.googleusercontent.com/-YYRzjyk76VE/VRNCNJFwRmI/AAAAAAAAD2Y/UkrdKTj61Zs/w732-h549-no/20150324_131841.jpg
৯। এটার উপরে উঠে ঢাকনা সরিয়ে একটু উঁকি দিয়ে দেখলাম। এটার নাম টিউব-সেটলার।
https://lh3.googleusercontent.com/-3335Xm-KPsY/VRNCNLFIacI/AAAAAAAAD2c/NehOMW9gULU/w412-h549-no/20150324_163047.jpg
১০। এটা আরেকটা। টেস্ট রান পরেরদিন শুরু করার কথা। জায়গা: লাকশাম --> মনোহরগঞ্জ --> মির্জাপুর
https://lh6.googleusercontent.com/-y4EfuRz5aXQ/VRNCOHBkgII/AAAAAAAAD3o/sxcAgyHtI7k/w732-h549-no/20150324_172104.jpg
১১। অফিসের ছাদের রেনোভেশন চলছে। শেষ হলে আরও সুন্দর হবে, কারণ লেকের ভিউটা ভালভাবে দেখা যাওয়ার জন্য ক্যান্টিনের কিচেন সরিয়ে ফেলা হয়েছে + আরও কিছু মেজর কাজ করা হয়েছে।
https://lh6.googleusercontent.com/-7TU6MazohMw/VRNCPgPSizI/AAAAAAAAD2s/-Uh2VGjg2vE/w732-h549-no/20150325_170404.jpg
১২। এই ধরণের পাইপ ফিটিং আগে সামনাসামনি দেখিনি। তাই ফটুক তুলে রাখলাম। এগুলোর দাম লোহার পাইপ ফিটিংয়ের চেয়ে বেশি।
https://lh6.googleusercontent.com/-xd3cmUmzLIo/VRNCQzRWZcI/AAAAAAAAD20/PUsJefeG3a8/w732-h549-no/20150325_170414.jpg
সবগুলো ছবিই মোবাইলের গরীব ক্যামেরায় তোলা। আজেবাজে (!) ছবি ধৈর্য ধরে দেখার জন্য আগাম ধন্যবাদ।

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৫

ফুলের কাঁটা, ফুলের পিন

এদেশে খুব বেশিদিন হয়নি ফুল একটা বৃহৎ বাণিজ্য। ব্যক্তিগত ভাবে উপহার হিসেবে (দেয়া কিংবা নেয়া) আমি ফুলের চেয়ে খাবারদাবার বেশি পছন্দ করি। আমার এই পছন্দের ক্রমটা নিজের জন্য বেশ ক্ষতিকারক হয়েছে -- অধমের বিশাল ভূঁড়ি দেখলেই সেটা অনুভব করবেন। গত ভ্যালেন্টাইন ডে'তে আমার কলিগগণ একটা সারপ্রাইজ গিফট দিলেন আমাদের দুজনকে (মিয়া-বিবি); আমার জন্য কেক আর ওনার জন্য ফুলের ঝুড়ি (banquet)। প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি: আমরা মিয়া-বিবি একই যায়গায় চাকুরী (মাস্টারি) করি।

ফুলের ঝুড়িতে অনেকগুলো বিশালাকৃতি লাল গোলাপের কুঁড়ি ছিলো, যেগুলো তাদের পুষ্ট স্বাস্থ্যের জন্যই হয়তো ভীষন রকম দৃষ্টি আকর্ষক ছিলো। বাসায় আসার সময়ে সেই ঝুড়ি নিয়ে আসা হল, কারণ পরের ৩ দিন তথাকথিত হরতাল ডেকেছে ... ...। বাসায় ফুলগুলোকে আলাদা করে নিয়ে একটা ফুলদানিতে পানিতে রাখা হল।

আজ সকালে হঠাৎ লক্ষ্য করলাম ফুলের কাণ্ডে একটা তার পেঁচানো। আরেকটু ভাল করে লক্ষ্য করে দেখি ফুলগুলোতে পিন ফুটানো। বৃতির অংশগুলো পাপড়িগুলো সহ পিন দিয়ে আটকানো, অনেকসময় টিস্যূ পেপার যেভাবে স্যান্ডউইচের সাথে টুথপিক দিয়ে গাঁথা থাকে সেভাবে।

ফুলটিকে ফুটতে না দিয়ে এর আকৃতি আধাফোটা কুঁড়ির মতই রাখতে হয়তো এই আয়োজন। দুটো ফুল থেকে পিনগুলো খুলে দিলাম -- গুনে দেখি ১১টি পিন বের হয়েছে। ভালমত না দেখলে এই তার বা পিনগুলোকে দুর থেকে বোঝা যায় না। খুলে দেয়ার আধাঘন্টার মধ্যেই ঐ দুটি কুঁড়ি থেকে অর্ধপ্রষ্ফুটিত ফুলে পরিণত হল ... ..

অনেকরকম ভাবনা মাথার মধ্যে খেলে যাচ্ছে -- যাকে কিনা বলে মিশ্র অনুভুতি।
- বিভিন্ন কাব্যিক বর্ণনার সুন্দর নিষ্পাপ ফুল আর নেই। এটা পিনকুশন হয়ে গিয়েছে।
- বাণিজ্য ফুলের স্বাভাবিকতা নষ্ট করছে। কেএফসির চিকেন যেমনভাবে উৎপন্ন হয় বলে কিছু গা-শিউরানো ছবি ও ভিডিও দেখেছিলাম -- এই ব্যাপারটা অনেকটা সেরকমই মনে হল।
- খুবই বুদ্ধিদীপ্ত অভিযোজন। এভাবে ফুলের আকৃতি অটুট থাকবে। কোনো অনুষ্ঠানে ফুল ব্যবহৃত হলে সেটা পুরা সময় জুড়ে ঠিক যেমন চাই তেমন থাকে।
- বাণিজ্যের কাছে প্রকৃতির স্বাভাবিকতা হেরে যাচ্ছে বারবার। জোর করে স্বাভাবিকতায় অস্বাভাবিকতা আরোপ করা হচ্ছে। আর আমরাও প্রকৃতির স্বাভাবিকতার চেয়ে আরোপিত সৌন্দর্যে বেশি আপ্লুত হচ্ছি .... ....

যা হোক এই পর্যন্ত পড়ে থাকলে হয়তো ভাবছেন -- ব্যাটা এক ফুল নিয়ে কত ত্যানা প্যাঁচাইতে পারে! ... ...

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০১৫

+8801731216486

+8801731216486 (+৮৮০১৭৩১২১৬৪৮৬) -- জ্বী ভাই, এটা আমার ফোন নাম্বার যা ২০০৭ সাল থেকে ব্যবহার করছি। কিন্তু, একজন মানসিক বিকারগ্রস্থ ছাত্র আমার এই নম্বরটা বিভিন্ন অশালীন ছবি/ভিডিও'র সাথে একাধিক মেয়ের নামের সাথে ভূয়া একাউন্ট থেকে পোস্ট করেছে (ঐ একাউন্টটাও একটা মেয়ের নামে)। আমি সেই ছাত্রকে চিনি, আর নিশ্চিত ভাবে জানি সে-ই দায়ী, কারণ এর আগে তাকে একজন ছাত্রীকে হ্যারাস করার জন্য শো-কজ করা হয়েছিল + আমার নাম্বারের সাথে ঐ ডিপার্টমেন্টের আরেকজন সহকারী প্রক্টরের নাম্বারেও সেইম ঘটনা ঘটেছে। ইতিপূর্বে এই দুজনের নাম্বার দিয়েই বিভিন্ন বিক্রয়ের সাইটে অদ্ভুদ বাইসাইকেল, ট্যাব ইত্যাদি বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন গিয়েছিলো (এরকম সাইটের সিকিউরিটির জন্য এইটা বিরাট আজিব ব্যাপার) - যা হোক সেসব সাইটের কমপ্লেন করে সেগুলো বন্ধ করা গেছে। কিন্তু ইউটিউবে কমপ্লেন করলে তারা বলেছে কমিউনিটি গাইডলাইন ভঙ্গ হয় নাই!

এটার ইফেক্টে এখন প্রতিদিন ও রাতে গড়ে শ-খানেক ফোন আসে -- তার অনেকগুলো আবার অদ্ভুদ নাম্বার থেকে (১১১, ১২৩৪৫ ইচ্ছামত নম্বর বসানো) অর্থাৎ সফটওয়্যার দিয়ে করে। আর কিছু আসে সরাসরি কান্ট্রি কোড সহ -- যার ম্যাক্সিমাম মিডলইস্ট থেকে আসে -- যারা আমার কন্ঠস্বর শুনে আর কথা বলে না।

তাই, আমার ফোন মোটামুটি সবসময়ের জন্যই সাইলেন্স মোডে রেখেছি। মাঝে মাঝে মিসড্ কল লিস্ট দেখে পরিচিত নম্বরের কল মিস হলে কল ব্যাক করছি। যদি আপনার কল না ধরি, প্লিজ কল ধরতে না পারার অভব্যতাকে ক্ষমা করবেন। আর যদি সন্দেহ হয়, যে আপনার নাম্বার আমার ফোনবুকে নাই, তবে প্লিজ একটা SMS দিবেন -- আমি আপনাকে কলব্যাক করবো, ফোনবুকেও টুকে রাখবো।

শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৫

পহেলা জানুয়ারীর ঘোরাঘুরি (২০১৫)

অফিস ছুটি বেশ কয়েকদিন। যদিও ছুটিটা নামকাওয়াস্তে - কারণ বাসায় বসে বসে অফিসের কাজই করতে হচ্ছে অবিরত (পরীক্ষার খাতা দেখা)। বাচ্চার স্কুলও বন্ধ -- এক মাসেরও বেশি লম্বা ছুটিতে বাসায় থেকে থেকে ওরও খারাপ লাগে। তাই ঠিক করলাম একটু বাইরে থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসা যাক। ১লা জানুয়ারী দিনটা মেঘলা হলেও তেমন ঠান্ডা ছিলো না, বরং ঘুরাঘুরি করার জন্য দারুন একটা না-গরম, না-ঠান্ডা আবহাওয়া ছিল। রেডি হয়ে বের হতে হতে বিকাল। বাসার গেট থেকে বেরুতেই রিকশা পেলাম। সেটাতে করে গেলাম চারুকলা ইনস্টিটিউট। মেয়ে তো রিকশায় উঠে মা-কে বলছে, "জানো ওটার পাশে মিউজিয়াম আছে, তোমাকে দেখাবো"। মা তো অবাক, ও জানলো কি করে! কারণ গত ডিসেম্বরেই ওদের স্কুল থেকে মিউজিয়ামে নিয়ে এসেছিলো; তো সেদিন আমি ওখান থেকে ওকে নিয়ে চারুকলার বাইরে দিয়ে দেখিয়ে নিয়ে এসেছিলাম, আর এবার যাওয়ার সময় বলেছিলাম।
চারুকলার সামনে নেমেই চুড়িওয়ালা মহিলার শ-দুয়েক টাকার বিক্রি হল (থ্যাংকস টু মাই ওয়াইফ)। শহরে এপার্টমেন্টে থাকা বাচ্চারা অনেকটা ফার্মের খাঁচায় বড় হওয়া মুরগীর মত। এতটুকু প্রকৃতি, গাছপালা, ছাড়া-কুকুর পেয়ে সে অভিভূত। হৈ হৈ করে দৌড়ে বেড়াতে লাগলো এদিক থেকে সেদিক। একটা পাথর দেখে চিৎকার -- বাবা বাবা দেখো একটা পাথর!! উপরের ছবিটা চরুকলা ইনস্টিটিউটের দক্ষিন দেয়াল ঘেষে থাকা একটা বাচ্চাদের অংকন শেখানোর স্কুল। বউ মহা খুশি, কারণ তাঁর কাপড়ের রঙের সাথে ম্যাচ করা রঙে দেয়াল টইটুম্বুর। ছাদের উপরে বড়ই গাছ, আর পেছনে কলা গাছ সব মিলিয়ে দৃশ্যটা বেশ চমৎকার লাগছিলো।
জানিনা কে এই নোটিশটা লাগিয়েছে, কেন লাগিয়েছে। তবে এটা দেখলেই এর গোড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলার একটা ইচ্ছা জেগে উঠবে মানুষের -- এই ভেবে যে "বাপরে! দশ টাকা দেয়া লাগবে --- কি না কি!" যা হোক, দাঁড়িয়ে বানানটা ঠিক নাই ;) ।
মেয়ে পোজ দেয়া শিখেছে বেশ ভালই!
ইয়ে, এটার ব্যাখ্যা ট্যাখ্যা নিজের মত বুঝে নেন। মেয়েকে খালি বলেছি একজন মা এক হাতে কলস আরেক হাতে বাচ্চাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ক্ষুদিপানা, কচুরীপানা তুলে নিয়ে মেয়ের হাতে দিলাম। দাড়ির মত শেকড় দেখিয়ে বলেছি যে আমাদের টবে যেই গাছগুলো আছে ওগুলোরও নিচে মাটিতে এমন শেকড় আছে।
ছবি তুলতে কোনো আপত্তি নাই ...
বের হতেই চাচ্ছিলো না। জোর করেই বের করতে হল। এরপর বউয়ের পরিকল্পনা ছিল সেন্ট্রাল লাইব্রেরীতে ঢুকবে। কিন্তু আমার মনে হল, মেয়ের ভাল লেগেছে গাছপালা -- ঐ লাইব্রেরীতে সে হয়তো মজা পাবে না। তাই রাস্তা পার হয়ে অন্যপাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকলাম। ঢুকেই মনে হল খাবারের স্ট্রিট-মার্কেটে ঢুকেছি। গাছপালা আছে ঠিকই কিন্তু দুইপাশে অনেকগুলো স্ট্রিটফুডের দোকান। ওগুলো খেয়েও মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকে -- এই বিষয়টা আমাকে মানুষের সক্ষমতা সম্পর্কে বেশ ভাবায়।
হাঁটতে হাঁটতে পেছনে বউ গজর গজর করছে --- "এই মানুষটার রুচি আর ভাল হল না। কোথায় লাইব্রেরী যাব, তা না ধুলা বালুর মধ্যে নিয়ে এসেছে"। আমি একটু কনফিউজড (কারণ বউ তো আমিই পছন্দ করেছিলাম, আর আমাকে পছন্দ করেছিলো ও) আর না শোনার ভান করে হন হন করে সামনে আগাতে থাকলাম। কারণ মাঝে স্বাধীনতা স্তম্ভতে কখনো যাইনি; অন্যেরা গিয়ে ছবি দেয়, নেটে ছবি দেখি, কিন্তু নিজে কখনো যাইনি। আজ দেখেই যাব। ওয়াকওয়ে ছেড়ে ধুলাবালি, ছোট ওয়াল- এসবের উপর দিয়ে হাঁটতে পেরে মেয়ে মহা খুশি। এমন করতে করতে সামনে একটা শিখা জ্বলছে এমন জায়গায় পৌঁছুলাম। ডানে তাকাতেই চমৎকার চত্বর, গাছগুলো সাইজ মত কাটা। পরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখলে বিদেশ মনে হবে। তবে আমরা তো আর সভ্য হইনি, তাই এসব জায়গায় মোটরসাইকেল তুলে দেই ডাঁটে।
কাঙ্খিত স্বাধীনতা স্তম্ভে পৌঁছে সকলের মন নিমেষেই ভাল হয়ে গেল। অসাধারণ একটা দৃশ্য! যদিও নিচে মানুষজন, মটরসাইকেল, সাইকেল আর ঠোঙ্গা দিয়ে ময়লা করে ফেলেছে, কিন্তু ঢাকা শহরে এমন ভাবে চোখের সামনে খোলা আকাশ + দিগন্তে গাছ ইদানিং কোথাও দেখেছি বলে মনে পড়ে না। তার উপর আকাশে মেঘের সাজটাও অদ্ভুদ সুন্দর লাগছিলো।
মেয়ে অবশ্য ক্লান্ত, আমার বা ওর মায়ের শরীরে হেলান দেয়ার চেষ্টা করছে, তাই কোলে নিলাম। ব্যাগে ওর খাদ্য (বিরাটাকার চকলেট) ছিলো। পাশে বসে সেগুলো খেয়ে আবার ফুল চার্জে চাঙ্গা হয়ে গেল। এই ফাঁকে আমি অদ্ভুদ সুন্দর আকাশে আলোছায়াগুলো ক্যামেরায় ধরার চেষ্টা করতে লাগলাম।

উপরের দৃশ্যটা দেখে ভুলবেন না। ক্যামেরার চোখ একটু নিচু করে তুলতেই এমন দেখাবে। পরিচ্ছন্ন থাকলে অবশ্য এটাও অসাধারণ একটা দৃশ্য হত।

আকাশ দেখার বিলাসিতা।
ক্যামেরায় চোখে দেখা সৌন্দর্য আর রঙ ধরা যায় না। এরকম সময়ে ভাল ক্যামেরার জন্য আফসোস লাগে কিছুটা।
সভ্য হওয়ার আগেই সভ্যতা চাপিয়ে দিলে যা হয় আর কি! এখানে কিছুদুর পর পর স্থানের স্থাপত্যের সাথে মানানসই ডিজাইনে ওয়েস্ট বিন দেয়া উচিত বলে মনে হয়। আর প্রতি ঘন্টায় যদি ময়লা কুড়ানো টোকাই নিয়োগ দেয়া হয়, তাহলে এটা অসাধারণ সুন্দর একটা জায়গা হতে পারে। পরিচ্ছন্ন জায়গা দেখলে এমনিতেই বাকীরা সেটাতে ময়লা-ঠোঙ্গা ইত্যাদি ফেলতে দ্বিধা বোধ করবে, ডাস্টবিন খুঁজে ময়লা ফেলবে। ফলে পরবর্তীতে পরিচ্ছন্ন কর্মীগণ অন্য কাজেও সময় দিতে পারবেন।



শুধু ময়লাই না, জায়গায় জায়গায় ছাই দেখে বোঝা যাচ্ছে শীতে এখানে আগুনও জ্বালিয়েছে!!
ফেরত আসার সময়ে দুয়েকটা ছবি না তুললেই না। মুশকিল হল যখনই নীলিয়াকে পেছনে শিশুপার্ক দেখালাম, ও বলে "যেতে চাই"; ভেতরে মানুষ গিজগিজ করছে, প্রতিটা রাইডের সামনে লম্বা লাইন দেখে আমার ওখানে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলো না, কিন্তু যার জন্য বেড়াতে বের হওয়া সে-ই যখন আগ্রহী তখন আর কী করা! প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। কাজেই অন্যপাশ দিয়ে (ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের /রমনার গেটের দিকে) বের হয়ে একটা রিকশা চড়ে সময় আর এনার্জি সংরক্ষণ করে দ্রুত শিশুপার্কে আসলাম।
লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে যখন নীলিয়া আর ওর মা রাইডে চড়ছিলো, আমি তখন একটা ছাউনির মধ্যে বসে বসে অপেক্ষায় পপকর্ন চিবাচ্ছিলাম। একসময় ফোন দিয়ে বলে, যে নীলিয়া ট্রেনে চড়বেই - তাই ওরা লাইনে দাঁড়িয়েছে। লাইন এ্যাতটাই লম্বা যে ওদের সুযোগ আসার আগে অন্তত ৬-৭ রাউন্ড পার হয়ে যাবে। আমিও ওপাশে গেলাম। তারপর ওর মা বললো, "তোমার নিশ্চয়ই আমার মত হাইটফোবিয়া নাই -- তাহলে যাও - আমি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি তুমি মেয়েকে নাগরদোলায় চড়াও"। নাগরদোলায় চড়ার আগ পর্যন্ত ভালই ছিলাম। তারপর উচ্চতার ব্যাপারটা ভুলে থাকার জন্য মেয়েকে দুরে অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে আলো ছড়ানো স্বাধীনতা স্তম্ভ দেখাচ্ছিলাম। মেয়ে তো ভয় পাওয়ার মত বড় হয়নি, কাজেই ও আমাকে মাঝে মাঝে অভয় দিচ্ছিলো!!
ওখান থেকে আসার পরও অনেক সময় লাগবে ট্রেনে উঠতে। তাই ওকে নিয়ে নিচু জায়গাটায় (শুকনা পুকুরের মত) নামলাম, উঠলাম; একজায়গায় বসে পপকর্ন খাওয়ালাম। যা হোক অপেক্ষার পালা শেষে একসময় ওরা ট্রেনেও ঘুরে এল। ওর মায়ের সামনে লাইনে যেই হুজুর দাঁড়িয়ে ছিল, লাইন শেষ হওয়ার আগে আগে তার দলবল - বোরখাপড়া মহিলা, আন্ডা-বাচ্চার দল, আল্ট্রা-মডার্ন পোশাকের ছেলে মেয়ের দল মিলে গোটা ১৫ জন যোগ দিয়েছিলো!!
ট্রেন থেকে নামার পর বললাম "চলো পেছন দিক থেকে আলোকজ্জ্বল স্তম্ভটা দেখে তারপর বের হই"। যাওয়ার পথে দোলনা, ঢেকি (সী-সঅ), স্লিপার দেখে ওগুলোতে ওঠার কোর্সও কমপ্লিট করলো নীলিয়া! তারপর আরো একটা টিকিট থাকাতে আর লাইন না থাকাতে ফুলের মত ঘুরে যে রাইডটা সেটাতে উঠলো (এটা আজ ২য় বার); হয়তো "আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী" রাইডটাতেও আবার উঠতে মন চাচ্ছিলো। কিন্তু আমরা বের হয়ে আসলাম।
ভ্রমন শেষ করলাম খাওয়া দাওয়া দিয়ে। গেট থেকে বের হয়ে বেশ খানিকটা প্রাকৃতিক ফুটপাথ (মানে হাঁটার সময় খানা-খন্দ, ভেজা, ধুলা সব মিলিয়ে মনে হবে প্রাকৃতিক পাহাড় পর্বত দিয়ে হাঁটছেন) হেঁটে শাহবাগে এসে রিকশা নিয়ে বাসার কাছের জিনজিয়ান। রিকশায় মোটামুটি অবসন্ন হয়ে আমার ঘাড়ে মাথা ছেড়ে ঘুমালেও, এখানে এসেই নীলিয়া এদের বাচ্চাদের খেলার সেকশনে মহানন্দে আরেক দফা খেলাধুলা করলো। এমনকি খাওয়া দাওয়া শেষেও বের হওয়ার আগে মিনিট দশেক খেলার পর মোটামুটি অনিচ্ছা সত্ত্বেও বের হয়ে এসেছিলো।
সব মিলিয়ে নীলিয়ার জন্য দিনটা স্মরনীয় হয়ে থাকবে মনে হয়। কারণ ভোরে উঠে রাত থেকে আকাশ ফর্সা হয়ে সকাল হওয়া দেখেছে (অবশ্য ভোরে উঠেছিলো কাশতে কাশতে); তারপর যতক্ষন পেরেছে কার্টুন দেখে ড্রইংরুমেই ঘুমিয়েছিলো দুপুর পর্যন্ত। তারপরে তো ফ্রেশ হয়ে এই ঘোরাঘুরি।

শনিবার, ১২ জুলাই, ২০১৪

ওভেন ছাড়াই পিজা বানানো - সচিত্র প্যান পিৎজা

Pizza/পিজা/পিৎসা/পিৎজা বানানো কঠিন কিছু না। শুধু এর উপকরণগুলো আমাদের জন্য একটু আনকমন -- তাও সবগুলো না -- শুধুমাত্র এর মূল উপকরন -চিজ বা পণিরটাই আনকমন। তবে সাধারন বাসাবাড়িতে পিজা বানানোর জন্য মূল বাধা হল ওভেন না থাকা। এই পিৎজাটি ওভেন ছাড়াই ফ্রাইপ্যানে (তাওয়া?) করা। যাদের ওভেন নাই, তাঁদের জন্য নিশ্চয়ই বেশ আগ্রহোদ্দীপক হবে বিষয়টা।

রান্নাঘরে প্রতিদিনই যাওয়া হয় -- সেটা বাসন ধোয়ার জন্য। আজ অবশ্য ছবি তোলার জন্য গিয়েছিলাম। পিজাটি আমি বানাইনি, আমার স্ত্রী বানিয়েছে। আমি নিজে চা বানাই মাইক্রোওয়েভ ওভেনে - সেটা দিয়ে কিন্তু পিৎজা বা অন্য বেকিং আইটেমগুলো হয় না - এটা খালি মাইক্রোওয়েভ দিয়ে গরম করে। কিন্তু বেকিং ওভেন না থাকলেও ঘরে পিৎজা বানানো যায়। সেটাই আজকের সফল এক্সপেরিমেন্ট ছিলো। এ নিয়ে ইউটিউবেও ইংরেজিতে ভিডিও পাওয়া যায়। ফ্রাইপ্যানে করা বলে এগুলোকে প্যান পিজা বলে।

১। প্রথমেই মূল আকর্ষণ: পিৎজাটির ছবি দেখুন। আগ্রহ জাগলে আগে বাড়ুন ...


২। একজন স্যাটিসফাইড কাস্টমার! (আমার কন্যা - নীলিয়া)

এবার একটু তদন্ত করে দেখি পরের পিৎজাটা কিভাবে বানালো সেটা বোঝা যায় কি না ... ...

৩। যা যা লাগে - ক্যাপসিকাম, সসেজ (ইচ্ছামাফিক অন্য বস্তুও নেয়া যায়) এগুলো একটু নন স্টিকি ফ্রাইপ্যানে টেলে নিতে হয় (অর্থাৎ গরম ফ্রাইপ্যানে নাড়াচাড়া করা)। অর্থাৎ তাহলে একটু নরম হবে, কাঁচার মত কচ কচ করবে না, আর মূল পিজাতে বেক করার সময় পানি ছাড়বে না।

৪। আর অবশ্যই লাগবে চিজ বা পণির। চেডার (cheddar) চিজ নাকি এ কাজে ভাল।

৫। সসের কথা ভুলে গেলে চলবে না কিন্তু। পিজা সস নামেই সস পাওয়া যায়। না পাওয়া গেলে সাধারণ সস দিয়েই চলবে (পূর্ববর্তী পিজা বানানোর বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বলা হল)

৬। আটা ছাড়া তো আর ক্রাস্ট হবে না। আটার মাখার সময়ে একটু পানিতে ঈস্ট (yeast)গুলে নিয়ে দিয়ে ময়ান করতে হবে। এরকম ময়ান করে সাধারণত একটা পাতলা ভেজা কাপড়ে জড়িয়ে বাটিতে আধাঘন্টার মত ঢেকে রাখতে হয়। এতে ময়ানটা ফুলে ওঠে। কাজেই এই কাজটা শুরুতে করে বাকী প্রিপারেশন করলে সময়ের ব্যবহারটা ভাল হবে। ময়ানে লবণ না দিলেও চলে, কেন? সেটা পরে বলা আছে।

৭। বেলতে তো হবেই। একটু মোটা করে, যে সাইজের চান সেই সাইজের। তবে সেই সাইজ যেন আবার আপনার ফ্রাইপ্যান (নন স্টিকি হলে ভাল হয়) কিংবা তাওয়ার চেয়ে বড় না হয়ে যায় ...

৮। গরম তাওয়া, ঢাকনা লাগবে। পিৎজার উপরে যত কম জায়গা ছাড়া যায় তত বেশি ঘন তাপ লাগার কথা।

৯। তাওয়া বা ফ্রাইপ্যানে বেলা ক্রাস্ট (রুটি !) টা সেঁকতে হবে। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এতে দুই সাইডেই ভাল তাপ লাগবে। সেঁকার সময় উল্টানো যাবে না। আগুন কম-মিডিয়াম থাকবে, বেশি দিলে পুড়ে যেতে পারে।

১০। যখন ক্রাস্টের এইপাশটা এরকম বহু বাতাসের পুটুলি দেখা যাবে। তার মানে হয়তো হয়ে গেছে। পরে ছবি দেখুন।

১১। খুন্তি দিয়ে তুলে যদি নিচের দিক হয়ে গেছে বোঝা যায় তাহলে নামিয়ে ফেলুন। নামিয়ে সেটা একটা প্লেটে (বা অন্য কোথাও) উল্টিয়ে রাখতে হবে। অর্থাৎ যে দিক ফ্রাইপ্যানের সাথে লেগে ছিলো সেটা উপরের দিকে রাখতে হবে। এই দিকটা মচমচে হয়ে যাওয়ার কথা। একটু ভেঙ্গে ভেঙ্গে দিন, যেন পরেরবার উল্টাদিক সেঁকার সময়ে এদিকে ভেতরে বাতাসের পুটুলি জমা না হয়। এছাড়া টপিংগুলোও একটু ভেতরে ঢোকে।

১২। প্রথমে এর উপরে সস মাখিয়ে দিন -- সসটা অনেকটা সিমেন্টের মত, টপিংগুলোকে ভালভাবে ক্রাস্টে লাগিয়ে ফেলে। তাছাড়া সসের স্বাদ তো আছেই। এই কারণে ক্রাস্টের ময়ানে লবণ না দিলেও চলে

১৩। এরপর ইচ্ছামাফিক টপিং দিন

১৪। টপিং-২


১৫। সব শেষে চিজ ছড়িয়ে দিন -- গেল আমার চেডার চিজ

১৬। আসলে এটা একাধারে বানানো তৃতীয় পিজা। সেজন্য চিজ কম হয়ে গেছে। বিকল্প হিসেবে স্লাইস চিজ ছিলো, সেটাই দিয়ে দেয়া হল। চেডার বা এই স্লাইস চিজ - দুইটাই লবণাক্ত। ময়াণে বা টপিং-এ আলাদা লবণ না লাগার এটাও একটা কারণ ...

১৭। এবার পুরা জিনিষটাকে আবার ফ্রাইপ্যান বা তাওয়াতে দিয়ে বেক করুন। ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। আর অল্প আঁচে করতে হবে। এতে আস্তে আস্তে চিজ গলে পুরা টপিং-এ মাখা মাখা হবে। ক্রাস্টের নিচের (আগে যেটা উপরে ছিল) দিকটা সেঁকা হয়ে বেশ খাস্তা হবে। মাঝে মাঝে ঢাকনা তুলে দেখতে হবে উপরের চিজে বুদবুদের মত ফুটছে কি না। ওটা হলে রান্না পুরা হয়েছে বোঝা যায়। ওভেনে হলে অবশ্য আগুনের আঁচে উপরের দিকটা লালচে হয়ে যেত। নিচের ছবিরটা হয়নি, এটা সম্পুর্ন হতে আরো সময় লাগবে।

১৮। এই হল ফাইনাল প্রোডাক্ট। এটা অবশ্য দ্বিতীয় পিজাটা। উপরের ছবিগুলো ৩য়টা বানানোর সময়ে তোলা।


তারপর কেমন করে খেতে হবে সেটা কি বলে দেয়া লাগবে?